প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংযুক্ত আরব আমিরাত শনিবার অভিযোগ করেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে তাদের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানির একটি ট্যাংকারে ইরান হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পরিচালনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে উভয় দেশই ইঙ্গিত দিয়েছে। খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে এবং এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে চলাচলের জন্য ফি বা টোল আদায় করতে চায়। ইরান নৌপথ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেÑএমন অভিযোগে দেশটি বেশ কয়েকটি জাহাজে বারবার হামলাও চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কোনো ধরনের জাহাজ চলাচল ফি আরোপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জুনে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে হওয়া একটি চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর ‘ভবিষ্যৎ পরিচালনা ব্যবস্থা’ নিয়ে উপকূলীয় দেশ ওমানের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার এই সুযোগ তেহরানকে দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে যে প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করতেন, সেখানে একের পর এক হামলার কারণে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এরপর মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে জুনের সমঝোতার শর্তে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় এডিএনওসি (আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি)-এর একটি ট্যাংকারকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করে চালানো ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে যে, হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।
পরে শনিবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে ওমানের উপকূলের কাছে একটি জাহাজে কোনো একটি বস্তু আঘাত হানলে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নেভানো হয় এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে ইউকেএমটিও যে জাহাজটির কথা বলেছে, সেটিই একই জাহাজ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার এডিএনওসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে তাদের ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহেই তিনটি জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ‘বারবার হামলার’ নিন্দা জানালেও এ ঘটনায় ইরানের নাম উল্লেখ করেনি।
মন্ত্রণালয় আরও জানাচ্ছে, ‘হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে চলমান আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে এগিয়ে চলেছে।’ একই সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, এ জন্য এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের চুক্তিটিÑযেটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা পরিচালনা করার ভিত্তি হিসেবে কাজ করার কথা ছিলÑতাতে বলা হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমান উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং তা ‘প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ হবে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের নৌপথে সাধারণত চলাচলের জন্য ফি বা টোল আরোপের সুযোগ নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন