১০:১৯ পি.এম
বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সালকে ঘিরে কথিত ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে আবার শুরু হয়েছে আলোচনা। এই অন্ধ বুলগেরীয় নারীর অনুসারীদের দাবি, চলতি বছরের জন্য তার করা পাঁচটি পূর্বাভাসের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিলে গেছে। অন্যদিকে, বাকি তিনটি পূর্বাভাসের ব্যাপারে চলছে নানা জল্পনা।
যে দুটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার মধ্যে প্রথমটির সম্পর্ক রয়েছে বিশ্বের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের। গত মার্চ মাসে মিয়ানমারে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের সঙ্গে ভক্তরা একে মিলিয়ে দেখছেন। এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। এছাড়া, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস এবং ইতালির দাবানল ও তাপদাহ, পাশাপাশি এশিয়ার বন্যা ও আমেরিকার ভয়াবহ ঝড়ের ঘটনাকেও তারা এর প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই পূর্বাভাসে কখন এবং কোথায় এসব দুর্যোগ ঘটবে তার কোনও স্পষ্ট বিবরণ ছিল না। কারণ, প্রতি বছরই ভূমিকম্প, বন্যা এবং ঝড় হয়, যা একটি অস্পষ্ট ধারণাকে যেকোনও ঘটনার সঙ্গে মেলানো সহজ করে তোলে।
আরও পড়ুন: কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা
দ্বিতীয় দাবিটি কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে। ভক্তদের মতে, যন্ত্র মানুষকে ব্যাপকভাবে প্রতিস্থাপন করবে বলেই বার্তা দিয়েছিলেন baba ভাঙ্গা। তবে এআই কয়েক দশক ধরেই বিকশিত হচ্ছে এবং তিনি ঠিক কখন বা কী বলেছিলেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য রেকর্ড নেই।
আরও পড়ুন। ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে ইসরায়েলিরা। নভেম্বরে বিশাল মহাকাশযান ও এলিয়েনদের সঙ্গে যোগাযোগ।
বাকি তিনটি দাবির মধ্যে একটি ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন সম্পর্কিত। কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর ব্যাখ্যা ছাড়া, বলা হচ্ছে, বায়ুমণ্ডলে একটি ‘বৃহৎ মহাকাশযান’ প্রবেশ করলেই মানবজাতি এলিয়েনদের মুখোমুখি হবে। আগামী নভেম্বর মাসকে সুনির্দিষ্ট সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এ বিষয়ে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ইউএফও সম্পর্কিত গোপন নথি প্রকাশের পর এসব দাবি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) এমন একটি ফাইল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেগুলো ভিনগ্রহের যান, পরে সেগুলো ড্রোন, বেলুন বা আবহাওয়া সংক্রান্ত বিষয় হিসেবেও প্রমাণিত হতে পারে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাভাসের মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালেই শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, যেখানে চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করবে এবং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রত্যক্ষ যুদ্ধে রূপ নেবে। তবে ৭ আগস্ট পর্যন্ত এর কোনটিই ঘটেনি। তাইওয়ান এখনও স্বায়ত্তশাসিত রয়েছে এবং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি।
আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কফলার আগামীকাল ঢাকায় আসছেন
শেষ প্রধান পূর্বাভাসটি রাশিয়ার সাথে সম্পর্কিত। ভক্তদের দাবি, ২০২৬ সালের শেষ হওয়ার আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতা হারাবেন এবং নতুন একজন নেতা তার স্থলাভিষিক্ত হবেন। পুতিনের সরে দাঁড়ানোর এখনও কোনও প্রকাশ্য ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
অবশেষে, বাবা ভাঙ্গা ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ বছর বয়সে একটি টর্নেডোর কবলে পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারান। তার সমর্থকরা দাবি করেন, ৯/১১ হামলা, চর্নোবিল দুর্যোগ, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু, ২০০৪ সালের সুনামির মতো ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী তিনি করেছিলেন। যদিও তার ৮৫ শতাংশ পূর্বাভাস মিলে যাওয়ার দাবি করা হয়, এর কোনও স্বাধীন সত্যতা মেলেনি।
বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাসের কোনও লিখিত রেকর্ড না থাকায়, বর্তমানের এসব দাবি সত্যিই তার ছিল কি না তা নিশ্চিত করার কোন উপায় নেই। আপাতত ২০২৬ সালের এই দাবিগুলো অবিশ্বস্ত ও অপ্রমাণিত ধারণা হিসাবেই রয়ে গেছে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
আরও পড়ুন: ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নির্বাচনে রানা-বারী পরিষদের পূর্ণ প্যানেলের জয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন