বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৩:১৪ পি.এম
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জাহাজ মালিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে, তেহরানের সাথে সমন্বয় না করে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যেকোনো নতুন ট্রানজিট রুট ‘অগ্রহণযোগ্য ও বিপজ্জনক’ হতে পারে। এই সতর্কবার্তায় তারা নির্দেশনা অমান্যকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দিয়েছে।
এই কঠোর সতর্কবার্তাটি হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ইরানের অনুমোদন ছাড়া যেকোনো নৌযান চলাচলকে প্রতিহত করার বিষয়ে তেহরানের দৃঢ় সংকল্পকে স্পষ্টীকরণ করে।
এর ফলে একটি দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তাও সৃষ্ট হয়েছে, যদিও গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পথটি পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে যে, শুধুমাত্র ইরান কর্তৃক নির্ধারিত নৌপথ দিয়েই যাতায়াতের অনুমতি রয়েছে এবং নির্ধারিত যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানি বাহিনীর সাথে সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক।
প্রতিবেদন অনুসারে, আইআরজিসি নৌবাহিনী বলেছে, ‘এই পথগুলোর বাইরে চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ। আমরা সকল জাহাজকে নির্ধারিত করিডোরের বাইরে যেকোনো ধরনের চলাচল কঠোরভাবে পরিহার করার জন্য সতর্ক করছি।’
এই সতর্কবার্তাটি এমন একটি সময়ে প্রদান করা হলো যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-তথ্য গোষ্ঠী বিকল্প জাহাজ চলাচলের পথের প্রস্তাব করেছে। উক্ত গোষ্ঠীটি জাহাজ মালিকদের তাদের ট্রান্সপন্ডার সংকেত চালু রেখে দক্ষিণের পথ দিয়ে প্রণালীটি অতিক্রম করার বিষয়ে বিবেচনা করতে বলেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ওমানের (আঞ্চলিক জলসীমা) বরাবর দক্ষিণের ট্রানজিট রুটটি মাইনমুক্ত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এটি সঠিক পথ।’
এদিকে, জাহাজ-ট্র্যাকিং ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুসারে, পূর্ববর্তী একই সময়ের তুলনায় গত সপ্তাহান্তে জাহাজ চলাচল তিনগুণ বেড়ে ৯৩-এ দাঁড়িয়েছে, কিন্তু তা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অনেক কম, যখন প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতো।
সূত্র: ডন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা এবং অধিকার সংরক্ষণ ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণের দাবি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ মালদ্বীপ শাখার নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২৪ জুন) তারিখে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর হাতে এ স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন সংগঠনটির মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মো. আলমগীর শিকদার।
স্মারকলিপিতে মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরা হয় এবং সেগুলোর দ্রুত সমাধানের জন্য বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করা হয়।
এতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে মালদ্বীপীয় রুফিয়ায় দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণের সুবিধা সম্প্রসারণ, দেশটিতে বাংলাদেশি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা বা প্রতিনিধি কার্যালয় স্থাপন, পাসপোর্ট নবায়ন ও সংশোধন ফি মালদ্বীপীয় রুফিয়ায় গ্রহণের ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের তাদের নিজ নামে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া মালদ্বীপের শ্রমবাজার পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় চালু করা, অভিবাসন ব্যয় কমানো, চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা পাশাপাশি আটক, নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের দ্রুত আইনি সহায়তা ও প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মালদ্বীপ প্রবাসীদের এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে প্রবাসীবান্ধব নীতি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও মর্যাদা আরও সুসংহত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সংগঠনটির নেতাকর্মীরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ সরকারের সদয় দৃষ্টি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভুইঞা। তিনি বলেছেন, কিছু প্রক্রিয়া এখনও বাকি রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার দ্বৈত বেঞ্চ স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফৌজদারি আইনে পারদর্শী এই আইনজীবী এখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াই চালাবেন।
গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করেন সোহেল রানা। এই অপরাধে তাকে সহায়তা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। চলতি মাসের ৭ জুন, অপরাধের গভীরতা বিবেচনা করে, দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ের পর দুই আসামিকে কনডেম সেলে পাঠানো হয়েছে। কনডেম সেল থেকে তারা রায়ের বিরুদ্ধে জেলাপোল আপিল করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ সকালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অতীন্দ্র মোহন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আগামী ২৮ জুন রোববার কুমিল্লা নগরীতে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে নগরীর ৫৫ হাজার ১৯১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক)।
আজ সকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কুসিকের মেডিক্যাল অফিসার ডা. চন্দনা রাণী জানান, জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরীর ১১৪টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। এই সময় নির্ধারিত বয়সের শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
তিনি জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৭ হাজার ৮২৫ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪৭ হাজার ৩৬৬ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শিশুদের কাছে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর জন্য নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ডে দুইজন করে সুপারভাইজার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন। শিশুদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রজেক্ট, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, রোটারি ক্লাব, এপেক্স ক্লাব অব কুমিল্লা সিটি এবং বিডি ক্লিন, কুমিল্লা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়ন, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্ধারিত বয়সী শিশুদের অভিভাবকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্যাম্পেইনের দিন নিকটস্থ কেন্দ্রে এসে সন্তানকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে এই জাতীয় কর্মসূচিকে সফল করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়জুড়ে নগরীর সব কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কোনো শিশু যেন এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য নগরীর সব অভিভাবককে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রত্যাশা, অভিভাবকদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে কুমিল্লা নগরীতে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে এবং শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। ফলে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি উচ্চতর প্রটোকল সুবিধা পাবেন। বুধবার ভারত সরকারের জারি করা এক অফিস স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দিনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগতভাবে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তবে এ কারণে ভারতের বিদ্যমান টেবিল অব প্রিসিডেন্স বা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ক্রমতালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ভারত সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি কমলেশ রবিদাস স্বাক্ষরিত স্মারকে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগত বিবেচনায় টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রী সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, এই মর্যাদা কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকলসংক্রান্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে ভারতের প্রটোকল তালিকায় কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসছে না। টেবিল অব প্রিসিডেন্স হলো ভারতের একটি সরকারি প্রটোকল তালিকা, যেখানে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পদধারী ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারক্রম নির্ধারণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ