০৭:৩৬ পি.এম
মেয়র জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক শহরে সরকারি উদ্যোগে পাঁচটি মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। প্রতিটি দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রয়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ডলার। পরিকল্পনা অনুসারে, প্রতিটি বরোতে একটি করে দোকান চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এদের মধ্যে ইস্ট হারলেমের একটি দোকানে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় হওয়ার কথা রয়েছে। শহরের কর্তৃপক্ষ অভিজ্ঞ মুদি ব্যবসায়ীদের বিনা ভাড়ায় জায়গা প্রদান করার পরিকল্পনা করছে, যাতে তারা দোকানগুলো পরিচালনা করতে পারেন। মামদানির প্রশাসনের দাবি, খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ কমিয়ে আনার পাশাপাশি যেসব এলাকায় তাজা ও পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা কম, সেসব এলাকার মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের ব্যবস্থা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নিউইয়র্কের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সমস্যায় ভুগছেন। তবে এই উদ্যোগটি নিয়ে নিউইয়র্কের স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি সহায়তায় পরিচালিত দোকানগুলো যদি কম দামে পণ্য বিক্রি করে, তাহলে ছোট ব্যবসাগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই কম লাভে পরিচালিত বেশ কিছু দোকান এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাছাড়া, কর্মীদের বেতন, পণ্যে ছাড়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি কীভাবে আর্থিকভাবে টেকসই হবে—এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি দোকানে কেনাকাটা করার জন্য পরিচয়পত্র লাগবে, তবে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, দোকানে কেনাকাটার জন্য পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হবে না। মামদানির পরিকল্পনায় পাঁচটি দোকানের চালু হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ২০২৯ সালের মধ্যে। তবে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রির সাথে স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর প্রভাব এবং প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কার্যকারিতা—এই দুই বিষয় এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন