ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা


চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সুলতানের শিশুস্বর্গে চিত্রাঙ্কন অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রামীণ পরিবেশ-প্রকৃতি, এস এম সুলতানের প্রতিকৃতি, দেশের ইতিহাস-ঐহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয় শিশু-কিশোরদের রঙতুলিতে উঠে এসেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন-জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহসান মাহমুদ রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক  বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, চিত্রশিল্পী নিখিল দাস, চিত্রশিল্পী সাকি, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য নড়াইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১০  অক্টোবর) সকালে সংগ্রহশালা চত্বরে সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া মোনাজাত, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।  

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
 
চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। এদিকে, ২০০১ সাল থেকে সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একজন গুণী চিত্রশিল্পীকে সুলতান স্বর্ণ পদক দেয়া হয়। #
 
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকোতে উপকূলে ধেয়ে আসছে হারিকেন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


মেক্সিকোতে উপকূলে ধেয়ে আসছে হারিকেন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন ‘ইসাইয়াস’। আটলান্টিক মহাসাগরে এ বছরের প্রথম হারিকেনটি তৃতীয় শ্রেণির ঝড়ে পরিণত হতে পারে এবং এর শক্তি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গভীর রাতে অথবা শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৭ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস, ভারী বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং টর্নেডোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঝড়টির শক্তি বাড়তে থাকায় উপকূলীয় শহর ও জনপদের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। যদিও ঝড়টির সুনির্দিষ্ট গতিপথ তখনো নিশ্চিত হয়নি, তবে এর কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের মোবাইল শহর থেকে ফ্লোরিডার পেনসাকোলার পূর্বাঞ্চলের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারে। এতে মিসিসিপি, আলাবামা ও ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় হারিকেন সতর্কতা এবং সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আলাবামা, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়ার কিছু এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু স্থানে বাসিন্দাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরের দিকে ইসাইয়াস সাময়িকভাবে তৃতীয় শ্রেণির শক্তিশালী হারিকেনে পরিণত হতে পারে। তবে উপকূলে আঘাত হানার আগে এর শক্তি কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ঝড় দুর্বল হতে পারে, তবুও এর বিপদের পরিধি বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে বাতাসের গতি ও দিকের পরিবর্তনের কারণে ঝড়টির গঠন বদলে যেতে পারে। এর ফলে ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের তীব্রতা কিছুটা কমলেও ঝোড়ো হাওয়ার বিস্তৃতি বাড়বে। ফলে ঝড়ের কেন্দ্র যেখানে আঘাত হানবে, তার বাইরের বিস্তীর্ণ এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ৭ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস এবং ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে সতর্কবার্তা ছাড়াই টর্নেডো সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের কারণে ফ্লোরিডার কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। লুইজিয়ানা ও আলাবামার কিছু এলাকায় আমট্রাকের রেলসেবাও ব্যাহত হয়েছে।

আলাবামার অরেঞ্জ বিচের বাসিন্দাদের মধ্যেও ঝড় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে আবহাওয়া শান্ত থাকলেও ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের হারিকেন স্যালির স্মৃতি এখনো তাঁদের মনে রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির ওই হারিকেনটি উপকূলে আঘাত হেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।

এদিকে, ঝড়ের কারণে শনিবার সন্ধ্যায় আলাবামার টাসকালুসায় অনুষ্ঠিতব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কলেজ ফুটবল ম্যাচের উপর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। আলাবামা ও জর্জিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়ার কথা। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে দিনের বেলায় বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পরিকল্পনাও রয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ম্যাচটি দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

এ বছর আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেনের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকার পেছনে ‘এল নিনো’র প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ফিলিপ পাপিন বলেন, স্যাটেলাইট যুগে—অর্থাৎ ১৯৭০-এর দশকের পর—এবারের মতো সেপ্টেম্বর মাস কোনো হারিকেন ছাড়াই পার হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

তবে মৌসুমের শুরুতে দীর্ঘ বিরতি থাকলেও ইসাইয়াসের শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কতা, ঝড়টি ঠিক কোথায় আঘাত হানবে, তার ওপরেই বিপদের মাত্রা নির্ভর করছে না। এর বিস্তৃত ঝোড়ো হাওয়া, জলোচ্ছ্বাস, ভারী বৃষ্টি ও সম্ভাব্য টর্নেডো উপকূল থেকে দূরের এলাকাগুলোতেও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস , সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকোর কারাগারে সংঘর্ষে ১০ নিহত, ১৬ আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


মেক্সিকোর কারাগারে সংঘর্ষে ১০ নিহত, ১৬ আহত

মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের একটি কারাগারে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ জন বন্দি। নিহতদের মধ্যে রয়েছে নয়জন বন্দি এবং একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক, যিনি স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে এসেছিলেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্স এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এই ঘটনার খবর উঠে এসেছে।

সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের জননিরাপত্তা সচিবালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতিতে কারাগারের ভেতরে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারাগারে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। এএফপির একজন প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে সাঁজোয়া যান ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে দেখেছেন।

অঙ্গরাজ্যের জননিরাপত্তা সচিব সিনুহে তেলেজ এক ভিডিও বার্তায় জানান, সংঘর্ষের ফলে নয়জন বন্দি এবং স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা এক অপ্রাপ্তবয়স্ক নিহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, আহত ১৬ বন্দির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেক্সিকোর সিনালোয়া অঙ্গরাজ্য মাদক পাচারকারী সিনালোয়া কার্টেলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চলমান রয়েছে। তবে কারাগারের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সঙ্গে কার্টেলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত নয়।

নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মেক্সিকোর ছয়টি অঙ্গরাজ্যে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে, যার মধ্যে সিনালোয়া রয়েছে। কারাগারের সংঘর্ষের কারণ এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক এখনো স্পষ্ট নয়। তথ্যসূত্র: এএফপি, রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোসেনপুরে ইটভাটায় দেয়াল ধসে প্রাণ গেল ২ শ্রমিকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


হোসেনপুরে ইটভাটায় দেয়াল ধসে প্রাণ গেল ২ শ্রমিকের
 
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ইটভাটার দেয়াল ধসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। 
 
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পুমদি ইউনিয়নের চরপুমদি গ্রামের মেসার্স মায়ের দোয়া ব্রিকসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
 
নিহত শ্রমিকেরা হলেন, উপজেলার  চরপুমদি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে উৎপল মিয়া (২০) ও একই গ্রামের ছফির উদ্দিনের ছেলে গোলাপ মিয়া (৬০)।
 
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ইটভাটায় কাজ করার সময় হঠাৎ কিলন বা চিমনির পাশের দেয়াল ধসে পড়ে। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হন আরও দুই শ্রমিক।
 
আহত ব্যক্তিরা হলেন, লোকমান হোসেনের ছেলে আন্নাছ মিয়া ও হাদিস মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া। তাঁদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
 
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় চরপুমদি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যানজটে নাকাল কক্সবাজারের শহরবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


যানজটে নাকাল কক্সবাজারের শহরবাসী

দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারে যানজট ও জনদুর্ভোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই বেড়েছে ব্যাটারিচালিত টমটম ও মিশুকের সংখ্যা। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরে সাড়ে তিন হাজার টমটমের লাইসেন্স থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চলাচল করছে ১০ হাজারের বেশি। এছাড়া, লাইসেন্স ও বৈধ অনুমোদন ছাড়াই দুই হাজারের বেশি মিশুক চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে চার লাখের বেশি শহরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং পর্যটকদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কক্সবাজার শহরের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ততম সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে টমটম-মিশুকের অবাধ চলাচল, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা এবং যানবাহনের জটলা যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারী ও পর্যটকদের সময় নষ্ট হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরে সাড়ে তিন হাজার টমটমের অনুমোদন থাকার পরও বর্তমানে চলাচলকারী টমটমের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি যানবাহন সড়কে নামায় যানজট নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। অনুমোদিত ও বাস্তবে চলাচলকারী যানবাহনের সঠিক সংখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই বলে জানা গেছে।

এছাড়া, ব্যাটারিচালিত মিশুকের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা যুক্ত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দুই হাজারের বেশি মিশুক বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই শহরের সড়কে চলাচল করছে। এসব যানবাহনের নিবন্ধন, চলাচলের অনুমতি এবং চালকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নগরবাসীর আশঙ্কা, যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পর্যটন মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। এতে পর্যটন শহরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়তে পারে।

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অনুমোদনহীন মিশুকের গায়ে নম্বরসংবলিত স্টিকার ব্যবহার। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বৈধ অনুমোদন না থাকলে এসব যানবাহন কীভাবে নম্বরযুক্ত স্টিকার পাচ্ছে? কারা এসব স্টিকার সরবরাহ করছে এবং কোন কর্তৃত্বে তা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একটি লোভিচক্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যনেজ করে এই কাজ করছে।

কয়েকজন মিশুকচালকের দাবি, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের এসব স্টিকার দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, গাড়িতে নম্বরসংবলিত স্টিকার থাকলে পুলিশ আর আটকায় না বলে তাঁদের জানানো হয়েছে।

এক মিশুকচালক বলেন, “মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আমাদের স্টিকার দেওয়া হয়েছে। এই নম্বর থাকলে পুলিশ ধরে না বলে আমাদের জানানো হয়েছে।”

তবে স্টিকার সরবরাহ, অর্থ আদায় কিংবা স্টিকার ব্যবহারের কারণে পুলিশি বাধা এড়ানোর এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। স্টিকার থাকলেই কোনো যানবাহন বৈধ হয়ে যায় কি না, সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এরই মধ্যে শহরে নতুন করে আরও দুই হাজার মিশুকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান যানবাহনের সংখ্যা, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং যানজটের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে নতুন করে অনুমোদন দেওয়া হলে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

তাঁদের মতে, নতুন অনুমোদনের আগে বর্তমানে চলাচলকারী টমটম ও মিশুকের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ, বিদ্যমান লাইসেন্স ও অনুমোদনের তালিকা যাচাই এবং অবৈধ যানবাহন শনাক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তার নীতিমালা, যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে পরিষ্কার করা উচিত।

অবৈধ মিশুক চলাচলকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদমিয়া নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি চক্র এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিত উদ্যোগ নিলে পর্যটন শহরে অবৈধ যান চলাচল কিভাবে সম্ভব?

টমটম-মিশুকের আধিক্যে শুধু যানজটই বাড়ছে না, পথচারীদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের জটলা, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং যাত্রী ওঠানামার কারণে রাস্তা পার হতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ব্যস্ত সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।

এক পথচারী বলেন, “রাস্তায় টমটম ও মিশুকের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা ঠিকমতো চলাচল করতে পারি না, রাস্তা পার হতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শহরের সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।”

স্থানীয়দের মতে, কক্সবাজারের মতো পর্যটননির্ভর শহরে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটকেরা শহরে প্রবেশের পর বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-মোটেল ও বিপণিবিতানে যাতায়াত করেন। কিন্তু যানজটের কারণে তাঁদের সময় নষ্ট হলে পর্যটনসেবার মান নিয়েও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবজ্যোতি মজুমদার জানান, টমটম ও মিশুকের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তি পর্যায়ে কিংবা সংঘবদ্ধভাবে যেভাবেই এসব যানবাহন চলাচল করুক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে নগরবাসীর প্রশ্ন, নিয়মিত অভিযান ও আইন প্রয়োগের পরও যদি অনুমোদনহীন যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে, তাহলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ কোথায়? শুধু সড়কে অভিযান চালানো নয়, অবৈধ যানবাহনের উৎস, স্টিকার সরবরাহের প্রক্রিয়া এবং অনুমোদন ব্যবস্থার স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।

কক্সবাজারকে যানজটমুক্ত, পর্যটনবান্ধব ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে টমটম-মিশুকের সংখ্যা নির্ধারণ, বৈধ যানবাহনের তালিকা প্রকাশ, অনুমোদনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অবৈধ স্টিকার সরবরাহের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

একই সঙ্গে যানবাহন চলাচলের নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ এবং নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, যানজট নিরসনে শুধু চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; যানবাহনের অনুমোদন, মালিকানা, চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির পুরো ব্যবস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

প্রশ্ন উঠেছে—পর্যটন শহর কক্সবাজারের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে কবে? অনুমোদিত যানবাহনের সংখ্যা ও বাস্তবে চলাচলকারী গাড়ির মধ্যে এত বড় ব্যবধানের অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে কীভাবে? অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন শহরবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%