শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৫ পি.এম
প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও রহস্যময় সৃষ্টি হাতি। আয়তনে সে পৃথিবীর অন্যতম বিশাল ও শক্তিশালী প্রাণী। একটি বন্য হাতি চাইলেই তার চারপাশের পথ আটকে রাখা যেকোনো বাধা মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে। কিন্তু প্রকৃতির এক অদ্ভুত নিয়মে হাতি কখনো তার নিজের পিঠ নিজে দেখতে পায় না। সে জানে না তার দেহের প্রকৃত আকার কিংবা তার নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তির পরিমাপ।
নিজের এই শারীরিক অজ্ঞতা ও সরলতার কারণেই হাতি তার চেয়ে বহুগুণ ক্ষুদ্র এক সৃষ্টিকে নিজের পিঠে চড়ার সুযোগ দেয়। একজন মাহুত বা সাধারণ মানুষ ওই বিশাল প্রাণীর ওপর বসে তাকে পরিচালনা করে। হাতি যদি এক মুহূর্তের জন্য টের পেত তার শক্তি কতটা অসীম, তবে সে কখনোই ছোট মানুষকে নিজের পিঠে স্থান দিত না।
আমাদের মানবসমাজও যেন রূপক অর্থে এই প্রাকৃতিক সত্যেরই এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। সমাজের কিছু মানুষ সংগ্রামের ময়দানে বীর যোদ্ধার মতো নিজের ভেতরের অসীম ক্ষমতা ও শক্তির কথা পুরোপুরি জানেন, অথচ তা কখনোই প্রকাশ করেন না বা কারও সামনে জাহির করেন না। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি ভালো কাজের সীমানা পেরিয়ে অন্যায় ও অপকর্মে মেতে ওঠে, তখন সেই সত্য প্রকাশকারী যোদ্ধা নিজের লেখনীর শক্তি দিয়ে অহংকারী কর্তৃত্বের পতন ঘটান।
সাম্প্রতিক সময়ে নানা সামাজিক প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সময়ের সমীকরণে কোনো কোনো মানুষ সাময়িক প্রতিপত্তিকে স্থায়ী বলে ভুল করে বসেন। তারা অতীত ইতিহাসের পিছুটান, বিভিন্ন সময় অর্জিত তিলক কিংবা অতীতে সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তৈরি হওয়া তিক্ত দূরত্বের কথা ভুলে গিয়ে হঠাৎ করেই রুদ্ররূপ ধারণ করেন। কিন্তু ক্ষমতার এই ক্ষণস্থায়ী প্রকাশ আসলে একধরনের বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। আসল ভিত্তিহীন শক্তি যখন সত্য ও সময়ের মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন আড়ম্বরের এই ফাঁপা দেয়াল ভেঙে পড়তে সময় লাগে না।
যেভাবে হাতি তার পিঠ দেখতে পায় না, ঠিক তেমনি অশুভ শক্তিতে অন্ধ হয়ে যাওয়া মানুষগুলোও নিজেদের ভেতরের সীমাবদ্ধতা ও ভুল পথগুলো দেখতে পায় না। তারা ভুলে যান যে, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকে ‘কলম সৈনিকেরা’। সাংবাদিক ও সচেতন সমাজ নীরবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে; তারা শক্তির মহড়া দেয় না, কিন্তু যখন কোনো সীমানা অতিক্রম ঘটে, তখন সত্যের লেখনী দিয়েই অন্যায়ের অবসান ঘটে।
হাতি যেদিন তার নিজের শক্তির বিষয়ে সচেতন হয়, সেদিন মাহুতের অন্যায় কর্তৃত্ব যেমন নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়; তেমনি সত্য প্রমাণের ওপর ভর করে যখন কলমের শক্তিতে আওয়াজ ওঠে, তখন অন্যায্য ক্ষমতার রাজত্ব ধসে পড়তে বাধ্য হয়।
প্রতিটি মানুষেরই উচিত সময় থাকতে নিজের অবস্থান বোঝা এবং ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হওয়া। মনে রাখা প্রয়োজন, নীরবতা কখনো দুর্বলতা নয়; বরং তা একটি সুবর্ণ সুযোগ—নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সঠিক ও সুপথে ফিরে আসার। তা না হলে হয়তো পতনের ঘণ্টা বাজতে সময় লাগবে না, আর যাকে ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতা মনে করা হচ্ছে, তা যেকোনো মুহূর্তে ভূমিকম্পের মতো কিংবা আল্লাহর ইশারায় এক কাঁচের টুকরোর মতো চুরমার হয়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ টাকা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাায়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় জোরারগঞ্জ থানার এসআই (নিঃ) মোঃ সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালায়। ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতলি এলাকায় বারইয়ারহাট-রামগড় আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এক টিলার ওপর এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ঘটনাস্থলে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ১ কেজি করে মোট ২০টি পোটলায় রাখা ২০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল চক্রটি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পলাতক আসামিরা হলেন—জোরারগঞ্জের বদ্ধ ভবানী (লালছড়া) এলাকার মোঃ হারুন (৩২), আমির হোসেন (২৪), মোঃ দিদার (২৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ জন।
পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
ফরহাদের পরিবার জানিয়েছে, মৃত্যুর পূর্বে ফরহাদ পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, একজন ব্যক্তি তার শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে দেয় এবং আরেকজন আগুন ধরিয়ে দেয়। শরীরে আগুন লাগানোর পর পাশের জলাশয়ে লাফ দিয়েও তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। বিকালে থানার ওসি কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত ফরহাদ হোসেন মধ্যহিস্যা এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি পেশায় সবজি বিক্রেতা ছিলেন এবং গত সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফরহাদের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত ১০টার দিকে ফরহাদ নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কিছু দূর যাওয়ার পর অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেও তিনি বাঁচতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা এবং তার পরিবার তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ফরহাদ হোসেনের মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা আব্দুস সাত্তার জানান, ফরহাদ মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতেন এবং সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, এসব বিষয় নিয়ে কিছু লোকের সঙ্গে ফরহাদের বিরোধ ছিল এবং তারাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত হতে পারে।
মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরহাদ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ফরহাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাসা থেকে কিছুটা দূরে নির্জন স্থানে যাওয়ার পর পেছন থেকে একজন তার শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে দেয় এবং অপর একজন আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে তিনি তাদের কাউকে চিনতে পারেননি।
ওসি বলেন, ফরহাদকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে। লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এই লঘুচাপের কারণে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতির কারণে দেশের সকল সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগুন দুটি স্কুল এবং আশপাশের আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এএফসি-এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে এবং পাঁচজন ছেলে রয়েছে। এ ছাড়া, আহত হয়েছে অন্তত ২৯ জন, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।
জাতিসংঘ পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত আগুন উজামা প্রাইমারি স্কুল, ফুরাহা সেকেন্ডারি স্কুল এবং আশপাশের একটি বসতিতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন ও ধোঁয়ার কারণে বহু শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়।
দক্ষিণ কিভুর উপ-গভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে রয়টার্সকে জানান, আগুনের ফলে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি কাঠের তৈরি ঘর পুড়ে গেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা প্যাট্রিস বুদুগে এএফপিকে জানান, আগুন লাগার পর স্কুলগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে অনেকে একে অপরের ওপর পড়ে যায়। এর ফলে কয়েকজন পদদলিত হয়ে মারা যায় এবং অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
এএফসি-এম২৩ এর তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত ১৭ জন কাদুতু জেনারেল হাসপাতালে এবং চারজন বুকাভু প্রাদেশিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কয়েকজন শিক্ষককে আনা হয়েছিল। অধিকাংশই ধোঁয়ার কারণে গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। কিছু শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই মারা যান, এবং কয়েকজন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর প্রাণ হারান।
আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনে একের পর এক বাড়ি জ্বলতে থাকে এবং পরে শিখা দুটি স্কুলে পৌঁছে যায়।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ পূর্ব ডিআর কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের অভিযানের অংশ হিসেবে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বুকাভু শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
তবে এই আগুনের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়েও বুকাভুতে একাধিক আগুনের ঘটনা ঘটেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বরের একটি আগুনে ৪৫টির বেশি বাড়ি পুড়ে যায়।
এএফসি/এম২৩ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ