বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৪:৩৬ পি.এম
জার্মানির পুলিশ নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে ৩৩ বছর বয়সী এক ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
বাভারিয়া পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গত ২ আগস্ট থুরিংগিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে নিম্ন-স্তরের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার সন্দেহ রয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের জুনে তিনি বাভারিয়ার একটি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং সেগুলো তার নিয়ন্ত্রকদের কাছে পাঠান। এসব তথ্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
আদালতে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে রিমান্ডে রাখা হয়েছে।
এই তদন্তটি পরিচালনা করছে জার্মানির নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা সমন্বয় কেন্দ্র। জার্মান কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে অন্তর্ঘাত, গুপ্তচরবৃত্তি এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানোর হুমকি বেড়ে যাওয়ার কারণে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বুধবার লিপজিগ-হালে বিমানবন্দরে একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের কাছে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট ঘটনাটিকে ‘হাইব্রিড হামলার’ উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য নতুন ধরনের হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশের জন্য সরকার তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের মতো বিভিন্ন প্রণোদনার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে রপ্তানিমুখী সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আদলে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার।
একই সঙ্গে দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার সেমিকন্ডাক্টরকে একটি কৌশলগত খাত হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং এর বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ আকর্ষণের দায়িত্ব বিএইচটিপিএকে দিয়েছে।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন মূলধন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প। বিশেষ করে এই খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সরকার।
তিনি জানান, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হাই-টেক পার্কগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করতে অতিরিক্ত কিছু প্রণোদনার বিষয়গুলোও চিন্তা করা হচ্ছে। দক্ষ জনবলের ঘাটতি দূর করতে শিল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি চলছে।
পাশাপাশি, আইটি কেন্দ্রগুলোতে স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিনামূল্যে কর্মপরিসর ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদের দেশের এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বিএইচটিপিএ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো চিপ ডিজাইন, টেস্টিং, প্যাকেজিং এবং উন্নত চিপ উৎপাদনকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পভিত্তি গড়ে তোলা। এ জন্য কর-সুবিধা, গবেষণা ও উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ প্রচারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) ডিজাইন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ), আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্টিং (ওস্যাট), প্যাকেজিং ও ফ্রেব্রিকেশনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার ও কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অব্যাহতির ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
এদিকে, আইটেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআইএ) পরিচালক মুনির আহমেদ বলেন, শুরুতে চিপ ডিজাইন ও সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিংয়ে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারে। পরে ধাপে ধাপে ওস্যাট কার্যক্রমেও সম্প্রসারণ সম্ভব।
তিনি বলেন, সিউল ও যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত সেমিকন্ডাক্টর বিষয়ক রোডশোতে এসকে হাইনিক্স, ইন্টেল, এএমডি, গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, সিনপসিস, স্যান্ডिस্ক, আর্ম এবং ক্রেডোসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
মুনির আহমেদ জানান, বিএসআইএর ‘ব্রেইন গেইন’ উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে এ শিল্পের বিকাশ আরো দ্রুত হবে।
তিনি বলেন, কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং পারডু ইউনিভার্সিটির মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান বিএসআইএর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া, বর্তমানে দেশের একমাত্র সিলিকন টেস্টিং প্রতিষ্ঠান আইটেস্ট বাংলাদেশ ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈশ্বিক ওস্যাট শিল্পের বাজারের আকার প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মুনির আহমেদের মতে, শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং ভারতের সেমিকন্ডাক্টর মিশনের মতো প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা চালু করতে পারলে বাংলাদেশে বিশ্বের শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবছর বাড়তে থাকা আইসিটি ও প্রকৌশল স্নাতকদের যথাযথ বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে এই শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ চেক ডিজঅনার মামলায় আট মাসের সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম মাকসুদর রহমান, বয়স ৪০ বছর। তিনি উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে। পুলিশ জানায়, একটি চেক ডিজঅনার মামলায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আদালত মাকসুদর রহমানকে আট মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর থেকে আসামি আত্মগোপন করে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বুধবার রাতে কালিগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মাকসুদর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, চেক ডিজঅনার মামলায় আট মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাকসুদর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শাখার বৃহত্তর নোয়াখালী স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ফেনী-নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর)-এর ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ঘোষণা অনুযায়ী, ঘোষিত নতুন কমিটিতে সিপিএস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এবং এফটিএনএস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহিদুল হাসিব সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, “ভ্রাতৃত্ববোধকে সুদৃঢ় করতে আমাদের এই বিশেষ পথচলা। মাভাবিপ্রবির বুকে বৃহত্তর নোয়াখালী থেকে আগত ভাই-বোনদের নিয়ে আমাদের এই ছোট্ট পরিবারের যাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের শিকড়কে আঁকড়ে ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমার ভাই-বোনদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমি, আমার সংগঠন এবং আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ সর্বদা পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মহিদুল হাসিব তার বক্তব্যে বলেন, “আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। স্বচ্ছতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এই পথচলায় আমাদের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, প্রিয় বড় ভাই, বন্ধু ও স্নেহের জুনিয়রদের সহযোগিতা ও সমর্থন পাব—এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় কাজ করবে।
উল্লেখ্য, ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সংগঠনের উপদেষ্টা শিক্ষকবৃন্দের অনুমোদনের মাধ্যমে ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের এ কার্যনির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হিসেবে বসবাসকারীদের জন্য নাগরিকত্ব অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। নাগরিকত্ব পেতে হলে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি কয়েকটি বাধ্যতামূলক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হয়। নিয়ম অনুসারে আবেদন করার পর আবেদন থেকে শুরু করে শপথ গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা সম্ভব।
প্রথম ধাপ: যোগ্যতা নিশ্চিত করা
নাগরিকত্বের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। সাধারণ নিয়ম অনুসারে অন্তত পাঁচ বছর ধরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হবে। তবে, কোনো মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহিত হলে এবং একসঙ্গে বসবাস করলে তিন বছর পরেই আবেদন করা সম্ভব।
এ ছাড়া, পাঁচ বছরের নিয়মে আবেদনকারীর অন্তত ৩০ মাস এবং তিন বছরের নিয়মে অন্তত ১৮ মাস যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার শর্ত রয়েছে। যে অঙ্গরাজ্য থেকে আবেদন করা হবে, সেখানে অন্তত তিন মাস বসবাসের প্রমাণ থাকা, সুনাগরিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য আচরণ এবং নিয়মিত কর পরিশোধের রেকর্ডও থাকতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনপত্র জমা দেওয়া
যোগ্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর নাগরিকত্বের আবেদনপত্র পূরণ করে অনলাইনে অথবা ডাকযোগে জমা দিতে হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে গ্রিন কার্ডের অনুলিপি, প্রয়োজনীয় বৈবাহিক নথি, ভ্রমণের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়।
২০২৬ সালের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন করলে খরচ ৭১০ ডলার এবং কাগজে আবেদন করার সময় ৭৬০ ডলার হতে থাকে। এই ফি-এর মধ্যেই আঙুলের ছাপ এবং অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
তৃতীয় ধাপ: বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান
আবেদন গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়। আবেদনকারীকে সেখানে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ, ছবি এবং স্বাক্ষর দিতে হয়। এই ধাপে কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত অল্প সময়েই সম্পন্ন হয়।
চতুর্থ ধাপ: নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার
এরপর আবেদনকারীকে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়। এ সময় কর্মকর্তারা আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, ভ্রমণের ইতিহাস, কর্মজীবন, বৈবাহিক অবস্থা এবং কর পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করেন। তাই আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য সঠিক ও নির্ভুল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চম ধাপ: ইংরেজি ও নাগরিকত্ব পরীক্ষা
সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি আবেদনকারীকে ইংরেজি ভাষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত প্রশ্নভান্ডার থেকে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করা হয় এবং অন্তত ১২টির সঠিক উত্তর দিতে হয়। তবে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাসকারী কিছু আবেদনকারীর জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।
ষষ্ঠ ধাপ: আবেদন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সব প্রক্রিয়া শেষে কর্তৃপক্ষ আবেদন অনুমোদন, স্থগিত অথবা বাতিল—যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত জানায়। আবেদন অনুমোদিত হলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পাঠানো হয়। অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হলে কিংবা প্রথমবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হতে পারে এবং পরবর্তীতে আবার সুযোগ দেওয়া হয়। আবেদন বাতিল হলেও নির্ধারিত নিয়মে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ পাওয়া যায়।
সপ্তম ধাপ: আনুগত্যের শপথ গ্রহণ
নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হলো আনুগত্যের শপথ গ্রহণ। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের আগে কেউ মার্কিন নাগरिक হিসেবে স্বীকৃত হন না। অনুষ্ঠানের দিন আবেদনকারীকে তার স্থায়ী বাসিন্দার পরিচয়পত্র (গ্রিন কার্ড) জমা দিতে হয় এবং নির্ধারিত শপথ পাঠ করতে হয়। এরপর তাকে নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ।
এই সনদের ভিত্তিতে তিনি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং ভোটাধিকারসহ একজন পূর্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিক হিসেবে সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ