০২:৩৩ পি.এম
ইসরাইলের রাজনীতিতে সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিয়োগ পাওয়া সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট এখন তার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। চ্যানেল-১২ এর একটি জরিপে হাইলাইট করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপযুক্ত কে তা নিয়ে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা আইজেনকটের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেছেন ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা।
অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠেছেন। এক সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটকে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হলেও, এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছেন গাদি আইজেনকট। সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, তার দল ‘ইয়াশার’ ক্ষমতাসীন লিকুদের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
এইজেনকটের দল, যা এক বছরেরও কম সময় আগে গঠন করা হয়েছে, এখন জনমত জরিপে দ্রুত এগোচ্ছে। ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল-১২ এর করা জরিপে দেখা যাচ্ছে যে, নেসেটে লিকুদ পেতে পারে ২৩টি আসন। আর গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পেতে পারে ২১টি আসন। এছাড়া বেনেট-লাপিদ জোট এতে ১৮টি আসন পেতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিল গেটসের ৭১তম জন্মদিনে দানের ঘোষণা, সম্পদের প্রায় সবটাই মানবকল্যাণে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন– এমন প্রশ্নের উত্তরে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা এইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছেন ৩৬ শতাংশ। অন্যান্য জরিপেও প্রায় একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে, যা দীর্ঘদিন পর নেতানিয়াহুকে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এইজেনকটের জনপ্রিয়তার প্রভাব পড়েছে নেতানিয়াহুর দলের ওপর। সম্প্রতি, সামাজিক মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করে লিকুদ পার্টি দাবি করে যে, আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া আইজেনকট সরকার গঠন করতে পারবেন না। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর দল আবারও অ্যান্টি-আরব ইস্যুকে সামনে আনছে।
২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইসরাইলের সেনাপ্রধান হিসেবে ছিলেন এইজেনকট। পরে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য হন। তবে গাজা যুদ্ধের কৌশল নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রিসভা ছাড়তে বাধ্য হন। যুদ্ধে নিজের ছেলে ও দুই ভাতিজাকে হারানোর ঘটনাটি তার প্রতি জনসমর্থন প্রচুর বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও এইজেনকটের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, তবে সরকারের গঠনকে কেন্দ্র করে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ইসরাইলের বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন মতাদর্শের দল নিয়ে জোট গঠন করাটা সহজ হবে না এমনটাই মনে করছেন তারা।
আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন