ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর জোর দাবি জয়নুল আবেদিন ফারুকের


মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর জোর দাবি জয়নুল আবেদিন ফারুকের

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সরকারের অর্থমন্ত্রীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের সম্মান বৃদ্ধির জন্য ভাতা বৃদ্ধি করা অত্যাবশ্যক। একইসাথে তিনি মন্তব্য করেন, যদি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি হবে দেশের ইতিহাসে সরকারের একটি স্মরণীয় পদক্ষেপ।

আজ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান।

আরও পড়ুন: গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরিতে সহায়তা করেছে: জামায়াত আমির

বক্তব্যের শুরুতে, জয়নুল আবেদিন ফারুক একটি ‘সুন্দর বাজেট’ উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান ও নারী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক আত্মত্যাগকে স্মরণ রাখতে হবে, তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও কখনো ভোলা যাবে না। এসময় তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, ‘অন্তত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাটা বাড়িয়ে দিন, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লেখা থাকে।’

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসাথে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এ উদ্যোগ শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলে তাঁর মত।

নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণে বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপেরও তিনি প্রশংসা করেন। অতিরিক্ত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংসদের সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার উপরও তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: ‘ইরাকে আর কোনো মার্কিন সেনা নেই’ দাবি প্রধানমন্ত্রীর

বাজেট নিয়ে বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, অতীতে বহু বাজেটের সময় ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান শোনা গেলেও এবার সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন, বিরোধীরা অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবেন, তবে তা হওয়া উচিত গঠনমূলক। ‘সমালোচনা আপনারা করুন, জবাব আমরা দেব। কিন্তু সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে,’ বললেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ইতিহাস, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে মিলেমিশে দেশ গড়তে হবে। ‘বাংলাদেশ সবার আগে’ এই প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেন সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য।

আরও পড়ুন: আলাস্কায় নির্বাচনের ফলাফল আটকে দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির তাঁত শিল্প, প্রতিবাদে সড়কে মালিক-শ্রমিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির তাঁত শিল্প, প্রতিবাদে সড়কে মালিক-শ্রমিক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে শনিবার ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা। এ সময় তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রায়গঞ্জ পৌরসভার পূর্ব লক্ষ্মীকোলা এলাকা থেকে তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এই মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধানগড়া পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে তারা সমাবেশ করেন।

বিক্ষোভকারীরা "লোডশেডিং বন্ধ করতে হবে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে হবে" এরকম স্লোগান দেন। এরপর, তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে তাদের সমাবেশ শেষ করেন।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁতকলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তাঁতকল বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং শ্রমিকদের কাজের সুযোগও কমে যাচ্ছে।

সমাবেশে পূর্ব লক্ষ্মীকোলা এলাকার তাঁত মালিক মো. মোত্তাকি বলেন, "ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আমাদের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো অর্ডারের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে মালিক-শ্রমিক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা দ্রুত লোডশেডিং কমানোর এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।"

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, "বিদ্যুতের সমস্যায় শুধু তাঁতকল নয়, সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজও ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।"

এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের ভূঁইয়াগাঁতী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. নিজামুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "বিক্ষোভের সময় আমি কার্যালয়ে ছিলাম না। তবে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আমি টেলিফোনে কথা বলেছি।"

তিনি আরও জানান, "তাঁতকলের সংযোগ লাইনটি অনেক পুরনো হওয়ায় অধিকাংশ সময় নানা ত্রুটি দেখা দেয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবিতে নতুন বিভাগ খোলার আগে সংকট নিরসনের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


জাবিতে নতুন বিভাগ খোলার আগে সংকট নিরসনের আহ্বান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তাবিত ৬টি নতুন বিভাগ চালুর আগে বিদ্যমান একাডেমিক ও অবকাঠামোগত সংকট সমাধানের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রস্তাবিত ৬টি নতুন বিভাগ চালুর আগে বিদ্যমান ৩৭টি বিভাগের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত সংকট সমাধান এবং সমন্বিত একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন কয়েকটি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন শুরুর আগে দুপুর ২টায় সিনেট ভবনের সামনে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলনের সংগঠক সানজিদা আফরিন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর প্ল্যাটফর্মের সংগঠক তাসনীম ইয়াসমিন তন্বী, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক সোমা ডুমরী এই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন। তারাও জানান, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তারা জেনেছেন, প্রস্তাবিত ৬টি নতুন বিভাগের বিষয়টি সিনেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭টি বিভাগই অবকাঠামো, শিক্ষক ও ল্যাব-সংকটসহ নানা সমস্যায় রয়েছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যানও এখনো প্রণীত হয়নি।

তাদের দাবি হচ্ছে, বিদ্যমান সংকটের সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা ছাড়া নতুন বিভাগ চালু করা বাস্তবসম্মত হবে না। নতুন বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যক আবাসন ব্যবস্থা এখন নেই বলেও উল্লেখ করেন তারা।

স্মারকলিপিতে আরও জানানো হয়, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে কার্যকর করা, থিসিস গবেষণার জন্য ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছাপাখানা স্থাপন, বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম ও ল্যাব-সংকট নিরসন, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার বাস্তবায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন, সান্ধ্যকালীন এবং উইকেন্ড কোর্স বন্ধ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালুর দাবিও তারা জানিয়েছেন।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, আমাদের আপত্তি নতুন বিভাগ খোলার ধারণার বিরুদ্ধে নয়; আপত্তি হলো বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭টি চলমান বিভাগ রয়েছে, অথচ এসব বিভাগের জন্য কোনো সমন্বিত একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান নেই। অনেক বিভাগে শ্রেণিকক্ষের সংকট, পরীক্ষা গ্রহণে বিলম্ব, সেশনজট ও ইয়ার গ্যাপের মতো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। একই সঙ্গে সিসিএসের বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি, প্রশাসনিক কার্যক্রমের অটোমেশনেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিদ্যমান বিভাগগুলোর মৌলিক সমস্যা সমাধান না করেই নতুন ছয়টি বিভাগ চালুর উদ্যোগটি আমাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়।

শুধু একাডেমিক নয়, অবকাঠামোগত পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ঘাটতি রয়েছে। ক্যাম্পাসে এখনও আধুনিক স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা নেই, নিজস্ব ছাপাখানা নেই, উন্নয়ন কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ, মানুষের জন্য ও ক্যাম্পাসের সামগ্রিক ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর।

আমরা চাই ওই প্রশাসন আগে একটি সমন্বিত একাডেমিক এবং অবকাঠামোগত মাস্টার পরিকল্পনা প্রণয়ন করুক। বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট (আইসিএলসি), আইন বিভাগসহ বিভিন্ন একাডেমিক ইউনিটে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানের আগে নতুন বিভাগ চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎ ‎পিরোজপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


পিরোজপুরে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে পিরোজপুর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
‎
‎মেলার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দি পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু।
‎
‎আয়োজকরা জানান, চাকরি মেলার মাধ্যমে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দেশের বিভিন্ন ফ্যাক্টরি, ডিপো, মার্কেট সেলস ও শোরুম সেলস বিভাগে আকর্ষণীয় বেতনে প্রায় পাঁচশত জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এ উপলক্ষে আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণের পাশাপাশি সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
‎
‎মেলায় সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (বিক্রয় প্রতিনিধি), সেলস এক্সিকিউটিভ (শোরুম সেলস), ট্রেইনি শোরুম ম্যানেজার, সিকিউরিটি গার্ড এবং ড্রাইভার পদে প্রার্থী বাছাই ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
‎
‎আয়োজকরা জানান, এ ধরনের চাকরি মেলা জেলার বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় মানবসম্পদকে জাতীয় পর্যায়ে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিলে ইসলামের ইতিহাস, মুসলমানদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


ব্রাজিলে ইসলামের ইতিহাস, মুসলমানদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ

দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল সাধারণত ফুটবল, কার্নিভাল এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বব্যাপি পরিচিত। তবে অনেকের জানার বিষয় হল, এই দেশটির মাটিতে ইসলাম বহন করছে এক দীর্ঘ, বেদনাবিধুর ও গৌরবময় ইতিহাস। দাসত্ব, নির্যাতন ও ধর্মীয় নিপীড়নের অন্ধকার অধ্যায় অতিক্রম করে বর্তমানে ব্রাজিলের মুসলিম সমাজ শিক্ষা, বাণিজ্য, সামাজিক নেতৃত্ব ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের এই যাত্রা জরুরি ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও ঈমানের এক অন্যতম দৃষ্টান্ত।

বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় দেড় লক্ষ মুসলমান বসবাস করছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.১ শতাংশ। আমেরিকা আবিষ্কারের প্রাথমিক সময়ে পর্তুগিজ নাবিকেরা আফ্রিকান মুসলমানদের দাস হিসেবে ব্রাজিলে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ প্রায় পাঁচশত বছরের ইতিহাসকে অতিক্রম করে আজ মুসলমানরা দেশের অন্যতম অগ্রসর ও সম্মানিত সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে।

ষোড়শ শতকের শুরুতে পর্তুগিজ নাবিক পেদ্রো আলভারেস কর্কওয়াল ব্রাজিল উপকূলে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন বেশ কয়েকজন মুসলিম নাবিক, যাদের মাধ্যমেই ব্রাজিল ও আশপাশে ইসলামের পরিচয় ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসের পাতা থেকে শিহাবুদ্দিন ইবনে মাজেদ ও মুসা ইবনে সাতি বিশেষভাবে স্মরণীয়।

অন্যদিকে, স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসানের পর বহু স্প্যানিশ মুসলমানও আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ব্রাজিলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

ব্রাজিলে আগত বহু মুসলমান পর্তুগিজ শাসকদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। অনেককে হত্যা করা হয়, আবার অসংখ্য আফ্রিকান মুসলমানকে দাস হিসেবে এখানে নিয়ে আসা হয়। ব্রাজিলের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল থেকে জানা যায়, এসব আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মুসলমান নিজেদের ঈমান ও ধর্মীয় পরিচয় দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছিলেন। তারা আরবি ভাষায় কুরআন পাঠ করতেন এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষাগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন।

মুসলিম দাসদের মধ্যে যারা বয়সে প্রবীণ ও জ্ঞানী ছিলেন, তারা অন্যদের কুরআন, ফিকহ, আকিদা এবং শরিয়তের শিক্ষা দিতেন। কঠিন দাসজীবনের মধ্যেও ইসলামের আলো তারা নিবিয়ে দেননি।

১৬০৫ সালে ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের আলমিরস এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ মুসলমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তরুণ মুসলিম নেতা জানজা জুম্বা নিপীড়িত মুসলমানদের জন্য একটি স্বাধীন মুসলিম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার ভাই ও উত্তরসূরিরা দীর্ঘ সময় ধরে সেই রাজ্যটি টিকিয়ে রাখেন।

প্রায় এক শতাব্দী পরে, ১৬৯৪ সালে পর্তুগিজ বাহিনীর হাতে আলমিরসের পতন ঘটে। এরপর মুসলমানদের ওপর আবারও ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসে। অধিকাংশ মুসলমানকে জোরপূর্বক খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

১৮৮৮ সালে ব্রাজিলে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মুসলমানদের ওপর অত্যাচার ও বৈষম্য অব্যাহত ছিল।

উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে ব্রাজিলের মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তিত হতে শুরু করে। আরব-ইসরাইল যুদ্ধ, লেবাননের গৃহযুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে লেবানন, ফিলিস্তিন, মিসর এবং সিরিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলমান ব্রাজিলে অভিবাসন করেন। এর ফলে ব্রাজিলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং মুসলিম সমাজ নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করেছে।

গত শতাব্দী এবং চলন্ত শতাব্দীতে ব্রাজিলে আগত অধিকাংশ মুসলমান ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গেও যুক্ত হন। বর্তমানে দেশটির অর্থনীতিতে মুসলিম ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

এছাড়া সরকারি চাকরি, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য পেশায়ও মুসলমানরা দক্ষতা ও সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছেন।

বর্তমানে ব্রাজিলের প্রায় প্রতিটি শহরে মসজিদ আছে। দেশটিতে মসজিদের সংখ্যা প্রায় ১৩০, যা ২০০০ সালের তুলনায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিশুদের ইসলামি শিক্ষা প্রদানের জন্য মক্তব, মাদ্রাসা এবং ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকারও সহযোগিতা করে থাকে।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে আছে বৃহৎ ইসলামিক সেন্টার, ইসলামিক স্কুল এবং একাধিক বড় মসজিদ। এছাড়া সাও পাওলো শহরে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি বিদ্যমান। রিও ডি জেনিরো, সাও পাওলো এবং রিও গ্রান্দে দো সুল অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে মুসলমানদের বসবাস বেশি। অন্যদিকে পারানা অঞ্চলেও আরব বংশোদ্ভূত উল্লেখযোগ্য মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসস্থান রয়েছে।

ব্রাজিলের মুসলমানদের ইতিহাস কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ইতিহাস নয়; এটি সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, ধৈর্য এবং পুনর্জাগরণের একটি অনন্য কাহিনী। দাসত্বের শৃঙ্খল, ধর্মীয় নিপীড়ন এবং দীর্ঘ প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজ তারা শিক্ষা, অর্থনীতি, ব্যবসা ও সামাজিক নেতৃত্বে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করেছেন। তাদের এই পথচলা প্রমাণ করে— ইমান, অধ্যবসায় এবং ঐক্য থাকলে প্রতিকূলতার অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথ নির্মাণ করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%