ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিশর উদ্বোধন করলো বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’


মিশর উদ্বোধন করলো বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর ‘অক্টাগন’

মিশর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলো বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক ও কৌশলগত কমান্ড সদর দপ্তর ‘দি অক্টাগন’ (The Octagon)।

শনিবার ৪ জুলাই নতুন প্রশাসনিক রাজধানী (New Administrative Capital)-এ নির্মিত এই অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদেল ফাত্তাহ-আল সিসি। মিশর সরকার এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক সামরিক কমান্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সদর দপ্তর হিসেবে দাবি করছে।

দেশটির বিভিন্ন গনমাধ্যমে জানা যায়, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত এই সদর দপ্তরটি ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টার’ প্রকল্পের অংশ। এর মাধ্যমে মিশরের সামরিক বাহিনীর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল কমপ্লেক্সটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক স্থাপনা। এর বিশাল পরিসর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের চেয়েও বড় বলে দাবি করা হচ্ছে।

‘অক্টাগন’ নামটি এসেছে ভবনটির অনন্য স্থাপত্য নকশা থেকে। পুরো কমপ্লেক্সটি একাধিক অষ্টভুজ (Octagon) আকৃতির ভবনের সমন্বয়ে নির্মিত হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা মিশরের সামরিক অবকাঠামো আধুনিকায়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নতুন সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের পাশাপাশি রয়েছে অত্যাধুনিক তথ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্র, কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ইউনিট এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরিচালনা সুবিধা। এছাড়া কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে কর্মকর্তা ও কর্মীদের জন্য হোটেল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিং সেন্টার, হাসপাতাল এবং আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন সেবামূলক অবকাঠামোও নির্মাণ করা হয়েছে, যা এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক প্রশাসনিক নগরীতে পরিণত করেছে।

মিশর সরকার বলছে, ‘অক্টাগন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

মিশর সরকার ইতোমধ্যেই নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে সব মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সদর দপ্তরের উদ্বোধনকে দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের সক্ষমতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পীরগঞ্জে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


পীরগঞ্জে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

 

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে প্রশাসন প্রায় দুই লাখ টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে এবং তা ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি, এসব জাল বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে, মোট ৫০ হাজার টাকার।

রবিবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানটি পরিচালনা করেন।

উপজেলার সিনিয়র মাছ দপ্তরের কর্মকর্তা আয়শা আক্তার জানান, বৈরচুনা বাজারে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির খবর পেয়ে বিকালে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শামিম ও রুবেল নামের দুই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। ওই সময় দুই ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, তারা আজলাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযানের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জব্দ করা কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক দুই ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার মন্তব্য করেছেন, অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুলবাড়িয়া নগরপ্লাজা দখল করে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে জামায়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


ফুলবাড়িয়া নগরপ্লাজা দখল করে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে জামায়াত

রাজধানী গুলিস্তান এলাকায় অবস্থিত ফুলবাড়িয়া নগরপ্লাজাকে দখল করে জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক রবিউল ইসলাম রুবেল এই অভিযোগ করেছেন।

রবিবার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এই ফুলবাড়িয়া নগরপ্লাজা মার্কেট দীর্ঘকাল ধরে জামায়াত অবৈধভাবে দখল করে নিজেদের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।’

তিনি আরো জানান, ‘আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যারা সেখানে যাতায়াত করতাম, আমরা এই কার্যক্রমের প্রতিবাদ করতাম। কিন্তু তারা আমাদের মবের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখত। সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখত।’

এই ব্যবসায়ী নেতা উল্লেখ করেন, ‘এর পরিপ্রেক্ষিতে সমবায়ের লোকজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এসে মার্কেটটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেন। জামায়াত বিতাড়িত হওয়ার পর সংঘবদ্ধ হয়ে আবারও পাল্টা মার্কেট দখল করতে এসেছে। তারা বিএনপির লোকজনের উপর এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের উপর আক্রমণ করেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি জিন্নাহ কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


মানিকগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি জিন্নাহ কবির

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় এমপি এস এ জিন্নাহ কবির বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে শিবালয়ের বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে চারা বিতরণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে এমপি জিন্নাহ কবির বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর অংশ হিসেবে শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে।’ তিনি বলেন, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশব্যাপী সবুজায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তারই অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এদিন শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে বোয়ালী কেন্দ্রীয় কবরস্থানের প্রবেশপথ এবং বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়। বোয়ালী ডাক্তারখানা এলাকায় স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এমপি জানান, পরবর্তী পর্যায়ে তিনটি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, সড়কের দুই পাশসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিব ইকবাল রনি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সুরুজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকটে স্বস্তির ইঙ্গিত, উৎপাদনে ঊর্ধ্বগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


জ্বালানি সংকটে স্বস্তির ইঙ্গিত, উৎপাদনে ঊর্ধ্বগতি

 

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে।

এ অবস্থায়, ওপেক প্লাস, বিশ্বে প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট, বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্য থেকে তেল উৎপাদনের কোটা বা সীমা পুনরায় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই লক্ষ্যে রবিবার সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমানের মতো প্রধান ওপেকের সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে মিলিত হন। পরে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদনে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা চলতি বছরের আগস্ট মাসে কার্যকর করা হবে।

যদিও রবিবারের এই বৈঠকের আগেই তেল উৎপাদনকারী এই জোট দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে, জুন ও জুলাই মাসে একই পরিমাণ কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রাশিয়াসহ ওপেক ও এর মিত্র উৎপাদকদের নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কোটা বাড়িয়েছে।

তবে এই বৃদ্ধির বেশিরভাগটাই কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।

কারণ, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো ওপেক প্লাসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ট্যাংকার চলাচলের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাসের দৈনিক উৎপাদন ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। মে মাসে তা কমে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য ওপেক প্লাস দেশকে বেশি তেল রপ্তানিতে সহায়তা করার মার্কিন প্রচেষ্টার ফলে জুন মাস থেকে উৎপাদন কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে। তবে এখনো তা যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের নিচে রয়েছে।

এদিকে, গত ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর আওতায় তারা চুক্তির পরবর্তী আলোচনা চলাকালীন হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের পথে সৃষ্ট বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সুইস ব্যাংক ইউবিএস-এর পণ্যবাজার বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো এএফপিকে বলেন, আপাতত উৎপাদন সম্ভবত ওপেকের লক্ষ্যমাত্রার নিচেই রয়েছে।

সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলেও তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে। চীনের আমদানি কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের উৎপাদকদের রপ্তানি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে রেকর্ড কৌশলগত মজুদ ছাড় দেওয়ার কারণে দামে চাপ পড়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছে যে সরবরাহ শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

ব্লুমবার্গ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ হয়তো ইতিমধ্যেই দৈনিক এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে।

তবে স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, বর্তমানে যে তেল এই প্রণালি দিয়ে যাচ্ছে, তা এতদিন ট্যাঙ্কার বা সংরক্ষণাগারে জমা ছিল।

যদি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে, তবে জুলাই মাসে পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাবে এবং সম্ভবত আগস্ট মাসেই উৎপাদন বৃদ্ধির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। প্রস্তুতি বন্ধ হয়ে যাওয়া উৎপাদন পুনরায় চালু করতে সময় লাগবে।

রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বলেছেন, আগামী বছরের জন্য সবাই উদ্বৃত্ত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে। এরই মধ্যে মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ওপেক প্লাস কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এখন একদিকে যখন সদস্য দেশগুলো উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চাপ দেবে, তখন জোটটিকে নিম্নমুখী দাম সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

জুনের শেষের দিকে ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ জোটের কাছে তাদের উৎপাদন কোটা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল তা পুষিয়ে নেওয়া যায়।

তবে হ্যানসেন বলেছেন, উচ্চতর কোটার বিষয়টি তাৎক্ষণিক কোনো প্রয়োজনীয়তা নয়, কারণ উৎপাদনের পরিমাণ এখনও সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়ের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। ইরাকের অনুরোধটি হয়তো ২০২৭ সালের সক্ষমতা পর্যালোচনার অংশ হতে পারে, যেখানে উৎপাদনের ভিত্তি-মাত্রা বা ‘বেসলাইন’ খতিয়ে দেখা হবে।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি ওপেক প্লাস কিছু নতুন চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট ছেড়ে দেয়ায় এবং ইরাক উচ্চ কোটার দাবি জানানোয় জটিলতা বেড়েছে।

সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান—এই সাত দেশ ২০২৩ সালে সম্মত হওয়া দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ হ্রাসের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। ওই সময় জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল।

কিন্তু উৎপাদন এই সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হতে নিজেদের সক্ষমতার সঙ্গে উৎপাদনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চাওয়ায় গত এপ্রিলের শেষে জোট ছেড়ে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ১ মে থেকে আমিরাতের বিদায় বিবেচনায় নিলে আগস্ট থেকে বাকি সাত দেশের হাতে বাজারে ফিরিয়ে আনার মতো আরও দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ব্যারেল তেল রয়েছে। বর্তমান গতিতে উৎপাদন বাড়ানো অব্যাহত রাখলে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ হ্রাস পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%