০৫:২০ এম
মাদককে দেশ, সমাজ ও পরিবারের অন্যতম প্রধান শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সমাজে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুধু প্রশাসনই নয়, বরং সকল স্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে এই গুরুতর দায়িত্ব পালন করতে।
তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন মাদকসেবী এবং মাদক কারবারিদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে চুনকুটিয়া গার্লস স্কুল মাঠে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, মাদক আজকের দিনে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তাই মাদক নির্মূলকে প্রশাসনের একমাত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘মাদকের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। সমাজকে রক্ষা করতে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।’
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীরা ক্রমশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ছেলেদের পাশাপাশি এখন অনেক মেয়েও মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’
তিনি প্রত্যেক মহল্লায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ‘মাদকবিরোধী কমিটি’ গঠনের আহ্বান জানান, বলেন এই ধরনের কমিটি জনসচেতনতা সৃষ্টি, মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে, ফলে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সমাবেশে আবাসন খাতের একটি অংশের বিরুদ্ধে অনিয়ম, প্রতারণা ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, কিছু অসাধু ভূমিদস্যু নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তরুণ ও কিশোরদের ভাড়াটে বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি অনেক হাউজিং কোম্পানি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও প্রতিশ্রুত ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়নি। 이러한 প্রতারণার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘যারা বলে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে, তারা ধর্মকে অপব্যবহার করছে এবং জাতির সাথে তামাশা করছে। মানুষের পরকাল নির্ধারণ হবে তার নিজ নিজ আমল ও সৎকর্মের ভিত্তিতে। ধর্মকে ভোটের রাজনীতির হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।’
তিনি বলেন, ‘একাত্তরের পরাজয় যারা এখনো মেনে নিতে পারেনি, তারা কখনো দেশের প্রকৃত কল্যাণ করতে পারে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ক্ষমতা কখনো স্থায়ী নয়। মানবতার ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেই রাজনীতি করতে হবে। জনগণের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখে অংশগ্রহণ করতে পারলে জনগণই সবসময় রাজনৈতিক নেতাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, ‘মানুষের মন জয় করতে পারলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। জনগণ পাশে থাকলে কোনো বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়।’
নাগরিক সমাবেশে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, মাহবুব আলম মামুন, সোহেল রানা এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন