ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাতক্ষীরায় ঘানিতে সরিষার তেল উৎপাদনে সাড়া ফেলেছেন উদ্যোক্তা মোশারফ


সাতক্ষীরায় ঘানিতে সরিষার তেল উৎপাদনে সাড়া ফেলেছেন উদ্যোক্তা মোশারফ

সাতক্ষীরা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : যখন বাজারে ভেজাল তেলের ছড়াছড়ি, তখন সাতক্ষীরার বিসিক শিল্প নগরীতে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন সফল উদ্যোক্তা মোশাররফ হোসেন। কিছুকাল আগে মধুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি, কিন্তু বর্তমানে ১২টি তেঁতুল কাঠের ঘানি এবং আধুনিক ফিল্টার মেশিনের মাধ্যমে মাসে প্রায় ২০ টন সরিষার তেল উৎপাদন করছেন। এই উৎপাদন স্থানীয় পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানে সাহায্য করছে। স্থানীয় সরিষা থেকেই উৎপাদিত এ তেল এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।

উদ্যোক্তা মোশারফ হোসেন (৪৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পার্শ্বেমারী গ্রামের মো. মজিদ গাজী ও করিমন নেছা দম্পতির সন্তান।

জানা যায়, সাতক্ষীরায় কাঠের ঘানির মাধ্যমে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। তেঁতুল বা অন্যান্য কাঠের ঘানিতে ভাঙানো তেলের জন্য এলাকায় রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। ভোজ্য তেলের বাজারে বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা প্রদান করে সাতক্ষীরার বিসিক শিল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক तেল মিল ‘সুন্দরবন ওয়েল’। উদ্যোক্তা মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে এখানে চলছে তেঁতুল কাঠের ঘানিতে সরিষা মাড়াইয়ের কাজ। প্রতিদিন ৫ টন সরিষা মাড়াইয়ের মাধ্যমে মাসে ২০ টনেরও বেশি তেল উৎপাদিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪২ লাখ টাকা। উৎপাদিত তেলের পাশাপাশি খৈলও স্থানীয় মৎস্য ঘেরগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলায় তার মতো আরো অনেক উদ্যোক্তা কাঠের ঘানিতে সরিষা মাড়াই করেও তেল উৎপাদন শুরু করেছেন। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

মিলের ম্যানেজার হাবিবুল্লাহ বাসসকে জানান, তাদের প্রথম কার্যক্রম চাষীদের কাছ থেকে সরিষা সংগ্রহ করার মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর আন্তরিকভাবে এ সরিষা শুকিয়ে কাঠের ঘানিতে দেয়া হয়। ঘানি থেকে ৮০-৮৫ পার্সেন্ট তেল বের হলে তা দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লাপার মেশিনে যায় এবং সেখানে আরো ১০-১৫ পার্সেন্ট তেল বের হয়। পরবর্তী ধাপে তেলগুলো অত্যাধুনিক ফিল্টার মেশিনের মাধ্যমে পরিশোধিত হয়ে বোতলজাত করে খুচরা ও পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন মিল থেকে ২০-২৫ মণ সরিষা মাড়াই করা হচ্ছে, আর এর থেকে ১ হাজার থেকে ১২’শ মণ তেল উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া, প্রতিদিন ২০-২৫ বস্তা খৈল উৎপাদিত হয়। এই খৈল স্থানীয় মৎস্য ও গরুর খামারে বিক্রি করা হয়।

তিনি আরও জানান, মিলের বিশেষত্ব হলো এখানে শতভাগ দেশি সরিষা ব্যবহার করা হয়। কোল্ড প্রেস এবং আধুনিক ফিল্টার প্রযুক্তির ব্যবহারসহ উৎপাদিত এ তেলের মান স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে।

কর্মচারী আশিকুজ্জামান জানান, এ মিলে আমরা ১০ জন শ্রমিক কাজ করছি। এখানে আমাদের যে বেতন দেয়া হয়, তা দিয়ে আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে ভালোভাবে আছি। দুই শিফ্টে ৬ ঘন্টা করে আমরা সবাই মিলে এখানে কাজ করি।

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

কারখানা দেখতে আসা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মোশারফ ভাইয়ের ‘সুন্দরবন অয়েল’ মিলটি দেখে তার খুব ভালো লেগেছে। তিনি তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করতে চান।

‘সুন্দরবন অয়েল’ মিলের স্বত্বাধিকারী মো. মোশারফ হোসেন বাসসকে বলেন, বিসিক শিল্প নগরীতে আমার একটি মধু প্রসেসিং সেন্টার রয়েছে। তার সাথে সাতক্ষীরায় ব্যাপক প্রেক্ষাপটে সরিষার চাষের কারণে আমি ভেজাল মুক্ত সরিষার তেল সরবরাহের উদ্দেশ্যে ‘সুন্দরবন অয়েল’ মিল প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রতিদিন এখানে ৫ টন সরিষা মাড়াই হচ্ছে। যা থেকে ২ থেকে ৩ টন তেল উৎপাদিত হচ্ছে। এই তেল বর্তমানে সারা দেশে পাইকারি দামে বাজারজাত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তার এ মিলের মাধ্যমে বর্তমানে ১০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। আরও অনেক ছোট উদ্যোক্তা তার কাছ থেকে তেল নিয়ে অনলাইনে খুচরা তেলের ব্যবসা করছেন। এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিনা বাধায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান যাতে বিসিক শিল্প নগরীর সকল কলকারখানা চালু থাকে।

সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এ শিল্পটি জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন: তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার

সাতক্ষীরার বিনেরপোতা বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাস বাসসকে জানিয়েছেন, শিল্প নগরী সাতক্ষীরা ১৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নানা শিল্প-কারখানার মাধ্যমে। এদের মধ্যে অনেক উদ্যোক্তা খুবই উদ্যমী, যার মধ্যে ‘সুন্দরবন অয়েল’ মিলের স্বত্তাধিকারী মোশারফ অন্যতম। তিনি তার মধু প্রসেসিং কারখানা থেকে এবারের তেঁতুল কাঠের ঘানি দিয়ে সরিষার তেল উৎপাদন করছেন, যা অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। চাহিদার কারণে বর্তমান সময়ে তিনি যথেষ্ট তেল সরবরাহ করতে পারছেন না। বিসিক তাকে প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা করেছে বিধায় ভবিষ্যতে তার মতো উদ্যোক্তাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তার মতে, এসব উদ্যোক্তার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, শুধু তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নয়, বরং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও গণতান্ত্রিকভাবে পুনর্গঠন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরিদ্র জনগণের জীবন মানোন্নয়ন ঘটাতে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সরকার কাজ করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য আত্মউন্নয়ন-কেন্দ্রীক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে তারা ঘরে বসেই নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে উদ্যোক্তা তৈরি করার জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

রবিবার দুপুরে রাঙামাটিতে আয়োজিত বিভিন্ন স্কিমের আওতায় সনদ বিতরণ এবং নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

মীর মোহম্মদ হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, রংধনুর সাতটি রঙের মতো, পার্বত্য অঞ্চলেও ভিন্ন ভাষা এবং ভিন্ন সংস্কৃতির জাতি গোষ্ঠী রয়েছে। তিনি সাত রঙের সংমিশ্রণের সৌন্দর্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, পাহাড়ি-বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রেখে সরকারের উন্নয়নে সহায়তা করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সালেহ আহাম্মদ, সদস্য অর্থ সুমন বড়ুয়া, সদস্য পরিকল্পনা জাহিদ ইকবাল এবং উপ-পরিচালক মংছেনলাইন রাখাইন উপস্থিত ছিলেন।

পরে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাস্তবায়িত বিভিন্ন স্কিমের আওতায় সনদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলার সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন তুলে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর হাতে যোগদানপত্র তুলে দিলেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর হাতে যোগদানপত্র তুলে দিলেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন

জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে যোগদানপত্র তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করলেন।

রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকালে তিনি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে যোগদানপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার, ২২ আগস্ট, তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ আর নয়: গণপূর্তমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ আর নয়: গণপূর্তমন্ত্রী

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, দেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যেসব আইন, বিধি ও নীতিমালা বিদ্যমান, গত ১৭ বছরে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি। ভবনের অনুমোদিত নকশায় যে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোক ওয়েল অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা, তা অনেক ডেভেলপার কোম্পানি নির্মাণ করে নি।

এখন থেকে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। কোনভাবেই আইন ব্যত্যয় করে ভবন নির্মাণ ও আবাসন গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে না। ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের সাহস না পায়, সেজন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, রিহ্যাব এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সচেতন হতে হবে যেন আইন ভঙ্গ করে কোনো ভবন বা আবাসন গড়ে ওঠার সুযোগ না থাকে। রাজউক ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নেওয়া হবে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বিধিমালা সংশোধন করে রাজধানীর বাইরের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে আনা হবে।

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর উল্লেখ করেন, আপনারা গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিন।

অনেক মানুষ বছরের পর বছর আগে টাকা জমা দিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বুঝে পাচ্ছেন না। আবার অনেকের জন্য চুক্তি অনুযায়ী কিস্তি দিতে না পারার কারণে তিন-চার বছর ধরে তাদের জমা টাকা ফিরিয়ে পাচ্ছেন না। তাদের সমস্যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ড. আলী আফজাল, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, লিয়াকত আলী খান মুকুল, ড. এম এ কাইয়ুম, মো. রায়হানুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজউল করিম রেজাসহ উভয় সংগঠনের সদস্যরা। তারা আইন ও বিধি মেনে ভবন নির্মাণ এবং আবাসন উন্নয়নের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক সড়কের সাড়ে ৪ হাজার গাছ কাটার আয়োজন, প্রতিবাদে ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


এক সড়কের সাড়ে ৪ হাজার গাছ কাটার আয়োজন, প্রতিবাদে ক্ষোভ

 

সড়কটির ঘন বনাঞ্চল হারিয়ে যাচ্ছে। গত ১৫ দিনে জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের এক হাজারেরও বেশি গাছ কাটা হয়েছে। রবিবার সকালে সড়কের নিয়ামতপুর এলাকায়। 

সড়কজুড়ে রয়েছে সবুজের ছায়া। দুই পাশে স্ট্রাকচারালি বড় গাছগুলি ছিল। দীর্ঘকাল ধরে এসব গাছ সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ (সাচনা বাজার) সড়কটিকে বিশেষ সৌন্দর্য প্রদান করেছিল।

তবে সড়কটির সেই সবুজের বড় অংশ এখন আর নেই। একটানা একের পর এক গাছ কেটে দেওয়া হচ্ছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে কাটা হয়েছে এক হাজারের বেশি গাছ, এর ফলে অবশিষ্ট গাছগুলোর গায়েও পড়েছে কাটার চিহ্ন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতু থেকে জামালগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সাচনা বাজার পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯ কিলোমিটার। এই সড়কটির দুই পাশে রয়েছে গৌরারং, ইচ্ছারচর, বেড়াজালি, ইসলামগঞ্জ, আহমদাবাদ, নিয়ামতপুর, শালমারা, কলায়া, দুলবারচর, সংগ্রামপুর, শেরমস্তপুর, নজাতপুর, কুকড়াপশী, ভরতপুরসহ আরও বেশ কিছু এলাকা।

সরকারি নথির অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মোট সংখ্যা চার হাজার ৮৮৪। এর বাইরে জ্বালানি কাঠ হিসেবে ২২৬টি গাছের উল্লেখ রয়েছে।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২০০৩-২০০৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় এসব গাছের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক গাছ মারা যাচ্ছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরিপক্ব গাছ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

এদিকে গাছ কাটার এই কারণ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে সড়ক সম্প্রসারণের কথা বলা হলেও সওজের পক্ষ থেকে উল্লিখিত সড়ক সম্প্রসারণের কোনো চলমান প্রকল্পের কথা জানানো হয়নি। ফলে গাছ কাটার পেছনে প্রকৃত কারণ কী তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

স্থানীয় উপকারভোগীদের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকার সম্পদ বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করা হয়েছে। তারা বলছেন, গাছগুলো আরো কয়েক বছর জায়গায় রাখলে সরকারি সম্পদ থেকে বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব ছিল। একই সঙ্গে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী উপকারভোগীরাও বেশি অর্থ পেতে পারতেন।

জানা গেছে, গাছ কাটার উদ্যোগ এই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের মার্চে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওইসময় গাছের গায়ে লাল কালিতে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। গাছ বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেই উদ্যোগ স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এবারের উদ্যোগে কৌশল পরিবর্তন করে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের অংশ বাদ দিয়ে জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা উপজেলায় সংযোগ উড়াল সড়কের জন্য সড়ক প্রশস্ত করার দোহাই দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার অংশ থেকে গাছ কাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সড়কের দুই পাশে রয়েছে রেইনট্রি, কড়ই, আকাশমণি, অর্জুন, মেহগনি সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় উপকারভোগীদের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা এসব গাছ পথচারীদের ছায়া দেওয়া ছাড়াও পাখির আবাসস্থল হিসেবে কাজ করেছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে সরেজমিন দেখা যায় যে, সড়কের বিভিন্ন অংশে কেটে ফেলা গাছের গুঁড়ি ও বড় টুকরা পড়ে রয়েছে। কোথাও শ্রমিকরা গাছ কাটছেন, এবং কোথাও কাটা গাছ সরানো হচ্ছে। আগে ঘন সবুজে আচ্ছন্ন ছিল যে জায়গাগুলি, এখন তা ফাঁকা হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারের বাসিন্দা মো. খুরশিদ মিয়া বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে সারা দেশে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন, সেখানে সুনামগঞ্জ বন বিভাগ গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, জামালগঞ্জ অংশের গাছ বিক্রি হয়েছে ৫৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকায়। সদর অংশের গাছ বিক্রি হয়েছে ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়। দুই অংশ মিলিয়ে বিক্রয়মূল্য ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

রেঞ্জ কর্মকর্তা আরও জানান, সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী বিক্রির অর্থের ৫৫ শতাংশ পাবেন উপকারভোগীরা। বন অধিদপ্তর পাবে ১০ শতাংশ, ভূমির মালিক হিসেবে সওজ পাবে ২০ শতাংশ এবং ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ৫ শতাংশ। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ দিয়ে নতুন করে গাছ লাগানো হবে।

তিনি জানান, বন বিভাগের তালিকাভুক্ত টাঙ্গাইলের দুটি, সিলেটের একটি এবং দোয়ারাবাজারের একটি—মোট চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাছ কাটার কার্যাদেশ পেয়েছে। নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়ক প্রশস্ত করার কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। গাছ কাটার বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু জানা নেই। বন বিভাগ থেকে গাছ কাটার একটি দরপত্রের কপি তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান বলেন, ‘বর্তমান জেলা প্রশাসকের দায়িত্বকালে, অর্থাৎ গত তিন-চার মাসে এ ধরনের কোনো অনুমোদন হয়নি। তার আগে অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও ফাইল দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%