বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৬ পি.এম
গ্রামের নিরীহ ও সাধারণ নারীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার নামে আইরিশ (চোখের ছাপ), আঙুলের ছাপ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মতো সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই তথ্যের অপব্যবহার করে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে এসব নারীরা।
সম্প্রতি, দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়ের হওয়া সাইবার ও প্রতারণা মামলায় ঝিনাইদহের নারীদের নাম ও পরিচয় অনুসন্ধানের চিঠি পৌঁছানোর পর পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কিছুদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার দোহাই দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। সাধারণ নারীরা এটিকে স্বাভাবিক সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ভেবে নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে দেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সামনে আসে আসল প্রতারণার চিত্র।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন থানার একটি সাইবার মামলায় ঝিনাইদহ সদরের রামচন্দ্রপুর এলাকার জাহানারা বেগমের নাম উঠে আসে এবং সাতক্ষীরার তালা থানার একটি মামলায় একইভাবে হলিধানী এলাকার নাছিমা খাতুনের পরিচয় ও পুলিশ রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য পিবিআই থেকে ঝিনাইদহ সদর থানায় অনুসন্ধান স্লিপ পাঠানো হয়। এর পরেই মূলত জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
হলিধানী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুরের জামিলা খাতুন, সোনিয়া খাতুন, রহিমা খাতুন ও আব্দুল হকসহ একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, কেবল এই দু-এক জন নন, এলাকাটির প্রায় ৩০০ নারীর কাছ থেকে একইভাবে চোখ ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী রহিমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা কখনো বিকাশ বা নগদ দিয়ে কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি। স্বাস্থ্যসেবার নামে তাদের তথ্য নিয়ে এখন কীভাবে অন্য জেলার মামলায় তাদের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে, তা ভেবে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করে স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম বাবু জানান, একটি সুসংগঠিত চক্র এই ডিজিটাল তথ্য হাতিয়ে নিয়ে আর্থিক জালিয়াতি চালাচ্ছে এবং নিরীহ মানুষকে আইনি জটিলতায় ফেলছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বুধবার দুপুরে জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য জানা যাবে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি জানান, বাড়িতে গিয়ে অপরিচিত কেউ যদি জাতীয় পরিচয়পত্র, চোখের বা আঙুলের ছাপসহ ব্যক্তিগত তথ্য চায়, তবে তা কোনো অবস্থাতেই যেন দেওয়া না হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ‘অপ্রত্যাশিত’ সম্পর্ক নিয়ে এবার বক্তব্য রেখেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। সম্প্রতি তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘জিমি কিমেল লাইভ!’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
গত সপ্তাহে মেয়রের সরকারি বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশন’-এ ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় মামদানির।
এই বৈঠকটি ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঘটেছে, যখন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক মেয়রের বাসভবনে গিয়েছেন। বৈঠকের পর ট্রাম্প মামদানির প্রশংসা করে মন্তব্য করেন যে, তিনি খুব ভালো কাজ শুরু করেছেন এবং সফল মেয়র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, এই বৈঠকটি অনেককে অবাক করেছে। কারণ মামদানি একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট (সমাজতান্ত্রিক দলনেতা), আর ট্রাম্প তার রাজনৈতিক সভায় সমাজতন্ত্রের তীব্র সমালোচনা করে থাকেন।
টেলিভিশন শো-তে সঞ্চালক জিমি কিমেল রসিকতা করে জানতে চান, ‘আপনাদের কি শুরুতেই ভালো জমে গিয়েছিল? নাকি প্রেসিডেন্টকে পটিয়ে নিজের দিকে টানার জন্য আপনি কোনো কৌশল ব্যবহার করেছেন?’
মেয়র মামদানি উত্তরে বলেন, ‘না ভাই, একদমই তা নয়। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার অনেক বিষয়ে বড় বড় মতবিরোধ রয়েছে।’
মামদানি জানান, তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল নিউইয়র্ক শহরের উন্নয়ন। তারা দুজনেই নিউইয়র্ক শহরকে ভালোবাসেন এবং আলোচনাটি শুধুমাত্র শহরের মানুষের স্বার্থে সীমাবদ্ধ ছিল।
কিমেল জানতে চান, তারা কি একে অপরকে টেক্সট বা মেসেজ করেন? মামদানি জবাবে বলেন, ‘হ্যাঁ, মাঝে মধ্যে কথা বা বার্তা লেনদেন হয়। তবে সেটা সানিসাইড ইয়ার্ড আবাসন প্রকল্প এবং শহরের মানুষের কাছে কাজের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার বিষয় নিয়ে।’
কথোপকথনের এক পর্যায়ে কিমেল বলেন, ‘তাহলে ট্রাম্পকে এখনই আমাদের একটা সেলফি তুলে পাঠিয়ে দিন!’
মেয়র সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘জিমি, আমি তোমাকে ভালোবাসি ঠিকই, কিন্তু আমি নিউইয়র্কের মানুষের আবাসন বা থাকার ব্যবস্থাকে আরও বেশি ভালোবাসি।’
এভাবে মেয়র মামদানি স্পষ্ট করে দিলেন যে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্প-কিমেলের পুরোনো শত্রুতা নিয়ে টিভি শো-তে মজা করার চেয়ে নিউইয়র্কবাসীর জন্য কাজ আদায় করে নেওয়াটাই তার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশেন বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে র্যাংকিং প্রকাশ করেছে। ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং ২০২৭’ শীর্ষ এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থান হয়নি। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় চমক দেখিয়েছে।
টাইমস হায়ার জানায়, শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত, গবেষণার মান, সাইটেশন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে বিশ্বের ১১৮টি দেশের ২,২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটকে টপকে তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৮০০ থেকে ১০০০-এর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা থেকে এই তথ্য জানা যায়। তালিকায় দেশের মোট ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।
র্যাংকিং বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তালিকায় ৮০১ থেকে ১০০০ র্যাংকের মধ্যে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)।
১০০১ থেকে ১২০০ র্যাংকে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি (ব্র্যাক), গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি), ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি), যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)।
১২০১ থেকে ১৪০০ র্যাংকে অ্যালফাবেটিক অনুযায়ী যৌথভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) নাম রয়েছে।
১৪০১ থেকে ১৬০০ র্যাংকে অ্যালফাবেটিক অনুযায়ী যৌথভাবে রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।
১৮০১ থেকে ২০০০ র্যাংকে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (ইডব্লিউইউ) এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)।
এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য যে, টাইমস হায়ার এডুকেশন বিভিন্ন মানসম্মত পারফরম্যান্স সূচক ব্যবহার করে শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণা শ্রেষ্ঠত্ব, ইন্ডাস্ট্রি সংযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা এই পাঁচটি ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং সম্পন্ন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাধারণ সম্পাদক মো. রিজভীর বিরুদ্ধে এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জেলা ছাত্রদল মো. রিজভীকে বহিষ্কার করেছে। পুলিশ জানায়, কলেজ ছাত্রীকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বহিষ্কৃত মো. রিজভী (২৪) শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে, যেখানে রিজভী, তার বাবা মনির হোসেন এবং মা নিলুফা আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থীকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই উত্যক্ত করতেন রিজভী। বিষয়টি জানার পর ছাত্রীর পরিবার রিজভীকে শাসন করে। কিন্তু রিজভী উত্যক্ত করা বন্ধ করেনি। এরপর ছাত্রীর পরিবার রিজভীর মা নিলুফা বেগম ও বাবা মনির হোসেনকে বিষয়টি জানালে তারা রিজভীকে কোনো শাসন না করেই ছাত্রীর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান, যা ছাত্রীর পরিবার ফিরিয়ে দেয়।
বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে রিজভী ক্ষুব্ধ হন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজ ছাত্রী তার বাসার সামনে দোকানে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে রিজভী আগে থেকেই কয়েকজন সহযোগী নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। কলেজ ছাত্রী দোকানের সামনে যেতেই রিজভী তাকে টানাহেঁচড়া করে গাড়িতে তুলে জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যান।
এ ঘটনার পরপরই গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সরকার মো. রাকিব হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে রিজভীকে পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
রিজভীর বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল জনি বলেন, "দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় রিজভীকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।"
মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, সোমবার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কলেজ ছাত্রীর স্বজনদের দেখানো অনুযায়ী প্রত্যেকটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করতে অভিযান চালাচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) নিশ্চিত করেছে যে, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে কোনো ঘাটতি দেখা দেবে না।
চাহিদার ভিত্তিতে আগামী দুই মাসে মোট ১৯ কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরে ১০ কার্গো এবং নভেম্বরে ৯ কার্গো এলএনজি দেশে আসবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যে, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এলএনজিবাহী কার্গো নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। মোট ১৯ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গ্যাস নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।
তিনি বলেন, 'আমরা ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে পরবর্তী তিন মাসের জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। ফলে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা থাকবে না।'
পেট্রোবাংলা জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে। এলএনজি আমদানি, কার্গো শিডিউলিং, চুক্তি নেগোসিয়েশন ও বাস্তবায়ন এবং টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে মোট ১৯ কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত হয়েছে। অক্টোবরে ১০ কার্গোর মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো আনা হবে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ২ কার্গো আসবে এবং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৫ কার্গো আনা হবে।
নভেম্বরে ৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৬ কার্গো এবং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৩ কার্গো আসবে। এসব কার্গো যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কেনা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এসব কার্গো দেশে আসবে এবং পরে তা জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি থাকে। এই হিসাবে, অক্টোবর ও নভেম্বরের ১৯ কার্গোতে মোট প্রায় ৬ কোটি ৮ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি নিশ্চিত হয়েছে।
আমদানি করা এলএনজি প্রথমে সমুদ্রপথে দেশের এলএনজি টার্মিনালে আসে। সেখানে এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করা হয়, যা পুনঃগ্যাসীকরণ হিসেবে পরিচিত। পুনঃগ্যাসীকরণের পর গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান জানান, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের জন্য মোট ১৯ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে কেনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিশ্চিত হওয়া কার্গোগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি কার্গো রয়েছে। পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও কার্গো কেনা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী আমদানি নিশ্চিত হওয়ায় আগামী কয়েক মাস এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।
পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আমদানি করা এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণের পর জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। পরে এই গ্যাস দেশের বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হয়।
আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার এনার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে।
এছাড়া, ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায়ও বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করছে। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ