বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৩৭ পি.এম
টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ এবং উত্তাল সাগরের কারণে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যটকশূন্য সৈকতের প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল-রিসোর্ট মালিকসহ সকলের ওপরে। এই অবস্থায় পর্যটকরা বাতিল করেছেন তাদের হাজার হাজার রুম বুকিং। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে শত শত দোকানপাট ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যার ফলে কয়েক দিনের মধ্যে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) টানা ভারী বর্ষণ এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যেসব পর্যটক এসেছেন, তারাও বৃষ্টির জন্য সৈকতে বেশি সময় অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। সৈকতের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে, আর খোলা দোকানগুলোও ক্রেতাশূন্য। ঝালমুড়ি, চটপটি, কিটকট, বিচ বাইক ও ঘোড়ার ব্যবসাসহ প্রায় সব ধরনের পর্যটননির্ভর কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে স্থবিরতা।
লাবণী পয়েন্টের ঝালমুড়ি বিক্রেতা মো. আল আমিন জানান, 'টানা চার দিনের ভারী বর্ষণের কারণে সমুদ্রসৈকতে এসে ব্যবসা করতে পারিনি। জীবিকার তাগিদে বুধবার দোকান নিয়ে এলেও বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছে না। দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১০০ টাকার ঝালমুড়িও বিক্রি হয়নি। অথচ স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকার বিক্রি হতো।'
বিচ বাইক চালক মহিউদ্দিন বলেন, 'সমুদ্রসৈকতে বিচ বাইক চালিয়ে আমার সংসার চলে। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাত এবং ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে পর্যটক না থাকায় ব্যবসা একেবারেই বন্ধ। তিন দিন পর সৈকতে এলেও কোনো আয় হয়নি।'
ঘোড়াওয়ালা মো. নিশান জানান, 'কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ৪৫ জন ঘোড়াওয়ালা রয়েছেন। কিন্তু টানা ভারী বর্ষণ ও পর্যটক সংকটের কারণে সবার আয়-রোজগার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন থমকে যাওয়ায় আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।'
কিটকট ব্যবসায়ী মফিজ বলেন, 'বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও কিছু পর্যটক সৈকতে এলেও টানা বৃষ্টির কারণে তারা বেশিক্ষণ অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে সৈকতের কিটকটগুলো সারাদিনেই প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকে, আর ব্যবসাও একেবারে স্থবির হয়ে গেছে।'
রাসেল চটপটির স্বত্বাধিকারী মো. আরিফ জানান, 'প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ব্যবসায় ভয়াবহ ধস নেমেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিক্রি হতো, সেখানে এখন সারাদিনেও এক হাজার টাকার ব্যবসা হচ্ছে না।'
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টজুড়ে থাকা সহস্রাধিক বার্মিজ পণ্যের দোকানেও নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ দোকানই বন্ধ রয়েছে। যেসব দোকান খোলা আছে, সেগুলোও ক্রেতাশূন্য।
লাবণী ছাতা মার্কেটের ব্যবসায়ী মোরশেদ আলম জানান, 'এই মার্কেটে প্রায় ২০০টি বার্মিজ পণ্যের দোকান রয়েছে। কিন্তু গত চার দিন ধরে কার্যত কোনো বেচাকেনাই নেই। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিটি দোকানে দৈনিক ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো, সেখানে এখন অনেক দোকানে সারাদিনে একটি পণ্যও বিক্রি হচ্ছে না।'
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী মো. ফারুক বলেছেন, 'স্বাভাবিক সময়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে প্রতিদিন ৫০ হাজারেরও বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে। তবে টানা বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে গত চার দিনে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজারে। আগত পর্যটকরাও কিছুক্ষণ সৈকতে অবস্থান করে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে লাইফগার্ডরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং কাউকে সমুদ্রে নেমে গোসল করতে দেয়া হচ্ছে না।'
মেরিন ড্রাইভ-কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, 'টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে কক্সবাজারে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। গত চার দিনে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৬০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক অবস্থান করলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তারাও নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।'
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেন, 'টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত চার দিনেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের দিল্লীতে ভুয়া ‘ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব’ পরিচালনা করে অনলাইনে মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, পরিচয়পত্র এমনকি গাড়ি পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়া একটি হানিট্র্যাপ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নয়ডা পুলিশ।
পুলিশ জানাচ্ছে, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে সম্ভাব্য শিকারদের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তুলত। তারা নিজেদের একটি অনলাইন ‘ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব’-এর সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রথমে বিশ্বাস অর্জন করত এবং পরে শিকারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত।
ভুক্তভোগীরা সাক্ষাতে রাজি হলে তাঁকে নয়ডা, দিল্লি ও এনসিআরের বিভিন্ন নির্জন এলাকায় ডেকে নেওয়া হতো। তারপর সেখানে চক্রটি দুটি গাড়ি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি চালাত।
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসিপি) মনীষা সিং জানিয়েছেন, প্রথম গাড়িতে এক নারীসহ তিনজন সদস্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা করতেন। অপর গাড়িতে থাকা অন্য সদস্যরা কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন আনলক করাতে বাধ্য করত। এরপর মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর অর্থ চক্রের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হতো।
এছাড়া, ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন, পরিচয়পত্র ও ব্যবহৃত গাড়িও ছিনিয়ে নেওয়া হতো, যাতে তারা দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সেক্টর-৫৪-এর খেলগাঁও পার্ক এলাকা থেকে চক্রটির সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা হলেন- ওমবীর যাদব, প্রিয়াঙ্কা যাদব, মঞ্জেশ যাদব, রিয়া যাদব ও নিধি যাদব। তাদের বয়স ১৯ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে।
জিজ্ঞাসাবাদে ওমবীর যাদব স্বীকার করেছেন, গত মঙ্গলবার রাতে সেক্টর-৫৪-এর একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে এক ব্যক্তিকে লুট করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি এবং তার চালানো টয়োটা ফর্চুনার গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছিনতাই হওয়া টয়োটা ফর্চুনার উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি অপরাধে ব্যবহৃত একটি সুইফট ও একটি অরা গাড়িও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে একটি ধারালো ছুরিও, যা ডাকাতির সময় ব্যবহার করা হতো।
এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত চক্রটি কতগুলো অপরাধে জড়িত ছিল, তাদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না এবং পুরো নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সম্পর্কে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ জানাচ্ছে, গত দুই বছরে নয়ডায় ভুয়া অনলাইন বন্ধুত্ব ও ডেটিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সংঘটিত একাধিক হানিট্র্যাপ ডাকাতির ঘটনা সামনে এসেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ডেটিং অ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তিকে লুটের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর আগে মার্চ মাসেও একই ধরনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছিল। তারা শনাক্ত এড়াতে নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি ব্যবহার করত।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথে একটি আশঙ্কাজনক হারে রেলওয়ের সিগন্যাল যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা বাড়ছে। রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা ট্র্যাকপটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যাওয়ার ফলে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এই কারণে যেমন ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানাচ্ছে, পদ্মা সেতু হয়ে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর চালু হওয়া ঢাকা–ভাঙ্গা রেলপথে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী চলাচল করেন। তবে সম্প্রতি মাদারীপুরের শিবচর অঞ্চলে সিগন্যালের ট্র্যাকপট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে।
গত ১৯ জুন রাতে শিবচরের পদ্মা রেলস্টেশনের সিগন্যাল পয়েন্ট থেকে কয়েকটি ট্র্যাকপট চুরি হয়ে যায়। এর পূর্বে ৯ জুন একই স্টেশনের শিবচর প্রান্তের সিগন্যাল পয়েন্টের সব ট্র্যাকপট খুলে নিয়ে যায় চোরচক্র। এছাড়া গত ১৮ মার্চে শিবচর রেলস্টেশনে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ছয় মাসে ঢাকা–ভাঙ্গা রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনে একাধিকবার এমন চুরি ঘটেছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, ট্র্যাকপট চুরি হলে সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়। তখন দুর্ঘটনা এড়াতে কর্মীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রেখে লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ‘পেপার লাইন ক্লিয়ার’ পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করতে হয়। এর ফলে ট্রেন চলাচলে বিলম্বের পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তারও অবনতি ঘটে।
পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিনিয়ত সিগন্যালের ট্র্যাকপট চুরি হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের পেপার লাইন ক্লিয়ার করতে হচ্ছে। চুরি বন্ধে পুলিশের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।”
শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ সেলিম হোসেন মন্তব্য করেছেন, “ট্র্যাকপট চুরির কারণে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারছে না। আগে পুলিশ নিয়মিত টহল করলেও বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ রক্ষায় নিরাপত্তা ও টহল বাড়ানো জরুরি।”
ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহজালাল জানান, “যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় আগেও মামলা হয়েছে এবং চোরদের আটক করা হয়েছে। ভাঙ্গা জংশন থেকে শিবচর ও পদ্মা স্টেশনের দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে নিয়মিত টহলে কিছু সমস্যা হয়। তবে চুরি প্রতিরোধে টহল আরও জোরদার করা হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই যন্ত্রাংশ চুরি রোধে নিয়মিত পুলিশি টহল ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকার যে বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য যে, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনাদের এবং আমার আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।
তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়াও, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়। তবে, ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী তা অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে, পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ঠ ফেলবেন না। ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্ত্রীর মৃত্যুর পর নিজ মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শহীদুল ইসলাম দেওয়ান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে।
বুধবার (৯ জুলাই) রাতে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের পাঁচক গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে মায়ের মৃত্যুর পর থেকে ঘরে একা থাকার সুযোগে বাবা বিভিন্ন সময়ে মেয়েটিকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করতেন। দীর্ঘদিন বিষয়টি কাউকে না বললেও, কিছুদিন আগে কৌশলে মেয়েটি বাবার এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের কয়েকটি ভিডিও ধারণ করেন। পরে ঘটনাটি স্থানীয়দের জানালে তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
নড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ