ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইইউ ও এসিইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের বৈঠক


ইইউ ও এসিইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের বৈঠক

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং এসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ (এসিইউ)-এর দুটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। দুপুরবেলায় বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউ’র পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাত বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি নিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা এই খাতে আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের চলমান উদ্যোগগুলো তুলে ধরা ছাড়াও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের কাজের তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘সরকার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কর্মীদের উন্নত সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’ এছাড়া অভিবাসন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের নীতিগত উদ্যোগের কথা তিনি উল্লেখ করেন। ইইউ প্রতিনিধিদলে হেনরিক নিয়েলসেন, আলেকসান্দ্রা ডোমানস্কা, বাইবা জারিনা এবং জুরাতে স্মালস্কিতে মেরভিল উপস্থিত ছিলেন। এরপর এসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিস্তার এবং কমনওয়েলথভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে পারস্পরিক সংযোগ জোরদার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মাহদী আমিন বাংলাদেশের শিক্ষা খাত উন্নয়নে সরকারের নীতি ও রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলবে এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’ এসিইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে তাদের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। এসিইউ প্রতিনিধিদলে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল প্রফেসর কলিন রিওর্ডান, দক্ষিণ এশিয়ায় এসিইউ’র রিজিওনাল এনগেজমেন্ট লিড ইকিতা পোখরনা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ ফেরহাত আনোয়ার, রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাওল্যান্ড, ডেপুটি রেজিস্ট্রার অ্যাডভোকেট ফারহান হক এবং ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মশিয়ার রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১ মামলার আসামি বুলেট ফারুক ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪০ এম


১১ মামলার আসামি বুলেট ফারুক ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ-সেনবাগ উপজেলার শীর্ষ মাদক কারবারি ওমর ফারুক ওরফে বুলেট ফারুককে ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, একটি রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেল এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ সময়  মাদক বিক্রির এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা, একটি রয়েল এনফিল্ড মোটর সাইকেল ও ২টি মোবাইল সেট জব্দ করা হয়।  

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট পূর্ব বাজার এলাকার ফেনী-চৌমুহনী মহাসড়কে ডিএনসি-র‍্যাবের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

গ্রেপ্তার বুলেট ফারুকের (৪৪) উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লতিফপুর গ্রামের কামাল উদ্দিন হাজীর বাড়ির মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জমিদারহাট পূর্ব বাজারের ফেনী টু চৌমুহনী মহাসড়কের উপর থেকে বুলেট ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কোমর থেকে ৫ হাজার ৩১০ পিস এবং মোটরসাইকেলের টুলবক্স থেকে আরও ৪ হাজার পিসসহ মোট ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, একটি রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

ডিএনসি জানায়, বুলেট ফারুক নোয়াখালীর সেনবাগ, বেগমগঞ্জ ও ফেনীর দাগনভূঞা এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সেনবাগ ও বেগমগঞ্জ, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও সিএমপির ডবলমুরিং এবং ফেনীর দাগনভূঞা থানায় অস্ত্র মামলাসহ মোট ১১টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জানায়, নিজস্ব মোটরসাইকেল ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে ২/৩ বার চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে নোয়াখালীতে পৌঁছে দিত। বেগমগঞ্জ এলাকার লতিফপুর, হাজীপুর, রসুলপুর, জমিদারহাট, সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট, ছবির মুন্সিরহাট, কাবিলপুর এবং দাগনভূঞা উপজেলার খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের ইয়াবা সরবরাহ করতো সে। নোয়াখালীতে তার অধীনে ৩টি খুচরা সিন্ডিকেট আছে বলে জানা যায়।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ডিএনসির নোয়াখালী জেলা কার্যালয় ফেনীর দাগনভূঞা এলাকা থেকে তাকে ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তিনি ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। জেলার তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে ডিএনসি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্দিদের বিশ্বকাপ খেলা দেখাতে কারাগারে টিভি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ এম


বন্দিদের বিশ্বকাপ খেলা দেখাতে কারাগারে টিভি

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগি করার ব্যবস্থা করেছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক।

ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক এই উদ্যোগ গ্রহণ করলেন—জেলা কারাগারের বন্দিরা কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন? ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে টেলিভিশনের ব্যবস্থা করে বন্দিদের জন্য খেলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, যখন তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে যান, তখন কারাবন্দিরা তাঁদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থাপনা করার অনুরোধ করেন। একজন সাধারণ মানুষের মতো কারাবন্দিরাও বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে অংশগ্রহণের অধিকার রাখেন। এই তাড়না থেকে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে কারাগারে টেলিভিশন স্থাপনের ফলে কারাবন্দিদের মধ্যে আনন্দ এবং শৃঙ্খলার বৃদ্ধি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘অস্তিত্ব রক্ষায়’ কি কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ এম


‘অস্তিত্ব রক্ষায়’ কি কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা?

একসময় যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী ছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রাজীব গান্ধীর স্নেহভাজনও ছিলেন তিনি। তিনি দলের হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং ১৯৯১ সালে মন্ত্রীও ছিলেন। পরে কংগ্রেসের সাথে তার বিরোধ তৈরি হয় এবং দূরত্ব তৈরি হয়। এই প্রেক্ষিতে তিনি কংগ্রেস ছেড়েছেন। ১৯৯৮ সালে তার হাত ধরেই গড়ে উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমানে তিনি ২০২৬ সালে রাজনীতির নতুন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন।

২৮ বছর আগে যে কংগ্রেস তিনি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন, কালের আবহে সেই পুরোনো দলে কি ফিরতে চলেছেন মমতা ব্যানার্জি? দিল্লির রাজনৈতিক মহলে বর্তমানে এটি সবচেয়ে চর্চিত বিষয়।

তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর বিগত বামফ্রন্ট সরকারের বড় সমালোচক ছিলেন মমতা। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর একটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সাংবিধানিক তিনটি মেয়াদে টানা ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা ছিল তার দলের, এবং নিজেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন মমতা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচক হিসেবে তিনি প্রথম সারিতে ছিলেন।

কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। একাধিক নেতা, নেত্রী, বিধায়ক, সাংসদ- কেউ পদ ছেড়েছেন আবার কেউ দলও ছেড়েছেন। লোকসভায় তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ২৮, এরমধ্যে ২০ জনের বেশি সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। রাজ্যসভায় ১৩ সংসদ সদস্যের মধ্যে ২ জন ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ইতোমধ্যেই ২০ জনের বেশি বিধায়ক বিদ্রোহী তৃণমূলের নাম লিখিয়েছেন। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন অবস্থায় গত সোমবার দিল্লিতে বিরোধী দলের জোট ইন্ডিয়ার বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার সঙ্গে ছিলেন ভাইপো এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। বৈঠকে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর বাম দিকে বসেন মমতা। বৈঠকের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায়, সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা ব্যানার্জি একে অপরকে আলিঙ্গন করছেন।

পরে, গত মঙ্গলবার সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। বুধবার সেই ১০ জনপথে লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং কংগ্রেস সংসদ রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। রাহুল ও অভিষেকের এই বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এই দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়।

এরপরেই, দিল্লির রাজনীতিতে জল্পনা ছড়িয়েছে যে কি তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরতে চলেছেন মমতা-অভিষেক? কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চান তৃণমূলকে? বুধবার বিকালে দিল্লি থেকে কলকাতা ফেরেন মমতা ব্যানার্জি। কলকাতা বিমানবন্দরে মমতাকে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

যদিও অন্য একটি সূত্র জানায়, তৃণমূলে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তা কীভাবে রোখা যায়, তা নিয়ে মূলত সোনিয়া বা রাহুলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে মমতা ও অভিষেক।

কি বলছেন নেতারা? পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, ‘রাজনীতি সম্ভাবনামায় শিল্প। ফলে আগামীতে যেকোনো কিছুই হতে পারে। আরএসএসের বিচারধারা ও বিজেপির একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। আমরা মনে করি, রাহুল গান্ধীরই প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত। আর এটাকে যিনি মেনে নেবেন, তাদের সবার জন্য আমাদের দরজা খোলা আছে।’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান বলেছেন, ‘অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো মন্তব্য করা যায় না। আগে হোক, তারপর দেখা যাবে।’ যদি মমতা কংগ্রেসে ফিরে আসেন, তবে তিনি কি মানবেন? উত্তরে মমতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আব্দুল মান্নান বলেন, ‘মমতার কার্যকলাপের ওপর কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। তার বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে ঠেকেছে।’

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি বলছেন, ‘আমরা তো যাচ্ছি না, তাহলে করছে কে? আমি যতদূর জানি, লোকসভার ২০ জন সংসদ সদস্য কংগ্রেসে যোগ দেবেন না, রাজ্যসভার সংসদ সদস্যরা যোগ দেবে না, পশ্চিমবঙ্গের ৬৪ জন তৃণমূল বিধায়কও কংগ্রেসে যোগ দেবেন না। ফলে কংগ্রেসের সাথে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠছে না।

মমতাঘনিষ্ঠ তৃণমূলের বিধায়ক কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, ‘কংগ্রেস এবং তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেত্রী একে অপরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা করতেই পারেন। তবে এই বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো মন্তব্য করাটা সমীচীন নয়।

তবে ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে অতীতে প্রণব মুখার্জির মতো নেতারও কংগ্রেসে ফেরার রেকর্ড রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংসদে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

যাচাই করলে ৪০০-৫০০টির বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স টিকবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৭ এম


যাচাই করলে ৪০০-৫০০টির বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স টিকবে না

দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং সার্বিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স রয়েছে। তবে যদি মানসম্মত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করা হয়, তাহলে ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি লাইসেন্স টিকবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এসব এজেন্সির লাইসেন্স মূল্যায়ন করে গ্রেডিং করার উদ্যোগ গ্রহণ হবে।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের আনা প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রস্তাবটির বিষয়বস্তু ছিল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের সমস্যা সমাধান করা, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদান অব্যাহত রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা।

বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র পৌনে চার মাস উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত অল্প সময়ে পুরো অবকাঠামো পরিবর্তন সম্ভব না হলেও, সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য পেমেন্ট গেটওয়ে-সংযুক্ত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান একটি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। এ কার্ডের সাহায্যে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠালে তাদের পরিবার বা মনোনীত প্রতিনিধিরা নিরাপদে সেই অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

তিনি এসময় প্রবাসীদের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে পূর্বাচল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে জেলা পর্যায়ে ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসাথে রাজধানীর গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিজস্ব জায়গায় প্রবাসীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কম খরচে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিভিন্ন সেবার সাথে সাথে বলেন, প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী ও প্রতিবন্ধী সন্তাদের শিক্ষা ভাতা, মৃত কর্মীর মরদেহ দেশে আনা, দাফন ব্যয় এবং পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

প্রবাসীদের বিমানবন্দরে হয়রানি ও সেবার ব্যাপারে তিনি বলেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিদেশে চাকরিচ্যুত বা নির্যাতনের শিকার প্রবাসীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ১০টি দেশের আইন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

নারী কর্মীদের সুরক্ষার জন্য জেদ্দা, রিয়াদ ও ওমানে তিনটি সেফ হোম পরিচালনার কথা জানান তিনি। তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৬১৩৫ চালু রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দূতাবাসগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে দূতাবাসগুলোর সম্পৃক্ততা এবং দক্ষ জনশক্তির জন্য ‘হোয়াইট-কলার’ চাকরির সুযোগ তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ইউরোপ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জাপানের শ্রমবাজার ধরার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব বাজার আরও সম্প্রসারণের কথা জানান তিনি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে নূরুল হক নুর বলেন, বাজারটি মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি বন্ধ রয়েছে। সিন্ডিকেটের বিষয়ে তিনি জানান, ২০২১ সালের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রমিকের তালিকা পাঠালেও রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করে মালয়েশিয়া সরকার।

দেশে প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও, বললেন তিনি, মানসম্মত যাচাই প্রক্রিয়াতে ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি লাইসেন্স টিকবে না। সুতরাং এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রেডিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রবাসীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%