০৬:১৩ পি.এম
মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সরকারের অর্থমন্ত্রীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের সম্মান বৃদ্ধির জন্য ভাতা বৃদ্ধি করা অত্যাবশ্যক। একইসাথে তিনি মন্তব্য করেন, যদি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি হবে দেশের ইতিহাসে সরকারের একটি স্মরণীয় পদক্ষেপ।
আজ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান।
আরও পড়ুন: গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরিতে সহায়তা করেছে: জামায়াত আমির
বক্তব্যের শুরুতে, জয়নুল আবেদিন ফারুক একটি ‘সুন্দর বাজেট’ উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান ও নারী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক আত্মত্যাগকে স্মরণ রাখতে হবে, তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও কখনো ভোলা যাবে না। এসময় তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, ‘অন্তত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাটা বাড়িয়ে দিন, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লেখা থাকে।’
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসাথে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এ উদ্যোগ শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলে তাঁর মত।
নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণে বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপেরও তিনি প্রশংসা করেন। অতিরিক্ত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংসদের সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার উপরও তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: ‘ইরাকে আর কোনো মার্কিন সেনা নেই’ দাবি প্রধানমন্ত্রীর
বাজেট নিয়ে বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, অতীতে বহু বাজেটের সময় ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান শোনা গেলেও এবার সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন, বিরোধীরা অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবেন, তবে তা হওয়া উচিত গঠনমূলক। ‘সমালোচনা আপনারা করুন, জবাব আমরা দেব। কিন্তু সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে,’ বললেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ইতিহাস, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে মিলেমিশে দেশ গড়তে হবে। ‘বাংলাদেশ সবার আগে’ এই প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেন সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য।
আরও পড়ুন: আলাস্কায় নির্বাচনের ফলাফল আটকে দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন