ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০১:৩৫ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ মোঃ ইসমাইল শরীফ (৬৫) নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার হরিণপালা এলাকার বেরিবাঁধের দক্ষিণ পাশের ঢাল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইসমাইল শরীফ ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৩ নম্বর তেলিখালী ইউনিয়নের ০৯ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণপালা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ শরীফের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হলে ঘর থেকে বের হন ইসমাইল শরীফ। এরপর তিনি তুষখালী বাজার জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তার স্ত্রী মোসাঃ শেফালী বেগম (৫০) তেলীখালী পুলিশ ফাঁড়িতে ফোনে বিষয়টি জানান। সেখান থেকে তাকে খোঁজাখুঁজির পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরদিন সকালে বাড়ির অদূরে বেরিবাঁধের দক্ষিণ পাশে ইসমাইল শরীফকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্বজন ও স্থানীয়রা এগিয়ে যান। এ সময় নিহতের ডান কানের লতি ছেঁড়া ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। এ ছাড়া গলার নিচে থেঁতলানো দাগ এবং অণ্ডকোষে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইসমাইল শরীফ এলাকায় সুদের ব্যাবসা করতেন। টাকা-পয়সা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথেও তার বিরোধ লেগেই থাকত। আর্থিক বা পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি মারা যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগনুল হাসান জানান, খবর পেয়ে নিহতের বাড়ির কাছেই বেরিবাঁধের ঢাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তিন হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে কানাডা। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের মোট বিতাড়নের প্রায় ৮৮ শতাংশ।
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কানাডা থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বের করে দেওয়ার হার সর্বোচ্চ পরিমাণে পৌঁছেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ২৭৩ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে, সেখানে কানাডায় এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি।
বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে মেক্সিকো তালিকার শীর্ষে থাকলেও, চলতি বছরের প্রথমার্ধে মেক্সিকোর (১,৫৭৩ জন) পেছনে ফেলে ভারতের নাম শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। সিবিএসএ-র হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে আরও ৭ হাজার ৬৬৯ জন ভারতীয় নাগরিক চূড়ান্তভাবে কানাডা ছাড়ার আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
কানাডার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ জানায়, মূলত ভিসা জালিয়াতি, অবৈধ অবস্থান, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার কারণে ভারতীয় নাগরিকদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মী কোটা কমিয়ে আনার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওটাওয়া, তার সরাসরি প্রভাব বিপুলসংখ্যক ভারতীয়দের ওপর পড়েছে।
সিবিএসএ-র নিয়ম অনুযায়ী, আদেশ আসার পর যদি তারা স্বেচ্ছায় দেশ না ছাড়েন, তাহলে স্থায়ীভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে 'ডিপোর্টেশন অর্ডার' জারি করে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেয় দেশটির অভিবাসন বিভাগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অটোরিকশা (মিশুক) চালক ওয়ালি উল্লাহ (২০) হত্যা মামলার রহস্য পিবিআই উদঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া মিশুক এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ৫ জুলাই অসুস্থ বাবার পরিবর্তে মিশুক চালাতে বের হওয়ার পর ওয়ালি উল্লাহ নিখোঁজ হয়ে যান। মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে পরিবার ৬ জুলাই সোনারগাঁ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। একই দিন আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন স্থান থেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ ওয়ালি উল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হারুন রশিদ অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন রুট বিশ্লেষণ করে গত ২ আগস্ট সোনারগাঁ থেকে আওলাদ হোসেন (২৬) ও শাহিনকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট শাহিনের বাড়ি থেকে নিহত ওয়ালি উল্লাহর ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোন ও একটি বাংলালিংক সিম এবং পরদিন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া মিশুকটি উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইর আরো জানায়, গ্রেপ্তার দুই আসামিসহ চার থেকে পাঁচ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বারদী অটো স্ট্যান্ড থেকে পরিকল্পিতভাবে মিশুক ভাড়া করে আড়াইহাজারের সুলতানশাদী বাজারে যায়।
ফেরার পথে গ্রুপদী গ্রামের নির্জন স্থানে ওয়ালি উল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তার মিশুক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে মিশুকটি ভবেরচর এলাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত ৮ আগস্ট আদালতে হাজির করা হলে আসামি শাহিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন শনিবার দেশে বিভিন্ন স্থানে ঘটে দুটি বোমা হামলা। এই হামলার ফলে অন্তত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং বেশ কজন আহত হয়েছেন।
এই খবর প্রতিবেদন করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
কট্টর ডানপন্থী নেতা আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালি-তে শপথ গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে নির্বাচনী প্রচারে তিনি ‘কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই মাদক-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই’ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার ভোরে ফার্ক গেরিলা গোষ্ঠীর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিস্ফোরক ব্যবহার করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালির কাছে একটি মহাসড়কের টোল বুথ ধ্বংস করে ফেলে। এই ঘটনায় দুই নিরাপত্তাকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন।
সান্তান্দের দে কিলিচাও পৌরসভার পান-আমেরিকান মহাসড়কের ওই টোল বুথটি তখন নির্মাণাধীন অবস্থায় ছিল। এই অঞ্চলে কলম্বিয়ার সবচেয়ে কাক্সিক্ষত গেরিলা কমান্ডার ইভান মোরোদিসকোর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।
মোরোদিসকো এমন একটি গেরিলা গোষ্ঠীর নেতা, যারা ২০১৬ সালে কলম্বিয়া সরকার ও ফার্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সশস্ত্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দে লা এসপ্রিয়েলা বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এক্স-এ প্রকাশিত ওই পোস্টে বলেন, ‘দেশের অবকাঠামোর ওপর হামলা মানে দেশের অগ্রগতির ওপর হামলা।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এর জন্য দায়ী, তাদের উদ্দেশে আমি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছিÑ তাদের জন্য কোনো আশ্রয়, কোনো ছাড় এবং কোনো দায়মুক্তি থাকবে না।’
প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে, দেশের উত্তরাঞ্চলীয় সেসার বিভাগে শনিবার ভোরে আরেকটি বোমা হামলার ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পুলিশ স্টেশনে আঘাত হানলে ওই কর্মকর্তা নিহত হন।
হামলার সঙ্গে কাদের জড়িত তা এখনো শনাক্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে, প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, যারা এর জন্য দায়ী, তারা ‘শাস্তি এড়াতে পারবে না।’
নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসা দে লা এসপ্রিয়েলা তাঁর কঠোর এবং সংঘাতমুখী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলের প্রতি তার প্রশংসা প্রকাশ করেছেন। এসময় কলম্বিয়ায় সক্রিয় গেরিলা এবং মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর কঠোর বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁর।
বুকেলের মতো বড় আকারের কারাগার নির্মাণ এবং কলম্বিয়ায় সক্রিয় গেরিলা ও মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দে লা এসপ্রিয়েলা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমর্থন নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
দেশটিতে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার সময়েও তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের এক দশক পরেও কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এসব গোষ্ঠী বিশ্বের অন্যতম প্রধান কোকেন উৎপাদন ও পাচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
টোল বুথের পাশের এলাকায় বসবাসকারী দমকলকর্মী রবার্তো সান্দোভাল এএফপিকে জানান, বোমা হামলার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছি। পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ এবং সবাই চিন্তিত।’
এলাকার অন্য একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ফলে জানালার কাচ ভেঙে ৬৮ বছর বয়সী গৃহিণী সোনিয়া জাপাতার বিছানার ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জানান, ‘আমি খুবই উদ্বিগ্ন, খুব ভয় লাগছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাত শনিবার অভিযোগ করেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে তাদের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানির একটি ট্যাংকারে ইরান হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পরিচালনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে উভয় দেশই ইঙ্গিত দিয়েছে। খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে এবং এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে চলাচলের জন্য ফি বা টোল আদায় করতে চায়। ইরান নৌপথ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেÑএমন অভিযোগে দেশটি বেশ কয়েকটি জাহাজে বারবার হামলাও চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কোনো ধরনের জাহাজ চলাচল ফি আরোপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জুনে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে হওয়া একটি চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর ‘ভবিষ্যৎ পরিচালনা ব্যবস্থা’ নিয়ে উপকূলীয় দেশ ওমানের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার এই সুযোগ তেহরানকে দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে যে প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করতেন, সেখানে একের পর এক হামলার কারণে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এরপর মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে জুনের সমঝোতার শর্তে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় এডিএনওসি (আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি)-এর একটি ট্যাংকারকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করে চালানো ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে যে, হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।
পরে শনিবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে ওমানের উপকূলের কাছে একটি জাহাজে কোনো একটি বস্তু আঘাত হানলে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নেভানো হয় এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে ইউকেএমটিও যে জাহাজটির কথা বলেছে, সেটিই একই জাহাজ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার এডিএনওসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে তাদের ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহেই তিনটি জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ‘বারবার হামলার’ নিন্দা জানালেও এ ঘটনায় ইরানের নাম উল্লেখ করেনি।
মন্ত্রণালয় আরও জানাচ্ছে, ‘হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে চলমান আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে এগিয়ে চলেছে।’ একই সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, এ জন্য এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের চুক্তিটিÑযেটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা পরিচালনা করার ভিত্তি হিসেবে কাজ করার কথা ছিলÑতাতে বলা হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমান উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং তা ‘প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ হবে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের নৌপথে সাধারণত চলাচলের জন্য ফি বা টোল আরোপের সুযোগ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ