ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রাজিলে ইসলামের ইতিহাস, মুসলমানদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ


ব্রাজিলে ইসলামের ইতিহাস, মুসলমানদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ

দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল সাধারণত ফুটবল, কার্নিভাল এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বব্যাপি পরিচিত। তবে অনেকের জানার বিষয় হল, এই দেশটির মাটিতে ইসলাম বহন করছে এক দীর্ঘ, বেদনাবিধুর ও গৌরবময় ইতিহাস। দাসত্ব, নির্যাতন ও ধর্মীয় নিপীড়নের অন্ধকার অধ্যায় অতিক্রম করে বর্তমানে ব্রাজিলের মুসলিম সমাজ শিক্ষা, বাণিজ্য, সামাজিক নেতৃত্ব ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের এই যাত্রা জরুরি ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও ঈমানের এক অন্যতম দৃষ্টান্ত।

বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় দেড় লক্ষ মুসলমান বসবাস করছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.১ শতাংশ। আমেরিকা আবিষ্কারের প্রাথমিক সময়ে পর্তুগিজ নাবিকেরা আফ্রিকান মুসলমানদের দাস হিসেবে ব্রাজিলে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ প্রায় পাঁচশত বছরের ইতিহাসকে অতিক্রম করে আজ মুসলমানরা দেশের অন্যতম অগ্রসর ও সম্মানিত সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে।

ষোড়শ শতকের শুরুতে পর্তুগিজ নাবিক পেদ্রো আলভারেস কর্কওয়াল ব্রাজিল উপকূলে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন বেশ কয়েকজন মুসলিম নাবিক, যাদের মাধ্যমেই ব্রাজিল ও আশপাশে ইসলামের পরিচয় ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসের পাতা থেকে শিহাবুদ্দিন ইবনে মাজেদ ও মুসা ইবনে সাতি বিশেষভাবে স্মরণীয়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

অন্যদিকে, স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসানের পর বহু স্প্যানিশ মুসলমানও আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ব্রাজিলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

ব্রাজিলে আগত বহু মুসলমান পর্তুগিজ শাসকদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। অনেককে হত্যা করা হয়, আবার অসংখ্য আফ্রিকান মুসলমানকে দাস হিসেবে এখানে নিয়ে আসা হয়। ব্রাজিলের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল থেকে জানা যায়, এসব আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মুসলমান নিজেদের ঈমান ও ধর্মীয় পরিচয় দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছিলেন। তারা আরবি ভাষায় কুরআন পাঠ করতেন এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষাগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন।

মুসলিম দাসদের মধ্যে যারা বয়সে প্রবীণ ও জ্ঞানী ছিলেন, তারা অন্যদের কুরআন, ফিকহ, আকিদা এবং শরিয়তের শিক্ষা দিতেন। কঠিন দাসজীবনের মধ্যেও ইসলামের আলো তারা নিবিয়ে দেননি।

১৬০৫ সালে ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের আলমিরস এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ মুসলমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তরুণ মুসলিম নেতা জানজা জুম্বা নিপীড়িত মুসলমানদের জন্য একটি স্বাধীন মুসলিম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার ভাই ও উত্তরসূরিরা দীর্ঘ সময় ধরে সেই রাজ্যটি টিকিয়ে রাখেন।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রায় এক শতাব্দী পরে, ১৬৯৪ সালে পর্তুগিজ বাহিনীর হাতে আলমিরসের পতন ঘটে। এরপর মুসলমানদের ওপর আবারও ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসে। অধিকাংশ মুসলমানকে জোরপূর্বক খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

১৮৮৮ সালে ব্রাজিলে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মুসলমানদের ওপর অত্যাচার ও বৈষম্য অব্যাহত ছিল।

উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে ব্রাজিলের মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তিত হতে শুরু করে। আরব-ইসরাইল যুদ্ধ, লেবাননের গৃহযুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে লেবানন, ফিলিস্তিন, মিসর এবং সিরিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলমান ব্রাজিলে অভিবাসন করেন। এর ফলে ব্রাজিলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং মুসলিম সমাজ নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করেছে।

গত শতাব্দী এবং চলন্ত শতাব্দীতে ব্রাজিলে আগত অধিকাংশ মুসলমান ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গেও যুক্ত হন। বর্তমানে দেশটির অর্থনীতিতে মুসলিম ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

এছাড়া সরকারি চাকরি, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য পেশায়ও মুসলমানরা দক্ষতা ও সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছেন।

বর্তমানে ব্রাজিলের প্রায় প্রতিটি শহরে মসজিদ আছে। দেশটিতে মসজিদের সংখ্যা প্রায় ১৩০, যা ২০০০ সালের তুলনায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিশুদের ইসলামি শিক্ষা প্রদানের জন্য মক্তব, মাদ্রাসা এবং ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকারও সহযোগিতা করে থাকে।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে আছে বৃহৎ ইসলামিক সেন্টার, ইসলামিক স্কুল এবং একাধিক বড় মসজিদ। এছাড়া সাও পাওলো শহরে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি বিদ্যমান। রিও ডি জেনিরো, সাও পাওলো এবং রিও গ্রান্দে দো সুল অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে মুসলমানদের বসবাস বেশি। অন্যদিকে পারানা অঞ্চলেও আরব বংশোদ্ভূত উল্লেখযোগ্য মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসস্থান রয়েছে।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

ব্রাজিলের মুসলমানদের ইতিহাস কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ইতিহাস নয়; এটি সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, ধৈর্য এবং পুনর্জাগরণের একটি অনন্য কাহিনী। দাসত্বের শৃঙ্খল, ধর্মীয় নিপীড়ন এবং দীর্ঘ প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজ তারা শিক্ষা, অর্থনীতি, ব্যবসা ও সামাজিক নেতৃত্বে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করেছেন। তাদের এই পথচলা প্রমাণ করে— ইমান, অধ্যবসায় এবং ঐক্য থাকলে প্রতিকূলতার অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথ নির্মাণ করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করল ইসলামী আন্দোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করল ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আবারও আমির নির্বাচিত হয়েছেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। এ ছাড়া মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে মজলিশে শুরার বিশেষ অধিবেশন শেষে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) এ কমিটি ঘোষণা করেন। শুরার অধিবেশনে ২০২৫-২৬ বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনাসহ রাজনৈতিক কৌশল ও পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ৫৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে অন্যান্য পদে রয়েছেন, নায়েবে আমির—মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ; যুগ্ম মহাসচিব—প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক, মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন; সহকারী মহাসচিব—মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহা. আবুল খায়ের, মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে আছেন—মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালী উল্লাহ (এমপি), মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, আলহাজ হারুন অর রশীদ, হাফেজ মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, শেখ আবু তাহের, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, আলহাজ আব্দুর রহমান, প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ, মুফতি হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী, প্রফেসর ড. বেলাল নূর আজীজি, মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল কাশেম, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, শেখ মুহাম্মদ নুরুন নাবী, হাফেজ মাওলনা মাহমুদুল হাসান (এল.এল.বি.), মাওলানা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, কে এম শরীয়তুল্লাহ, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ লতিফ, অধ্যাপক নাছির উদ্দিন খাঁন, মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, আলহাজ মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মুফতি রেজাউল করীম আববার, মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, আলহাজ মুহাম্মদ আল ইকবাল, আলহাজ মুহাম্মদ সেলিম মাহমুদ, প্রভাষক মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার, কে এম বেলাল হোসাইন, মাওলানা শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মুহাম্মদ আব্দুজ জলিল, মুহাম্মদ আল-আমীন (ঠাকুরগাঁও), ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফ ও এম এম কামাল হোসাইন (ভোলা)। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন গতানুগতিক কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং শরিয়ার পূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। শরিয়া ও ইসলামকে প্রধান্য দিয়েই আমরা রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করি। এতে বাহ্যিক চড়াই-উৎরাই আমরা মেনে নিই। সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সেজন্য দলকে আরো সুসংহত করতে হবে।’ তিনি জানান, আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জাতির প্রত্যাশা পূরণে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক ব্যর্থতা আমাদের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে তুলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষ রোপণ অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষ রোপণ অভিযান

সবুজ দেশের সুস্থ বাতাস লাগুক সবার প্রাণে, এই স্লোগানকে সামনে রেখে ইসলামি ছাত্রশিবির সারাদেশে বৃক্ষ রোপণ অভিযান পালন করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ শাখা বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালন করেছে।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জননেতা জনাব দেলওয়ার হোসেন।

এছাড়াও ইসলামি ছাত্রশিবির ঠাকুরগাঁও শহর শাখা ও কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এসময় প্রায় শতাধিক বৃক্ষ রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে ইসরায়েলে নেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৭ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে ইসরায়েলে নেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তাভাবনা করছে।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত মতে, বাহরাইনে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নৌঘাঁটি সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন। একই সাথে, কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন চাইলে এই অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তরিত করতে পারে। বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানে নেমেছে। এরপর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত পঞ্চম মার্কিন নৌবহরের সদর দপ্তর বারবার হামলার শিকার হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, এই হামলায় মার্কিন কমান্ড সদর দপ্তরসহ অন্তত ডজনখানেক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, পেন্টাগন, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর, এ ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব প্রকাশ করেনি।

এদিকে এই যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তি 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' (এমওইউ) নামে পরিচিত। এই সমঝোতার ভিত্তিতে যুদ্ধের শর্তাবলীর আলোচনা করার জন্য ৬০ দিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।

এ সমঝোতার পর কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপ বলছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ লাভজনক হয়নি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা।

তবে, কুইনিপিয়াকের জরিপে দেখা যাচ্ছে, চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, এই চুক্তির পরও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে। এ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ নেই। উভয় দলের অধিকাংশ সমর্থক মনে করেন, ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে জমির বদলে ফ্ল্যাটেও ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহারের দাবি রেডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


রাজশাহীতে জমির বদলে ফ্ল্যাটেও ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহারের দাবি রেডার

রাজশাহীতে আবাসন খাতে অতিরিক্ত কর ও ট্যাক্স না কমালে এই খাতের সাথে জড়িত প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজশাহীর রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (রেডা)-এর নেতারা। তারা জানিয়েছেন, সরকারের নতুন করনীতি ও ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স আদায়ের সিদ্ধান্ত এই খাতকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তুলবে।

শনিবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেডার নেতৃবৃন্দ এসব কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (রেডা)-এর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাজী। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, জমির মালিককে সাইনিং মানি, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তি এবং পরবর্তীতে বিক্রির প্রতিটি ধাপে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হবে। এর ফলে জমির মালিকরা ডেভেলপারদের কাছে জমি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

নির্মাণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন শুল্ক ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আবাসন উদ্যোক্তাদের নির্মাণ ব্যয় প্রতি বর্গফুটে প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ, যা সাধারণ ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আবাসন খাতের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৬৯টি লিংকেজ বা সহযোগী শিল্প জড়িত। আবাসন খাত থমকে গেলে এই গোটা শিল্পখাতেই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও জানান, আবাসন খাত থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পেয়ে থাকে। বর্তমানে সারা দেশে এ খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই খাতে স্থবিরতা দেখা দিলে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম বিপাকে পড়বেন। তাই এই শিল্প ও কর্মসংস্থান বাঁচাতে অবিলম্বে অতিরিক্ত কর ও ভ্যাটের হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনার জোর দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তৌফিকুর রহমান লাভলু সভাপতি, অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈসা, সিনিয়র সহ-সভাপতি, মোঃ কবির হোসেন-সহ-সভাপতি, মোঃ মেজবাউল বারী সওদাগর-সাংগঠনিক সম্পাদক, এম. এম. শিহাব পারভেজ-অর্থ সম্পাদক, মোঃ উজ্জ্বল কবির-পরিকল্পনা ও তথ্য সম্পাদক, মোঃ শফিকুল ইসলাম-দপ্তর সম্পাদক, মোঃ মাকসুদুল ইসলাম সুমন-সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সম্পাদক, মোঃ আখতারুল হুদা রুমেল- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, বি. এম. আকিবুর রহমান- পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, মোঃ শামীমুল ইসলাম মুন-সদস্য, মোঃ আব্দুস সোবহান-সদস্য প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%