প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সৈন্যরা একটি সাত মাস বয়সী ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা আহত হয়েছেন। থামার আদেশ মেনে চলার পরও পরিবারটির গাড়িতে গুলি চালায় তারা।
শুক্রবার (৫ জুন) হেবরনের তেল রুমিদা এলাকায় শিশুটি ও তার বাবা-মাকে বহনকারী একটি গাড়ির ওপর ইসরাইলি সেনারা গুলি চালায়। সাত মাস বয়সী স্যাম ফাহদ আবু হাইকাল গুরুতরভাবে আহত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে সে মারা যায়। তার বাবা-মাও আহত হন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, সৈন্যরা ভেবেছিল ওই গাড়িটি তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। এজন্য তারা গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আহতরা ছিলেন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এমন বেসামরিক নাগরিক।
এদিকে, ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজ-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে, নিহত শিশুর বাবা এবং বেথলেহেম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ফাহদ আবু হাইকাল বলেন, ‘একটি গুলি তার হাত ভেদ করে পেছনের আসনে মায়ের কোলে থাকা তার ছেলে স্যামকে আঘাত করে।’
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের পরিবার হেবরনের ভেতর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় সৈন্যরা গাড়িটিকে থামার সংকেত দেয়।
ওই গাড়িতে তাদের ১১ বছর বয়সী আরেকটি ছেলে এবং আবু হাইকালের মাও ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘তখনও দিনের আলো ছিল এবং যে সৈনিক গুলি চালিয়েছিল সে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিল যে গাড়ির ভেতর আমরা ছিলাম। সৈনিকটি আমাকে থামার জন্য ইশারা করেছিল। আমি গাড়িটি পুরোপুরি থামিয়ে স্টিয়ারিং হুইলে হাত রাখি। এর ঠিক পরেই, তারা গাড়িটির ওপর গুলি চালায়।’
তবে, ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, ‘সৈন্যরা তাদের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসা একটি গাড়ি দেখতে পায় এবং একজন সৈনিক গাড়িটি লক্ষ্য করে একটি গুলি চালিয়ে জবাব দেয়। এর ফলে তারা তিনজন ফিলিস্তিনি আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাদের সরিয়ে নেয়া হয়, ঘটনাটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং এ ঘটনায় বেসামরিক ব্যক্তিদের ক্ষতি হওয়ায় তারা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।’
তবে, আবু হাইকাল সেনাবাহিনীর এই বিবরণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
‘সৈনিকটি আমার থেকে প্রায় ১০ মিটার দূরে ছিল। সে আমাকে, আমার স্ত্রী ও সন্তানদের দেখেছিল, গাড়ির জানালাগুলো রঙিন ছিল না, তখন ছিল দিনের আলো এবং সবকিছু পরিষ্কার ছিল। আপনি বলতে পারেন না যে, সে দেখেনি যে ওটা একটা পরিবার ছিল।’ বলেন হাইকাল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন