০৫:৫৪ পি.এম
চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন কি দেখছেন? যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা শুধু চাঁদে ভ্রমণের সুযোগই নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলার ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগও প্রদান করতে যাচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে নতুন নভোচারী দলের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে সংস্থাটি। নির্বাচিত নভোচারীরা নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
শনিবার কেনেডি স্পেস সেন্টারে আয়োজিত একটি এয়ার শোতে নতুন নভোচারী নিয়োগের ঘোষণা দেয় নাসা। এই আয়োজনের মাধ্যমে চন্দ্র অভিযান, বিমান চলাচল এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
নাসা জানিয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ নভোচারী নির্বাচনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে ২০২৮ সালের শুরুর দিকে। একই বছর, ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর নভোচারীদের আবারো চাঁদের মাটিতে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে নাসার।
আরও পড়ুন: শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনের অর্থনীতি ধ্বংসে রাশিয়ার জোরদার হামলা
এর আগে ২০২৪ সালে নতুন নভোচারী নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল নাসা। সেবার ৮ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ১০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
বর্তমানে নাসার সক্রিয় নভোচারীর সংখ্যা মাত্র ৩২ জন। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে মহাকাশে মানুষের উপস্থিতি দ্রুত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকায় আরো নভোচারী প্রয়োজন সংস্থাটির। আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে নাসা।
আর্টেমিস কর্মসূচির তৃতীয় অভিযানের কমান্ডার র্যান্ডি ব্রেসনিক বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, "আমাদের নভোচারীর সংখ্যার তুলনায় কাজের পরিমাণ অনেক বেশি।" সম্ভাব্য আবেদনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।" তাই আগ্রহীদের আবেদন করতে দেরি না করার আহ্বান জানান তিনি।
নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের গ্রীষ্মে ব্রেসনিক ও তার তিন সহকর্মী মহাকাশে যাবেন। তাদের অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য হবে পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করে নভোযানের সঙ্গে দুটি চন্দ্রযানের সংযোগ স্থাপনের মহড়া দেওয়া। এর মধ্যে একটি চন্দ্রযান তৈরি করছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং অন্যটি জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন।
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হতে পারে ‘চীন-পাকিস্তান তথ্য করিডর’
এই অভিযানটি মূলত পরবর্তী আর্টেমিস-৪ মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে পরিচালিত হবে। আর্টেমিস-৪ অভিযানে দুই নভোচারীকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকায় অবতরণের চেষ্টা করার কথা রয়েছে।
চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সেখানে রোভার, রোবট, বিভিন্ন অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা পাঠানো হবে। এসবের মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানববসতি গড়ে তোলার পথ তৈরি করতে চায় নাসা।
তবে নভোচারী হওয়ার প্রক্রিয়া মোটেও সহজ নয়। আর্টেমিস-৩ মিশনের আরেক নভোচারী ফ্রাঙ্ক রুবিও এ বিষয়ে ধৈর্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি মহাকাশে টানা ৩৭১ দিন অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটানা মহাকাশে থাকার রেকর্ড গড়েছেন।
নাসার নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি এবং পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক দুই বছরের প্রশিক্ষণও বেশ কঠিন হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পেতে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন: ইইউ-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতির নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক
রুবিও বলেন, "আবেদনকারীদের বুঝতে হবে, নভোচারী হিসেবে তাদের কাজের বেশির ভাগ সময় চাঁদে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং চাঁদে মানুষ পাঠানোর বৃহত্তর লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হবে।" তার ভাষায়, "নভোচারী হিসেবে পুরো অভিজ্ঞতার মাত্র ১ শতাংশ সময় হয়তো চাঁদে যাওয়ার কাজে ব্যয় হবে।"
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে নাসার প্রথম নভোচারী দল ‘মার্কারি সেভেন’ গঠনের পর এটি হতে যাচ্ছে সংস্থাটির ২৫তম নভোচারী দল। নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরো গতি আনতে চায় নাসা।
সূত্র: এপি
এআরবি
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার নদীতে বিধ্বস্ত, নিখোঁজ এক ক্রু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন