০৫:৪৪ পি.এম
বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভবনের বারান্দার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে পাঁচ বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরের সময় জেলা জজ আদালতের কচুয়া আদালতের এজলাস-সংলগ্ন বারান্দায় এই ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হাবিবুল্লাহ শেখ, তার বাবা মো. সিরাজ শেখ, সুমন দাস, হৃদয় হাওলাদার ও মোতালেব অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাঁদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করে বারান্দার ছাদের একটি অংশের পলেস্তারা ভেঙে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বিচারপ্রার্থীদের ওপর পড়ে যায়। এর ফলে পাঁচজন আহত হন। এ সময় ছাদের ভেতরের রডও বেরিয়ে আসে, যা ভবনের ওই অংশে আরো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আহত সুমন দাস ও হৃদয় হাওলাদার বলেন, তারা আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় আচমকাই ছাদের পলেস্তারা তাঁদের ওপর খসে পড়ে। এটি তাদের মাথায় আঘাত করেছে এবং অন্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে এবং অন্যদের ঘাড় ও পায়ে আঘাত লেগেছে। তবে সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। বাগেরহাট জেলা জজ আদালতের নাজির অমিত কুমার জানান, ‘ঘটনার বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে ভবনটি ব্যবহার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে।’ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এম মাহাবুব মোর্শেদ লালন উল্লেখ করেন, ‘জেলা জজ আদালতের নিচ তলায়, যেখানে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের আদালত পরিচালিত হয়, সেই অংশের কচুয়া আদালতের সামনের বারান্দার ছাদের পলেস্তারা হঠাৎ খসে পড়ে। এতে সেখানে অপেক্ষমাণ কয়েকজন বিচারপ্রার্থী আহত হন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিনতলা ভবনটি অনেক পুরোনো। এই ভবনে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং একাধিক স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভবনটির সংস্কার প্রয়োজন। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন