০৯:০৪ পি.এম
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর লোগো প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এই লোগো নিয়ে চলছে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই এটিকে খুব সাধারণ বা ‘অলস ডিজাইন’ বলে খোঁচা দিয়েছেন, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ভেতরে রয়েছে গভীর ব্র্যান্ডিং কৌশল, মনস্তাত্ত্বিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিপণন ভাবনা।
লোগোর মূল নকশায় বিশ্বকাপ ট্রফি ও ‘২৬’ সংখ্যা দেখা যাচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ ডিজাইন নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের ক্রীড়া ব্র্যান্ডিংয়ের একটি রূপরেখা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
প্রথমত, বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথমবার লোগোতে সরাসরি আসল বিশ্বকাপ ট্রফির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একবারও আগে দেখা যায়নি। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই ট্রফির ছবি নতুনভাবে তৈরি করা হয়নি; বরং এটি একটি পূর্ববর্তী প্রচারণার ছবির পুনর্ব্যবহার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় নাগরিক পার্টির ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লোগোর ‘২৬’ সংখ্যাটিকে কেবল একটি সংখ্যা হিসেবে দেখা হয়নি। এটি মোট ৪৮টি জ্যামিতিক ইউনিট বা ব্লক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের প্রতিনিধিত্ব করছে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতের বিশ্বকাপগুলোতেও একই আকারের ডিজাইন কাঠামো ব্যবহার করা যাবে, কেবল বছর বা সংখ্যাটি বদলালেই নতুন লোগো তৈরি করবে। এটি একটি স্থায়ী ব্র্যান্ডিং সিস্টেম তৈরির অংশ।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই লোগো ডিজিটাল যুগের প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়েছে। মোবাইল, অ্যাপ আইকন এবং ডার্ক মোড স্ক্রিনে এটি সহজে দৃশ্যমান হতে পারে, যা ‘ডিজিটাল ফার্স্ট’ কৌশলের অঙ্গ।
লোগোর ‘২৬’ অংশটি ফাঁকা এবং সাদা রঙে রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো ১৬টি শহর নিজেদের সংস্কৃতি ও রঙ অনুযায়ী কাস্টমাইজ করতে পারবে।
আরও পড়ুন: নরসিংদীর ম্যারাথনে ১ হাজার ৫০০ প্রতিযোগী, ৭৫ বছর বয়সী খবিরের অংশগ্রহণ
এছাড়াও, ফিফা ‘#WeAre26’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের লোগোর সাথে যুক্ত করেছে, যাতে যে কেউ এটিকে সহজে আঁকতে, রঙ করতে বা নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারে।
সর্বশেষে, সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, এই লোগো ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটি ছিল একটি পরিকল্পিত কৌশল। ডিজাইন বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, ফিফা ইচ্ছাকৃতভাবে একটি “বিতর্ক-উদ্দীপক ডিজাইন কৌশল” গ্রহণ করেছে, যাতে সমালোচনা, মিম ও আলোচনা বৃদ্ধি পায় এবং প্রচারণা স্বাভাবিকভাবেই ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র: এই সময়
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ জরুরি: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন