জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৪:৩০ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরা শহরের স্টেডিয়ামপাড়া এলাকায়, স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে এক যুবক নামের জিহাদ আত্মহত্যা করেছেন।
জিহাদের মৃতদেহ সদর উপজেলার আমুড়িয়া ইউনিয়নের মিজানুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, জিহাদ পরিবার সাথে শহরের স্টেডিয়ামপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার বিয়ে প্রায় এক বছর আগে হয়েছিল। তার স্ত্রী মিমের বাড়ি বরিশালের ঝালকাঠি এলাকায়। ঈদুল আজহার আগে, স্ত্রী বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের মতে, জিহাদের কোনো স্থায়ী পেশা না থাকা কারণে সংসারে আর্থিক সংকট থাকছিল। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য ও বাকবিতণ্ডা হতো। তাদের কোনো সন্তানও ছিল না। রোববার (৭ মে) সকালে, জিহাদ নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে, পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে, তাকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের কথা অনুযায়ী, ঘটনার সময়ে জিহাদ তার স্ত্রীর সাথে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে তার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে মাগুরা সদর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক এবং দাম্পত্য জটিলতার কারণে, বেশ কিছুদিন ধরে জিহাদ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
পুলিশ জানায়, এই বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৫তম বারের মত পিছিয়ে আগামী ১৭ জুন ধার্য করেছেন আদালত। রবিবার (৭ জুন) তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব)-এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ দিন ধার্য করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ।
গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ছিল।
আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুদিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওইদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ জানান, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসাসহ ধর্ষণের পর হত্যার শিকার অন্যান্য শিশুদের জন্য জাতীয় সংসদে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন) শুরু হয়। এ সময়ের মধ্যেই এই শোক প্রকাশের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের জন্য প্রথম বাজেট হবে।
রোববার এই বৈঠকের শুরুর দিকে অধিবেশনের জন্য সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, ওসমান ফারুক, জয়নুল আবেদীন, মো. শাহজাহান ও শাহজাহান চৌধুরী। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি থাকলে তালিকার প্রথম ব্যক্তি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
এদিকে পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে আদালত দুই আসামী সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রায় কার্যকরের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গত ১৯ মে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে পুলিশ তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে ২৪ মে মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
বিচারকের অবকাশকালীন ছুটিটি বাতিল করে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগ গঠন করা হয়। একই দিন মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
পরদিন ২ জুন এক কার্যদিবসে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এই সময়ে রামিসার বাবা, মা, বোন এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামী সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে অপর আসামী স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
এছাড়া পরে, ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামী পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
মোট পাঁচ কার্যদিবসে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়াকে সংশ্লিষ্টরা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল ইসলামিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ জুন শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপর পর্যন্ত চলে সেবা প্রদান। বাকেরগঞ্জের চরাদী মকিমাবাদ আমিনা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই ক্যাম্পে প্রায় চার শতাধিক রোগী সেবা গ্রহণ করেন। ক্যাম্পের আয়োজনে ছিলেন এছাহাক-লালমন কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান খন্দকার মোহাম্মদ আলী এবং ব্রাদার্স পোল্ট্রি ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল (আমতলা পানিরট্যাংকি) ইসলামিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এস এম ইকবালুর রহমান সেলিম। সভাপতি ছিলেন ওয়ান ব্যাংক পিএলসি এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন এছাহাক-লালমন কল্যাণ ট্রাষ্ট এর চেয়ারম্যান খন্দকার মোহাম্মদ আলী, ব্রাদার্স পোল্ট্রি ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এবং দারুল উলুম তালিমুল কুরআন মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা মোঃ নুরুল্লাহ গাজী।
ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে ফ্রি চিকিৎসাপত্র প্রদান করেন বরিশাল শেবাচিম এর সহযোগী অধ্যাপক ও গ্যাস্ট্রো লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. আল মামুন হোসেন, সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম মশিহ-উল-আযম, শেবাচিমের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সাবিকুন নাহার উর্মি, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রুবি আক্তার, নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফয়সাল আহমেদ শিবলি।
ক্যাম্পে আগত সকল রোগীর জন্য স্পেশালাইজড হাসপাতালে যে কোন পরীক্ষা নীরিক্ষায় ৩৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়। এদিকে বাড়ির কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা ফ্রি পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সেবা গ্রহীতারা। তারা বলেন, বরিশালে গিয়ে ডা. আল মামুন স্যার সহ অন্যান্য ডাক্তারদের সিরিয়াল পাওয়াই যেখানে কঠিন, সেখানে বাড়ির কাছে এসে তারা বিনা ভিজিটে আমাদেরকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করলেন। তারা ইসলামিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতাল এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে এমন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ