ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আ.লীগের লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক পূর্তিতে জামায়াতের কর্মসূচি


আ.লীগের লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক পূর্তিতে জামায়াতের কর্মসূচি

আগামী ২৮ অক্টোবর, ২০০৬ সালে সংঘটিত আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক পূর্তি উদযাপন হতে যাচ্ছে। এই উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগরীতে আলোচনা সভা এবং ২৮ অক্টোবর সারা দেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ লাখ টাকা ছিনতাই

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, "২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠার নজিরবিহীন তাণ্ডব ও নৃশংসতা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও কালো অধ্যায়।" তিনি আরও বলেন, সেদিনের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের ফলে দেশে দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র হত্যা ও নাগরিক অধিকার হরণের বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিল।

তিনি জানান, ঐতিহাসিক এই ঘটনার দুই দশক পূর্তি হতে যাচ্ছে এবং আজও হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান, "এই পৈশাচিক ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য।"

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সংগঠন এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগরীতে আলোচনা সভা ও ২৮ অক্টোবর সারা দেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতের সব শাখাকে এই দিবস উপলক্ষে উক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ঘোষিত কর্মসূচি সার্বিকভাবে সফল করতে দেশের কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সুরঞ্জিতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদের মতভেদ

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিনে ঢাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশ ডাকে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও তার ১৪ দলীয় জোট। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিতে না পারেন, সেজন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট তুমুল আন্দোলন করছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে ওই ২৮ অক্টোবরে ঢাকার পল্টন-বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াতে ইসলামী এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। সেদিন ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে অস্ত্র তুলে গুলি এবং মানুষ পিটিয়ে মারার ঘটনা গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

সেই ২৮ অক্টোবরের আগের দিন এবং পরের দিনও দেশের বিভিন্ন জায়গায় রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘাত ঘটে। তিন দিনের তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ কার্যত রাজপথ দখলে নেয়। এই আন্দোলনটাই পরিচিত লগি-বৈঠার আন্দোলন নামে।

আরও পড়ুন: মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইংল্যান্ডের ল্যান্ডুডনো: পাহাড়, সমুদ্র ও সবুজ প্রকৃতির মিলনস্থল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


ইংল্যান্ডের ল্যান্ডুডনো: পাহাড়, সমুদ্র ও সবুজ প্রকৃতির মিলনস্থল

ল্যান্ডুডনো শহরটি ইংল্যান্ডের ওয়েলসের একটি নৈসর্গিক স্থানে অবস্থিত। এটি পাহাড়, সমুদ্র এবং সবুজ প্রকৃতির এক অনন্য সংমিশ্রণ উপভোগের জন্য আদর্শ স্থান। নর্থ ওয়েলসের উপকূলীয় এই শহরটি প্রকৃতি, ইতিহাস এবং আধুনিক সভ্যতার এক অসাধারণ মিশেল হিসেবে পরিচিত। ল্যান্ডুডনো শহরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অতুলনীয়, যা বিশ্ববিখ্যাত ব্রোঞ্জ যুগের খনির ইতিহাসের সাক্ষী। এখানে প্রকৃতির নির্মল আলিঙ্গন, দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রতট, পাহাড়ি উপত্যকা এবং গ্রেট ওর্মের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য পর্যটকদের মূল আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে।

এখানে ঘুরতে গেলে গ্রেট ওর্মের ব্রোঞ্জ যুগের তামার খনি এবং লৌহ যুগের দুর্গ দেখা সম্ভব। এছাড়াও প্রস্তর যুগের নিদর্শন, ষষ্ঠ শতাব্দীর সেন্ট টুডনো’স চার্চ এবং চার হাজার বছরের পুরনো শহরের সমৃদ্ধ ভান্ডার রয়েছে। ল্যান্ডুডনো শহরটি প্রথম দেখাতেই মনে হয় যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি, যা যুগ যুগ ধরে পর্যটকদের মুগ্ধ করে আসছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সমুদ্রের দৃশ্য পর্যটকদের হতভম্ব করে দেয়। অনেকেই মন্তব্য করেন, এখানকার সমুদ্রের সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ তারা আগে কখনো দেখেননি। সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল জল পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা দিয়ে ফিরে যাওয়ার দৃশ্য আগত পর্যটকদের আনন্দ দেয়। পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্রের দৃশ্য দেখে মনে হয়, পাহাড় যেন আকাশের সঙ্গে মিশে গেছে। ল্যান্ডুডনো সৈকতের সোনালি বালির ওপর দাঁড়িয়ে সাগরের ঢেউ এবং সূর্য ডোবার অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

ল্যান্ডুডনো শহরের মনোরম দৃশ্য দেখতে হলে কেব্‌ল কারে চড়তে হবে। এটি ওয়েলসের দীর্ঘতম এবং সুউচ্চ এয়ারিয়াল কেব্‌ল কার। কেব্‌ল কারে চড়ে মেঘের উপরে ল্যান্ডুডনোর জাদুকরী দৃশ্য দেখা যায়। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই বিনোদন নগরী যেন এক টুকরো ভূস্বর্গ। এখানে পাহাড়, সাগরের পাশাপাশি আকাশের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। ল্যান্ডুডনো শহরের অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতায় হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া ইংল্যান্ডের অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেকটাই মনোরম।

কেব্‌ল কারের স্বচ্ছ কাচের জানালার বাইরে তাকালে সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল জল এবং সাগরের অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়। যখন আপনি মেঘের বুক চিরে উপরে উঠবেন, তখন নিচের সবুজ দুর্গম উপত্যকা এবং বিশাল সাগরের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। কেব্‌ল কারে চড়লে পাহাড়ের ওপরের মনোরম দৃশ্য এবং পুরো শহরের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য দেখা যায়। এটি এক অভাবনীয় রোমাঞ্চকর অনুভূতির অভিজ্ঞতা।

এই কেব্‌ল কার রাইডের জন্য ১৫ পাউন্ড খরচ হবে। তবে শিশুদের জন্য টিকিটের মূল্য ১২ পাউন্ড। পরিবার হিসেবে দুজন অ্যাডাল্ট এবং দুজন শিশু হলে টিকিটের মূল্য ৪১ পাউন্ড। পোষা কুকুর নিয়ে কেব্‌ল কারে যেতে চাইলে কুকুরের জন্য দুই পাউন্ডের টিকিট কাটতে হবে। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফেরত আসা যায়। এই রাইডটি সিনেমার দৃশ্যের মতো—নিচে সবুজ উপত্যকা, পাশে নীল সমুদ্র এবং দূরে পাহাড়ের সারি। এখানে দেখতে পাওয়া যায় সমুদ্রের গা ঘেঁষে দৌড়ানো বড় বড় দাড়িওয়ালা বুনো কাশ্মীরি ছাগল এবং ভেড়ার পাল। এই পাহাড়ে ‘সিলভার-স্টাডেড ব্লু’ নামের বিরল প্রজাতির প্রজাপতি এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়।

১৯০২ সালে ভিক্টোরিয়ান আমলে গ্রেট ওর্মের চূড়ায় যাওয়ার জন্য ‘গ্রেট ওর্ম ট্রামওয়ে’ নির্মাণ করা হয়, যা এখনো চালু রয়েছে। ‘ল্যান্ডুডনো কেব্‌ল কার’-এর পাশাপাশি ট্রামওয়ের মাধ্যমে পুরো পাহাড় ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। ল্যান্ডুডনো—সত্যিই অনিন্দ্য সুন্দর এই সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে ভ্রমণপিপাসুরা চোখ ফেরাতে পারেন না। ল্যান্ডুডনো বিচ রূপের মহিমা দিয়ে পর্যটকদের কাছে টানছে, তেমনি তার বিচিত্র আবেগ ও অনুভূতির মায়াজালে বেঁধে রেখেছে। সমুদ্রের নীল জলরাশির কাছে যেতে চাইলে আপনাকে পিয়ার ধরে হাঁটতে হবে। পিয়ারের দুপাশে অসংখ্য দোকানপাট গড়ে উঠেছে, যেখানে বিনোদনের মিলনমেলা রয়েছে। শিশুদের খেলাধুলা ও খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সব রাইড রয়েছে। বড়দের জন্যও রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা আনন্দ-উল্লাসে সময় কাটান।

গ্রেট ওর্ম পাহাড়ে ওঠার জন্য পাথর কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এখানে পায়ে হেঁটে ওপরে ওঠার পাশাপাশি গাড়ি নিয়ে চূড়ায় ওঠা যায়। পাহাড়ের গা ঘেঁষে রাস্তার মাঝে মাঝে ‘হ্যাপি ভ্যালি’ এবং হলফ্রি গার্ডেন নামের বাগান তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দাঁড়িয়ে পর্যটকেরা পাহাড় ও সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যান। গ্রেট ওর্মের সুউচ্চ চূড়া থেকে স্নোডোনিয়া, অ্যাঙ্গেলসি, আইল অব ম্যান দ্বীপসহ ব্ল্যাকপুল ও লেক ডিস্ট্রিক্টের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়। ল্যান্ডুডনো, যদিও ওয়েলসের উপকূলে একটি ছোট্ট শান্ত শহর, এটি পর্যটকদের কাছে পাহাড়, সমুদ্র এবং আকাশের গল্পের মতো। শহরের একপাশে সমুদ্র, অন্যপাশে পাহাড়—মাঝখানে ছিমছাম রাস্তা এবং তার দুপাশে হাজার বছরের পুরোনো স্থাপত্যশৈলী। এসবই সাক্ষ্য দিচ্ছে, প্রকৃতি এবং ইতিহাস এখানে পাশাপাশি বসবাস করছে।

যারা চার হাজার বছর আগেকার ব্রোঞ্জ যুগের সাক্ষী হতে চান, তারা গ্রেট ওর্মের এই খনি দেখে আসতে পারেন। এখানে তামার কয়েকটি খনি ছিল ১৭০০ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্যে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই খনিগুলো থেকে পাথর ও বিভিন্ন প্রাণীর হাড়ের তৈরি হাতিয়ার ব্যবহার করে ‘ম্যালাকাইট’ নামক খনিজ থেকে তামা উত্তোলন করা হতো। বিশ্ববিখ্যাত ল্যান্ডুডনোর ব্রোঞ্জ যুগের খনিতে মাটির নিচে ইতিহাসের সন্ধানসহ প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য আপনার ভ্রমণকে আরো তৃপ্তিদায়ক করে তুলবে। এটি এমন একটি স্থান, যেখানে আধুনিকতা এবং প্রকৃতি হাত ধরাধরি করে চলে। একদিকে পাহাড়ের শান্ত স্নিগ্ধ রূপ, অন্যদিকে আইরিশ সাগরের মায়াবী স্বচ্ছ নীল জল এবং আলো ঝলমল শহরের কোলাহল—এসবের মেলবন্ধন ল্যান্ডুডনোকে অনন্য করে তুলেছে।

যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, পাহাড়, নদী এবং সবুজ উপত্যকার মধ্যে হারিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য ল্যান্ডুডনো এক স্বপ্নের নাম। পাহাড় এবং সমুদ্রের এই নীরব মিলন প্রকৃতির এক নৈসর্গিক মুগ্ধতায় সবাইকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য ল্যান্ডুডনো বিচ এবং গ্রেট ওর্ম একটি পারফেক্ট লোকেশন হতে পারে—প্রকৃতির কোলে স্বর্গের সৌন্দর্য!

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার ২৪ কৃষক পরিবারের ফসলি জমি রক্ষায় আত্মহত্যার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


কুমিল্লার ২৪ কৃষক পরিবারের ফসলি জমি রক্ষায় আত্মহত্যার হুমকি

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগের প্রতিবাদে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ২৪টি কৃষক পরিবারের সদস্যরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বুড়িচং প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ হলে পরিবারগুলোর একমাত্র জীবিকার উৎস হারিয়ে তারা ভূমিহীন ও অসহায় হয়ে পড়বে। নিজেদের ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা। এ অবস্থায় জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বিকল্প জমিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলো।

হরিপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের জমি রক্ষা ও পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ রবিউল হাসান। এ সময় নেহারা খাতুন, আলমগীর হোসেন, ফরিদ মিয়াসহ হরিপুর গ্রামের আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে কৃষক পরিবারগুলো জানায়, বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে একটি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের লক্ষ্যে যে জমিগুলো অধিগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ তিন ফসলি জমি। এসব জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করে এলাকার বহু দরিদ্র ও অসহায় পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কৃষিকাজের সঙ্গে তাদের সংসারের আয়-রোজগার, সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সরাসরি জড়িত।

কৃষকদের দাবি, প্রস্তাবিত জমিগুলো তাদের কাছে শুধুই কৃষিজমি নয় বরং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জমির মালিকদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাদের মধ্যে কেউ অটোচালক, কেউ রিকশাচালক কিংবা সাধারণ পেশার সঙ্গে যুক্ত। সামান্য আয়ের পাশাপাশি জমিতে ফসল উৎপাদন করে তারা পরিবারের ভরণপোষণ চালান। অনেকের কাছে এই জমির বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ বা বিকল্প আয়ের উৎস নেই। কারও কারও বসতভিটাও এই জমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তারা উল্লেখ করেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত অধিগ্রহণের কারণে ২৪টি পরিবার সম্পূর্ণ ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমি হারালে তাদের কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যাবে, কমে যাবে আয়ের সুযোগ। এতে পরিবারগুলোর খাদ্য, চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর সামনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

কৃষক পরিবারগুলোর দাবি, হরিপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে এলাকায় থাকা পতিত ও অনাবাদি জমি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তাদের ভাষ্য মতে, এসব বিকল্প জমি ব্যবহার করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দরিদ্র কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তারা আরও জানান, এলাকায় সরকারি খাসজমি রয়েছে। এ ছাড়া বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য বিনা মূল্যে জমি দান করতে আগ্রহী বলে তারা দাবি করেন। এসব সম্ভাবনা যাচাই না করে কেন তিন ফসলি কৃষিজমি অধিগ্রহণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

তাদের অভিযোগ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অসহায় কৃষক পরিবারগুলোকে ভূমিহীন করার উদ্দেশ্যে এসব জমি নির্বাচন করেছে।

এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বুড়িচং প্রেসক্লাব বরাবর স্মারকলিপি দেন।

এসময় কৃষক পরিবারের পক্ষ থেকে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তানভির হোসেনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়। নির্বাহী অফিসার মো. তানভির হোসেনের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনির হোসেন।

স্মারকলিপিতে প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা, বিকল্প জমি নির্ধারণ এবং ২৪টি কৃষক পরিবারের জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘অনিরাপদ’ সতর্কবার্তা সত্ত্বেও রিয়াদ বিমানবন্দর চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


‘অনিরাপদ’ সতর্কবার্তা সত্ত্বেও রিয়াদ বিমানবন্দর চালু

রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এটি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর করা হয়েছে। তবে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি নতুন হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডারে দেখা গেছে, রোববার ভোরে রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করেছে। উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের দিকে যাত্রা করেছে।

সৌদি আরব এবং দেশটির সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে, বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটিতে মানবিক সংকটও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনাল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য এবং ২ নম্বর টার্মিনাল জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হুথিরা এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দরে একাধিক হামলা চালিয়েছে। চলতি মাসে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এটি সৌদি আরবে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা ছিল।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেছেন, রিয়াদ বিমানবন্দর এখনো ‘অনিরাপদ’ এবং এটি তাদের বাহিনীর ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সব আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও স্থানীয় বিমান সংস্থার পাশাপাশি বিমানবন্দরের কর্মী ও যাত্রীদের রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করছে। বিমানবন্দরটি অনিরাপদ এবং আমাদের বাহিনীর সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরে যেকোনো কার্যক্রমের পরিণতির দায় সৌদি শাসকগোষ্ঠীকেই বহন করতে হবে।’ সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাজল: স্ত্রী অনুপ্রেরণায় ২১ বছর ধরে পাগলদের সেবায় মানবতার ফেরেশতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


কাজল: স্ত্রী অনুপ্রেরণায় ২১ বছর ধরে পাগলদের সেবায় মানবতার ফেরেশতা

নিজের একটি ছোট দোকান রয়েছে, এবং আয়ও সীমিত। কিন্তু অসহায় পাগলদের সেবায় কখনো পিছপা হন না রায়হানুর রহমান কাজল। কখনো তিনি গোসল করিয়ে দেন, কখনো হাত-পায়ের নখ কেটে দেন, আবার কখনো নিজের হাতে খাবার তুলে দেন। বিনিময়ে তার কোনো প্রত্যাশা নেই। এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মনের তৃপ্তি খুঁজে পান। এভাবেই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রায়হানুর রহমান কাজল (৩৯) প্রায় ২১ বছর ধরে পাগলদের সেবা করে আসছেন।

কাজল উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের বেটুবাড়ি গ্রামের মৃত গমির উদ্দিন আহমেদ ও শাহের বানুর ছেলে। নাজিমখান বাজারে তার একটি ছোট ভুসির দোকান রয়েছে। সেখানে ভুসি, মাছের খাদ্য ও ওষুধ বিক্রি করেই তার সংসার চলে। সীমিত আয়ের মধ্যেও প্রতি মাসে পাগলদের জন্য তিনি নিজের পকেট থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা ব্যয় করেন।

কাজলের মানবিক পথচলার শুরু ২০০৫ সালে। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে নাজিমখান বাজারে আসার সময় তিনি দেখতেন, অনেক পাগল অপরিচ্ছন্ন পোশাকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের হাত-পায়ের নখ অযত্নে বড় হয়ে আছে। এসব দৃশ্য তাকে ব্যথিত করত। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ২০১১ সালে বাজারে দোকান দেওয়ার পর তিনি আরও নিয়মিতভাবে সেবা শুরু করেন।

এরপর থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাগলদের গোসল করানো, নখ কেটে দেওয়া, চুল-দাড়ি ছেঁটে দেওয়া, খাবার খাওয়ানো ও নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার মতো কাজ করে যাচ্ছেন কাজল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১২০ জনকে সেবা দিয়েছেন। বাজারে কিংবা আশপাশে যেখানেই তাদের দেখা পান, সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে তিনি নিয়মিত চারজন পাগলকে দেখাশোনা করছেন।

কাজলের এ মানবিক পথচলায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার স্ত্রী মারুফা আক্তার লিপি। স্বামীর উদ্যোগে তিনি শুধু উৎসাহই দেন না, প্রয়োজনে বাড়িতে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের খাবারের ব্যবস্থাও করেন।

মারুফা আক্তার লিপির ভাষ্য, ‘আমার স্বামীকে আমি সব সময় অনুপ্রাণিত করি। মাঝেমধ্যে তিনি অনেককে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আমি তাদের খাবার খাওয়াই। তার এ কাজকে আমি ভালো চোখে দেখি।’

কাজলের মানবিক উদ্যোগের সবচেয়ে আবেগঘন উদাহরণ রাসেল। বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী এ ছেলেকে ১০ বছর ধরে তিনি নিজের কাছে আশ্রয় দিয়েছেন। রাসেলের খাবার, পোশাক ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন নিজের অর্থেই। রাসেল নিজে কাপড় পরতে পারেন না, তাই দৈনন্দিন কাজেও সহযোগিতা করেন কাজল। শুধু আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করেই থেমে থাকেননি; রাসেলকে স্কুলেও ভর্তি করিয়েছেন। কোথাও দাওয়াত খেতে গেলে তাকেও সঙ্গে নিয়ে যান। নিজের সন্তানের মতোই আগলে রাখেন রাসেলকে।

নাজিমখান বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের কাছেও কাজলের এ উদ্যোগ পরিচিত। রামকৃষ্ণ গ্রামের বাসিন্দা মো. রেজা বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই দেখছি, কাজল ভাই নাজিমখান বাজারে যত পাগল আসে সবাইকে নিয়ে আসে। হাত-পায়ের নখ কাটি দেয়। গোসল করে দেয়। খাওয়া-দাওয়া করে তারপর পাঠিয়ে দেয়।’

কাজলের দোকানের পাশের দর্জি মো. এমদাদুল হক (৫৫) বলেন, যেকোনো এলাকার পাগল হোক, নাজিমখান বাজারে আসলে কাজল তাদের খোঁজ করেন। রাসেল তো কাজলের সঙ্গে সব সময় থাকেন। রাসেল নিজে কাপড়ও পরতে পারে না। সবকিছু কাজল করে দেন তাকে। নিজের সন্তানের মতো রাসেলকে আগলে রাখেন।

নাজিমখান ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুর সবুর মন্ডল (৬০) বলেন, ‘আমরা তো ভালো মানুষ পাক-পবিত্র থাকতে পারি। কিন্তু পাগলরা তো এসব বুঝে না। কাজল তাদের পাক-পবিত্র থাকতে সাহায্য করছেন। এটি আমার কাছে প্রশংসনীয় কাজ।’

নাজিমখান ছালামিয়া নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমি অনেকদিন ধরেই দেখতেছি, তিনি মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। পাগলদের সবাই অবহেলা করে। কিন্তু কাজল তাদের আপন করে নিয়েছেন।

নিজের এ দীর্ঘ পথচলা সম্পর্কে রায়হানুর রহমান কাজল বলেন, ‘আমি এদের আপন মানুষ মনে করি। ওদের আসলে বুদ্ধি কম। আমি আমার মন থেকে এ কাজগুলো করি। তাদের সেবা করলে আমি মনের তৃপ্তি পাই। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন এই কাজ করব।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোছা. ববিতা খাতুন বলেন, সমাজে পাগল বা মানসিক ভারসাম্যহীন ও অপ্রকৃতিস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সেবা করা পৃথিবীর অন্যতম সেরা ও মহান কাজ। সমাজে যখন বেশিরভাগ মানুষ তাদের এড়িয়ে চলে বা অবহেলা করে, তখন যারা তাদের পরম মমতায় আগলে রাখেন তারা এ সমাজের পরম বন্ধু।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%