প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পবিত্র বিদ্যাপীঠটি এখন এক আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে। যেখানে শিক্ষার আলোর প্রসার ঘটানোর কথা, সেখানেই ঘটেছে একটি লজ্জার ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদী শিক্ষিকা নজমুন নাহার নাহিদকে মারধর ও হেনস্তা করে।
রবিবার (২১ জুন) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনার অবকাশ ঘটে। ঘটনার খবর রটানোর পর বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেননি অনেকে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সালিশের অ্যাভিনিউর মাধ্যমে এই পরিস্থিতি ধামাচাপা দেওয়ার কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।
জানা যায়, ধলাপাড়া ইউনিয়নের শহর গোপিনপুর আষাঢ়িয়া চালা ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নজমুন নাহার নাহিদ প্রতিদিনের মতো রবিবার বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। ওই দিন ক্লাস চলাকালীন সময়ে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার নাহিদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে। অভিযুক্ত মেহেদির বাবা ছবুর মিয়া সেই বিদ্যালয়ের দপ্তরি, এবং বাবার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া আচরণ করছে মেহেদী। ঘটনার তিন দিন পর সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে একটি প্রভাবশালী মহল দ্বারা। এতে এলাকার লোকজনের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এলাকাবাসীরা দাবি করছেন, একজন শিক্ষকের ওপর এমন আক্রমণ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আঘাত। এই ধরনের ঘটনার যথাযথ বিচার না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকিতে পড়তে পারে। এ ঘটনার কারণে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষকের মর্যাদার ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। এই বিষয়ক প্রচণ্ড ক্ষোভ এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী এবং স্থানীয়রা সঠিক বিচার দাবি করেছে। পরবর্তীকালে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করার চেষ্টা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করে, শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চায়।
শিক্ষিকা নজমুন নাহার নাহিদ জানান, তাঁর সঙ্গে যা ঘটেছে তা কোনো শিক্ষক মেনে নিতে পারবেন না। তিনি ঘটনার সঠিক বিচার চেয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্ত ছাত্রকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশে অভিযুক্ত ছাত্রকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন