০৫:৩৩ পি.এম
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের অর্থনীতিতে আইআরজিসি আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে। অনলাইন ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ জুন ২০২৬ তারিখে ০৫:২৮ পিএম সময়ের সংবাদে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা সামনে আসার ফলে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আইআরজিসি ইরানের অর্থনীতির বিস্তৃত খাতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে তেল ও গ্যাস, নির্মাণ, বন্দরের ব্যবস্থাপনা, শিপিং, টেলিকমিউনিকেশন এবং অবকাঠামোর খাতে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যদি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয় এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়, তবে ইরানের অর্থনীতিতে বিপুল পরিমাণ নতুন বিনিয়োগ এবং তেল রপ্তানি শুরু হতে পারে। কিন্তু এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বড় একটি অংশ সম্ভবত বিদ্যমান দেশীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত হবে, যেখানে আইআরজিসির অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। ইরানের বিনিয়োগ কাঠামো অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিগুলো সাধারণত স্থানীয় অংশীদারের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, এই কাঠামোর কারণে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী বা গেটকিপারের ভূমিকায় থাকে। আইআরজিসির বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রকৌশল ও বাণিজ্যিক শাখা 'খাতাম আল-আনবিয়া' ইতোমধ্যে শত শত বড় ধরনের অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পের সাথে যুক্ত আছে। পাশাপাশি, টেলিকম, পরিবহন, পর্যটন এবং অটোমোবাইল খাতেও তাদের কাজের বিস্তৃতি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের অর্থনীতিতে এই নেটওয়ার্ক আরও প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে, তেল রফতানি পুনরায় বৃদ্ধি, পুনর্গঠন প্রকল্প এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহের জন্য স্থানীয় শক্তিশালী অংশীদারের প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা আইআরজিসির অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে পারে। তবে, এই পরিস্থিতি নতুন আইনগত ও কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো আইআরজিসিকে একটি নিষিদ্ধ বা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে। ফলে সম্ভাব্য সমঝোতার উপরে, এই গোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করার ফলে বিদেশি কোম্পানিগুলোর আইনি ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমাধান নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যের উপর বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। যেখানে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আইআরজিসির প্রভাব বাড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন