ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইহুদি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি ইসরাইলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের


ইহুদি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি ইসরাইলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং জাতিগত নির্মূল মতাদর্শকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে দেশটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একটি গ্রুপ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, নিরাপত্তা প্রধান, বিচারক ও বুদ্ধিজীবীসহ অনেকেই রয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি ফাঁস হওয়া চিঠিতে দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ইসরাইলের সব প্রধান নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক প্রধান, সাবেক বিচারক, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী এবং দেশের অন্যতম খ্যাতনামা ঔপন্যাসিকসহ কয়েক ডজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারকে ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ দিয়েছেন। চিঠিতে তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, যৌন সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং লাশের অবমাননার মতো ঘটনার উল্লেখ করে অবিলম্বে ইহুদি সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত বেসামরিক ও সামরিক ব্যক্তিরা প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি উপভোগ করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চরম সহিংসতার এই ধারাবাহিকতা ইসরাইলি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে, দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলকে আরও বিচ্ছিন্ন করছে এবং বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘এটি একটি জাগরণী বার্তা এবং চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জুদিয়া ও সামারিয়ায় (ইসরায়েলের ভাষায় পশ্চিম তীর) বিস্তার লাভ করা ইহুদি সন্ত্রাসবাদ অবিলম্বে নির্মূল করতে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রীরা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা যদি এই সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তাহলে তাদের বাধ্য করতে ইসরায়েলের উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে। ফাঁস হওয়া চিঠিটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীরা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, যাতে জাতিগত নির্মূল ও ভবিষ্যতে অঞ্চলটিকে সংযুক্ত করার রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যায়। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, এটি কেবল সেনাবাহিনী বা পুলিশের ব্যর্থতা নয়; বরং সরকারের একটি সুস্পষ্ট নীতির অংশ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে দিচ্ছে, যাতে ইহুদি উগ্রপন্থীদের সহিংসতা অব্যাহত থাকে। চিঠিতে উনিশ ও বিশ শতকে পূর্ব ইউরোপে ইহুদিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হামলার সঙ্গেও তুলনা টানা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী অনেক ক্ষেত্রে এই সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে, এমনকি কিছু ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণও করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ইউনিটের সদস্য, আংশিক সামরিক পোশাকধারী ব্যক্তি এবং সেনাবাহিনী বা জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় থেকে অস্ত্র পাওয়া লোকজনও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) স্পষ্ট নীতি হলো ইহুদি সন্ত্রাসবাদের অপরাধগুলো উপেক্ষা করা। বহু ঘটনায় আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই এসব অপরাধে জড়িত।’ জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত এক হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের অন্তত এক-চতুর্থাংশ শিশু। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট ও এহুদ বারাক। এছাড়া সাবেক প্রতিরক্ষা ও বিচারমন্ত্রী, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, শিন বেত এবং পুলিশের সাবেক প্রধানসহ ৩০ জনের বেশি সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এতে সই করেছেন। রাজনীতি ও নিরাপত্তা খাতের বাইরে সইকারীদের মধ্যে রয়েছেন খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক ডেভিড গ্রসম্যান, নোবেলজয়ী রসায়নবিদ ডেভিড কর্নবার্গ, একজন অস্কারজয়ী এবং ইসরাইল পুরস্কারপ্রাপ্ত ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এছাড়া সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল, বিচারক, সরকারি আইন উপদেষ্টা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, র‌্যাবাই (ইহুদিদের ধর্মীয় গুরু বা শিক্ষক) এবং সাবেক রাষ্ট্রদূতেরাও চিঠিতে সই করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সহিংসতা-বিরোধী বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়, যদি তার সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপ না থাকে। স্বাক্ষরকারীরা বিশেষ করে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর প্রধান কমান্ডার জেনারেল আভি ব্লুথের কাছে জানতে চেয়েছেন, ‘যখন এসব উগ্রপন্থীর পরিচয় ও অবস্থান আপনাদের জানা এবং তাদের সংখ্যা কয়েকশ বলে ধারণা করা হয়, তখনও কেন তাদের দমন করা সম্ভব হচ্ছে না?’ চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আর্থিক, রাজনৈতিক ও আইনি সহায়তার মাধ্যমে সরকার কার্যত দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি করেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রায়ই একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে হামলাকারীদের বিচারের বাইরে রাখছে। নেতানিয়াহুর গত বছরের একটি মন্তব্যও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে ‘কয়েক ডজন কিশোরের কাজ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। স্বাক্ষরকারীদের মতে, এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। চিঠিতে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, সেনাপ্রধান ইয়াল জামির, শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি এবং পুলিশ কমিশনার ড্যানিয়েল লেভির ভূমিকাকেও প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে এই চিঠি সম্পর্কে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনী কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে অপ তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিনি. সাংবাদিক সুমন চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে অপ তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিনি. সাংবাদিক সুমন চৌধুরী

গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি, অপপ্রচার এবং পেশাদার সাংবাদিকদের হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির সভাপতি মোঃ সুমন চৌধুরী।

বক্তব্যে সুমন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে গণমাধ্যম জনগণের কণ্ঠস্বর ও গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সাংবাদিকতা পেশায় ছোট-বড় কোনো বিভাজন নেই; বরং সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতাই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি চাঁদাবাজি ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একশ্রেণির সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। এদের অনেকেই সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।

সম্প্রতি সাংবাদিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে, তিনি সংগঠন ও মূলধারার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, গাজীপুরের বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ও পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন মন্তব্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ অবস্থায় গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যদি কোনো ধরনের সাংগঠনিক দুর্বলতা না থাকে, তাহলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এতে সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে এবং অপপ্রচারের প্রবণতাও কমবে।

তবে বক্তব্যে সতর্ক করে বলা হয়, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি সাংবাদিকদেরও নিজেদের আচরণ ও পেশাগত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সাংবাদিকতার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে। একজন প্রকৃত সাংবাদিক কখনো ব্যক্তি বা সংগঠনের অযথা বদনাম করেন না; বরং তার সততা ও কর্মই তাকে মূল্যায়নের মাপকাঠি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

পরিশেষে, দেশের সকল সৎ ও পেশাদার সাংবাদিককে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সত্য প্রকাশ এবং নৈতিক সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তব্যে বলা হয়, “সত্য সবসময়ই সত্য। মিথ্যা ও অপপ্রচার সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পরিবেশ দুষনে সরকারসহ সবাই দায়ী

পরিবেশ দুষনে সরকার ও ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষসহ সকলেই দায়ী: ফরিদুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ পি.এম


পরিবেশ দুষনে সরকার ও ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষসহ সকলেই দায়ী: ফরিদুল ইসলাম

পরিবেশ দূষণে সরকার ও ফ্যাক্টরীর মালিকসহ আমরা সবাই দায়ী। বিগত সরকারের ১৫ বছর কি করেছে তা নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে। শিল্প কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য খাল, নদী ও কৃষকের জমিতে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। কৃষকরা ফসলী জমিতে কারখানার বর্জ্য বন্ধ করতে আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়েছেন। আর কোন শিল্পের বর্জ্য যাতে নদী, খাল বিল ও কৃষকের জমিতে না যায় সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

পানি দূষণ বন্ধে ইটিপির ব্যবহার খুবই জরুরী। আমরা চেষ্টা করবো যেন নতুন করে মিল কারখানার কোনো দূষিত বর্জ্যের পানি আশপাশের কৃষকের জমিতে না যায়। এ জন্য কারখানার এলাকায় টিম গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। গতকাল বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা পরিষদের হল রুমে পরিবেশ দূষনের ক্ষতিকর ও উত্তরণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভালুকার শিল্পাঞ্চলের আশেপাশে যত প্রাণ প্রকৃতি রয়েছে বিশেষ করে পানির সাথে সম্পৃক্ত প্রায় সবই বিলীনের পথে। কারণ আজকে যে জায়গা পরিদর্শন করেছি, সেখানে কারখানার আশপাশের এলাকায় দূষিত বর্জ্যে সয়লাব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভরাডোবা এলাকার এক্সপেরিয়েন্স, হ্যারী ফ্যাশন ও মুলতাজিম নামের তিনটি কারখানার কারণে আশপাশের প্রায় সাড়ে তিনশত একর জমি দূষিত বর্জ্যের কারণে অনাবাদি রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক হাজার পরিবারের লোকজন। এসব কারখানার লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। কারখানার দূষিত বর্জ্যের নির্গত পানির নালাগুলো আজকের মধ্যে সীলগালা করে দিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে, তখন ওই সব কারখানা বন্ধের হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই কারখানার দূষিত বর্জ্যে খাল, নদী, আশপাশের জমিসহ কোনো জলাশয়ে যেন ফেলা না হয়। আমরা চাইনা কোনো পক্ষের প্রতিপক্ষ হতে। এখানে ডায়িং ফ্যাক্টরি সহ অন্যান্য যে সব শিল্প কারখানা রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই কেমিক্যাল ব্যবহার করেছে। এগুলো কোনো অবস্থাতেই অপরিশোধিতভাবে নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ে ফেলা যাবে না। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ রাখার জন্য। এ ক্ষেত্রে পরিবেশের কর্মকর্তারা যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে তাদেরকে আমরা এখানে রাখবো না। অবশ্যই পরিবেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে আরেকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, যিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এত সুন্দর সুজলা, সুফলাল এই জনপদকে বিরামহীন করা যাবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এতটুকু বলবো প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা যে দিয়েছেন, তার আলোকে যত তথ্য উপাত্ত আছে সেগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরবো এবং আন্তঃমন্ত্রণালয়ে আলোচনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো ফিরোজ হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা শাখার সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান পাঠান কামাল, উপজেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান রাসেল, কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমীন, মো. শামছুদ্দিন মন্ডল, মোহাইমেনুল ইসলাম তালুকদার, আবুল বাশারসহ এক্সপেরিয়ন্স কারখানার আইন উপদেষ্টা এজাজ উদ্দিন এবং মুলতাজিম মিলের প্রতিনিধি পুলকময় মজুমদার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষিকাকে মারধর ছাত্রের, ধামাচাপার চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


শিক্ষিকাকে মারধর ছাত্রের, ধামাচাপার চেষ্টা

জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পবিত্র বিদ্যাপীঠটি এখন এক আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে। যেখানে শিক্ষার আলোর প্রসার ঘটানোর কথা, সেখানেই ঘটেছে একটি লজ্জার ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদী শিক্ষিকা নজমুন নাহার নাহিদকে মারধর ও হেনস্তা করে।

রবিবার (২১ জুন) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনার অবকাশ ঘটে। ঘটনার খবর রটানোর পর বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেননি অনেকে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সালিশের অ্যাভিনিউর মাধ্যমে এই পরিস্থিতি ধামাচাপা দেওয়ার কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।

জানা যায়, ধলাপাড়া ইউনিয়নের শহর গোপিনপুর আষাঢ়িয়া চালা ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নজমুন নাহার নাহিদ প্রতিদিনের মতো রবিবার বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। ওই দিন ক্লাস চলাকালীন সময়ে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার নাহিদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে। অভিযুক্ত মেহেদির বাবা ছবুর মিয়া সেই বিদ্যালয়ের দপ্তরি, এবং বাবার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া আচরণ করছে মেহেদী। ঘটনার তিন দিন পর সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে একটি প্রভাবশালী মহল দ্বারা। এতে এলাকার লোকজনের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এলাকাবাসীরা দাবি করছেন, একজন শিক্ষকের ওপর এমন আক্রমণ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আঘাত। এই ধরনের ঘটনার যথাযথ বিচার না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকিতে পড়তে পারে। এ ঘটনার কারণে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষকের মর্যাদার ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। এই বিষয়ক প্রচণ্ড ক্ষোভ এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী এবং স্থানীয়রা সঠিক বিচার দাবি করেছে। পরবর্তীকালে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করার চেষ্টা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করে, শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চায়।

শিক্ষিকা নজমুন নাহার নাহিদ জানান, তাঁর সঙ্গে যা ঘটেছে তা কোনো শিক্ষক মেনে নিতে পারবেন না। তিনি ঘটনার সঠিক বিচার চেয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্ত ছাত্রকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশে অভিযুক্ত ছাত্রকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
শেরপুরে

কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা বিষয়ে কনসালটেশন অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা বিষয়ে কনসালটেশন অনুষ্ঠিত

শেরপুরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বিশেষ কার্যক্রম ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের দ্বিতীয় কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) শেরপুর সদর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম।

জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ আলাউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন এবং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে ৬ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৭৪ জন প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে বিসিক, বিভিন্ন উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

এই সময়, প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল, শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সম্মানিত অধ্যক্ষ জনাব জহিরুল ইসলাম, টিটিসির সম্মানিত অধ্যক্ষ পীযুষ কান্তি সরকার, শেরপুর চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতিসহ ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা, বিসিক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ/প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%