ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

নেপালে হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১


নেপালে হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১

নেপালের মাউন্ট এভারেস্ট অঞ্চলে অবতরণের সময় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং নিউজিল্যান্ডের একজন নাগরিক আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সোলুখুম্বু জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা কামান সিং থাপা মাগার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্প এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। আহত নিউজিল্যান্ডের নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ভিডিওতে দেখা যায়, অবতরণের ঠিক আগে হেলিকপ্টার দুটির পাখা বা রোটর একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়।

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৫ পুলিশ সদস্য

দুর্ঘটনার ফলে হেলিকপ্টার দুটি বরফে ঢাকা মাটিতে আছড়ে পড়ে। এ দুটি হেলিকপ্টার ফিশটেইল এয়ার ও ডাইনেস্টি এয়ার নামের দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। ফিশটেইল এয়ার এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের হেলিকপ্টারটি এভারেস্ট অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা যাত্রীদের নিয়ে যাচ্ছিল এবং অবতরণের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।

ফিশটেইল এয়ারের এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারে থাকা ভারতীয় ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিক দুজনই পর্যটক ছিলেন। অন্যদিকে, ডাইনেস্টি এয়ারের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের হেলিকপ্টারটিতে শুধুমাত্র পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল। নেপালে ট্রেকিংয়ের ব্যস্ত মৌসুমে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে হেলিকপ্টারে করে পর্যটক, হাইকার ও পর্বতারোহীদের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়।

নেপালে পর্যটক ও পর্বতারোহীদের পরিবহনের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতেও ছোট হেলিকপ্টার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে দেশটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে সেখানে হেলিকপ্টার চালানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে আটটি নেপালে অবস্থিত। এ কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকার দেশটিতে ভিড় করেন। নেপাল ও প্রতিবেশী ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে হেলিকপ্টার চালানো বেশ কঠিন। বিশেষ করে বেশি উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় হেলিকপ্টার উড্ডয়ন ও অবতরণে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: উত্তরাখণ্ডের হিমালয়ে ভারী তুষারপাতে নিখোঁজ ৮ ট্রেকার

বাতাসের ঘনত্ব কম হলে হেলিকপ্টারের পাখা বা রোটর পর্যাপ্ত বাতাস নিচের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। ফলে হেলিকপ্টারের ওপরে ওঠার ক্ষমতা কমে যায়। একই সঙ্গে ইঞ্জিনে জ্বালানি পোড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহও কমে যায়। এতে ইঞ্জিনের শক্তি হ্রাস পায়।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের বদ্রিনাথ থেকে উড্ডয়নের পরপরই একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলটসহ ছয়জন নিহত হন। বদ্রিনাথও একটি উঁচু পার্বত্য এলাকা। সেখানে বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় হেলিকপ্টার পরিচালনা করা বেশ কঠিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হার্ভার্ডে ভর্তির স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে প্রাণ গেল পাকিস্তানি তরুণীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


হার্ভার্ডে ভর্তির স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে প্রাণ গেল পাকিস্তানি তরুণীর

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন পাকিস্তানের ২৪ বছর বয়সী তরুণী লাইবা ইজাজ। মেয়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য জমি ও পরিবারের গয়না বিক্রি করেছিলেন তার বাবা রানা মুহাম্মদ ইজাজ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ রুপি হাতিয়ে নেন। পরে ভুয়া কাগজপত্রের বিষয়টি প্রকাশিত হলে লাইবা ভেঙে পড়েন। গত ৯ অক্টোবর ইসলামাবাদে তার বাড়ির কাছে থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার পরিবার এই ধারণা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের অভিযোগ, ওই প্রতারকই লাইবাকে হত্যা করেছে।

লাইবা পদার্থবিজ্ঞানে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছিলেন। ইসলামাবাদের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ইসলামাবাদ থেকে তার পড়াশোনা শেষ হয়েছিল। হার্ভার্ডে পড়ার জন্য আবেদন করতে গিয়ে তিনি মুহাম্মদ নোমান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে নোমান লাইবা ও তার পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ধাপে অর্থ গ্রহণ করেন। পরে পরিবার জানতে পারে, ভর্তির জন্য দেখানো কাগজপত্র সবই ভুয়া।

লাইবার মৃত্যুর দুই দিন পর নোমানকে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ২০ অক্টোবর পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নোমানকে ছাড়িয়ে নিতে তার সহযোগীরা গুলি চালায়। ২১ অক্টোবর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি লাইবার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নোমানের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়ে পাঁচ মিলিয়ন রুপির বেশি অর্থ পরিবারের হাতে তুলে দেন তিনি, যা প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন ডলার।

তবে ওই অর্থ লাইবার বাবা-মায়ের ক্ষতি পূরণ করতে সক্ষম হয়নি। তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মেয়ের জীবন, যা আর ফিরে পাওয়ার নয়।

হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন

ইসলামাবাদের জি-১০ এলাকার একটি দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দোকান ‘রানা মালিক সেন্টার’। দোকানের ওপরের ফ্ল্যাটে তিন দশকের বেশি সময় ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন রানা মুহাম্মদ ইজাজ।

অক্টোবরের শেষ দিকে দোকানের বাইরে বসে আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে জানান, প্রতিদিন সকালে বাবার জন্য চা বানিয়ে দিতেন লাইবা। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আবারও চা করে দিতেন। ঘুমানোর আগে বাবার কাঁধও মালিশ করতেন।

ইজাজ বলেন, ‘এখন সে নেই। এসব কথা খুব মনে পড়ে।’

ইজাজ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তার স্ত্রী দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। তবে তাদের চারটি মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। তাদের একজন বৃত্তি নিয়ে চীনে গিয়ে ম্যান্ডারিন ভাষা শিখছেন। লাইবাও বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বর্ণপদক পাওয়ার দিন বোনদের সামনে আনন্দে নেচে ও লাফিয়ে উঠেছিলেন তিনি।

বাবার ভাষায়, লাইবা পরে ইসলামাবাদের একটি স্কুলে বিজ্ঞান পড়াতেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে পড়াতেন। সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার জন্য তাঁকে বৃত্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু লাইবা যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে চেয়েছিলেন।

এ জন্য বাবার কাছে বিদেশে পড়াশোনার খরচ চান তিনি। ইজাজের স্মৃতিতে, মেয়ে তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি নিজেই সব কাজ করেছি, টিউশনিও করাই। তুমি কি আমার জন্য এটুকু করতে পারবে না?’

জবাবে বাবা বলেছিলেন, ‘আমার আদরের মেয়ে, আমি করব।’

ইজাজ বলেন, ‘এরপর থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করি।’

পরে নোমানের সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের। হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন আরও বড় হতে থাকে। কিন্তু তখন পরিবার জানত না, সেই স্বপ্নের ভিত্তি ছিল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি ও মিথ্যা।

‘পরিচয়পত্রটি আসল মনে হয়েছিল’

চলতি বছর ইসলামাবাদের প্রধান ব্যবসায়িক এলাকা ব্লু এরিয়ার একটি কল সেন্টারে কাজ করার সময় নোমানের সঙ্গে লাইবার পরিচয় ঘটে। সেখানে তার কাজের সময় ছিল রাতের দিকে। সহকর্মীদের বেশিরভাগই পুরুষ ছিলেন। মেয়ের কর্মপরিবেশ নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন বাবা ইজাজ। তিনি লাইবাকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন। পরে লাইবা কাজটি ছেড়ে দেন।

এরপর নোমান তাদের দোকানে দুধ ও দই কিনতে আসতে শুরু করেন। একদিন তিনি লাইবার সৌদি আরবে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চান। ইজাজ তাঁকে বলেন, তাঁরা সৌদি আরব নয়, যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান।

নোমান দাবি করেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টে চাকরি করেন। নিজের একটি চাকরির পরিচয়পত্রও দেখান। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারী হওয়ায় তার কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই।

ইজাজ বলেন, ‘পরিচয়পত্রটি আমার কাছেও আসল মনে হয়েছিল। পাশের লোকজনকেও দেখিয়েছিলাম।’

এরপর নোমান লাইবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। বাবা ও মেয়ে তার প্রস্তাবে রাজি হন। ইজাজের ভাষায়, ‘এটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।’

ইজাজের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বাবদ প্রথমে নোমানকে ২২ লাখ রুপি দেওয়া হয়। পরে নোমান জানান, হার্ভার্ডে আবেদনের জন্য ৭২ লাখ রুপি আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। ওই অর্থ তার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিতে হবে এবং ডলারে রূপান্তর করতে হবে বলেও জানান তিনি।

মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে নিজের একটি জমি বিক্রি করেন ইজাজ। পরিবারের গয়নাও বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘মেয়েকে সাহায্য করার জন্য আমার একটি জমি বিক্রি করেছি। পরিবারের গয়নাও বিক্রি করেছি, যাতে চাওয়া ৭২ লাখ রুপি জোগাড় করতে পারি।’

আল-জাজিরাকে দেওয়া নথিপত্রে দেখা যায়, লাইবার আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু কাগজপত্র ছিল। এর মধ্যে হার্ভার্ডের ভর্তির প্রস্তাব ও বৃত্তির চিঠি, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত একটি ফরম, নিউইয়র্কে বসবাসকারী এক আত্মীয়ের স্পনসরশিপের হলফনামা, লাইবার ছবি সংবলিত দূতাবাসের একটি নথি এবং বোস্টনে যাওয়ার বিজনেস ক্লাসের বিমানের টিকিট ছিল।

ইজাজের ভাষ্য, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নোমান তাদের হাতে সর্বশেষ নথির ফাইলটি তুলে দেন। এতে লাইবার নামে একটি ব্যাংক হিসাবের বিবরণী এবং ১২ অক্টোবরের ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখও ছিল।

অক্টোবরের শুরুর দিকে মেয়ের ভিসা সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতিতে সহায়তা করার জন্য ইজাজ নোমানকে ফোন করেন। নোমান জানান, তিনি কোয়েটায় আছেন। পরদিন ফিরে আসবেন।

কিন্তু নোমানের কথাবার্তায় সন্দেহ হয় পরিবারের। তারা নথিপত্রগুলো একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে জানতে পারেন, বোস্টনে যাওয়ার বিমানের টিকিটটি ভুয়া। পরে পরিবারের এক আইনজীবী প্রতিবেশী পুরো ফাইলটি পরীক্ষা করে জানান, কোনো নথিই আসল নয়। ইজাজ বলেন, ৬ অক্টোবর তারা প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন।

এ ঘটনায় পুরো পরিবার ভেঙে পড়ে। ইজাজ মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে বলতেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে।’ কিন্তু লাইবা তখনো আশা ছাড়েননি। তার বাবা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ও হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ হয়তো তার হয়ে প্রকৃত আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে—এমন আশায় ছিলেন মেয়ে।

শেষ সকাল

৯ অক্টোবর শুক্রবারের নামাজের জন্য দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ইজাজ। সে সময় লাইবা তাঁকে জানান, নোমান একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের এলাকার মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন।

ইজাজ মেয়েকে বলেছিলেন, ‘লাইবা, মা আমার, সে আসবে না। তার বার্তা শোনার কোনো প্রয়োজন নেই।’ মেয়েকে ঘরের ভেতরে থাকতে বলেন তিনি। স্ত্রীকেও বিষয়টি খেয়াল রাখতে বলেন।

কিন্তু ফিরে এসে স্ত্রী ইজাজকে জানান, নোমানের বার্তা পাওয়ার পর মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও লাইবা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন।

ইজাজ বলেন, ‘এ কথা শোনার পর মনে হয়েছিল, আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে।’

এরপর লাইবার খোঁজে তার জামাতা জায়েদ বিন আফজাল ও ছোট এক ভাইকে পাঠান ইজাজ। এ সময় লাইবার এক বোন একটি অ্যাপের সাহায্যে তার মোবাইলফোনের অবস্থান শনাক্ত করতে তাদের সহায়তা করেন। অ্যাপটির মাধ্যমে ফোনটির অবস্থান বাড়ির কাছাকাছি একটি এলাকায় পাওয়া যায়।

লাইবা বাড়ি ছাড়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার লাশ খুঁজে পান তারা। জায়েদ পুলিশ জরুরি নম্বরে ফোন করেন। এরপর শ্বশুরকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। ফোনে লাইবার মৃত্যুর কথা জানাতে চাননি তিনি। তাই শ্বশুরকে বলেন, লাইবা জেদ করছেন এবং বাড়ি ফিরতে চাইছেন না।

তবে ইজাজের মনে তখনই অজানা আশঙ্কা তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

বিদেশে পড়তে যেতে আগ্রহী পাকিস্তানি শিক্ষার্থী বাড়ছে।

লাইবা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আগ্রহী পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান একটি অংশের প্রতিনিধি। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের ‘ওপেন ডোরস’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৩ হাজারের বেশি পাকিস্তানি শিক্ষার্থী ভর্তি ছিলেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় এ সংখ্যা ৭৫ শতাংশ বেশি।

পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) জানিয়েছে, নোমান নিবন্ধিত ভিসা এজেন্ট ছিলেন না। বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন অল পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন অব ফরেন এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি কোনো ব্যবস্থা নেই।

লাহোরের শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কলেজওয়ার্কসের সহপ্রতিষ্ঠাতা নুশমিয়া সুকেরা আল-জাজিরাকে বলেন, শিক্ষা পরামর্শকদের নিবন্ধন বা কার্যক্রম তদারকির জন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা আছে বলে তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।’

নোমানের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন

লাইবার মৃত্যুর এক দিন পর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নোমানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পুলিশ ও এফআইএ পৃথক দুটি মামলা করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর নোমানকে নিয়ে তদন্তের কাজে তথ্য-প্রমাণ উদ্ধারে যাওয়ার সময় দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার ব্যক্তি গুলি চালান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নোমানকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া। তবে গুলিতে নোমানও আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নোমানের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও ইজাজের কাছে এটি কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পাওয়ার মতো ঘটনা। মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে যা ঘটেছে, তা ঠিকই হয়েছে।’

নোমানের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এদিকে আল-জাজিরাকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লাইবার মৃত্যুর তদন্ত এখনো চলছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ভিডিও ফুটেজে লাইবাকে হাতে মোবাইলফোন নিয়ে একা বাড়ি থেকে বের হতে দেখা গেছে। বাকি ফরেনসিক প্রতিবেদন পেতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে।

তবে লাইবার পরিবার আত্মহত্যার ধারণা মেনে নিতে পারছে না। জায়েদ বলেন, লাইবাকে খুঁজে পাওয়ার পর তাদের মনে হয়েছে, তিনি নিজে এমন কিছু করতে পারেন না।

ইজাজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘সে নিজে মারা যায়নি। নোমানই তাকে হত্যা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুষার কাপুরকে ৫ কোটি রুপি দাবি করে ফোনে হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


তুষার কাপুরকে ৫ কোটি রুপি দাবি করে ফোনে হুমকি

বলিউডে আবারও আতঙ্কের ছায়া। এবার অভিনেতা তুষার কাপুরকে টার্গেট করেছে দুষ্কৃতীরা। ভারতের কুখ্যাত অপরাধী ও গ্যাংস্টার নেটওয়ার্ক লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে নায়ককে ফোন করে লাগাতার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ‘হ্যারি বক্সার’ নামে পরিচিত এক গ্যাংস্টার, যিনি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য, তুষার কাপুরকে ফোন করে ৫ কোটি রুপি দাবি করেছে।

হুমকি পাওয়ার পর, অভিনেতা অবিলম্বে মুম্বাই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব ‘অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল’ এবং ‘ক্রাইম ব্রাঞ্চ’-এর হাতে দেয়।

আইএএনএস (IANS) এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষে দেখা গেছে, হ্যারি বক্সারের অফিসিয়াল অডিও স্যাম্পলের সঙ্গে হুমকিদাতার ভয়েসের কোনো মিল নেই। ফলে, পুলিশ ধারণা করছে যে, শুধুমাত্র ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম ব্যবহার করে ওই হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মুম্বাই পুলিশ হুমকি প্রদানকারী অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। অভিযুক্তের অবস্থানও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই হুমকির পেছনে কারা রয়েছে, সেটিও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের পথে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের পথে?

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কিছু নির্বাচনী কর্মসূচি হঠাৎ বাতিল হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। সম্ভাব্য সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে মার্কিন সাধারণ নাগরিকদেরও বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে হতে পারে কিনা, সেই বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালুর জন্য কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনার ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি দ্য ইকোনমিক টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প সপ্তাহান্তে আইওয়া ও কানসাসে নির্ধারিত নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করেছেন। একই সময়ে মিনেসোটায় ভ্যান্সের ‘ওয়ার অন ফ্রড’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়েছে। কর্মসূচি বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট না হলেও, ওই সময় ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির খবর সামনে আসে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং সামরিক স্বার্থের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফিও সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত আরও বাড়লে মার্কিন সেনারা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। যদি স্বেচ্ছায় পর্যাপ্তসংখ্যক মানুষ সেনাবাহিনীতে যোগ না দেন, তাহলে সরকার বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বা কনস্ক্রিপশন চালুর কথা বিবেচনা করতে পারে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রে এমন ব্যবস্থা চালু ছিল।

১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে লটারি পদ্ধতিতে সেনা নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করা হয়। সে সময় ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী পুরুষদের জন্মতারিখের ভিত্তিতে লটারির মাধ্যমে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের জন্য নির্বাচিত করা হতো। যাদের জন্মতারিখ আগে নির্বাচিত হতো, তাদের সেনাবাহিনীতে ডাকার সম্ভাবনাও আগে থাকত।

তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে এই ব্যবস্থা চালুর কোনো ঘোষণা নেই। দেশটির সামরিক বাহিনী ১৯৭৩ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অধিকাংশ পুরুষ নাগরিক ও অভিবাসীর সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেমে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তবে এই নিবন্ধন সামরিক বাহিনীতে যোগদানের নির্দেশ নয়; প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে নিয়োগের জন্য সম্ভাব্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির একটি ব্যবস্থা।

যুদ্ধে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা কতটা?

প্রতিবেদনে সামরিক কৌশল বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার লির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধে প্রায় ৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ লাখ পুরুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে নেওয়া হয়েছিল, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ।

তবে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ধরন বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তিনি মনে করেন। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ ও বিমান অভিযানই সংঘাতের প্রধান অংশ হতে পারে। ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

যুক্তরাজ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা

প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। দেশটির চারটি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিনের মধ্যে তিনটি একই সময়ে সমুদ্রে অবস্থান করছে বলে দ্য টাইমস জানিয়েছে। এমন ঘটনা বেশ বিরল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাজ্যে সেনাবাহিনীর রিজার্ভে যোগ দেওয়ার জন্য পুরুষদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ সেনাপ্রধান লর্ড ড্যানাটের মতে, বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ সদস্যদের কাজে লাগানো হতে পারে। এরপর নিয়মিত রিজার্ভ সদস্যদের ফিরিয়ে আনা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য— কোনো দেশই বর্তমানে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন করে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালুর ঘোষণা দেয়নি। ফলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা এবং সাধারণ নাগরিকদের যুদ্ধে পাঠানোর আলোচনা এখনো সম্ভাবনা ও বিশ্লেষণের পর্যায়েই রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা প্রধানমন্ত্রীর

আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু হওয়ার পূর্বে দেশে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন, সৌরবিদ্যুতের প্রসারের জন্য ইতিমধ্যে নীতিগত সহায়তা, প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। সৌরবিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর কেবল সম্ভাবনার খাত নয়, বরং এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা। সঠিক নীতি, প্রযুক্তি এবং উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। উদ্যোক্তাদের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে আইনি এবং নীতিগত বাধা দূর করার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। উদ্যোক্তাদের ভাল উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী ধারণা যাতে অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের প্রসারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দসহ পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানি এবং সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় দেশের মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুতিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা, ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলন বাড়ানো এবং জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে সহজ সুযোগ সৃষ্টি, সাশ্রয়ী বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করছে। উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি, উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। মঞ্চে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%