ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পীরগঞ্জে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা


পীরগঞ্জে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

 

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে প্রশাসন প্রায় দুই লাখ টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে এবং তা ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি, এসব জাল বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে, মোট ৫০ হাজার টাকার।

রবিবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানটি পরিচালনা করেন।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

উপজেলার সিনিয়র মাছ দপ্তরের কর্মকর্তা আয়শা আক্তার জানান, বৈরচুনা বাজারে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির খবর পেয়ে বিকালে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শামিম ও রুবেল নামের দুই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। ওই সময় দুই ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, তারা আজলাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযানের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জব্দ করা কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক দুই ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার মন্তব্য করেছেন, অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুলবাড়িয়া নগরপ্লাজা দখল করে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে জামায়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


ফুলবাড়িয়া নগরপ্লাজা দখল করে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে জামায়াত

রাজধানী গুলিস্তান এলাকায় অবস্থিত ফুলবাড়িয়া নগরপ্লাজাকে দখল করে জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক রবিউল ইসলাম রুবেল এই অভিযোগ করেছেন।

রবিবার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এই ফুলবাড়িয়া নগরপ্লাজা মার্কেট দীর্ঘকাল ধরে জামায়াত অবৈধভাবে দখল করে নিজেদের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।’

তিনি আরো জানান, ‘আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যারা সেখানে যাতায়াত করতাম, আমরা এই কার্যক্রমের প্রতিবাদ করতাম। কিন্তু তারা আমাদের মবের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখত। সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখত।’

এই ব্যবসায়ী নেতা উল্লেখ করেন, ‘এর পরিপ্রেক্ষিতে সমবায়ের লোকজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এসে মার্কেটটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেন। জামায়াত বিতাড়িত হওয়ার পর সংঘবদ্ধ হয়ে আবারও পাল্টা মার্কেট দখল করতে এসেছে। তারা বিএনপির লোকজনের উপর এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের উপর আক্রমণ করেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি জিন্নাহ কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


মানিকগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি জিন্নাহ কবির

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় এমপি এস এ জিন্নাহ কবির বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে শিবালয়ের বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে চারা বিতরণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে এমপি জিন্নাহ কবির বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর অংশ হিসেবে শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে।’ তিনি বলেন, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশব্যাপী সবুজায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তারই অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এদিন শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে বোয়ালী কেন্দ্রীয় কবরস্থানের প্রবেশপথ এবং বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়। বোয়ালী ডাক্তারখানা এলাকায় স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এমপি জানান, পরবর্তী পর্যায়ে তিনটি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, সড়কের দুই পাশসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিব ইকবাল রনি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সুরুজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকটে স্বস্তির ইঙ্গিত, উৎপাদনে ঊর্ধ্বগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


জ্বালানি সংকটে স্বস্তির ইঙ্গিত, উৎপাদনে ঊর্ধ্বগতি

 

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে।

এ অবস্থায়, ওপেক প্লাস, বিশ্বে প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট, বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্য থেকে তেল উৎপাদনের কোটা বা সীমা পুনরায় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই লক্ষ্যে রবিবার সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমানের মতো প্রধান ওপেকের সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে মিলিত হন। পরে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদনে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা চলতি বছরের আগস্ট মাসে কার্যকর করা হবে।

যদিও রবিবারের এই বৈঠকের আগেই তেল উৎপাদনকারী এই জোট দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে, জুন ও জুলাই মাসে একই পরিমাণ কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রাশিয়াসহ ওপেক ও এর মিত্র উৎপাদকদের নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কোটা বাড়িয়েছে।

তবে এই বৃদ্ধির বেশিরভাগটাই কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।

কারণ, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো ওপেক প্লাসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ট্যাংকার চলাচলের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাসের দৈনিক উৎপাদন ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। মে মাসে তা কমে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য ওপেক প্লাস দেশকে বেশি তেল রপ্তানিতে সহায়তা করার মার্কিন প্রচেষ্টার ফলে জুন মাস থেকে উৎপাদন কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে। তবে এখনো তা যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের নিচে রয়েছে।

এদিকে, গত ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর আওতায় তারা চুক্তির পরবর্তী আলোচনা চলাকালীন হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের পথে সৃষ্ট বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সুইস ব্যাংক ইউবিএস-এর পণ্যবাজার বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো এএফপিকে বলেন, আপাতত উৎপাদন সম্ভবত ওপেকের লক্ষ্যমাত্রার নিচেই রয়েছে।

সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলেও তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে। চীনের আমদানি কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের উৎপাদকদের রপ্তানি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে রেকর্ড কৌশলগত মজুদ ছাড় দেওয়ার কারণে দামে চাপ পড়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছে যে সরবরাহ শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

ব্লুমবার্গ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ হয়তো ইতিমধ্যেই দৈনিক এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে।

তবে স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, বর্তমানে যে তেল এই প্রণালি দিয়ে যাচ্ছে, তা এতদিন ট্যাঙ্কার বা সংরক্ষণাগারে জমা ছিল।

যদি জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে, তবে জুলাই মাসে পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাবে এবং সম্ভবত আগস্ট মাসেই উৎপাদন বৃদ্ধির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। প্রস্তুতি বন্ধ হয়ে যাওয়া উৎপাদন পুনরায় চালু করতে সময় লাগবে।

রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বলেছেন, আগামী বছরের জন্য সবাই উদ্বৃত্ত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে। এরই মধ্যে মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ওপেক প্লাস কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এখন একদিকে যখন সদস্য দেশগুলো উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চাপ দেবে, তখন জোটটিকে নিম্নমুখী দাম সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

জুনের শেষের দিকে ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ জোটের কাছে তাদের উৎপাদন কোটা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল তা পুষিয়ে নেওয়া যায়।

তবে হ্যানসেন বলেছেন, উচ্চতর কোটার বিষয়টি তাৎক্ষণিক কোনো প্রয়োজনীয়তা নয়, কারণ উৎপাদনের পরিমাণ এখনও সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়ের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। ইরাকের অনুরোধটি হয়তো ২০২৭ সালের সক্ষমতা পর্যালোচনার অংশ হতে পারে, যেখানে উৎপাদনের ভিত্তি-মাত্রা বা ‘বেসলাইন’ খতিয়ে দেখা হবে।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি ওপেক প্লাস কিছু নতুন চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট ছেড়ে দেয়ায় এবং ইরাক উচ্চ কোটার দাবি জানানোয় জটিলতা বেড়েছে।

সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান—এই সাত দেশ ২০২৩ সালে সম্মত হওয়া দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ হ্রাসের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। ওই সময় জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল।

কিন্তু উৎপাদন এই সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হতে নিজেদের সক্ষমতার সঙ্গে উৎপাদনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চাওয়ায় গত এপ্রিলের শেষে জোট ছেড়ে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ১ মে থেকে আমিরাতের বিদায় বিবেচনায় নিলে আগস্ট থেকে বাকি সাত দেশের হাতে বাজারে ফিরিয়ে আনার মতো আরও দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ব্যারেল তেল রয়েছে। বর্তমান গতিতে উৎপাদন বাড়ানো অব্যাহত রাখলে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ হ্রাস পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে শিগগিরই ভয়ংকর ২০টি যুদ্ধবিমান পাঠাতে যাচ্ছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২০ পি.এম


ইরানে শিগগিরই ভয়ংকর ২০টি যুদ্ধবিমান পাঠাতে যাচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ইরানের জন্য ২০টি অত্যাধুনিক সু-৩৫ (সুখোই-৩৫) যুদ্ধবিমান পাঠাতে যাচ্ছে। ২০টি যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচের উৎপাদন ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরেই বাকি বিমানগুলো তৈরির কাজ সম্পন্ন হবে। তেহরানের বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এটি একটি বড় এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘মিলিটারনি ওয়াচ ম্যাগাজিন’-এর তথ্য দ্বারা জানা যাচ্ছে, যুদ্ধবিমানগুলো রাশিয়ার কোমসোমলস্ক-অন-আমুর অ্যাভিয়েশন প্ল্যান্টে নির্মাণ করা হয়েছে। বিমানগুলো বর্তমানে রাশিয়াতেই অবস্থান করছে এবং চূড়ান্তভাবে ইরানের কাছে হস্তান্তরের পূর্বে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ব্যয়ভার বহন করছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

আচমকা আক্রমণ চালানোর জন্য সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমানটির প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিমি (১,০০০ মাইল) কমব্যাট রেডিয়াস রয়েছে। ন্যাটো দ্বারা প্রাপ্ত সাংকেতিক নাম ফ্ল্যাঙ্কার-এম বা ‘সুপার ফ্ল্যাঙ্কার’ হিসেবে পৌচিত রয়েছে। এই ফাইটার জেট শত্রু ভূখণ্ডের অনেক গভীরে ঢুকে আক্রমণ চালানোর জন্য সক্ষম। সংক্ষিপ্ত বা অস্থায়ী রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণের বিশেষ ক্ষমতা থাকায় এটি বৃহৎ বিমানঘাঁটিতে নির্ভর করে না, যা শত্রুর পক্ষ থেকে এটিকে নিষ্ক্রিয় করা কঠিন করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিনের তৈরি আধুনিক এফ-৩৫ বা চীনের শেনিয়াং জে-১৬-এর মতো যুদ্ধবিমানের চেয়ে সুখোই-৩৫ কিছুটা কম অত্যাধুনিক হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে এটি বিশ্বের অন্যতম সফল ও পরীক্ষিত (ব্যাটল-টেস্টেড) ফাইটার জেট। ‘মিলিটারনি ওয়াচ ম্যাগাজিন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রযুক্তির আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংযোজনের মাধ্যমে এই বিমানটিকে আরও উন্নত করা হচ্ছে।

সাধারণভাবে রাশিয়া প্রতি বছর গড়ে ১৪টির মতো সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমান তৈরি করে, যা তাদের চাহিদার তুলনায় ধীরগতির। কিন্তু, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট কর্পোরেশনের (ইউএসি) মহাপরিচালক ভাদিম বাদেখা জানিয়েছেন, বিমান উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে। ইরানের ক্রয়াদেশকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে রাশিয়ার নিজ বিমানবাহিনীর জন্য নতুন সুখোই-৩৫ সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

২০২৫ সালের শেষে মুক্তি পাওয়া রাশিয়ার সরকারি নথিপত্র থেকে দেখা গেছে, ইরান ৪৮টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে। এটি ইরানি কর্মকর্তাদের আগের একটি অস্পষ্ট বিবৃতির সত্যতা নিশ্চিত করে, যেখানে তারা সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করে রাশিয়া থেকে বড় আকারে যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানিয়েছিলেন।

মূলত, ২০২৩ সালে রাশিয়ার সাথে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইরান এবং এটি ১৯৯০-এর দশকের পর প্রথম আধুনিক ফাইটার জেট কেনার সংক্রান্ত চুক্তি। যাতে সুখোই-৩৫ ছাড়াও মিল মি-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ইয়াকোভলেভ ইয়াক-১৩০ জেট ট্রেইনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আন্তর্জাতিক বাজারে সুখোই-৩৫ নিয়ে অন্য দেশের আগ্রহ কম। এর মূল কারণ বিমানটির কিছুটা সেকেলে অ্যাভিওনিক্স এবং এটি কিনলে মার্কিন বা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার সম্ভাবনা।

বর্তমানে ইরান নতুন যুদ্ধবিমান বহরের জন্য পাইলটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার তৈরি ইয়াকোভলেভ ইয়াক-১৩০ ট্রেইনার বিমান সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা আগামীতে সুখোই-৩৫ পরিচালনার জন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে গৃহীত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ হয়েছে, ইরানে সুখোই-৩৫ সরবরাহ ২০২৬ সালের মধ্যেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছু আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, হামাদান বিমানঘাঁটির সাম্প্রতিক ক্ষয়ের কারণে এই বিমান মোতায়েন প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। খবর পাওয়া গেছে, রুশ ও ইরানি ইঞ্জিনিয়ারিং দলগুলো দ্রুত সংস্কারের কাজ করছে।

আরও জানা যায়, রাশিয়ার কাছে ইরান আরও ১২টি সুখোই-৩০এসএম২ ফাইটারের অর্ডার দিয়েছে। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই সরবরাহ শুরু হতে পারে। সুখোই-৩০এসএম২ মূলত সুখোই-৩৫-এর তুলনায় কিছুটা কম জটিল সংস্করণ। এটি আক্রমণাত্মক মিশনে অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

এছাড়া, ইরান রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার সুখোই সু-৫৭ ক্রয়ের চেষ্টা করতে পারে বলেও গুঞ্জন আছে। তবে, রাশিয়ার উৎপাদন জটের কারণে ২০৩০ সালের আগে এর সরবরাহ সম্ভব নাও হতে পারে।

স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরান প্রথম আধুনিক যুদ্ধবিমান অর্জন করার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ইরান এখনও স্নায়ুযুদ্ধ আমলের পুরোনো মার্কিন বিমানবহরের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে গ্রুম্যান এফ-১৪এ টমক্যাট, ম্যাকডোনেল ডগলাস এফ-৪ডি/ই ফ্যান্টম ২ ও নর্থরপ এফ-৫ই/এফ টাইগার ২ রয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে কেনা পশ্চিমা প্রযুক্তির বিমানের ওপর ইরানের বিমানবাহিনী নির্ভর করে আসছে। অনেকগুলো বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এখন সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ১৯৯০-এর দশকে রাশিয়া থেকে মিকোয়ান মিগ-২৯ বিমান কেনার পর তেহরান নতুন কোনো ফাইটার বহর যুক্ত করতে পারেনি।

যদিও ইরান কয়েক দশকে প্রযুক্তিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করেছে, তবে বিমান বা এভিয়েশন সক্ষমতায় তারা প্রতিবেশীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

প্রযুক্তির দিক থেকে পুরোনো হলেও, ইরানি বিমানগুলো সাম্প্রতিক সংঘর্ষে কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক মিশন সফলভাবে পরিচালনা করেছে। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই সুখোই সু-৩৫ যুদ্ধবিমানের অন্তর্ভুক্তি ইরানের বিমানবাহিনীকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তেহরানের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%