শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩০ পি.এম
চলতি শীত মৌসুমেই সিলেটের পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আরিফুল হক সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় এলাকায়ই সিলেটের বেশির ভাগ পাথর কোয়ারি। বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েই গত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন সিলেট সিটি করর্পোরেশনের সাবেক এই মেয়র।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং) ফেসবুক ভিত্তিক একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরিফুলহ হক চৌধুরী বলেন, এই মৌসুমেই সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো চালু হবে বলে আমার আশা।
তিনি বলেন, সিলেটের পর্যটন ও পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা জাফলংকে সংরক্ষিত রেখে বাকি এলাকা গুলোতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত ভাবে এগোচ্ছে সরকার। চলতি মৌসুমেই এ বিষয়ে সুখবর আসতে পারে।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় পাথর উত্তোলন নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয়জন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
তিনি জানান, আদালতের আদেশে সংরক্ষিত জাফলং এলাকাকে অক্ষত রেখে বাকি এলাকা গুলোতে হস্তচালিত পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের পক্ষে এই কমিটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং সরকার আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। আদালত থেকে যে সিদ্ধান্তই আসুক, তার পরদিন থেকেই সরকার সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।
চলতি মৌসুমে পাথর উত্তোলন শুরু হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মামলার বাদীপক্ষ আদালতের সামনে তাদের বক্তব্য যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করেছেন। তবে সরকারপক্ষও নিজেদের অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই মৌসুমেই পাথর উত্তোলন শুরু হবে।
দীর্ঘ দিন থেকে সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারি গুলো থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। পরিবেশ ও প্রাণ ঝুঁকিতে পড়ায় অনেক গুলো কোয়ারি থেকে বালু-পাথর উত্তোলনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাও আছে।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রমিকরা দীর্ঘ দিন ধরেই পাথর উত্তোলনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধুপুরে এআই দিয়ে নারীর পর্নোগ্রাফি তৈরি, চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১' ১০ লাখ টাকা না দিলে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, আদালতে জবানবন্দি
টাঙ্গাইলের মধুপুরে সাবেক স্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে অশ্লীল ছবি তৈরি করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে রাসেল রানা (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তৈরি করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাদামপুর বাজার এলাকার একটি পোল্ট্রি খামারের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে রাসেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম শিকদার।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার শালিকা উত্তরপাড়া গ্রামের ওই নারীর সঙ্গে একই উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের মো. রুহুল আমিনের ছেলে রাসেল রানার ২০২১ সালের ১৫ জুলাই বিয়ে হয়। বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২৪ সালের ১ মে ওই নারী রাসেলকে তালাক দেন। এরপর ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর তিনি আজহারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে রাসেল রানা ওই নারীর ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে অশ্লীল ছবি তৈরি করেন। পরে এসব ছবি দেখিয়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে রাসেল কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেন। ওই নারী ও তাঁর বর্তমান স্বামী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাসেল তৈরি করা অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ১৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা করেন। আদালত মধুপুর থানাকে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে মধুপুর থানায় মামলা নেওয়া হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সেলিম শিকদার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাসেল রানার অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মধুপুর থানার এসআই মো. সেলিম শিকদার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মৌলভীবাজার সদর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে আসন্ন শারদীয়া দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ‘মদনমোহন জিওর আখড়াবাড়ি’র ২০২৬ সালের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট শারদীয়া দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটিতে পলাশ কর্মকার সভাপতি, দুলাল শীল ধলু সাধারণ সম্পাদক এবং পল্লব সিকদার কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন,
সহ-সভাপতি: গোপাল সাহা, উদাস চক্রবর্তী ও অসীম কুন্ড।
সহ-সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুন্ড, সুমন পাল, রাহুল দে ও জয়দেব শীল।
সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দেব রায়,
প্রচার সম্পাদক বিধান দে,
পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক লোকনাথ
কুন্ডু, সাজসজ্জা সম্পাদক বাপ্পি দাস।
সভা শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব সম্পন্নের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার নিলতী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র শীল (৪৭) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দীপক চন্দ্র শীল উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলার চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের নিলতী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও রহস্যময় সৃষ্টি হাতি। আয়তনে সে পৃথিবীর অন্যতম বিশাল ও শক্তিশালী প্রাণী। একটি বন্য হাতি চাইলেই তার চারপাশের পথ আটকে রাখা যেকোনো বাধা মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে। কিন্তু প্রকৃতির এক অদ্ভুত নিয়মে হাতি কখনো তার নিজের পিঠ নিজে দেখতে পায় না। সে জানে না তার দেহের প্রকৃত আকার কিংবা তার নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তির পরিমাপ।
নিজের এই শারীরিক অজ্ঞতা ও সরলতার কারণেই হাতি তার চেয়ে বহুগুণ ক্ষুদ্র এক সৃষ্টিকে নিজের পিঠে চড়ার সুযোগ দেয়। একজন মাহুত বা সাধারণ মানুষ ওই বিশাল প্রাণীর ওপর বসে তাকে পরিচালনা করে। হাতি যদি এক মুহূর্তের জন্য টের পেত তার শক্তি কতটা অসীম, তবে সে কখনোই ছোট মানুষকে নিজের পিঠে স্থান দিত না।
আমাদের মানবসমাজও যেন রূপক অর্থে এই প্রাকৃতিক সত্যেরই এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। সমাজের কিছু মানুষ সংগ্রামের ময়দানে বীর যোদ্ধার মতো নিজের ভেতরের অসীম ক্ষমতা ও শক্তির কথা পুরোপুরি জানেন, অথচ তা কখনোই প্রকাশ করেন না বা কারও সামনে জাহির করেন না। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি ভালো কাজের সীমানা পেরিয়ে অন্যায় ও অপকর্মে মেতে ওঠে, তখন সেই সত্য প্রকাশকারী যোদ্ধা নিজের লেখনীর শক্তি দিয়ে অহংকারী কর্তৃত্বের পতন ঘটান।
সাম্প্রতিক সময়ে নানা সামাজিক প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সময়ের সমীকরণে কোনো কোনো মানুষ সাময়িক প্রতিপত্তিকে স্থায়ী বলে ভুল করে বসেন। তারা অতীত ইতিহাসের পিছুটান, বিভিন্ন সময় অর্জিত তিলক কিংবা অতীতে সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তৈরি হওয়া তিক্ত দূরত্বের কথা ভুলে গিয়ে হঠাৎ করেই রুদ্ররূপ ধারণ করেন। কিন্তু ক্ষমতার এই ক্ষণস্থায়ী প্রকাশ আসলে একধরনের বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। আসল ভিত্তিহীন শক্তি যখন সত্য ও সময়ের মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন আড়ম্বরের এই ফাঁপা দেয়াল ভেঙে পড়তে সময় লাগে না।
যেভাবে হাতি তার পিঠ দেখতে পায় না, ঠিক তেমনি অশুভ শক্তিতে অন্ধ হয়ে যাওয়া মানুষগুলোও নিজেদের ভেতরের সীমাবদ্ধতা ও ভুল পথগুলো দেখতে পায় না। তারা ভুলে যান যে, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকে ‘কলম সৈনিকেরা’। সাংবাদিক ও সচেতন সমাজ নীরবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে; তারা শক্তির মহড়া দেয় না, কিন্তু যখন কোনো সীমানা অতিক্রম ঘটে, তখন সত্যের লেখনী দিয়েই অন্যায়ের অবসান ঘটে।
হাতি যেদিন তার নিজের শক্তির বিষয়ে সচেতন হয়, সেদিন মাহুতের অন্যায় কর্তৃত্ব যেমন নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়; তেমনি সত্য প্রমাণের ওপর ভর করে যখন কলমের শক্তিতে আওয়াজ ওঠে, তখন অন্যায্য ক্ষমতার রাজত্ব ধসে পড়তে বাধ্য হয়।
প্রতিটি মানুষেরই উচিত সময় থাকতে নিজের অবস্থান বোঝা এবং ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হওয়া। মনে রাখা প্রয়োজন, নীরবতা কখনো দুর্বলতা নয়; বরং তা একটি সুবর্ণ সুযোগ—নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সঠিক ও সুপথে ফিরে আসার। তা না হলে হয়তো পতনের ঘণ্টা বাজতে সময় লাগবে না, আর যাকে ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতা মনে করা হচ্ছে, তা যেকোনো মুহূর্তে ভূমিকম্পের মতো কিংবা আল্লাহর ইশারায় এক কাঁচের টুকরোর মতো চুরমার হয়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ