ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

যানজটে নাকাল কক্সবাজারের শহরবাসী


যানজটে নাকাল কক্সবাজারের শহরবাসী

দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারে যানজট ও জনদুর্ভোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই বেড়েছে ব্যাটারিচালিত টমটম ও মিশুকের সংখ্যা। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরে সাড়ে তিন হাজার টমটমের লাইসেন্স থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চলাচল করছে ১০ হাজারের বেশি। এছাড়া, লাইসেন্স ও বৈধ অনুমোদন ছাড়াই দুই হাজারের বেশি মিশুক চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে চার লাখের বেশি শহরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং পর্যটকদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কক্সবাজার শহরের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ততম সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে টমটম-মিশুকের অবাধ চলাচল, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা এবং যানবাহনের জটলা যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারী ও পর্যটকদের সময় নষ্ট হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরে সাড়ে তিন হাজার টমটমের অনুমোদন থাকার পরও বর্তমানে চলাচলকারী টমটমের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি যানবাহন সড়কে নামায় যানজট নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। অনুমোদিত ও বাস্তবে চলাচলকারী যানবাহনের সঠিক সংখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: সৈয়দপুরে কাকলী রানী দাসের তিন সন্তানের জন্ম

এছাড়া, ব্যাটারিচালিত মিশুকের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা যুক্ত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দুই হাজারের বেশি মিশুক বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই শহরের সড়কে চলাচল করছে। এসব যানবাহনের নিবন্ধন, চলাচলের অনুমতি এবং চালকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নগরবাসীর আশঙ্কা, যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পর্যটন মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। এতে পর্যটন শহরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়তে পারে।

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অনুমোদনহীন মিশুকের গায়ে নম্বরসংবলিত স্টিকার ব্যবহার। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বৈধ অনুমোদন না থাকলে এসব যানবাহন কীভাবে নম্বরযুক্ত স্টিকার পাচ্ছে? কারা এসব স্টিকার সরবরাহ করছে এবং কোন কর্তৃত্বে তা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একটি লোভিচক্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যনেজ করে এই কাজ করছে।

কয়েকজন মিশুকচালকের দাবি, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের এসব স্টিকার দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, গাড়িতে নম্বরসংবলিত স্টিকার থাকলে পুলিশ আর আটকায় না বলে তাঁদের জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ বোর্ড, শতভাগ অকৃতকার্য ১৯ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের হুঁশিয়ারি

এক মিশুকচালক বলেন, “মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আমাদের স্টিকার দেওয়া হয়েছে। এই নম্বর থাকলে পুলিশ ধরে না বলে আমাদের জানানো হয়েছে।”

তবে স্টিকার সরবরাহ, অর্থ আদায় কিংবা স্টিকার ব্যবহারের কারণে পুলিশি বাধা এড়ানোর এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। স্টিকার থাকলেই কোনো যানবাহন বৈধ হয়ে যায় কি না, সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এরই মধ্যে শহরে নতুন করে আরও দুই হাজার মিশুকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান যানবাহনের সংখ্যা, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং যানজটের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে নতুন করে অনুমোদন দেওয়া হলে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

তাঁদের মতে, নতুন অনুমোদনের আগে বর্তমানে চলাচলকারী টমটম ও মিশুকের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ, বিদ্যমান লাইসেন্স ও অনুমোদনের তালিকা যাচাই এবং অবৈধ যানবাহন শনাক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তার নীতিমালা, যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে পরিষ্কার করা উচিত।

আরও পড়ুন: দুই হাতের আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ অর্জন কলি রানীর

অবৈধ মিশুক চলাচলকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদমিয়া নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি চক্র এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিত উদ্যোগ নিলে পর্যটন শহরে অবৈধ যান চলাচল কিভাবে সম্ভব?

টমটম-মিশুকের আধিক্যে শুধু যানজটই বাড়ছে না, পথচারীদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের জটলা, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং যাত্রী ওঠানামার কারণে রাস্তা পার হতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ব্যস্ত সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে খেলার মাঠের জন্য সরকার ১২০ শতাংশ জমি ও অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা দেবে

এক পথচারী বলেন, “রাস্তায় টমটম ও মিশুকের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা ঠিকমতো চলাচল করতে পারি না, রাস্তা পার হতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শহরের সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।”

স্থানীয়দের মতে, কক্সবাজারের মতো পর্যটননির্ভর শহরে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটকেরা শহরে প্রবেশের পর বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-মোটেল ও বিপণিবিতানে যাতায়াত করেন। কিন্তু যানজটের কারণে তাঁদের সময় নষ্ট হলে পর্যটনসেবার মান নিয়েও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবজ্যোতি মজুমদার জানান, টমটম ও মিশুকের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তি পর্যায়ে কিংবা সংঘবদ্ধভাবে যেভাবেই এসব যানবাহন চলাচল করুক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে নগরবাসীর প্রশ্ন, নিয়মিত অভিযান ও আইন প্রয়োগের পরও যদি অনুমোদনহীন যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে, তাহলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ কোথায়? শুধু সড়কে অভিযান চালানো নয়, অবৈধ যানবাহনের উৎস, স্টিকার সরবরাহের প্রক্রিয়া এবং অনুমোদন ব্যবস্থার স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে সিটিজেনস ব্যাংকের নতুন শাখার উদ্বোধন

কক্সবাজারকে যানজটমুক্ত, পর্যটনবান্ধব ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে টমটম-মিশুকের সংখ্যা নির্ধারণ, বৈধ যানবাহনের তালিকা প্রকাশ, অনুমোদনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অবৈধ স্টিকার সরবরাহের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

একই সঙ্গে যানবাহন চলাচলের নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ এবং নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, যানজট নিরসনে শুধু চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; যানবাহনের অনুমোদন, মালিকানা, চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির পুরো ব্যবস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

প্রশ্ন উঠেছে—পর্যটন শহর কক্সবাজারের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে কবে? অনুমোদিত যানবাহনের সংখ্যা ও বাস্তবে চলাচলকারী গাড়ির মধ্যে এত বড় ব্যবধানের অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে কীভাবে? অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন শহরবাসী।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৮৭১

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গসহ তিন রাজ্যের ৫ আসনে শুরু ভোট গণনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গসহ তিন রাজ্যের ৫ আসনে শুরু ভোট গণনা

ভারতের তিন রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ছয়টি আসনের উপনির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির পাঁচটি বিধানসভা আসন এবং আসামের নগাঁও লোকসভা আসন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়েছে।

উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর, তামিলনাড়ুর মাদুরান্থাকাম ও ধারাপুরম এবং পুদুচেরির থাট্টানচাভাদি বিধানসভা আসনে। গত ৬ অক্টোবর এসব আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। একই দিনে ভোটাররা আসামের নগাঁও লোকসভা আসনেও উপনির্বাচনে ভোট প্রদান করেন।

নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ার কারণে উপনির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনটি ধরে রাখায় নন্দীগ্রামে নতুন করে ভোট গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে, রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবির আসনটি ছেড়ে দেওয়ার কারণে।

মাদুরান্থাকাম ও ধারাপুরম আসনেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। পুদুচেরির থাট্টানচাভাদি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামী আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোট গণনার মাধ্যমে এসব আসনে প্রার্থীদের এগিয়ে থাকা ও পিছিয়ে থাকার চিত্র ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণাকারী এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণাকারী এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

সিলেট, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে যে কোনো ধরনের প্রতারণা সহ্য করা হবে না। সরকার ইতোমধ্যে যেসব এজেন্সি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ২৫টি ট্রলি হস্তান্তরের সময় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের বিমানবন্দর সেবা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ‘প্রবাসী কার্ড’ এবং ‘প্রবাসী ব্যাংক’সহ বিভিন্ন খাতের সেবা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ সময় প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের জন্য সপ্তাহে অন্তত এক দিন সময় বরাদ্দ রাখতে সিলেট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবী যতদিন থাকবে, সমস্যাও ততদিন থাকবে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৮ মাসে ধাপে ধাপে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য সহজ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মী প্রেরণের জন্য কারিগরি দক্ষতা অপরিহার্য। এজন্য দেশের প্রতিটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে আরো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কওমি মাদরাসাগুলোতেও কারিগরি শিক্ষা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবর রব চৌধুরী ফয়সল উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গোৎসব নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


দুর্গোৎসব নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্তব্য করেছেন যে, সরকার আসন্ন দুর্গোৎসবকে ঘিরে আশঙ্কায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উৎসবের সময় ফ্যাসিস্টের দোসররা যে কোনো মুহূর্তে নাশকতা ঘটিয়ে জাতিগত ঐক্যকে বিনষ্ট করতে এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে পারে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার বক্তব্যে বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসরদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা যেখানে অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করবে, সেখানেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

শুভাঢ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা মন্তব্য করেন, ইতিহাস মুছে ফেলা একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। যেকোনো ইতিহাস মুছে ফেলা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ঘৃণিত কাজ। যারা ঐতিহ্যবাহী ডক্টর পি কে রায় উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শুভাঢ্যা উচ্চ বিদ্যালয় করেছেন, তাদের তিনি ধিক্কার জানান।

তিনি বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা কমিটিকে পূর্বের নাম ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির কাছে অনুরোধ রাখব, তারা যেন এই বিদ্যালয়ের নাম পুনরায় ‘ডক্টর পি কে রায় উচ্চ বিদ্যালয়’ করেন। ডক্টর পি কে রায় ছিলেন একজন অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত ও গুণী ব্যক্তি। তিনি কলকাতার একটি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন এবং ব্রিটিশরা তাকে ভারতের শিক্ষা উপদেষ্টা মনোনীত করেছিল। এমন একজন প্রাতঃস্মরণীয় গুণী মানুষকে আমরা অবজ্ঞা করতে পারি না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি বিমল চন্দ্র মণ্ডল। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোল্লা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম হোসেন সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

সিনিয়র বিএনপি নেতা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আহসান উল্লাহ চৌধুরী, নফরুল ইসলাম খান আওয়াল, বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান মানিক এবং মো. আলী হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জরিমানা ছাড়াই লাইসেন্স হালনাগাদের সময়সীমা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


জরিমানা ছাড়াই লাইসেন্স হালনাগাদের সময়সীমা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গ্রাহকদের জন্য মোটরযানের যাবতীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি জরিমানা ছাড়াই করা যাবে।

সম্প্রতি বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জরিমানা ছাড়া মূল কর ও ফি জমা দিয়ে সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র, যেমন ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিট, এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করা সম্ভব হবে।

বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের শেষবারের মতো সুযোগ দিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সব কাগজপত্র হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। পূর্বে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো মোটরযান বিক্রি করার পর তার মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি সড়ক বা মহাসড়কে ব্যবহার করছেন। এতে বিক্রেতাদের বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

মালিকানা পরিবর্তন না করার কারণে পুরোনো মালিককেই ওই মোটরযানের জন্য নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি বিক্রেতার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, বর্তমানে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত করা হয়েছে। এখন অনলাইনে (bsp.brta.gov.bd) আবেদন করার পর বিক্রেতার উপস্থিতিতে হ্যান্ড-হেল্ড ডিভাইসের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। ক্রেতা বা নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক প্রদান করতে পারছেন।

এ অবস্থায় বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট সব মোটরযান মালিক ও ক্রেতাকে দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যথায়, নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কঠোরভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা শুরু করেছে বিআরটিএ।

বিআরটিএ জানায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা-১১ (১) অনুযায়ী প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। আইন অমান্য বা বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক পয়েন্ট কাটা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%