০৮:৫৭ এম
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের জয়ের ম্যাচে এক পর্যায়ে দেখা যায় স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলাকে মুখ ঢেকে কথা বলতে। এ নিয়ে আপত্তি করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কিন্তু ম্যাচ কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত কুকুরেলার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে যখন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, তখন টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায় মেসি রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এবং কুকুরেলার দিকে ইঙ্গিত করছেন। তার অভিযোগ হল, স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডার মুখ ঢেকে কথা বলছেন, যা নতুন নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হতে পারে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি নতুন নির্দেশনা চালু করেছে ফিফা। এই নির্দেশনার পেছনে রয়েছে গত মৌসুমে বেনফিকার তরুণ ফুটবলার জানলুকা প্রেস্তিয়ানির বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অভিযোগ। ওই ঘটনায় প্রেস্তিয়ানির মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে কী বলা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরপর থেকেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি শক্তভাবে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার পক্ষ থেকে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের রাশিয়ায় পাচার, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ভয়ংকর তথ্য!
এই বিশ্বকাপেই এই নিয়মের আওতায় শাস্তি পেয়েছেন প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন ও ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনক্যাপি। তাদের দুজনকেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার জন্য লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।
কিন্তু ফিফার নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু মুখে হাত দিয়ে কথা বলাই অপরাধ নয়। কোনো সংঘর্ষ, তর্ক-বিতর্ক বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষ, রেফারি বা অন্য কারও সঙ্গে কথা বললে সেটি অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারেন।
ফাইনালের ওই ঘটনার পর ম্যাচ কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, কুকুরেলা মেসির দিকে এগিয়ে গিয়ে কথা বলার সময় অল্প সময়ের জন্য তাঁর মুখ স্পর্শ করেছিলেন। তবে ভিডিওতে এমন কোনো আচরণ দেখা যায়নি, যা শত্রুভাবাপন্ন, অপমানজনক বা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের প্রমাণ হিসেবে গন্য হতে পারে।
এই কারণে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে কুকুরেলার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ম্যাচ কর্মকর্তারা তাকে 'বেনিফিট অব দ্য ডাউট' বা দ্বন্দ্বের সুবিধা দেন।
আরও পড়ুন: মাদক ও অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই: সাচিং প্রু
অতএব, মুখ ঢেকে কথা বলার অভিযোগ ওঠার পরও স্পেনের এই ডিফেন্ডার লাল কার্ড থেকে মুক্তি পান। ফিফার বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, মুখ ঢেকে কথা বলার বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল সেটি কী পরিস্থিতিতে এবং কোন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, এই বিষয়গুলো শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন