ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে যেসব নিয়ম মানতে হবে


২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে যেসব নিয়ম মানতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হিসেবে বসবাসকারীদের জন্য নাগরিকত্ব অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। নাগরিকত্ব পেতে হলে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি কয়েকটি বাধ্যতামূলক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হয়। নিয়ম অনুসারে আবেদন করার পর আবেদন থেকে শুরু করে শপথ গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা সম্ভব।

প্রথম ধাপ: যোগ্যতা নিশ্চিত করা

নাগরিকত্বের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। সাধারণ নিয়ম অনুসারে অন্তত পাঁচ বছর ধরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হবে। তবে, কোনো মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহিত হলে এবং একসঙ্গে বসবাস করলে তিন বছর পরেই আবেদন করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

এ ছাড়া, পাঁচ বছরের নিয়মে আবেদনকারীর অন্তত ৩০ মাস এবং তিন বছরের নিয়মে অন্তত ১৮ মাস যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার শর্ত রয়েছে। যে অঙ্গরাজ্য থেকে আবেদন করা হবে, সেখানে অন্তত তিন মাস বসবাসের প্রমাণ থাকা, সুনাগরিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য আচরণ এবং নিয়মিত কর পরিশোধের রেকর্ডও থাকতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনপত্র জমা দেওয়া

যোগ্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর নাগরিকত্বের আবেদনপত্র পূরণ করে অনলাইনে অথবা ডাকযোগে জমা দিতে হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে গ্রিন কার্ডের অনুলিপি, প্রয়োজনীয় বৈবাহিক নথি, ভ্রমণের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়।

২০২৬ সালের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন করলে খরচ ৭১০ ডলার এবং কাগজে আবেদন করার সময় ৭৬০ ডলার হতে থাকে। এই ফি-এর মধ্যেই আঙুলের ছাপ এবং অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার

তৃতীয় ধাপ: বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান

আবেদন গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়। আবেদনকারীকে সেখানে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ, ছবি এবং স্বাক্ষর দিতে হয়। এই ধাপে কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত অল্প সময়েই সম্পন্ন হয়।

চতুর্থ ধাপ: নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার

এরপর আবেদনকারীকে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়। এ সময় কর্মকর্তারা আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, ভ্রমণের ইতিহাস, কর্মজীবন, বৈবাহিক অবস্থা এবং কর পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করেন। তাই আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য সঠিক ও নির্ভুল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

পঞ্চম ধাপ: ইংরেজি ও নাগরিকত্ব পরীক্ষা

সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি আবেদনকারীকে ইংরেজি ভাষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত প্রশ্নভান্ডার থেকে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করা হয় এবং অন্তত ১২টির সঠিক উত্তর দিতে হয়। তবে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাসকারী কিছু আবেদনকারীর জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

ষষ্ঠ ধাপ: আবেদন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সব প্রক্রিয়া শেষে কর্তৃপক্ষ আবেদন অনুমোদন, স্থগিত অথবা বাতিল—যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত জানায়। আবেদন অনুমোদিত হলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পাঠানো হয়। অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হলে কিংবা প্রথমবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হতে পারে এবং পরবর্তীতে আবার সুযোগ দেওয়া হয়। আবেদন বাতিল হলেও নির্ধারিত নিয়মে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

সপ্তম ধাপ: আনুগত্যের শপথ গ্রহণ

নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হলো আনুগত্যের শপথ গ্রহণ। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের আগে কেউ মার্কিন নাগरिक হিসেবে স্বীকৃত হন না। অনুষ্ঠানের দিন আবেদনকারীকে তার স্থায়ী বাসিন্দার পরিচয়পত্র (গ্রিন কার্ড) জমা দিতে হয় এবং নির্ধারিত শপথ পাঠ করতে হয়। এরপর তাকে নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ।

এই সনদের ভিত্তিতে তিনি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং ভোটাধিকারসহ একজন পূর্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিক হিসেবে সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাতিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


হাতিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

 

বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা ভারি বর্ষণের ফলে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হাতিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাতিয়ায় ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

অব্যাহত বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এদিকে নোয়াখালী জেলা শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে, যা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে।

নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের সূত্রে জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে একাধিক দিন ধরে নোয়াখালীতে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। দমকা হাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে হাতিয়া এবং উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া, জেলার মধ্যে সবার চেয়ে বেশি বৃষ্টি হলেও হাতিয়ার নিচু এলাকা, গ্রামীণ সড়ক, বাজার এবং বসতবাড়ির আঙিনায় পানি জমে গেছে বলে জানা যায়। খুব বেশি স্থানে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর এসেছে। কৃষকরা ধানের বীজতলা, শাকসবজি ও মাছের ঘেরে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের টেলিপ্রিন্টার অপারেটর মোহাম্মদ বাবলুর রহমান জানালেন, ‘বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৬টা পর্যন্ত হাতিয়ায় ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা দেশের সর্বোচ্চ। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানিয়েছেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে তারা উপজেলাটির পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। নিচু এলাকাগুলোর জলাবদ্ধতা এবং জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, তিনি জানান, যদি কোনো স্থানে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণকে অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থাইল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাল মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


থাইল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাল মিয়ানমার

মিয়ানমারের সামরিক নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। এই সফরটি তার দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ভাঙার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিন অং হ্লাইং সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এর পর মিয়ানমারে ব্যাপক গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে তার ভূমিকার কারণে মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল। পশ্চিমা দেশগুলো তাকে কার্যত কূটনৈতিকভাবে একঘরে করে রেখেছে এবং তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

গত এপ্রিল মাসে তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেনাপ্রধানের পদ ছেড়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বড় অংশই ওই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকারকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি এবং দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায়, যা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে ভোটগ্রহণ হয়নি। এইভাবে সেনাবাহিনী সমর্থিত দলটি নতুন পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেছে।

২০১৭ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলো সঙ্গে স্বাক্ষরিত পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার কারণে মিন অং হ্লাইংকে আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ঐকমত্য অনুসারে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সহিংসতা কমানো এবং বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে বলা হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি আসিয়ান সদস্য দেশ মনে করে, মিয়ানমারের মানবিক সংকট নিরসন ও গৃহযুদ্ধ বন্ধে সেনাবাহিনীকে আরও ছাড় দিতে হবে, এরপরই পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার সম্ভব।

থাইল্যান্ড ভিন্ন নীতি অবলম্বন করছে। দেশটি এই অবস্থানকে ‘পরিমিত পুনঃসম্পৃক্ততা’ বলে অভিহিত করছে। ব্যাংককের যুক্তি হলো, মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের প্রায় দুই হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, মানবপাচার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি যোগাযোগ প্রয়োজন।

থাইল্যান্ডে মিন অং হ্লাইংকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। সফরসূচিতে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ, থাই পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং থাই-মিয়ানমার ব্যবসায়িক ফোরামে অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ফোরামের উদ্দেশ্য হচ্ছে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আয়োজন কার্যত মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক’-এর একটি প্রতিচ্ছবি। থাইল্যান্ডের এই পদক্ষেপটি মিয়ানমারের দুটি বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ চীন ও ভারতের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। নির্বাচনের পর উভয় দেশই নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং মিন অং হ্লাইংকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বিশেষ করে চীনের সমর্থন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের সহায়তা সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে এবং বিদ্রোহীদের দখলে থাকা কিছু এলাকা পুনর্দখলে সহায়তা করেছে।

অথচ থাইল্যান্ডের এই উচ্চপর্যায়ের আতিথেয়তা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও আসিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই থাইল্যান্ডের এই পদক্ষেপকে সামরিক সরকারের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন। অধিকারভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার এক বিবৃতিতে বলেছে, “থাই সরকার চলমান কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সামরিক জান্তাকে ভুয়া বৈধতা দিচ্ছে।”

সংগঠনটি আরও বলেছে, “মিন অং হ্লাইংয়ের এই সফর থাইল্যান্ডের তথাকথিত ‘পরিমিত পুনঃসম্পৃক্ততা’ নীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন, যা মিয়ানমারের জনগণের চলমান দুর্ভোগকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডের এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিক দিয়েই নয়, আসিয়ানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, মিয়ানমার নীতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীঘিনালা পুলিশের মানবিক উদ্যোগে মায়ের কাছে ফিরল শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


দীঘিনালা পুলিশের মানবিক উদ্যোগে মায়ের কাছে ফিরল শিশু

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পথ হারিয়ে অসহায় অবস্থায় ঘুরে বেড়ানো এক শিশুকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দিয়েছে দীঘিনালা থানা পুলিশ। পুলিশের আন্তরিক তৎপরতায় এক রাতের মধ্যেই শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করে মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়নের জিয়ানগর শিবির এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে প্রায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে একা বসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। শিশুটি নিজের নাম-ঠিকানা স্পষ্টভাবে বলতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুজন তাকে দীঘিনালা থানায় নিয়ে যান।

পরে পুলিশ শিশুটিকে নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে নিরাপদে রাখে এবং তার পরিচয় শনাক্তে বিভিন্ন থানায় বেতার বার্তার মাধ্যমে তথ্য ও ছবি পাঠায়। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ি সদর থানার সহযোগিতায় শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম মো. আরমান হোসেন (১০)। তার বাড়ি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গামারীডালা এলাকায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শিশুটির মা মোসা. আমেনা আক্তার বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে দীঘিনালা থানায় এসে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ছেলেকে নিজের সন্তান হিসেবে শনাক্ত করেন। শিশুটিও তাকে নিজের মা হিসেবে শনাক্ত করলে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় দীঘিনালা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, শিশুটি নিরাপদে রয়েছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। পরিচয় শনাক্তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনায় মানবিক ও পেশাদার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুলিশ কাজ করে যাবে।

স্থানীয়রা শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় দীঘিনালা থানার পুলিশের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই গ্রেফতার ও রায় কার্যকর করা হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই গ্রেফতার ও রায় কার্যকর করা হবে’

 

চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সকল স্তরের হাতে পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সাথে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের পারাইরচকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

এসময় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তর রয়েছে। সবগুলো স্তরের নির্বাচন করার জন্য সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। নির্বাচন কমিশন তাদের বাজেট ইতিমধ্যে দিয়েছে। সদ্য পাস হওয়া জাতীয় বাজেটে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, অন্তবির্ভাগের সম্মতি ও স্থানীয় সরকারের এর মধ্যে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে এবং কোনটি পরে হবে। আগস্ট মাসের পর অর্থ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন একত্রে বসে এ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সরকারের অবস্থান হচ্ছে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই, এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে। তাকে অবশ্যই জেলে যেতে হবে এবং মামলার যে রায় হয়েছে, সেটি কার্যকর করা হবে।

এসটিএস পরিদর্শনকালে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালেক, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ করপোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%