০৫:৪১ পি.এম
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় সরকারি খাস জমি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে নামজারি করার চেষ্টার অভিযোগে পলাশ চন্দ্র দাস নামক এক ব্যক্তিকে আটক করেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। আটককালে নামজারির কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে এক কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। প্রশাসন এটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করছে।
রোববার (১২ জুলাই) শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানির সময় তাকে আটক করা হয়। পরে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
ভূমি প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আটক পলাশ চন্দ্র দাস ৭১ নম্বর কেরানিবাট মৌজার সরকারি ১/১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৪১১ শতাংশ খাস জমির নামজারির আবেদন করেছিলেন। আবেদনটি অনলাইনে আপিলের মাধ্যমে দাখিল করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যার ২৪ ঘণ্টা পর স্ত্রীর মামলা, আসামি ৮ জনই অজ্ঞাত
শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা জানান, একই জমি নিয়ে এর আগে তিনবার আবেদন করা হলেও জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিবারই তা নামঞ্জুর হয়ে যায়। সর্বশেষ আবেদনের শুনানির জন্য আবেদনকারীকে মূল কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে বলা হয়।
তিনি বলেন, “শুনানিতে আবেদনকারী যে এসএ খতিয়ান উপস্থাপন করেন, যাচাই-বাছাই করে সেটিকে সম্পূর্ণ জাল বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া, যে ব্যক্তির ওয়ারিশ দাবি করে জমির মালিকানা চাওয়া হয়েছে, এসএ খতিয়ানে ওই ব্যক্তির কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও জানান, আবেদনকারী যে দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করেছেন, তা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়। সেখানে মূল দলিলের দাতা ও গ্রহীতার তথ্যের সঙ্গে উপস্থাপিত কাগজপত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে উপস্থাপিত দলিল, খতিয়ান, স্বাক্ষর ও সিলমোহর—সবই জাল বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জাল দলিল ও খতিয়ান তৈরির সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ৪ দিন পর ১১ বছরের শিশু ফাহিমকে উদ্ধার করলো পুলিশ
তিনি জানান, ঘটনাটি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-এর ৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য শিবচর থানায় লিখিতভাবে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে শিবচর পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, পলাশ চন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে নামজারির বিষয়টি তদবির করে আসছিলেন। একপর্যায়ে নামজারির কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে তাকে এক কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেন। এই বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে তাদের নির্দেশনায় আবেদনকারীকে শুনানিতে ডাকা হয়। পরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাকে আটক করা হয়।
উপজেলা ভূমি প্রশাসন জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত পুরো জালিয়াত চক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কলেজ শিক্ষক মোসাদ্দেক হাসানের মৃত্যু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন