১১:০৮ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবিকা বা নার্স মোর্শেদাকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আদেশের কথা জানানো হয়েছে।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনও।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বিশারাবাড়ি এলাকার দুই শিশু, আবদুল্লাহ (৪) ও খাদিজা (৩), বিড়ালের কামড়ে আহত হলে তাদের চাচা সাব্বির শিশুদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার সময় নার্স মোর্শেদা আক্তার ২০০ টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সরকারি হাসপাতালে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই নার্স তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একসময় রোগী ও স্বজনদের কক্ষে আটকে রাখেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল
বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যরা জানতে পারলে, তখনও তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নার্স মোর্শেদা আক্তার রোগীর স্বজনদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ‘১০০ টাকা কি আপনার জন্য বেশি হয়ে যায়? আপনি দেন দেন বলছেন, আমি তো ভাবছি আপনি টাকা দেবেন। কিন্তু কেন আপনি টাকা দিচ্ছেন না?’
মোর্শেদাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ইনজেকশন দেওয়ার নিয়ম নেই। আপনি তাহলে নীচ থেকে কেন দিয়ে আনলেন না? আমি যে দিয়ে দিলাম এটার কোনো মানবতা নাই? আপনি টাকা দেবেন বলে তো দেন নাই।’ এক পর্যায়ে তাদেরকে চলে যেতেও বলা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুদের চাচা সাব্বির বলেন, ‘ভাতিজা ও ভাতিজিকে বিড়াল কামড় দিলে রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাই। শুরুতে টিকা দিতে কিছুটা অনীহা দেখান ওই নার্স। পরে অনুরোধের পর টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু টিকা দেওয়ার পরপরই তিনি ২০০ টাকা দাবি করেন। আমরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আজেবাজে কথা বলতে শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে আমাদের আটকে রাখেন। ভাই এসে টাকা দেবে বললেও তিনি রাজি হননি।’
আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। ইতোমধ্যে ওই নার্সকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় মামলা হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া সাংবাদিকদেরকে বলেছেন, ‘অভিযুক্ত নার্সকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন