ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

আটঘরিয়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, ছয় সমবায় সমিতিকে সম্মাননা


আটঘরিয়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন, ছয় সমবায় সমিতিকে সম্মাননা

পাবনার আটঘরিয়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে একটি র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে উপজেলার ছয়টি সমবায় সমিতিকে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে, যা ক্রেস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

রোববার (৮ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসন এবং সমবায় বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসীর মাহফুজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শেখ জাকারিয়া সুলতানা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল হালিম। বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক বাবুল আক্তার এবং উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনোয়ার হোসেন আলম।

আরও পড়ুন: শেরপুর গারো পাহাড়ে অবৈধ বালু পরিবহনের অভিযোগে ৬ জন আটক

সভাপতির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসীর মাহফুজ উল্লেখ করেন, "সমবায় মানুষের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার বন্ধন তৈরি করে।" তিনি আরো বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। তিনি সমবায় সমিতিগুলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আহ্বান জানান।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শেখ জাকারিয়া সুলতানা বলেন, "সমবায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।" তিনি সমবায় সমিতিগুলোকে নিয়মনীতি মেনে পরিচালনার পাশাপাশি সদস্যদের স্বার্থ ও কল্যাণে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সমবায় আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনোয়ার হোসেন আলম বলেন, "সমবায় হচ্ছে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।" তিনি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আলী, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা জীবন কুমার সরকার, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মারকাযুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ এবং সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদে বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবস তিন গ্রুপে পালিত

অনুষ্ঠানে ফুলকলি সমবায় সমিতি লিমিটেডকে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। সমিতির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী হিসেবে প্রেরণা মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেডকে সম্মাননা দেওয়া হয়, যার সম্পাদক মোছা. রুমা খাতুন ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

অতিরিক্তভাবে, মুক্তি মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেডকে আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য পুরস্কৃত করা হয়। সমিতির সভাপতি মোছা. লুৎফুন্নাহার এবং সম্পাদক মোছা. ময়না খাতুন ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

মৎস্যজীবী ক্যাটাগরিতে গারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, সঞ্চয় ও ঋণদান ক্যাটাগরিতে চাঁদভা কুষ্টিয়াপাড়া সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বহুমুখী ক্যাটাগরিতে আটঘরিয়া আদর্শ ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে পুরস্কারপ্রাপ্ত সমবায় সমিতির প্রতিনিধিদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: মাতারবাড়ির উন্নয়ন প্রকল্পে ১৫০ বিলিয়ন ডলার, ২৬ লাখ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসা চাঁদে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, নভোচারী নিয়োগে আবেদন আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


নাসা চাঁদে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, নভোচারী নিয়োগে আবেদন আহ্বান

চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন কি দেখছেন? যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা শুধু চাঁদে ভ্রমণের সুযোগই নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলার ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগও প্রদান করতে যাচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে নতুন নভোচারী দলের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে সংস্থাটি। নির্বাচিত নভোচারীরা নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

শনিবার কেনেডি স্পেস সেন্টারে আয়োজিত একটি এয়ার শোতে নতুন নভোচারী নিয়োগের ঘোষণা দেয় নাসা। এই আয়োজনের মাধ্যমে চন্দ্র অভিযান, বিমান চলাচল এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

নাসা জানিয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ নভোচারী নির্বাচনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে ২০২৮ সালের শুরুর দিকে। একই বছর, ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর নভোচারীদের আবারো চাঁদের মাটিতে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে নাসার।

এর আগে ২০২৪ সালে নতুন নভোচারী নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল নাসা। সেবার ৮ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ১০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।

বর্তমানে নাসার সক্রিয় নভোচারীর সংখ্যা মাত্র ৩২ জন। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে মহাকাশে মানুষের উপস্থিতি দ্রুত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকায় আরো নভোচারী প্রয়োজন সংস্থাটির। আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে নাসা।

আর্টেমিস কর্মসূচির তৃতীয় অভিযানের কমান্ডার র‌্যান্ডি ব্রেসনিক বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, "আমাদের নভোচারীর সংখ্যার তুলনায় কাজের পরিমাণ অনেক বেশি।" সম্ভাব্য আবেদনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।" তাই আগ্রহীদের আবেদন করতে দেরি না করার আহ্বান জানান তিনি।

নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের গ্রীষ্মে ব্রেসনিক ও তার তিন সহকর্মী মহাকাশে যাবেন। তাদের অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য হবে পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করে নভোযানের সঙ্গে দুটি চন্দ্রযানের সংযোগ স্থাপনের মহড়া দেওয়া। এর মধ্যে একটি চন্দ্রযান তৈরি করছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং অন্যটি জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন।

এই অভিযানটি মূলত পরবর্তী আর্টেমিস-৪ মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে পরিচালিত হবে। আর্টেমিস-৪ অভিযানে দুই নভোচারীকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকায় অবতরণের চেষ্টা করার কথা রয়েছে।

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সেখানে রোভার, রোবট, বিভিন্ন অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা পাঠানো হবে। এসবের মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানববসতি গড়ে তোলার পথ তৈরি করতে চায় নাসা।

তবে নভোচারী হওয়ার প্রক্রিয়া মোটেও সহজ নয়। আর্টেমিস-৩ মিশনের আরেক নভোচারী ফ্রাঙ্ক রুবিও এ বিষয়ে ধৈর্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি মহাকাশে টানা ৩৭১ দিন অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটানা মহাকাশে থাকার রেকর্ড গড়েছেন।

নাসার নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি এবং পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক দুই বছরের প্রশিক্ষণও বেশ কঠিন হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পেতে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

রুবিও বলেন, "আবেদনকারীদের বুঝতে হবে, নভোচারী হিসেবে তাদের কাজের বেশির ভাগ সময় চাঁদে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং চাঁদে মানুষ পাঠানোর বৃহত্তর লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হবে।" তার ভাষায়, "নভোচারী হিসেবে পুরো অভিজ্ঞতার মাত্র ১ শতাংশ সময় হয়তো চাঁদে যাওয়ার কাজে ব্যয় হবে।"

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে নাসার প্রথম নভোচারী দল ‘মার্কারি সেভেন’ গঠনের পর এটি হতে যাচ্ছে সংস্থাটির ২৫তম নভোচারী দল। নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরো গতি আনতে চায় নাসা।

সূত্র: এপি

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেছারাবাদে বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবস তিন গ্রুপে পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


নেছারাবাদে বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবস তিন গ্রুপে পালিত

উপজেলা কমিটি না থাকার কারণে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় নেছারাবাদে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করতে গিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে, প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে, পৃথক তিনটি স্থানে মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। নেতাকর্মীদের এই বিভক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজারের সুপারিপট্টি থেকে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি স্বরূপকাঠি পৌর শহরের বাজার রোড ও তেঁতুল তলা ঘুরে পুরাতন থানা এলাকার রিকশাস্ট্যান্ডের তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কাজী কামাল হোসেনসহ তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

এরপর, উপজেলার জগৎপট্টি গ্রামের সন্ধ্যা নদীর অপর পাশে ডাকবাংলার সামনে থেকে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল বের হয়। এই মিছিলটি নদীরপাড় সড়ক হয়ে পুরাতন থানা সড়ক, তেঁতুলতলা ও জগন্নাথকাঠি বাজার সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নাছির উদ্দীন তালুকদারসহ তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা বক্তব্য দেন।

প্রায় একই সময়ে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসানের নেতৃত্বে তৃতীয় একটি মিছিল বের হয়। এই মিছিলটি পৌর শহরের বাজার রোড, তেঁতুলতলা ও পুরাতন থানা সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে নেতারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন।

দলের কেন্দ্রীয় ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি একসঙ্গে পালন না করে তিনটি পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, "তিনটি গ্রুপ একই দিনে পৃথক স্থান ও সময়ে কর্মসূচি পালন করেছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সর্বাত্মক অবস্থানে ছিল। তবে কর্মসূচি চলাকালে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।"

নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোঃ ফকরুল আলম বলেন, "উপজেলা বিএনপির কমিটি নেই, তাই হয়তো নিজ নিজ স্বক্ষমতা দেখাতে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচী হয়েছে। সবাইকে একত্র করে আহবান করা হয়েছিল কর্মসূচী করতে তবে কেউই তা করেনি। আমি সরেজমিনে এ কারনে কর্মসূচীতে আসিনি। তবে আমার লোকজন সর্বত্রই রেলীতে ছিল।" তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, "কমিটি হলে এই সমস্যা দ্রুত নিরসন হবে। কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের অনৈক্যর কারণে এমনটা হয়েছে।"

পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, "নেছারাবাদে দলীয় পৃথক কর্মসূচি পালনের বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। এটি কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি। তাই তাঁদের একত্র হয়ে কর্মসূচি পালন করার প্রয়োজন ছিল না। মূল বিষয় হলো, কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে কি না।"

তবে দলের এত বড় একটি কর্মসূচি সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করলে ভালো হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "পৃথক কর্মসূচি পালনের মূল কারণ হলো, নেছারাবাদে বিএনপির কোনো কমিটি নেই। তবে সবাই একত্র হয়ে কর্মসূচি পালন করলে আরও ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিহ্যাবের দাবি: শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ হোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


রিহ্যাবের দাবি: শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ হোক

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) দাবি করেছে যে, জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে পরিচালিত অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। সংগঠনটির বক্তব্য, এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেলে ক্রেতার অর্থ, জমির মালিকানা, ফ্ল্যাটের আইনগত অধিকার এবং ভবনের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে এই ধরনের ব্যবসায়িক মডেলের কারণে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ১০ হাজার বিচারাধীন মামলার কারণে অনেকে তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দুই থেকে তিন বছরে শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পসংক্রান্ত মামলা ও আইনি জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ. এফ. এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ, পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া মজুমদার, প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল, এ.জেড.এম. কামরুদ্দিন, প্রফেসর ফারুক আহমদ, মো. জহির আহমেদ, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, শেখ কামাল, এম. ফখরুল ইসলাম ও এ. এস. এম. আব্দুল গাফফার মিয়াজী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রিহ্যাবের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কমিটির সদস্য সঞ্জয় চক্রবর্তী এবং রিহ্যাব সদস্য শফিকুল ইসলাম বাদলও সেখানে ছিলেন।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমানে আবাসন খাতে উদ্বেগজনকভাবে এমন একটি ব্যবসায়িক মডেলের বিস্তার ঘটছে, যেখানে জমির নির্দিষ্ট অংশ বা শেয়ার বিক্রি করে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের সক্ষমতা, অর্থের ব্যবহার, ফ্ল্যাটের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং হস্তান্তরের আইনি নিশ্চয়তা স্পষ্ট থাকে না। ফলে একজন ক্রেতা অর্থ বিনিয়োগ করেও নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট পাওয়া, বৈধ মালিকানা বুঝে পাওয়া কিংবা বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা পান না।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেলে নির্মিত ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে অসংগতি এবং নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্তের ব্যত্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। ১০০টি ভবন পরিদর্শন করলে প্রায় প্রতিটি ভবনেই কোনো না কোনো ধরনের ব্যত্যয়ের অভিযোগ পাওয়া যেতে পারে। এসব ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, নির্মাণের শর্ত এবং কারিগরি নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাই শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবনগুলো সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কারিগরি যাচাই করা জরুরি।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে জমির মালিকানা, প্রকল্প অনুমোদন, নকশা, নির্মাণবিধি, প্রকৌশলগত নিরাপত্তা, কর ও ভ্যাটসহ সব ধরনের আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হয়। কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু শেয়ারভিত্তিক মালিকানার নামে পরিচালিত কিছু প্রকল্পে একই মাত্রার তদারকি ও আইন প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এতে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রতিবেদনে জমির শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পে প্রতারণার অভিযোগসংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক বিচারাধীন মামলার তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগে ৯ হাজার ৮২৩টি মামলা বিচারাধীন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪০ হাজার ক্রেতা এবং প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ পরিসংখ্যান আবাসন খাতে ক্রেতাদের সুরক্ষা ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করেছে।

শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসার প্রধান সমস্যাগুলো

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসার কয়েকটি প্রধান সমস্যা তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—

১. জমির শেয়ার কিনলেই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের আইনগত মালিকানা নিশ্চিত হয় না। একই জমি বা ভবনের বিপরীতে একাধিক ব্যক্তির কাছে শেয়ার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

২. প্রকল্পের যথাযথ অনুমোদন, অনুমোদিত নকশা এবং আইনগত নির্মাণ অধিকার নিশ্চিত না করেই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

৩. দক্ষ প্রকৌশলী, স্থপতি এবং পেশাদার নির্মাণ তদারকির অভাবে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও নির্মাণমান ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

৪. অর্থ সংগ্রহ, জমির মূল্য, শেয়ার বিক্রি ও নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নয়। ফলে প্রযোজ্য আয়কর, ভ্যাট, নিবন্ধন ফি ও অন্যান্য সরকারি রাজস্ব যথাযথভাবে আদায় হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

৫. বৈধ আবাসন প্রতিষ্ঠানকে জমি, অনুমোদন, প্রকৌশল, নির্মাণমান, নিরাপত্তা, কর-ভ্যাটসহ সব ধরনের আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হয়। অন্যদিকে এসব শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করে কম দামে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অর্থ সংগ্রহ করলে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

৬. জমির মালিকানা, শেয়ার বিক্রি, ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নির্মাণ ব্যয় ও দখল নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। এসব বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ, আর্থিক সংকট ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে।

৭. জমির অবিভক্ত অংশের মালিকানা থাকলে ভবিষ্যতে জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রি, ব্যাংকে বন্ধক, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন এবং পৃথক মালিকানা প্রতিষ্ঠায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

একটি নিরাপদ ভবন নির্মাণের জন্য প্রকল্পের অনুমোদনের পাশাপাশি কাঠামোগত নকশা, ভিত্তির সক্ষমতা, নির্মাণসামগ্রীর মান, অগ্নিনিরাপত্তা, পানি ও পয়োনিষ্কাশন এবং নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে পেশাদার তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এ রিয়েল এস্টেট ব্যবসা পরিচালনা, প্রকল্প অনুমোদন এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রয়েছে। তাই প্রচলিত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনে সুস্পষ্ট আইনগত নিষেধাজ্ঞা ও নতুন বিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রিহ্যাবের ছয় দফা দাবি

আবাসন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ক্রেতাদের অর্থ ও মালিকানা সুরক্ষা এবং নিরাপদ ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে ছয়টি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব।

১. জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিনির্ভর অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসায়িক মডেল বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত পর্যালোচনার মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

২. প্রকল্পের জমির মালিকানা, নিবন্ধন, দায়-দেনা, অনুমোদিত নকশা এবং নির্মাণের আইনগত অধিকার নিশ্চিত না করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অর্থ সংগ্রহ করতে দেওয়া যাবে না।

৩. শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবনগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে স্বাধীন কারিগরি ও আইনগত নিরীক্ষা করতে হবে। অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের তুলনামূলক তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তা প্রকাশ করতে হবে।

৪. একই জমি বা জমির অংশ একাধিকবার বিক্রি, জাল দলিল, ভুয়া অনুমোদন, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. প্রতিটি প্রকল্পে জমি ক্রয়, অর্থ সংগ্রহ, নির্মাণ ব্যয়, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ক্রেতাদের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরীক্ষাযোগ্য হিসাব নিশ্চিত করতে হবে। প্রযোজ্য কর, ভ্যাট ও অন্যান্য সরকারি রাজস্ব পরিশোধের বিষয়ও যাচাই করতে হবে।

৬. প্রতিটি প্রকল্পে দায়িত্বশীল ডেভেলপার, যোগ্য স্থপতি, প্রকৌশলী ও প্রয়োজনীয় পেশাদার জনবল নিয়োগ এবং নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে গুণগত মান ও নিরাপত্তা তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, কোনো বৈধ যৌথ মালিকানা বা স্বচ্ছ বিনিয়োগ ব্যবস্থার বিরোধিতা রিহ্যাব করছে না। তবে জমির অংশীদারত্ব বা যৌথ উদ্যোগের নামে এমন কোনো ব্যবসায়িক মডেল পরিচালিত হতে পারে না, যেখানে অর্থের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের অধিকার, বৈধ মালিকানা, নির্মাণের দায় এবং চূড়ান্ত হস্তান্তরের কার্যকর নিশ্চয়তা নেই। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ এবং প্রচলিত আইন অনুসরণের বাধ্যবাধকতাও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শেয়ারভিত্তিক অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসার সমস্যা শুধু আবাসন খাতের সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় সমস্যা। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয়, আবাসনের নিরাপত্তা, সরকারি রাজস্ব, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জড়িত। আজ এ সমস্যার যথাযথ সমাধান না হলে আগামী দিনে এর আর্থিক, সামাজিক ও আইনি ক্ষতির বোঝা বহন করতে হবে রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষকেই। তাই আবাসন খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ ক্রেতার অধিকার ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তদন্ত দ্রুত শেষ করে রিহ্যাবের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি

সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তদন্তের নামে প্রায় তিন মাস ধরে দেশের আবাসন খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন রিহ্যাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের প্রতি রিহ্যাবের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। তবে তদন্তের অজুহাতে একটি জাতীয় পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠনের নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা কোনোভাবেই কাম্য ও যৌক্তিক নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে অভিমত প্রকাশ করেন তিনি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “একটি সংগঠনের নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত যদি দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে, তাহলে সেই সংগঠন কীভাবে তার সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা করবে? আমরা মনে করি, তদন্ত চলতে পারে, কিন্তু সে কারণে সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

রিহ্যাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রক ও তদারককারী কর্তৃপক্ষ। রিহ্যাব সবসময় সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। মন্ত্রণালয়ের যেকোনো আইনসংগত নির্দেশনা ও তদন্ত কার্যক্রমে রিহ্যাব সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সংগঠনের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার নদীতে বিধ্বস্ত, নিখোঁজ এক ক্রু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার নদীতে বিধ্বস্ত, নিখোঁজ এক ক্রু

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভানোর উদ্দেশ্যে নিয়োজিত একটি হেলিকপ্টার নদীতে বিধ্বস্ত হয়েছে, যখন এটি পানি সংগ্রহের কাজ করছিল। এই দুর্ঘটনা ৮ই নভেম্বর বোর্নিও দ্বীপে ঘটে। এর পর দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে একজন নিখোঁজ রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এক কর্মকর্তা। দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশে এই ঘটনা ঘটে। এটি দাবানল নেভানোর কাজে নিয়োজিত হেলিকপ্টারের বিধ্বস্ত হওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা, যা কয়েক দিনের মধ্যে ঘটছে।

এর আগে ৪ঠা নভেম্বর, বোর্নিও দ্বীপের উপকূলীয় পানিতে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তিনজন নিহত হন। জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র বার্টন পানজাইতান জানিয়েছেন, ৮ই নভেম্বরের দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া দুই অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিরাপদ অবস্থায় আছেন। তবে হেলিকপ্টারের তৃতীয় ক্রু সদস্য, একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক, এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

নাটকীয় ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বারিতো নদী থেকে হেলিকপ্টারটি বালতি দিয়ে পানি সংগ্রহ করার পর ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে, এটি নাকের দিক সামনের দিকে রেখে পানিতে আছড়ে পড়ে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া কয়েক মাস ধরে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে। সুমাত্রা, বোর্নিও ও পাপুয়া দ্বীপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়া প্রতিবেশী মালয়েশিয়া, পূর্ব তিমুর ও সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ৮ই নভেম্বরের দুর্ঘটনা সম্পর্কে মুখপাত্র বার্টন বলেন, বিমানবহর যখন পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর অভিযান চালাচ্ছিল, তখন এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%