ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ আর নয়: গণপূর্তমন্ত্রী


নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ আর নয়: গণপূর্তমন্ত্রী

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, দেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যেসব আইন, বিধি ও নীতিমালা বিদ্যমান, গত ১৭ বছরে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি। ভবনের অনুমোদিত নকশায় যে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোক ওয়েল অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা, তা অনেক ডেভেলপার কোম্পানি নির্মাণ করে নি।

এখন থেকে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। কোনভাবেই আইন ব্যত্যয় করে ভবন নির্মাণ ও আবাসন গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে না। ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের সাহস না পায়, সেজন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য

তিনি বলেন, রিহ্যাব এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সচেতন হতে হবে যেন আইন ভঙ্গ করে কোনো ভবন বা আবাসন গড়ে ওঠার সুযোগ না থাকে। রাজউক ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নেওয়া হবে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বিধিমালা সংশোধন করে রাজধানীর বাইরের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে আনা হবে।

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর উল্লেখ করেন, আপনারা গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিন।

অনেক মানুষ বছরের পর বছর আগে টাকা জমা দিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বুঝে পাচ্ছেন না। আবার অনেকের জন্য চুক্তি অনুযায়ী কিস্তি দিতে না পারার কারণে তিন-চার বছর ধরে তাদের জমা টাকা ফিরিয়ে পাচ্ছেন না। তাদের সমস্যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ড. আলী আফজাল, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, লিয়াকত আলী খান মুকুল, ড. এম এ কাইয়ুম, মো. রায়হানুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজউল করিম রেজাসহ উভয় সংগঠনের সদস্যরা। তারা আইন ও বিধি মেনে ভবন নির্মাণ এবং আবাসন উন্নয়নের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিদেশি সফর শেষে দেশে ফিরলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক সড়কের সাড়ে ৪ হাজার গাছ কাটার আয়োজন, প্রতিবাদে ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


এক সড়কের সাড়ে ৪ হাজার গাছ কাটার আয়োজন, প্রতিবাদে ক্ষোভ

 

সড়কটির ঘন বনাঞ্চল হারিয়ে যাচ্ছে। গত ১৫ দিনে জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের এক হাজারেরও বেশি গাছ কাটা হয়েছে। রবিবার সকালে সড়কের নিয়ামতপুর এলাকায়। 

সড়কজুড়ে রয়েছে সবুজের ছায়া। দুই পাশে স্ট্রাকচারালি বড় গাছগুলি ছিল। দীর্ঘকাল ধরে এসব গাছ সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ (সাচনা বাজার) সড়কটিকে বিশেষ সৌন্দর্য প্রদান করেছিল।

তবে সড়কটির সেই সবুজের বড় অংশ এখন আর নেই। একটানা একের পর এক গাছ কেটে দেওয়া হচ্ছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে কাটা হয়েছে এক হাজারের বেশি গাছ, এর ফলে অবশিষ্ট গাছগুলোর গায়েও পড়েছে কাটার চিহ্ন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতু থেকে জামালগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সাচনা বাজার পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯ কিলোমিটার। এই সড়কটির দুই পাশে রয়েছে গৌরারং, ইচ্ছারচর, বেড়াজালি, ইসলামগঞ্জ, আহমদাবাদ, নিয়ামতপুর, শালমারা, কলায়া, দুলবারচর, সংগ্রামপুর, শেরমস্তপুর, নজাতপুর, কুকড়াপশী, ভরতপুরসহ আরও বেশ কিছু এলাকা।

সরকারি নথির অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মোট সংখ্যা চার হাজার ৮৮৪। এর বাইরে জ্বালানি কাঠ হিসেবে ২২৬টি গাছের উল্লেখ রয়েছে।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২০০৩-২০০৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় এসব গাছের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক গাছ মারা যাচ্ছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরিপক্ব গাছ নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

এদিকে গাছ কাটার এই কারণ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে সড়ক সম্প্রসারণের কথা বলা হলেও সওজের পক্ষ থেকে উল্লিখিত সড়ক সম্প্রসারণের কোনো চলমান প্রকল্পের কথা জানানো হয়নি। ফলে গাছ কাটার পেছনে প্রকৃত কারণ কী তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

স্থানীয় উপকারভোগীদের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকার সম্পদ বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করা হয়েছে। তারা বলছেন, গাছগুলো আরো কয়েক বছর জায়গায় রাখলে সরকারি সম্পদ থেকে বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব ছিল। একই সঙ্গে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী উপকারভোগীরাও বেশি অর্থ পেতে পারতেন।

জানা গেছে, গাছ কাটার উদ্যোগ এই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের মার্চে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওইসময় গাছের গায়ে লাল কালিতে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। গাছ বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেই উদ্যোগ স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এবারের উদ্যোগে কৌশল পরিবর্তন করে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের অংশ বাদ দিয়ে জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা উপজেলায় সংযোগ উড়াল সড়কের জন্য সড়ক প্রশস্ত করার দোহাই দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার অংশ থেকে গাছ কাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সড়কের দুই পাশে রয়েছে রেইনট্রি, কড়ই, আকাশমণি, অর্জুন, মেহগনি সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় উপকারভোগীদের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা এসব গাছ পথচারীদের ছায়া দেওয়া ছাড়াও পাখির আবাসস্থল হিসেবে কাজ করেছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে সরেজমিন দেখা যায় যে, সড়কের বিভিন্ন অংশে কেটে ফেলা গাছের গুঁড়ি ও বড় টুকরা পড়ে রয়েছে। কোথাও শ্রমিকরা গাছ কাটছেন, এবং কোথাও কাটা গাছ সরানো হচ্ছে। আগে ঘন সবুজে আচ্ছন্ন ছিল যে জায়গাগুলি, এখন তা ফাঁকা হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারের বাসিন্দা মো. খুরশিদ মিয়া বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে সারা দেশে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন, সেখানে সুনামগঞ্জ বন বিভাগ গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, জামালগঞ্জ অংশের গাছ বিক্রি হয়েছে ৫৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকায়। সদর অংশের গাছ বিক্রি হয়েছে ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়। দুই অংশ মিলিয়ে বিক্রয়মূল্য ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

রেঞ্জ কর্মকর্তা আরও জানান, সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী বিক্রির অর্থের ৫৫ শতাংশ পাবেন উপকারভোগীরা। বন অধিদপ্তর পাবে ১০ শতাংশ, ভূমির মালিক হিসেবে সওজ পাবে ২০ শতাংশ এবং ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ৫ শতাংশ। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ দিয়ে নতুন করে গাছ লাগানো হবে।

তিনি জানান, বন বিভাগের তালিকাভুক্ত টাঙ্গাইলের দুটি, সিলেটের একটি এবং দোয়ারাবাজারের একটি—মোট চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাছ কাটার কার্যাদেশ পেয়েছে। নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়ক প্রশস্ত করার কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। গাছ কাটার বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু জানা নেই। বন বিভাগ থেকে গাছ কাটার একটি দরপত্রের কপি তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান বলেন, ‘বর্তমান জেলা প্রশাসকের দায়িত্বকালে, অর্থাৎ গত তিন-চার মাসে এ ধরনের কোনো অনুমোদন হয়নি। তার আগে অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও ফাইল দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাঠালিয়ার সাংবাদিক বাদলের ভুই ফোর বিভিন্ন সংগঠন থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা করলেন রাজিব সাংবাদিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


কাঠালিয়ার সাংবাদিক বাদলের ভুই ফোর বিভিন্ন সংগঠন থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা করলেন রাজিব সাংবাদিক

 

খাই খাই সংগঠন, বরিশাল সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ, গরিবের বন্ধু সমাজকল্যাণ সংস্থা, কাঠালিয়া নাগরিক ফোরামসহ কাঠালিয়ার সাংবাদিক বাদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

তিনি বলেন, এসব সংগঠনের কার্যক্রম ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের মূল উদ্দেশ্য সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করা হলেও বাস্তবে সাংবাদিকরা বিপদে পড়লে তাদের পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

তার অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তর থেকে সংগঠনের নামে আর্থিক বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি অসন্তুষ্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এসব কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

তবে তিনি বলেন, কাঠালিয়া প্রেসক্লাব তার সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি প্রতিষ্ঠান এবং তিনি প্রেসক্লাবের সঙ্গে পূর্বের মতোই যুক্ত থাকবেন।

তিনি আরও জানান, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিরোধ সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য নয়। বরং সংগঠনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া উচিত—এটাই তার প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফোনে উত্ত্যক্ত-হুমকি, যেভাবে নেবেন আইনগত ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


ফোনে উত্ত্যক্ত-হুমকি, যেভাবে নেবেন আইনগত ব্যবস্থা

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৫১

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আয়েশা সোনিয়া।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কল করে উত্ত্যক্ত করা, হুমকি প্রদান করা অথবা মেসেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত। বিশেষত যখন নারীরা এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন, তখন আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত প্রমাণ সংরক্ষণ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আয়েশা সোনিয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করেছেন।

আইনজীবী আয়েশা সোনিয়া উল্লেখ করেন, বর্তমানে নারীদের মোবাইল ফোনে হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কর্মজীবী নারীরা এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ অনেকেই এ ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কখনও কখনও পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে কারো ফোন নম্বর ছড়িয়ে দিয়েও হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি জানান, কোন নারী যদি ফোনে উত্ত্যক্ত হয়, হুমকির শিকার হয় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির শিকার হন, তাহলে বিষয়টি গোপন না রাখতে বলেন এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করাও অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, হয়রানিকারীর ফোন নম্বর, কললগ, ক্ষুদে বার্তা, ভয়েস মেসেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথন এবং অন্যান্য তথ্য মুছে না ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন আয়েশা সোনিয়া। এসব তথ্যের স্ক্রিনশট নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভব হলে অডিও বা ভিডিও রেকর্ড করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ব্যাকআপ রাখা উচিত।

হুমকি যদি গুরুতর হয়ে ওঠে বা তাৎক্ষণিক নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ নম্বরে যোগাযোগ করেও সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়া সম্ভব।

হয়রানিকারীর মোবাইল নম্বর, কলের তথ্য, মেসেজ ও অন্যান্য প্রমাণসহ নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পারেন। অপরাধের প্রকৃতি ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে মামলা করার সুযোগও রয়েছে।

ফোনে বারবার উত্ত্যক্ত করা হলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বরাবর অভিযোগ করা যেতে পারে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নম্বর এবং হয়রানির তথ্য সংযুক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ অথবা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা, হুমকি, ব্ল্যাকমেইল অথবা অন্য ধরনের সাইবার হয়রানির শিকার হলে পুলিশের সাইবার ইউনিটের সহায়তা নেওয়া উচিত। নারীরা সাইবার হয়রানির ক্ষেত্রে পুলিশের ‘Cyber Support for Women’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও সহায্য চাইতে পারেন।

আয়েশা সোনিয়া বলেন, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীর নীরব থাকা উচিত নয়। অনেক সময় একাধিক ব্যক্তি অথবা একটি সংঘবদ্ধ চক্র এক ব্যক্তিকে টার্গেট করে তাঁকে হয়রানি করার জন্য যুক্ত হতে পারে। সুতরাং দ্রুত অভিযোগ করতে এবং মাদুর প্রমাণ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘ব্ল্যাকমেইল অথবা হয়রানির শিকার হলে পুলিশকে জানাতে এবং লিখিত অভিযোগ দিতে ভুলবেন না। দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিলে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণশুনানিতে মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রথম ৫ বছর কম ট্যারিফের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


গণশুনানিতে মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রথম ৫ বছর কম ট্যারিফের প্রস্তাব

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে (এমপিপি) বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ কমিয়ে ০.৫০ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। এ সংগঠন একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে ‘ডিমড জেনারেশন’-এর জন্য ক্ষতিপূরণ, এমপিপি বন্ধ করার আগে কমপক্ষে ২০ বছরের মেয়াদ নিশ্চিত করা এবং গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আয়োজিত মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের গাইডলাইন ও ট্যারিফ বিষয়ে গণ-শুনানিতে তারা এই দাবি জানায়।

এ সময় বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ছিলেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের সদস্যরা এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরাও।

সংগঠনটির মতে, দেশে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের উন্নয়ন চারিপ্রান্তিই এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। তারা বলেছে, বেসরকারি বিনিয়োগের উত্সাহিত করতে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ ০.৫০ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা বাড়বে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারে গতিশীলতা আনবে।

গণ-শুনানিতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সৌরবিদ্যুৎ ভিত্তিক বেসরকারি মার্চেন্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিক্রির ট্যারিফ হিসেবে ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। কমিটি জানায়, সৌরভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা যাবে।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিট স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৩২৬ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার সাথে নিয়ন্ত্রক কার্যকরী মূলধন বাবদ ৪৪ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার টাকা যোগ করে মোট মূল্যভিত্তি ৩৭০ কোটি ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবিত মুনাফার হার ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ নির্ধারণ করে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা হিসেবে ৩৩ কোটি ২২ লাখ টাকা পাওয়ার পর জনবল, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশাসনিক ও সাধারণ ব্যয়ের জন্য ১১ কোটি ২১ লাখ এবং অবচয়ের জন্য ১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমনকি মোট রাজস্ব প্রয়োজন হিসেবে ৫৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং অন্যান্য আয় হিসাবে ৯৮ লাখ টাকা বাদ দিয়ে নিট রাজস্ব প্রয়োজন হিসেবে ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ট্যারিফ হিসাব অনুযায়ী, কমিটির হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিট উৎপাদন হবে ৯ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট। এই উৎপাদন এবং নিট রাজস্ব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিদ্যুতের উৎপাদন ট্যারিফ ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা হিসাবে নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

অধিকন্তু, সৌরবিদ্যুৎ গ্রাহকদের দিন এবং রাত হওয়া সাপেক্ষে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপনের প্রস্তাব করেছে। তারা মনে করছেন, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকলে দিনে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ফলে সৌরবিদ্যুতের সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।

সুতরাং, বিএসআরইএ বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমপিপি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করলেও, ডিআইএসকমের ত্রুটির কারণে গ্রিডে সরবরাহ সম্ভব না হলে ‘ডিমড জেনারেশন’-এর ক্ষতিপূরণের সুরক্ষা দিতেও ব্যবস্থা রাখতে হবে। তারা দাবি করেছে, এমপিপি বন্ধ করার আগে অবশ্যই কমপক্ষে ২০ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ নিশ্চিত করতে হবে এবং ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফের পোস্ট-পেমেন্ট ভিত্তিতে আদায়ের প্রস্তাবও এসেছে।

সংগঠনটি উৎপাদিত অব্যবহৃত বা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ সরকারি খাতের ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারের সুযোগ দিতে এবং এ বিদ্যুতের মূল্য বিইআরসি নির্ধারিত গড় হারে পরিশোধের ব্যবস্থা করার দাবি করেছে।

এছাড়া স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে বিনিয়োগের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রকল্পের ডেভেলপার এবং বিনিয়োগকারীর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সার্ভিস লিগ্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় যে ক্ষতি হয়, তা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও সরকারের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে সংগঠনের তরফ থেকে।

বিএসআরইএ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্যও দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অন্যান্য গৌণ উৎসের আগে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিডে ফিড করার সুযোগ দিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর ও শুল্ক সুবিধায় সমতা আনার করণীয়ও স্পষ্ট করেছে।

নিষ্কর্ষ ওই প্রস্তাবে এসআরও ১৮১-এর ভাষা সংশোধন করে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট, স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী (আইপিপি) এবং করপোরেট বা শিল্প খাতের সৌরবিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং গ্রিড-সংযুক্ত অবকাঠামো আমদানিতে অভিন্ন শুল্ক ও কর অব্যাহতি দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

সর্বশেষ, বিএসআরইএর মতে, নতুন ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ ব্যবস্থা বিদ্যুৎ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, তবে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাই বিনিয়োগবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি নীতির কাঠামো তৈরি করা গেলে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার পাশাপাশি ২০৩০ ও ২০৪১ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%