ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিদ্যালয়ের পাশেই ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ সেতু, শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে পারাপার


বিদ্যালয়ের পাশেই ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ সেতু, শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

এপারে গোল্লাপাড়া গ্রাম এবং ওপারে হঠাৎপাড়া অবস্থিত। দুই গ্রামের মাঝে একটি খাল প্রবাহিত হচ্ছে। তিন দশক আগে নির্মিত সেতুটির নিচের অংশের রড বের হয়ে গেছে এবং পিলারগুলো ফাটল ধরেছে। সেতুটি পার হতে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

রাজশাহীর তানোর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হঠাৎপাড়া সেতুর এমন দুরবস্থা রয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটির পাশে তানোর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী এবং দুই গ্রামের বাসিন্দারা এই সেতু দিয়ে চলাচল করেন। শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে সেতুর ওপর বসে খেলা করে, কিন্তু বর্তমানে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: "পাল্টা অভিযোগ সৌদি প্রবাসী কাদির মিয়ার" কুলিয়ারচরে মেম্বার প্রার্থী পারভেজকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎপাড়া সেতুর নিচের পলেস্তার অংশ ধসে পড়েছে। নিচের অংশের সব রড বের হয়ে গেছে এবং পিলারগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে।

এ সময় হঠাৎপাড়া গ্রামের জিহাদ, নয়ন, শাহিনসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়। তাদের বক্তব্য, সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় এটি নড়াচড়া করে। তারা ভয় নিয়ে পারাপার করেন, কারণ কখনও ভেঙে পড়তে পারে।

তানোর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল বলেন, ‘আমরা কি যে সমস্যায় আছি, তা বোঝাতে পারব না। সেতুটি দিয়ে দুই গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। নিচের অংশের সব রড বের হয়ে গেছে এবং পিলারগুলো ফাটল ধরেছে। স্কুলের সামনে ব্রিজটির অবস্থান রয়েছে।’

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা ওই সেতুর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভয় লাগে, কখন না জানি কি হয়।’

আরও পড়ুন: কিশোর-যুবকদের শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত করতে চান ছাত্রদল নেতা কাওসার খান

রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান জানান, তানোর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালে। তিনি বলেন, তানোর পৌরসভার প্রথম মেয়র এমরান আলী মোল্লার সময় ১৯৯৬ সালে গোল্লাপাড়া গ্রাম ও হঠাৎপাড়া গ্রামের মধ্যে যাতায়াতের জন্য খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন।

হঠাৎপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম নান্টু এবং আব্দুল জলিল জানান, পানির স্রোতে সেতুর পিলারের নিচের মাটি সরে গেছে। রড বের হয়ে পিলার ফাটল ধরেছে এবং মানুষ চলাচলের সময় এটি নড়াচড়া করে। যে কোনো সময় এটি ভেঙে পড়তে পারে।

তারা জানান, প্রায় দুই বছর ধরে সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন তারা।

তানোর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী বলেন, হঠাৎপাড়া গ্রামে সেতুর পাশেই তানোর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। সেখানকার শিক্ষার্থীরা খালের ওপর ওই সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী কাল রাজশাহী সফরে, জনসভায় বক্তব্য দেবেন

তানোর পৌরসভার সরকারি প্রকৌশলী সরদার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সেতুটির বিষয়ে আমার জানা নেই।’ পরে তিনি প্রতিবেদককে পৌরসভার প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

তানোর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও তানোর পৌরসভার প্রশাসক নাঈমা খান বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচ-১বি ভিসা বিতর্কে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


এইচ-১বি ভিসা বিতর্কে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন জেডি ভ্যান্স

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের ‘ইনডেনচার্ড সার্ভেন্টস বা চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে তার ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির কথা উল্লেখ করে জানান, তিনি তাদের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভ্যান্স বলেন, ‘আমার বক্তব্যের ভাষা হয়তো যথাযথ ছিল না।’ তবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতিতে এমন একটি ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, যা বিদেশি কর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখে।

হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভ্যান্সের স্ত্রী ঊষা ভ্যান্সের পরিবার দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত। তার শ্বশুর-শাশুড়ি ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে এসেছিলেন। ভ্যান্স বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমার পরিবারের শিকড় কোথায়। দক্ষিণ ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা আমার শাশুড়ি ও শ্বশুরকে আমি ভালোবাসি। তাঁদের মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি এখন দেশটির সেকেন্ড লেডি। আমি তাঁকে নিয়ে গর্বিত এবং তাঁকে অনেক ভালোবাসি।’

ভ্যান্স অভিবাসননীতিতে ভারসাম্যের পক্ষে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের স্বাগত জানানো উচিত। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের যুক্তি দেখিয়ে আগে থেকেই কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের চাকরি থেকে বাদ দিতে পারে না।

তিনি বলেন, ধরুন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের কোনো প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, তাদের বিদ্যমান কর্মী সমাজ থেকে একজন হিসাবরক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব নয়। অথচ একই সময়ে তারা আগে থেকে কর্মরত একজন হিসাবরক্ষককে চাকরিচ্যুত করে। ভ্যান্সের মতে, এমন পরিস্থিতি ন্যায্য নয়।

ভ্যান্স আরো বলেন, এই ধরনের ব্যবস্থা অভিবাসী কর্মী ও মার্কিন কর্মী উভয়ের জন্যই ভালো নয়। তাই অভিবাসনব্যবস্থায় সঠিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম বা পিইআরএমের আওতায় আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পিইআরএম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি বা অন্য ভিসায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের আবেদনে স্পনসর করতে পারেন।

এই কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার সময় ভ্যান্স মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি মার্কিন কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে কাজ কোনো মার্কিন কর্মী করতে আগ্রহী, সেই কাজের জন্য বিদেশ থেকে ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ আমদানি বন্ধ করা উচিত।

ভ্যান্সের বক্তব্যের প্রতিবাদ ভারতের

বিদেশি পেশাজীবীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে বর্ণনা করার ঘটনায় এর আগে প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্যটিকে অযৌক্তিক ও গভীরভাবে আপত্তিকর বলে অভিহিত করে।

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ। দেশটির অর্থনীতি এবং উদ্ভাবন খাতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের এভাবে বর্ণনা করা সেই অবদানকে উপেক্ষা করে।

ভারত আরও বলেছিল, টিসিএস ও ইনফোসিসের মতো ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড-সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রশাসনের স্থগিতাদেশ দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই বিতর্কে ভ্যান্সের সর্বশেষ বক্তব্যে বিদেশি কর্মীদের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলা হলেও, মার্কিন কর্মীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে তাঁর অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবিতে প্রতিষ্ঠিত ‘অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ড’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


ঢাবিতে প্রতিষ্ঠিত ‘অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ড’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ১৫ লাখ টাকার ‘অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এই ট্রাস্ট ফান্ডের চেক হস্তান্তর করা হয়।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর উদ্যোগে এই ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ফান্ডের আয় থেকে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিএসএস (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ বা নম্বর অর্জনকারী একজন শিক্ষার্থীকে ‘অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী স্বর্ণপদক’ প্রদান করা হবে।

উপাচার্যের কার্যালয় সংলগ্ন সভাকক্ষে আয়োজিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে ১৫ লাখ টাকার চেকটি উপাচার্যের হাতে তুলে দেন মুহিত আনোয়ার চৌধুরী।

এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রাফিউল ইসলাম, অধ্যাপক হাসান আল শাফী, দাতা পরিবারের সদস্য লাকী নাসরিন, সিনিয়র আইনজীবী মো. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও সাবেক উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয় ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের উন্নয়নে তার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নেওয়া তার এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে। এ ধরনের ট্রাস্ট ফান্ড মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’

ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের আরো ভালো ফল অর্জনে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধ্যয়ন ও গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জনের প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে এটি ভূমিকা রাখবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় তার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। শিক্ষক হিসেবে এখনো তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান উপভোগ করেন এবং ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে চান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প বিলুপ্তির পথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প বিলুপ্তির পথে

গ্রামবাংলার শত বছরের লোক ঐতিহ্য ‘কাঠের চাকা শিল্প’ আজ বিলুপ্তির মুখোমুখি। আধুনিকতার ছোঁয়া ও সময়ের বিবর্তনে যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহনের পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়েছে। যান্ত্রিক যানবাহনের আধিপত্যের কারণে এই ঐতিহ্য আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ের আরামবাড়িয়া গ্রামের কারিগরদের শেষ প্রজন্মের হাতে কোনোরকমে টিকে আছে এই প্রাচীন শিল্পটি।

স্থানীয়দের মতে, মাত্র দুই দশক আগে আরামবাড়িয়া পদ্মাপাড়ের গ্রামগুলোতে সকাল হলেই হাতুড়ি-বাটালের খটখট শব্দ শোনা যেত। নাটোর, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা গরু ও মহিষের গাড়ির কাঠের চাকা কিনতে এখানে ভিড় জমাতেন। তখন এই পল্লীতে প্রায় অর্ধশত কারখানায় দেড় শতাধিক কারিগর দিনরাত কাজ করতেন। তবে যান্ত্রিক যানবাহনের কারণে কাঠের চাকার চাহিদা কমে যাওয়ায় প্রায় সবকটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্তমানে সময়ের পরিক্রমায় মাত্র পাঁচটি কারখানা কোনোরকমে টিকে আছে। স্থানীয় বিপদ চন্দ্র সরকার, অরুন সরকার, মো. ইনু, হাসেম আলী ও মাজদার হোসেন—এই পাঁচজন প্রবীণ কারিগর তাদের পরম মমতায় বহু বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

কারিগরদের মতে, তাদের পূর্বপুরুষরা বিগত প্রায় ২০০ বছর ধরে এই পেশাকে লালন করে আসছেন। বর্তমানে কর্মরত এই পাঁচ কারিগরও ৪০-৫০ বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের দক্ষ হাতে তৈরি কাঠের চাকা এক সময় এই অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের কৃষি, বাণিজ্য ও যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল। তবে কালের বিবর্তনে গরুর গাড়ির কদর কমে যাওয়ার পাশাপাশি চাকা তৈরির প্রধান কাঁচামাল বাবলা কাঠের সংকট দেখা দিয়েছে। এখন দশ-গ্রাম খুঁজলেও পর্যাপ্ত বাবলা কাঠ পাওয়া যায় না, আর যা পাওয়া যায় তা দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়। ফলে চাকা তৈরি করে উপযুক্ত লাভ পাওয়া যাচ্ছে না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বর্তমানে কর্মরত পাঁচ কারিগরের সকলেই পঞ্চাশোর্ধ্ব। কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের তুলনায় আয় অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় কারিগরদের সন্তানেরা বা নতুন প্রজন্মের কেউই এই পেশায় আসতে চাইছেন না। ফলে এই পাঁচজন কারিগরের বার্ধক্যের সাথে সাথে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে শতাব্দী প্রাচীন এই শিল্পটি।

স্থানীয়রা বলছেন, একটি কাঠের চাকা কেবল কোনো যানবাহনের অংশ নয়—এটি আবহমান গ্রামবাংলার ইতিহাস, অনন্য কারিগরি দক্ষতা ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। হারিয়ে যাওয়া এই লোকশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সঠিক নথিভুক্তকরণ, ব্যাপকভাবে বাবলা গাছের চারা রোপণ, সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রণোদনা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, বিলুপ্তপ্রায় এই ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রবীণ কারিগরদের টিকিয়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুমায়ুনের সঙ্গে উজবেকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাবোয়েভিচের বৈঠক, আলোচনা বাণিজ্য ও পর্যটন নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


হুমায়ুনের সঙ্গে উজবেকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাবোয়েভিচের বৈঠক, আলোচনা বাণিজ্য ও পর্যটন নিয়ে

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উজবেকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলয়েভ বাখরোমজন জুরাবোয়েভিচের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরাকের বাগদাদে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৫২তম কাউন্সিল অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আকাশপথে যোগাযোগ, পর্যটন, বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়াও, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।

১৭ ও ১৮ অক্টোবর বাগদাদে অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিল অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

এর আগে ১৭ অক্টোবর অধিবেশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় তিনি বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%