বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১৯ পি.এম
পটুয়াখালী, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামীকাল কুয়াকাটায় শুরু হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’, যা দীর্ঘ নয় বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই উৎসব উপলক্ষে বিচ ফুটবল, ক্রিকেট, ম্যারাথন, ঘুড়ি ও পিঠা উৎসব, ফ্যাশন শো, সংগীতানুষ্ঠান এবং চরাঞ্চল ভ্রমণের আয়োজন করা হবে।
আয়োজকরা কুয়াকাটা সৈকতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগমের আশা করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, টানা ছুটি এবং কার্নিভালের কারণে এবার পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের আগমন হতে পারে। এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সৈকতজুড়ে নানা প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, এবারের আয়োজনে নতুন আকর্ষণ যুক্ত করা হয়েছে যা গতানুগতিকতার বাইরে। বিনোদন, খেলাধুলা, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্নিভালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করবে, যেখানে নান্দনিক স্টল এবং ফটো বুথ থাকবে। বিউটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে রিমার্ক-হারল্যান, যা তাদের বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে উৎসবের বিনোদন এবং লাইফস্টাইলভিত্তিক আয়োজন আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় ঐতিহ্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাও এবারের কার্নিভালের অন্যতম লক্ষ্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত এই সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি লেম্বুর বন, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, রাখাইন পল্লি এবং বৌদ্ধ মন্দির পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। দর্শনার্থীরা স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
কার্নিভালে বিচ ফুটবল ও বিচ ক্রিকেটের মতো ক্রীড়া আয়োজনের পাশাপাশি বিচ ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব এবং পিঠা উৎসবও থাকবে। ফ্যাশন শো, সংগীতানুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চল ভ্রমণের আয়োজন পর্যটকদের সমুদ্রসৈকতের বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং স্থানীয় জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেবে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই কার্নিভাল কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরবে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং স্থানীয় পণ্য বিক্রিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় ঐতিহ্য, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমন্বয়ে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬ পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে এবং দেশের পর্যটন খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের টঙ্গীতে নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটে আব্দুল আজিজ (৩২) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে টঙ্গীর আরিচপুর বউ বাজার গাজীবাড়ী এলাকার আব্দুর রহমান বাবুর বাড়িতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আব্দুল আজিজ দিনাজপুর জেলার কাহারুল থানার সুন্দইল গ্রামের জরু মিয়ার পুত্র। তিনি টঙ্গীর বউ বাজার এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করতেন এবং পেশায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, টঙ্গীর আরিচপুর বউ বাজার এলাকায় বহুতল ভবনের প্লাস্টারের কাজ চলাকালীন ঘরের ভিতর অন্ধকার ছিল। অন্ধকার দূর করার জন্য আব্দুল আজিজ একটি বৈদ্যুতিক বাতির লাইন দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
তার সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও নিরাপত্তাব্যবস্থা তেমন উন্নত হয়নি। পর্যাপ্ত লাইফগার্ড ও নজরদারির অভাবের কারণে চরম ঝুঁকি নিয়ে সাগরে গোসল করতে নামছেন পর্যটকেরা। গত ১২ বছরে সৈকত থেকে সাগরে নেমে ভেসে যাওয়ার সময় অন্তত ৮৪ জন পর্যটকের মৃত্যু ঘটেছে।
টানা ছুটির সময় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সুগন্ধা পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম হয়েছে। লাইফগার্ডদের মতে, সেখানে সাগরে নামছেন লাখেরও বেশি পর্যটক। অথচ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র আটজন লাইফগার্ড। এর মানে হলো, প্রতি ১২ হাজার ৫০০ পর্যটকের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন একজন লাইফগার্ড।
সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সাগরে নেমে ভেসে যাওয়ার সময় ১ হাজার ২০০ পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৪ জন।
ঝুঁকিতে পর্যটকেরা সৈকতের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছেন। অন্যান্য পয়েন্টেও ভিড় রয়েছে। কিন্তু পর্যটকদের অভিযোগ, সমুদ্রস্নানের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মী নেই। কিছু এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা চোখে পড়ে না।
সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মী আব্দুর রশীদ জানান, ‘বর্তমানে সুগন্ধা বিচে আটজন লাইফগার্ড দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হলেও তাদের তুলনায় লাইফগার্ডের সংখ্যা অনেক কম। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়ই অসুস্থ পর্যটকদের হাসপাতালে নিতে হয়। এসময় নানা প্রতিকূলতা ও মানুষের বিরূপ মন্তব্যের মুখেও পড়তে হয় আমাদের। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও লাইফগার্ডরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে সরকারের এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া জরুরি।’
পর্যটক রিয়াজ উদ্দিন মন্তব্য করেন, ‘সমুদ্রে গোসল করতে নেমে অনেকের প্রাণহানি ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহও উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। তাই কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’
সৈকতের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মী না থাকার অভিযোগ তুলে আরেক পর্যটক সোয়েব ইফতিখার বলেন, ‘প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকদের নিরাপত্তা দেয়া সহজ হতো। এ জন্য প্রশাসনের আরও নজরদারি প্রয়োজন।’
পর্যটক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই সৈকতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।’
সম্প্রতি পেচারদ্বীপ সৈকতে সাগরে নেমে চার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। তাকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে লাইফগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ।
সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে হিমছড়ি পয়েন্টে দুই দলের কয়েকজন পর্যটক সাগরে গোসল করতে নেমে স্রোতে ভেসে যান। তাদের মধ্যে একজনকে জীবিত ও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরও একজনকে সকালে উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।’
পর্যটকদের সাগরে নামার আগে লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘যে স্থানে গোসল করতে নামবেন, সেখানে লাইফগার্ডের নিরাপত্তাসেবা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে। যেখানে এ সেবা নেই, সেখানে কোনোভাবেই সাগরে নামা উচিত নয়।’
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতজুড়ে লাইফগার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
হোটেল কক্স-টুডের মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, ‘পর্যটকেরা মূলত সমুদ্রসৈকত উপভোগ করতেই কক্সবাজারে আসেন। তাই শৈবাল পয়েন্ট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পুরো সৈকত এলাকায় লাইফগার্ডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সৈকতে নিরাপত্তাবেষ্টনী ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়, যা তাদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প সম্পর্কেও বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই পর্যটকদের নির্বিঘ্নে সৈকত উপভোগের সুযোগ করে দিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় মাদক বিক্রির জন্য নগদ ১৮ হাজার টাকা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে উপজেলার মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার জবের প্রামাণিকের ছেলে মান্টু মিয়া (৫৫) এবং তার স্ত্রী নারগিছ খাতুন (৫০)।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লালপুর থানার এসআই মনিরুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ওই এলাকায় অভিযান শুরু করেন। অভিযানের সময় নার্গিস খাতুনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এরপর ইয়াবা, নগদ ১৮ হাজার টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার নার্গিস খাতুনের বিরুদ্ধে ২০২১ ও ২০২৪ সালে লালপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা রয়েছে। তার স্বামী মান্টু মিয়ার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে একই আইনে একটি মামলা রয়েছে।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘শত বাধা-বিপত্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা পেরিয়ে’ অবশেষে পাবনার ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত হলো কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার তাফসিরুল কুরআন মাহফিল।
বুধবার রাতে উপজেলার সাহাপুরে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলটি ব্যাপক জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ মাহফিলকে কেন্দ্র করে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। নানা আলোচনা-সমালোচনা ও আপত্তির মধ্যেও ধর্মীয় এ আয়োজনটি শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
এ মাহফিলের আয়োজন করা হয় সাহাপুরের কদিমপাড়া দারুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে, যেখানে মরহুম সিরাজ মৃধার ধানের চাতালে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল। প্রধান বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বে একই মাদ্রাসার উদ্যোগে মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিলের আয়োজন করা হলেও রাজনৈতিক বাধার কারণে পরপর দুই বছর তা স্থগিত করতে বাধ্য হন তারা। এ কারণে এবার মাহফিল আয়োজনের প্রতি স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় নানা আলোচনা।
মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের আগে ঈশ্বরদী থানায় স্মারকলিপি দেয় সাহাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল। তারা রাজনৈতিক আলোচনা, দলীয় প্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করে। গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মহনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় প্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হলে স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের বক্তব্য ও উসকানিমূলক মন্তব্য বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়।
ছাত্রদলের এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মাহফিলের আগে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়। একদিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মাহফিল অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি, অন্যদিকে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা—সব মিলিয়ে সাহাপুরসহ পুরো ঈশ্বরদীতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
তবে নানা শঙ্কা ও বিতর্কের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় মাহফিল। সাহাপুরের মাহফিলস্থল ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা থাকলেও আয়োজনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
মাদ্রাসার পরিচালক মাহমুদ হোসেন শাহজাহানের পরিচালনায় মাহফিলে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার মাওলানা হাফিজুর রহমান জিহাদী ও ঈশ্বরদীর হাফেজ মাওলানা সোহাইল মাহমুদ। এ ছাড়া স্থানীয় আলেমরাও আলোচনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ