ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৬ দিনে, সমর্থন দিতে যাচ্ছে বিরোধী জোট


সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৬ দিনে, সমর্থন দিতে যাচ্ছে বিরোধী জোট

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনের পরিচিত মুখ সোনম ওয়াংচুকের অনশন এখন ষোড়শ দিনে পৌঁছেছে। দীর্ঘকাল ধরে চলা এই অনশনের ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে, এবং তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চল্যমান রয়েছে। এদিকে, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন বিরোধী জোটের প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে দেখা করে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানাবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে, যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশে যৌথ মিছিল করার পরিকল্পনাও আছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক এই অনশনে যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা অনশনের ফলস্বরূপ সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার উপর চিকিৎসকেরা গভীর নজর রাখছেন। নিয়মিত মেডিকেল পরীক্ষা, যেমন রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে তারা অবহিত রয়েছেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন, বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা যন্তর মন্তরে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তারা অনশন ভেঙে আন্দোলনকে অন্যভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন। একই সঙ্গে, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পরীক্ষা পরিচালনায় জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার বিভিন্ন প্রশ্ন সংসদের মধ্যে জোরালোভাবে উত্থাপিত হবে বলে দেখা যাচ্ছে।

সোনম ওয়াংচুক একজন শিক্ষাবিদ ছাড়াও পরিবেশ সংরক্ষণে এবং হিমালয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে আসছেন। লাদাখের পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার নিয়ে তার আন্দোলন আন্তর্জাতিক পরিচিতিও পেয়েছে। বাস্তবমুখী শিক্ষা ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পক্ষে তার অবস্থান তাকে দেশের অন্যতম আলোচিত জনবুদ্ধিজীবী করে তুলেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সোনম ওয়াংচুকের মতো একটি পরিচিত সামাজিক কর্মীর আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে জাতীয়ভাবে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের অধিবেশন শুরুর সঙ্গে আন্দোলনের সময়গত মিল বিরোধী রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে সক্ষম হতে পারে। বিরোধী দলগুলো শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বিষয়গুলো সামনে এনে সরকারকে চাপে রাখতে চায়।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

অন্যদিকে, সরকার ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাঝেই সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকেরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে গেলেও আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন যে তিনি এখনও নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন। তবে বিরোধী জোটের নেতাদের অনুরোধের পর তার সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির অনশন নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান

ইসরাইলের সহায়তায় ইরানে ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ এম


ইসরাইলের সহায়তায় ইরানে ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ

ইরানের কট্টরপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে গোপনে নিজেদের গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে তৈরি করেছিল ইসরাইল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে আহমাদিনেজাদকে ইরানের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় বসানো।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনগুলোতে আহমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরে একটি মোসাদের সেফ হাউজে নিয়ে যাওয়ার নাটকীয় চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

একসময় ইসরাইলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করা আহমাদিনেজাদকে নিজেদের পক্ষে টানতে দীর্ঘদিন ধরে গোপন অভিযান চালিয়ে আসছিল ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।

মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে বুদাপেস্টের লুদোভিকা ইউনিভার্সিটিতে একটি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর অধ্যাপক গেরগেলি ডেলি জানিয়েছেন, হাঙ্গেরি সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার অনুরোধে তিনি আহমাদিনেজাদকে আমন্ত্রণ জানান, যা মূলত ছিল মোসাদের সাথে আহমাদিনেজাদের গোপন বৈঠকের একটি ছদ্মবেশ বা ‘ফ্রন্ট’। সেখানে মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়া স্বয়ং আহমাদিনেজাদের সাথে দেখা করেন এবং পরবর্তীতে সিআইএকে এই যোগাযোগের বিষয়টি অবহিত করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইল গোপনে আহমাদিনেজাদের আবাসন ও বিদেশ ভ্রমণের খরচ জোগাত এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার সাথে গুয়াতেমালা ও হাঙ্গেরিতে একাধিকবার বৈঠক করেন। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ নেয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে কড়া নজরদারিতে থাকা আহমাদিনেজাদের বাসভবনে ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। তবে হামলাটি ছিল মূলত একটি নাটকীয় উদ্ধারের অংশ। হামলা স্থলের বিশৃঙ্খলার মধ্যে একটি কালো পিউজো গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যায়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মোসাদের এজেন্টরা, যারা তাকে ইরানের ভেতরেই একটি গোপন সেফ হাউজে নিয়ে যান।

তবে এই হঠকারী উদ্ধার অভিযানে আহমাদিনেজাদ ক্ষুব্ধ হন এবং ইসরাইলের সহায়তায় ক্ষমতায় ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে তার মোহভঙ্গ হয়। পরবর্তীতে তিনি কীভাবে সেই সেফ হাউজ ছাড়েন তা স্পষ্ট নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আহমাদিনেজাদের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মতে, তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ওপর চরম অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে পর পর তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এই ব্যবস্থার অধীনে তিনি আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না।

তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে বলতেন, যুদ্ধ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি বাইরের কোনো নির্বাসিত নেতাকে এনে বসায় তবে ইরান অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। নিজেকে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলতসিনের মতো একজন ‘সংস্কারক’ হিসেবে ভাবতেন তিনি।

আহমাদিনেজাদ বিশ্বাস করতেন, তিনি ক্ষমতায় এলে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের আওতায় ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেন। এই সুযোগটিই লুফে নেয় ইসরাইল। এমনকি ক্ষমতা দখলের এই মহাপরিকল্পার অংশ হিসেবে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তেহরানের দিকে অগ্রসর করার একটি ছকও কাটা হয়েছিল।

ইসরাইলের সাথে এই গোপন আঁতাতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছেন সাবেক এই ইরানি প্রেসিডেন্ট। গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘদিন তিনি জনসমক্ষে আসেননি। ৯০ ডিগ্রি প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ভারী জ্যাকেট এবং মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় অত্যন্ত বিষণ্ণ মুখে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

চারজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ইসরাইলের সাথে যোগাযোগের সমস্ত তথ্য ফাঁস হওয়ার পর মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে বর্তমানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের গোয়েন্দা শাখা গ্রেফতার করে গৃহবন্দি করে রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন হামলায় কেঁপে উঠল ইরানের মাহশহর ও আবাদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ এম


মার্কিন হামলায় কেঁপে উঠল ইরানের মাহশহর ও আবাদান

চলমান তীব্র সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইরানের ইরাক ও কুয়েত সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায়। খোজস্থান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) খোজস্থান প্রদেশে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি শহরকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়। হামলার লক্ষ্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্দর নগরী মাহশহর এবং ঐতিহ্যবাহী আবাদান শহর, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে পুরোনো তেল শোধনাগারটি অবস্থিত।

এ ছাড়া, ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে প্রথম আঘাত হানা হয় আবাদান শহরে। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর, অর্থাৎ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১০:০০) পার্শ্ববর্তী মাহশহর নগরীতে দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয়।

সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষের তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই নতুন ও বড় ধরনের বিমান হামলার খবর এলো।

সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল নারীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ এম


সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল নারীর

রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় সাবেক স্বামীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঝুমুর আক্তার (৩৮) নামে এক নারীর মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মধ্যবাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের ১৪ নম্বর রোডের একটি বাড়ির গেটের সামনে ঘটে।

মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান।

এমন পরিস্থিতিতে সাবেক স্বামী রেজাউলকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে সোপর্দ করেছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত ঝুমুরের বাড়ি বরিশাল জেলায় অবস্থিত। তার বাবার নাম জাফর হাওলাদার। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর, তিনি হোটেল কর্মচারী রেজাউলকে বিয়ে করেন। বাড্ডা এলাকায় দুই থেকে তিন বছর সংসার করার পর বনিবনা না হওয়ায় এক বছর আগে রেজাউলকে তালাক দেন ঝুমুর। এরপর তিনি গ্রামে ফিরে যান এবং কিছুদিন পর এক প্রবাসীকে বিয়ে করেন।

ঝুমুরের দূর সম্পর্কের আত্মীয় মনিকা আক্তার জানান, গত দু-তিন দিন আগে বরিশাল থেকে ঝুমুর ঢাকার মিরপুরে তার তৃতীয় স্বামীর বাড়িতে আসেন। তার বর্তমান স্বামী বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। মিরপুরের বাসা থেকে মঙ্গলবার সকালে মধ্যবাড্ডায় মনিকাদের বাসায় বেড়াতে আসেন ঝুমুর।

বিকেলে মনিকা ও তার মা অজিফা বেগম ঝুমুরকে নিয়ে এলাকা ঘুরতে যাওয়ার সময় সাবেক স্বামী রেজাউল তাদের দেখতে পেয়ে পিছু নেন। কিন্তু বিষয়টি তারা টের পাননি।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় মনিকাদের বাসা থেকে ঢোকার সময়, রেজাউল পেছন থেকে এসে ঝুমুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এর ফলে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। ঝুমুরের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে রেজাউল পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে স্থানীয়রা তাকে আটকে পুলিশে দেয়।

গুরুতর অবস্থায় ঝুমুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু ঘটে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং জানিয়ে দেন যে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই যুগে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত: ইউনিভার্সিটির ক্লাসে ল্যাপটপ-স্মার্টফোন নিষিদ্ধ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ এম


এআই যুগে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত: ইউনিভার্সিটির ক্লাসে ল্যাপটপ-স্মার্টফোন নিষিদ্ধ!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা ও পেশাজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলেও, এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে স্বাধীন চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং মৌলিক সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ধরে রাখার প্রশ্নে, বিশ্বের নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নতুন নীতিমালা গ্রহণ করছে। এই প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষস্থানের আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাসরুমে ল্যাপটপ, স্মার্টফোনসহ সকল ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নতুন নয়। তবে এবার ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো-এর ল স্কুল। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না, যার মধ্যে ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোনও অন্তর্ভুক্ত।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এআই যুগে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণী সক্ষমতা এবং মৌলিক আইনি দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে একজন দক্ষ আইনজীবীর জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক গুণাবলী গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই নীতির সূচনা করা হয়েছে।

ল স্কুলের মূখ্য বক্তব্য ছিল, 'শিক্ষার্থীরা যেন এআইয়ের ওপর নির্ভরতা না রেখে, স্বকীয়তা, কৌশলগত চিন্তা এবং গভীরভাবে স্বাধীনভাবে ভাবতে শেখে, তা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই পদক্ষেপ।'

শুধু ক্লাসরুমেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়টি পরীক্ষা ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষা ক্লাসরুমের ভেতরেই অনুষ্ঠিত হবে এবং পরীক্ষার সময় ইন্টারনেট, কোনো ইলেকট্রনিক ফাইল অথবা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই নীতিমালা ভবিষ্যতে পুনর্মূল্যায়ন, পুনর্বিবেচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা হতে পারে। তাদের ভাষায়, 'প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তনশীল। ফলে বর্তমান নিয়মগুলো প্রযুক্তি ও আইনি পেশার বিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে পরিবর্তন করা হতে পারে।'

অথচ বিশ্ববিদ্যালয় এটিও স্বীকার করেছে যে, আইন পেশার ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাই ক্লাসে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার সীমিত করলেও, পাঠ্যক্রমের নির্দিষ্ট অংশে শিক্ষার্থীদের এআই প্রযুক্তি শেখানো হবে। এতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনে এই প্রযুক্তি দায়িত্বশীল, কার্যকর এবং নৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

আইন পেশা বর্তমানে এআইয়ের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ও অটোমেশনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে আইন অন্যতম। 'এআই এক্সপোজার ইনডেক্স'-এর সেই গবেষণায় আইন পেশাকে শতভাগ 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, আইন পেশার অনেক জ্ঞানভিত্তিক এবং বিশ্লেষণধর্মী কাজ বর্তমানে এআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব।

ইতোমধ্যেই আদালতের মামলায় প্রস্তুতিতে এআই আইনজীবী ব্যবহৃত হচ্ছে। গত মাসে যুক্তরাজ্যের একটি এআইভিত্তিক ল ফার্ম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সফল মামলার প্রস্তুতিতে এআই আইনজীবী ব্যবহার করে নতুন নজির স্থাপন করেছে। 'গারফিল্ড এআই' নামক প্রতিষ্ঠানটি সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি সংগ্রহ এবং ট্রায়ালের প্রস্তুতির কাজে তাদের এআই আইনজীবীকে ব্যবহার করে। পরে একজন মানব ব্যারিস্টার আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপ ইয়ং লিংকডইনে লিখেছেন, 'মানুষের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একজন এআই আইনজীবীর জয়ে এটি বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম ট্রায়াল। এটি সবার জন্য আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য করার পথে নতুন যুগের সূচনা করেছে।'

ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা এবং আইনি পেশার বাস্তবতা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য। একদিকে এআই কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে স্বাধীন চিন্তা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং মৌলিক দক্ষতা ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে আসছে। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো ল স্কুলের এই পদক্ষেপ সেই ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা যেতে পারে। প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি মানবিক বিচারবোধ ও সৃজনশীল চিন্তাশক্তি বিকাশই যে ভবিষ্যতের এক বড় চ্যালেঞ্জ, এই উদ্যোগ সেটিরই প্রতীক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%