প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথে একটি আশঙ্কাজনক হারে রেলওয়ের সিগন্যাল যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা বাড়ছে। রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা ট্র্যাকপটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যাওয়ার ফলে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এই কারণে যেমন ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানাচ্ছে, পদ্মা সেতু হয়ে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর চালু হওয়া ঢাকা–ভাঙ্গা রেলপথে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী চলাচল করেন। তবে সম্প্রতি মাদারীপুরের শিবচর অঞ্চলে সিগন্যালের ট্র্যাকপট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে।
গত ১৯ জুন রাতে শিবচরের পদ্মা রেলস্টেশনের সিগন্যাল পয়েন্ট থেকে কয়েকটি ট্র্যাকপট চুরি হয়ে যায়। এর পূর্বে ৯ জুন একই স্টেশনের শিবচর প্রান্তের সিগন্যাল পয়েন্টের সব ট্র্যাকপট খুলে নিয়ে যায় চোরচক্র। এছাড়া গত ১৮ মার্চে শিবচর রেলস্টেশনে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ছয় মাসে ঢাকা–ভাঙ্গা রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনে একাধিকবার এমন চুরি ঘটেছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, ট্র্যাকপট চুরি হলে সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়। তখন দুর্ঘটনা এড়াতে কর্মীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রেখে লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ‘পেপার লাইন ক্লিয়ার’ পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করতে হয়। এর ফলে ট্রেন চলাচলে বিলম্বের পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তারও অবনতি ঘটে।
পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিনিয়ত সিগন্যালের ট্র্যাকপট চুরি হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের পেপার লাইন ক্লিয়ার করতে হচ্ছে। চুরি বন্ধে পুলিশের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।”
শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ সেলিম হোসেন মন্তব্য করেছেন, “ট্র্যাকপট চুরির কারণে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারছে না। আগে পুলিশ নিয়মিত টহল করলেও বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ রক্ষায় নিরাপত্তা ও টহল বাড়ানো জরুরি।”
ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহজালাল জানান, “যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় আগেও মামলা হয়েছে এবং চোরদের আটক করা হয়েছে। ভাঙ্গা জংশন থেকে শিবচর ও পদ্মা স্টেশনের দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে নিয়মিত টহলে কিছু সমস্যা হয়। তবে চুরি প্রতিরোধে টহল আরও জোরদার করা হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই যন্ত্রাংশ চুরি রোধে নিয়মিত পুলিশি টহল ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন