০১:৩৩ এম
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং এসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ (এসিইউ)-এর দুটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। দুপুরবেলায় বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউ’র পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাত বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি নিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা এই খাতে আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের চলমান উদ্যোগগুলো তুলে ধরা ছাড়াও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের কাজের তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘সরকার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কর্মীদের উন্নত সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’ এছাড়া অভিবাসন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের নীতিগত উদ্যোগের কথা তিনি উল্লেখ করেন। ইইউ প্রতিনিধিদলে হেনরিক নিয়েলসেন, আলেকসান্দ্রা ডোমানস্কা, বাইবা জারিনা এবং জুরাতে স্মালস্কিতে মেরভিল উপস্থিত ছিলেন। এরপর এসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিস্তার এবং কমনওয়েলথভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে পারস্পরিক সংযোগ জোরদার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মাহদী আমিন বাংলাদেশের শিক্ষা খাত উন্নয়নে সরকারের নীতি ও রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলবে এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’ এসিইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে তাদের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। এসিইউ প্রতিনিধিদলে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল প্রফেসর কলিন রিওর্ডান, দক্ষিণ এশিয়ায় এসিইউ’র রিজিওনাল এনগেজমেন্ট লিড ইকিতা পোখরনা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ ফেরহাত আনোয়ার, রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাওল্যান্ড, ডেপুটি রেজিস্ট্রার অ্যাডভোকেট ফারহান হক এবং ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মশিয়ার রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন