বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৩:১৯ পি.এম
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভুইঞা। তিনি বলেছেন, কিছু প্রক্রিয়া এখনও বাকি রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার দ্বৈত বেঞ্চ স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফৌজদারি আইনে পারদর্শী এই আইনজীবী এখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াই চালাবেন।
গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করেন সোহেল রানা। এই অপরাধে তাকে সহায়তা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। চলতি মাসের ৭ জুন, অপরাধের গভীরতা বিবেচনা করে, দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ের পর দুই আসামিকে কনডেম সেলে পাঠানো হয়েছে। কনডেম সেল থেকে তারা রায়ের বিরুদ্ধে জেলাপোল আপিল করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ সকালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অতীন্দ্র মোহন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আগামী ২৮ জুন রোববার কুমিল্লা নগরীতে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে নগরীর ৫৫ হাজার ১৯১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক)।
আজ সকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কুসিকের মেডিক্যাল অফিসার ডা. চন্দনা রাণী জানান, জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরীর ১১৪টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। এই সময় নির্ধারিত বয়সের শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
তিনি জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৭ হাজার ৮২৫ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪৭ হাজার ৩৬৬ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শিশুদের কাছে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর জন্য নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ডে দুইজন করে সুপারভাইজার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন। শিশুদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রজেক্ট, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, রোটারি ক্লাব, এপেক্স ক্লাব অব কুমিল্লা সিটি এবং বিডি ক্লিন, কুমিল্লা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়ন, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্ধারিত বয়সী শিশুদের অভিভাবকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্যাম্পেইনের দিন নিকটস্থ কেন্দ্রে এসে সন্তানকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে এই জাতীয় কর্মসূচিকে সফল করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়জুড়ে নগরীর সব কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কোনো শিশু যেন এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য নগরীর সব অভিভাবককে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রত্যাশা, অভিভাবকদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে কুমিল্লা নগরীতে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে এবং শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। ফলে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি উচ্চতর প্রটোকল সুবিধা পাবেন। বুধবার ভারত সরকারের জারি করা এক অফিস স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দিনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগতভাবে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তবে এ কারণে ভারতের বিদ্যমান টেবিল অব প্রিসিডেন্স বা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ক্রমতালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ভারত সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি কমলেশ রবিদাস স্বাক্ষরিত স্মারকে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগত বিবেচনায় টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রী সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, এই মর্যাদা কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকলসংক্রান্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে ভারতের প্রটোকল তালিকায় কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসছে না। টেবিল অব প্রিসিডেন্স হলো ভারতের একটি সরকারি প্রটোকল তালিকা, যেখানে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পদধারী ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারক্রম নির্ধারণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গৌছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আলোচিত এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। সেই সাথে গত ৭ এপ্রিল একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চান বিচারক। শুনানীতে অংশ নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গৌছ, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। এরপর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ