প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালীদের সহায়তায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। মাদক, সন্ত্রাস, হত্যা, ছিনতাই এবং আধিপত্য বিস্তারসহ সব ধরনের অপরাধে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
যদিও কিশোর গ্যাং জেলাবাসীর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে তাদের পৃষ্ঠপোষকরা পুলিশের নাগালের বাইরে রয়েছেন। সচেতন মহল অভিযোগ করছেন, ফলে অপরাধ প্রবণতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তবে কিশোর গ্যাং নির্মূলে অভিযানসহ নানা কার্যক্রম চলছে বলে দাবি করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।
প্রায়শই দেখা যাচ্ছে, দিনের বেলায় অস্ত্রের ঝনঝনানি নিয়ে উঁচু বয়সী কিশোররা পাড়া মহল্লায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। তাদের হামলা এবং সংঘর্ষে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাদক বিক্রি, চুরি এবং ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে উঠে আসার উপক্রম করেছে তরুণ কিশোররা। প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের অস্ত্র, যার সাহায্যে কিশোর গ্যাং মহড়া, হামলা, সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, যা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক এবং সাধারণ জনগণ।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে জেলার বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর অপরাধীদের দমন করতে তাদের পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় এনে পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেছেন, বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে কিশোর গ্যাং শব্দটি নেই। আইনের ভাষায় এটি শিশু অপরাধ অথবা শিশু অপরাধী বলা হয়ে থাকে। শিশু অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। মূলত এই অপরাধীদের তৈরি করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তবেই কিশোর অপরাধের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানো দরকার। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে, আর কেন দেরি করে বাসায় ফিরছে তা নজর রাখা।
এদিকে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত গ্রেফতার অভিযান ও নানা কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৫টি কিশোর গ্যাং চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা মামলা করতে প্রস্তুত। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং অভিযানে গ্রেফতারও করছি। পাশাপাশি আমাদের সঙ্গে কমিউনিটি পুলিশও কাজ করছে। সচেতনতা বাড়াতে আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত ওয়ার্কশপ করছি, যাতে তারা সংশোধন হয়ে ভালো জীবনে ফিরে আসতে পারে।’
জেলা পুলিশের তথ্য মতে, গত ছয় মাসে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। র্যাবের অভিযানে অন্তত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন