১০:০৭ পি.এম
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যখন তীব্র পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই মস্কোর অন্যতম মিত্র দেশ সার্বিয়ায় আকস্মিক সফরে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভে রাশিয়ার প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ইউক্রেনের নিজস্ব প্যাট্রিয়ট মিসাইল তৈরির কাজ আটকে আছে।
শুক্রবার সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে পৌঁছান জেলেনস্কি। গত আট বছরের মধ্যে এটিই কোনো ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের প্রথম সার্বিয়া সফর। শনিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিক ইউক্রেনকে ‘বন্ধুপ্রতিম জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপ সত্ত্বেও, রাশিয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না দিলেও, ভুসিক স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বিয়া ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে এবং এই অবস্থান বদলাবে না। এ সময় দুই নেতা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিস্তারের উপায় নিয়েও আলোচনা করেছেন।
এদিকে, শুক্রবার রাতে কিয়েভ এবং এর আশপাশের অঞ্চলে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। তারা ৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ১৫১টি ড্রোন ছুড়েছে, যার মধ্যে ১৩৫টি ভূপাতিত করার দাবি ইউক্রেন করেছে। হামলায় কিয়েভের উত্তর-পূর্বে ব্রোভারি এলাকায় একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধংস হয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশু ও তার দাদা-দাদিসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাজশাহীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিনুর ৬ দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে এই হামলার কথা উল্লেখ করে জেলেনস্কি জানান, ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করার একমাত্র অস্ত্র ‘প্যাট্রিয়ট’-এর সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে এই মিসাইলের মাসিক সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট তৈরির অনুমতি দিলেও লাইসেন্স ও কাগজপত্রের মারপ্যাঁচে তা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে মিসাইল লঞ্চারগুলোতে আঘাত হানতে ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহারের অনুমতি চাইছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত মাসেও রাশিয়ার ছোড়া প্রায় ৯,০০০ ড্রোন ও মিসাইলের মধ্যে ৫,৩০০টি ভূপাতিত করেছে ইউক্রেন।
অন্যদিকে, রুশ হামলার শক্ত জবাব দিচ্ছে ইউক্রেনও। ইউক্রেনীয় বাহিনীর দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ৮০০ কিলোমিটার ভেতরের ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি এবং সামারা অঞ্চলের সিজরান তেল শোধনাগার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় রাশিয়ায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের এমন ধারাবাহিক হামলার কারণে রাশিয়ায় এখন চরম জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা ক্রেমলিনের জন্য বেশ অস্বস্তিকর।
আরও পড়ুন: রাজনীতিবিদদের জনকল্যাণমুখী রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন