ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়, রহস্যময় তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ


তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়, রহস্যময় তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ

বিমানবাহিনীর বরখাস্ত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর মামলার তদন্তে পুলিশ একটি তরুণীকে খুঁজছে। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। শুক্রবার রাতে বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া জুনিয়র বন্ধু দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে নৌপুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে কেন তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, এরপর কী ঘটেছিল কিংবা তাহসিফের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে-এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। এদিকে, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর রহস্য ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজ।

ফুটেজের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে এক তরুণী এবং জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা কাটান তাহসিফ। পরে দীপকে সঙ্গে নিয়ে যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়। সেখান থেকে কীভাবে তাহসিফ তুরাগ নদে গেলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন: ল্যাবএইড হাসপাতালে মোস্তফা জামাল হায়দারকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান তাহসিফ ও তার বান্ধবী। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। ওই তরুণীকে খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে, তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিচারের দাবি করেছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘রাওয়া’। এর আগে, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করে। পরে শুক্রবার রাতে নৌপুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করে পিবিআই। ওই রাতেই ডিএমপির উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম হেলাল। ওই মামলায় দীপকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন নৌপুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপের ডাকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি লাশ ভাসার খবর পায় পুলিশ। পরে নৌপুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। সুরতহাল করার সময় তাহসিফের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তাহসিফের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উদ্যোগে সাইবার নিরাপত্তা সেমিনার অনুষ্ঠিত

তদন্তকারীরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পোশাক পরা দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখে তারা দৌড়ে দুইদিকে চলে যান। এরপর তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন বলে তার দাবি। তবে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কারা, তারা কেন ধাওয়া করেছিলেন, তাহসিফ কী কারণে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এবং এরপর কী ঘটেছিল-এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে তাহসিফের মোটরসাইকেল কীভাবে এলো, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

নৌপুলিশের কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। তবে তার বক্তব্যে কিছু অসংগতি ও এলোমেলো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

নৌপুলিশ ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, দীপ পুরো ঘটনার সঙ্গে ছিলেন। ফলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্য সামনে আসছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাহসিফ সত্যিই পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার কার সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। সব তথ্য পর্যালোচনা করেই প্রকৃত ঘটনা বের করার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: জবি দিবসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চার প্লাটুন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা মোতায়েন

বারে তরুণীর সঙ্গে তাহসিফ : মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাহসিফ বাসা থেকে দীপের সঙ্গে বের হলেও ওই রাতে ১০টা ১৭ মিনিটে এক তরুণীকে নিয়ে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে’ গিয়েছিলেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ওই তরুণীর বয়স ২৪-২৫ বছর। গোয়েন্দারা তার ছবি সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার রাতে মোটরসাইকেলে ওই বার ও রেস্টুরেন্টে যান তাহসিফ। তার সঙ্গে ছিলেন ওই তরুণী। পরে সেখান থেকে তাহসিফ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। তবে সেখানে ওই তরুণী গিয়েছিলেন কি না, সেটা এখনো জানা যায়নি। পুলিশের ধারণা, ওই এলাকায় মাদকসেবনের অভিযোগে টহল পুলিশ তাদের ধাওয়া করে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তরুণী গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরেছিলেন। বারে প্রবেশের সময় তার হাতে একটি সাদা পলিথিন ছিল। এ সময় হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন। ওই তরুণীকে শনাক্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ঘটনার আগের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

সত্য উদ্ঘাটন চায় রাওয়া : তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের কল্যাণ সংস্থা রাওয়া। শনিবার দুপুরে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে তাহসিফের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংগঠনটির নেতারা। এ সময় তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে রাওয়ার যুগ্মসম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নওরোজ খুরশিদ আলম বলেন, তাহসিফের বাবা কেএম এনায়েতুল করিমের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। পরিবারকে কী ধরনের সহযোগিতা করা যায়, তা জানতে চেয়েছেন তারা। তাহসিফের বাবা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা ঘটনার অনুসন্ধান করছে। তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে। খুরশিদ আলম আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে তাহসিফের মৃত্যু অত্যন্ত কষ্টের। তারা আশা করছেন, দ্রুত প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও উৎপাদন-রপ্তানি সচল রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর আল আমিন বলেন, এ ঘটনা তারা ছেড়ে দেবেন না। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার চান তারা।

অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে হত্যা মামলা: তাহসিফের বাবা কেএম এনায়েতুল করিম শুক্রবার রাত ১টার দিকে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে থাকা দীপকে এ মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।

নৌপুলিশ ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, দীপ পুরো ঘটনার সঙ্গে ছিলেন। ফলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আদালত থেকে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে দীপের দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাহসিফ সত্যিই পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, কার কার সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন, সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলটি কীভাবে ঘটনাস্থলে গেল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। সব তথ্য ও আলামত মিলিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। রিমান্ড শেষে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরের আগে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে একটি মহল: প্রধানমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি গড়েছেন ২০ মুসলিম বিজ্ঞানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ এম


আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি গড়েছেন ২০ মুসলিম বিজ্ঞানী

গণিতের অ্যালগরিদম, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা এবং যন্ত্রপ্রকৌশল—মুসলিম বিশ্বের বহু মনীষী আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কেউ বীজগণিতের ভিত্তি সুসংহত করেছেন, কেউ মানুষের চোখে দেখার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছেন, আবার কেউ তৈরি করেছেন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ও জটিল যান্ত্রিক ব্যবস্থা। এসব অবদান ইতিহাসের পাতায় ছড়িয়ে রয়েছে এবং নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে ‘২০ মুসলিম বিজ্ঞানী, যারা আধুনিক বিজ্ঞানকে চিরতরে বদলে দিয়েছেন’ শিরোনামের একটি তথ্যচিত্রে।

‘ইখতিলাফ এক্সপ্লেইনড’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ৩৫ মিনিটের তথ্যচিত্রটিতে চিকিৎসক, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, দার্শনিক, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক—এমন ২০ জন মুসলিম মনীষীর কাজ তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে, অষ্টম থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবন কীভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখেছে।

ইসলামের স্বর্ণযুগে, বিশেষ করে অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা, আলোকবিজ্ঞান ও প্রকৌশলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে। এ সময়ের গবেষকেরা প্রাচীন গ্রিক, পারস্য ও ভারতীয় জ্ঞানভান্ডার নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নতুন তত্ত্ব, পদ্ধতি ও যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। তাঁদের কাজ পরবর্তী সময়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্ঞানচর্চায় প্রভাব ফেলে।

তথ্যচিত্রে তুলে ধরা ২০ মনীষীর মধ্যে রয়েছেন—

ইবনে জুহর: চিকিৎসাবিজ্ঞানে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত এই চিকিৎসক রোগীর ওপর চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগের আগে প্রাণীর ওপর পরীক্ষা চালানোর কথা লিখেছিলেন। তিনি শ্বাসনালিতে অস্ত্রোপচার এবং খাবার গিলতে অক্ষম রোগীকে নল দিয়ে পুষ্টি দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করেছেন। তার চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-তাইসির’ পরবর্তী সময়ে লাতিন ও হিব্রু ভাষায় অনূদিত হয়।

আল-ফারাবি: দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, সংগীত ও জ্ঞানবিজ্ঞানের শ্রেণিবিন্যাসে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অ্যারিস্টটলের দর্শন ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি ‘দ্বিতীয় শিক্ষক’ উপাধি পান। তার ‘ইহসা আল-উলুম’ গ্রন্থে বিভিন্ন জ্ঞানশাখাকে পৃথকভাবে সাজানোর চেষ্টা দেখা যায়। সংগীতের গাণিতিক ভিত্তি নিয়েও তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।

নাসির আল-দিন আল-তুসি: ত্রয়োদশ শতাব্দীর এই গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ ইরানের মারাগা মানমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানে তিনি জ্যোতির্বিদদের নিয়ে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান পর্যবেক্ষণ ও হিসাবের কাজ করেন। তার উদ্ভাবিত ‘তুসি কাপল’ নামে পরিচিত গাণিতিক মডেল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিশেষভাবে আলোচিত। কপার্নিকাসের গাণিতিক মডেলের সঙ্গে এর মিল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

ইবনে খালদুন: তাকে সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-মুকাদ্দিমা’য় সমাজের গঠন, অর্থনীতি, রাষ্ট্রক্ষমতা, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সভ্যতার উত্থান-পতনের কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ইতিহাসকে কেবল রাজা-বাদশাহ ও যুদ্ধের বিবরণ হিসেবে না দেখে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা ছিল তার চিন্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বানু মুসা ভ্রাতৃদ্বয়: নবম শতাব্দীর বাগদাদের তিন ভাই মুহাম্মদ, আহমদ ও হাসান বানু মুসা নামে পরিচিত। তারা যন্ত্র নির্মাণ ও প্রকৌশলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের ‘কিতাব আল-হিয়াল’ গ্রন্থে প্রায় ১০০টি যান্ত্রিক যন্ত্রের বিবরণ রয়েছে। এসব যন্ত্রের মধ্যে ছিল স্বয়ংক্রিয় ফোয়ারা, পানি ও বাতাসের সাহায্যে কাজ করা পাত্র এবং বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।

ফতুল্লাহ শিরাজি: মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে কাজ করা এই পারস্য বংশোদ্ভূত মনীষী গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা ও প্রকৌশলে দক্ষ ছিলেন। তার উদ্ভাবনের মধ্যে একাধিক নলবিশিষ্ট কামান এবং একসঙ্গে কয়েকটি বন্দুকের নল পরিষ্কারের যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়। ভারতের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির প্রকাশিত গবেষণাপত্রেও তার কামান ও বহুনলবিশিষ্ট আগ্নেয়াস্ত্রের নকশা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

আবুল ওয়াফা আল-বুজজানি: গণিত ও ত্রিকোণমিতিতে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাইন, কোসাইন, ট্যানজেন্টসহ ত্রিকোণমিতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করেন। কোণের যোগফলের সাইন নির্ণয়ের সূত্র এবং জ্যোতির্বিদ্যার কাজে ব্যবহারের জন্য সূক্ষ্ম সারণি তৈরিতেও তার অবদান ছিল।

আল-রাজি: চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোগ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার কার্যকারিতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। গুটিবসন্ত ও হামকে পৃথক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তার গবেষণা বিশেষভাবে পরিচিত। চিকিৎসায় অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করার মানসিকতাও তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।

আল-বাত্তানি: জ্যোতির্বিদ্যায় নির্ভুল পর্যবেক্ষণের জন্য পরিচিত এই বিজ্ঞানী সৌর বছরের দৈর্ঘ্য ও পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান নির্ণয়ে কাজ করেন। তাঁর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণি পরবর্তী সময়ে ইউরোপে অনূদিত হয় এবং কয়েক শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়।

ইবনে সাহল: দশম শতাব্দীর এই গণিতবিদ আলো ও লেন্স নিয়ে গবেষণা করেন। আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশের সময় কীভাবে দিক পরিবর্তন করে, অর্থাৎ প্রতিসরণের নিয়ম নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। লেন্সের সাহায্যে আলোকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করার পদ্ধতিও তাঁর গবেষণার অংশ ছিল।

আল-বিরুনি: গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, ভূগোল ও ইতিহাসে বিস্তৃত জ্ঞান ছিল তার। পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয়ে তাঁর পদ্ধতি বিশেষভাবে আলোচিত। পাহাড়ের উচ্চতা এবং দিগন্তের অবনমন কোণ পরিমাপ করে গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে তিনি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন। তথ্যচিত্রে তার হিসাবের ফল প্রায় ৬ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা আধুনিক পরিমাপের কাছাকাছি।

আল-জাজারি: যন্ত্রপ্রকৌশল ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরিতে তার অবদান তাকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। ১২০৬ সালে লেখা তার ‘আল-জামি বাইন আল-ইলম ওয়াল-আমাল আল-নাফি ফি সিনাআত আল-হিয়াল’ গ্রন্থে প্রায় ৫০টি যন্ত্রের নকশা ও নির্মাণপদ্ধতি রয়েছে। তার তৈরি হাতির আকৃতির পানিঘড়ি, স্বয়ংক্রিয় সংগীতশিল্পী এবং বিভিন্ন গিয়ার ও ক্র্যাঙ্কচালিত যন্ত্র প্রকৌশলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

আব্বাস ইবনে ফিরনাস: উড়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে এই আন্দালুসীয় উদ্ভাবকের নাম ইতিহাসে আলোচিত। প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, তিনি পালক ও ডানার মতো কাঠামো ব্যবহার করে আকাশে ওড়ার চেষ্টা করেন। তবে তার উড্ডয়নসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর বিবরণ অনেক পরে লেখা সূত্রে পাওয়া যায়। ফলে এসব ঘটনার সব তথ্য নিশ্চিত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসে প্রকাশিত গবেষণাতেও তার উড্ডয়ন-পরীক্ষার প্রাচীনতম প্রমাণ ও পরবর্তী বিবরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আল-কিন্দি: গণিত, চিকিৎসা, সংগীত ও আলোকবিজ্ঞানের পাশাপাশি সাংকেতিক ভাষা বা ক্রিপ্টোগ্রাফি নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। গোপন বার্তার অক্ষরগুলোর ব্যবহারের হার বিশ্লেষণ করে সংকেত ভাঙার পদ্ধতি, যা ‘ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালাইসিস’ নামে পরিচিত, তার প্রাচীন লিখিত ব্যাখ্যার সঙ্গে তার নাম যুক্ত।

ইবনে আল-নাফিস: চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফুসফুসীয় রক্তসঞ্চালন ব্যাখ্যার জন্য পরিচিত এই চিকিৎসক দেখান, হৃদ্‌যন্ত্রের ডান দিক থেকে রক্ত ফুসফুসে যায় এবং সেখান থেকে বাম দিকে ফিরে আসে। এর মাধ্যমে তিনি হৃদ্‌যন্ত্রের দুই পাশের মধ্যে অদৃশ্য ছিদ্র দিয়ে রক্ত চলাচলের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করেন।

ইবনে সিনা: চিকিৎসাবিজ্ঞান ও দর্শনে তার অবদান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-কানুন ফি আল-তিব্ব’ বা ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়মাবলি’তে রোগ, ওষুধ, শারীরবিদ্যা ও চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। মধ্যযুগে মুসলিম বিশ্ব ও ইউরোপের চিকিৎসাশিক্ষায় গ্রন্থটি দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

জাবির ইবনে হাইয়ান: রসায়নবিজ্ঞানের ইতিহাসে তার নাম বিশেষভাবে আলোচিত। পাতন, স্ফটিকীকরণ, বাষ্পীভবন ও পরিস্রাবণের মতো পরীক্ষাগারভিত্তিক পদ্ধতির বিকাশের সঙ্গে তার নাম জড়িত। তবে তার নামে প্রচলিত বহু গ্রন্থের প্রকৃত রচয়িতা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। ফলে তার ব্যক্তিগত অবদান ও তাঁর নামে পরিচিত বৃহত্তর রচনাগুচ্ছের অবদান আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

আল-জাহরাবি: শল্যচিকিৎসার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। তার ৩০ খণ্ডের চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-তাসরিফ’-এর শেষ খণ্ডে অস্ত্রোপচার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। সেখানে ২০০টির বেশি অস্ত্রোপচারের যন্ত্রের চিত্র ও ব্যবহারবিধি তুলে ধরা হয়। অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি, যন্ত্রের ব্যবহার এবং রোগীর প্রতি চিকিৎসকের দায়িত্ব নিয়েও তিনি নির্দেশনা দেন।

ইবনে আল-হাইসাম: আলোকবিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত এই বিজ্ঞানী মানুষের দেখার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলে দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, চোখ থেকে আলো বেরিয়ে বস্তুতে পড়ে না; বরং বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো চোখে প্রবেশ করায় মানুষ দেখতে পায়। তার ‘কিতাব আল-মানাজির’ গ্রন্থে আলো, দৃষ্টি ও আলোকবিজ্ঞানের নানা বিষয় পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অন্ধকার কক্ষের ছোট ছিদ্র দিয়ে আলো প্রবেশ করিয়ে উল্টো প্রতিবিম্ব তৈরির পরীক্ষাও তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আল-খাওয়ারিজমি: তালিকার শীর্ষে থাকা এই গণিতবিদের নাম থেকেই ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটির উৎপত্তি। নবম শতাব্দীতে তার লেখা বীজগণিতবিষয়ক গ্রন্থে সমীকরণ সমাধানের নিয়মবদ্ধ পদ্ধতি তুলে ধরা হয়। ‘আল-জাবর’ শব্দ থেকে ইংরেজি ‘অ্যালজেবরা’ শব্দের উৎপত্তি। ভারতীয় দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি ও শূন্যের ব্যবহার ইউরোপে পরিচিত করাতেও তার রচনার ভূমিকা ছিল।

তথ্যচিত্রটির মূল বক্তব্য হলো, আধুনিক বিজ্ঞানের বিকাশ কোনো একক সভ্যতা বা অঞ্চলের অবদান নয়। বিভিন্ন সময় ও ভূখণ্ডের গবেষক, অনুবাদক ও উদ্ভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি ঘটেছে। মুসলিম বিশ্বের এসব মনীষী সেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তথ্যচিত্রে ব্যবহৃত ‘বিজ্ঞানের জনক’ বা ‘রোবোটিকসের জনক’-এর মতো উপাধিগুলোকে আক্ষরিক অর্থে না নিয়ে তাঁদের ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা প্রয়োজন। একইভাবে আব্বাস ইবনে ফিরনাসের উড্ডয়ন কিংবা জাবির ইবনে হাইয়ানের নামে প্রচলিত রচনাগুলোর মতো কিছু বিষয় নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে আলোচনা ও মতভেদ রয়েছে। তাই তাদের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি ঐতিহাসিক প্রমাণের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাস রুট রেশনালাইজেশন: সফল হবে কি এবার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


বাস রুট রেশনালাইজেশন: সফল হবে কি এবার?

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সরকার ‘রুট রেশনালাইজেশন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে, প্রশ্ন উঠেছে, আগের মতো এবারও কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ব্যর্থ হবে কি না। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নিয়ম না মানলে পরিবহন কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করে উদ্যোগ শুরু করলে আবারও ব্যর্থতার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে বাস রুট রেশনালাইজেশনের নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজধানীতে বাস চলাচলের জন্য অনুমোদিত মোট ৪১৮টি রুট রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ৯৮টি। কাগজে-কলমে ১২০টি কোম্পানির বাস চলার কথা থাকলেও বাস্তবে চলছে ৬৬টি কোম্পানির বাস। সরকার এসব বাসকে ৩২টি রুটে ভাগ করে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ব্যবস্থায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এবারের উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল শুরু করার জন্য অন্তত চারবার উদ্যোগ নেয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবহন মালিকদের অনীহা ও বিরোধিতা, রাজনৈতিক প্রভাব, চাঁদাবাজি, নির্ধারিত রুট না মেনে বাস চলাচল, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং বাসের সংকট আগের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ। তবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) দাবি করছে, এবার উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বলেন, “এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর যে প্রবণতা রয়েছে, তা চলতে পারে। তবে আমরা যে নির্দিষ্ট এলাকাগুলো নিয়ে কাজ করব, সেখানে এসব অনিয়ম চলবে না।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম জানান, “যারা এই নির্দেশনা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করব।”

তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করে উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করলে আবারও ব্যর্থতার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম সামছুল হক বলেন, “সমস্যা থাকবেই। এসব সমস্যা দেখভালের জন্য মাঠপর্যায়ে সরাসরি লোকবল থাকতে হবে। পরিকল্পনায় ঘাটতি থাকলে আগের মতোই উদ্যোগটির পুনরাবৃত্তি ঘটবে।”

প্রথম ধাপে প্রাথমিক পর্যায়ে রোববার (১ নভেম্বর) মহানগরীর ছয়টি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রুটগুলো হলো- গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে সায়েন্সল্যাব, ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে চট্টগ্রাম রোডের কাঁচপুর ব্রিজ, ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং টঙ্গী থেকে আব্দুল্লাহপুর।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশন নতুন করে আশার সঞ্চার করলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় আগের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার অভাব ও মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতি রেখে বৈঠকনির্ভর সমাধান খুঁজতে গিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। এবার এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক ব্যবস্থার আওতায় এনে সরকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৬ বয়সে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, পাত্রী নিধি রাজদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


৫৬ বয়সে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, পাত্রী নিধি রাজদান

ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ আবারও বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সে তিনি সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে নতুন জীবনে প্রবেশ করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নবদম্পতি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন।

ওমর আবদুল্লাহ এক্সে তাদের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘গতকাল একটি নতুন যাত্রার সূচনা হলো।’ একই পোস্টে নিধি রাজদানকে ট্যাগও করেছেন তিনি।

জবাবে ৪৯ বছর বয়সী সাংবাদিক নিধি রাজদান মন্তব্য করেছেন, ‘কাজ শেষ হয়েছে ব্রো।’

http://<blockquote class="twitter-tweet"><p lang="en" dir="ltr">A new journey began yesterday 💍@Nidhi https://t.co/BXbdLq2d1H</p>&mdash; Omar Abdullah (@OmarAbdullah) <a href="https://x.com/OmarAbdullah/status/2116474133303431518?ref_src=twsrc%5Etfw">October 31, 2026</a></blockquote> <script async src="https://platform.x.com/widgets.js" charset="utf-8"></script>

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিয়ের আগে শ্রীনগরে একটি ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উভয় পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ওমর আবদুল্লাহর বাবা, ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ এবং মা মলি আবদুল্লাহসহ তার তিন বোন ও অন্যান্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। নিধি রাজদানের বাবা প্রবীণ সাংবাদিক এম কে রাজদান এবং মা সরলা রাজদানও অনুষ্ঠানে ছিলেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ববর্তী বিয়েটি নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে আইনি লড়াই চলছিল। ওমর আবদুল্লাহর সাবেক স্ত্রী পায়েল আবদুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে গত জুলাইয়ে। সুপ্রিম কোর্ট পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এই বিচ্ছেদ মঞ্জুর করেন। ওমরের আগের ঘরে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের এক-দুটি স্থাপনায় হামলা এখনো বাকি: ট্রাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


ইরানের এক-দুটি স্থাপনায় হামলা এখনো বাকি: ট্রাম

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, দেশটির আরও এক বা দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো এখনো বাকি রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এসব স্থাপনার মধ্যে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এএফপি’র খবর অনুযায়ী, শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ও পারমাণবিক কর্মসূচির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন তাড়াহুড়ো করছে না।

ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছি। তবে আমার হিসাবে এখনো এক বা দুটি স্থাপনার বিষয়টি বাকি রয়েছে। চাইলে মাত্র ১০ মিনিটেই সেগুলোতে হামলা চালাতে পারি।’

সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সম্ভবত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা বলতে পারেন। ওই স্থাপনাটির বিষয়টিও আমাদের সামাল দিতে হবে। চাইলে খুব দ্রুতই এসব কাজ শেষ করতে পারি।’

তবে ইরান সরকার ওই স্থানে কোনো ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পথও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খোলা রয়েছে।

এদিকে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর আবারও হামলা চালানোর হুমকির প্রেক্ষাপটে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগে তিনি ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%