০৪:১৬ পি.এম
এপারে গোল্লাপাড়া গ্রাম এবং ওপারে হঠাৎপাড়া অবস্থিত। দুই গ্রামের মাঝে একটি খাল প্রবাহিত হচ্ছে। তিন দশক আগে নির্মিত সেতুটির নিচের অংশের রড বের হয়ে গেছে এবং পিলারগুলো ফাটল ধরেছে। সেতুটি পার হতে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
রাজশাহীর তানোর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হঠাৎপাড়া সেতুর এমন দুরবস্থা রয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটির পাশে তানোর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী এবং দুই গ্রামের বাসিন্দারা এই সেতু দিয়ে চলাচল করেন। শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে সেতুর ওপর বসে খেলা করে, কিন্তু বর্তমানে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: "পাল্টা অভিযোগ সৌদি প্রবাসী কাদির মিয়ার" কুলিয়ারচরে মেম্বার প্রার্থী পারভেজকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎপাড়া সেতুর নিচের পলেস্তার অংশ ধসে পড়েছে। নিচের অংশের সব রড বের হয়ে গেছে এবং পিলারগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এ সময় হঠাৎপাড়া গ্রামের জিহাদ, নয়ন, শাহিনসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়। তাদের বক্তব্য, সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় এটি নড়াচড়া করে। তারা ভয় নিয়ে পারাপার করেন, কারণ কখনও ভেঙে পড়তে পারে।
তানোর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল বলেন, ‘আমরা কি যে সমস্যায় আছি, তা বোঝাতে পারব না। সেতুটি দিয়ে দুই গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। নিচের অংশের সব রড বের হয়ে গেছে এবং পিলারগুলো ফাটল ধরেছে। স্কুলের সামনে ব্রিজটির অবস্থান রয়েছে।’
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা ওই সেতুর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভয় লাগে, কখন না জানি কি হয়।’
আরও পড়ুন: কিশোর-যুবকদের শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত করতে চান ছাত্রদল নেতা কাওসার খান
রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান জানান, তানোর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালে। তিনি বলেন, তানোর পৌরসভার প্রথম মেয়র এমরান আলী মোল্লার সময় ১৯৯৬ সালে গোল্লাপাড়া গ্রাম ও হঠাৎপাড়া গ্রামের মধ্যে যাতায়াতের জন্য খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন।
হঠাৎপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম নান্টু এবং আব্দুল জলিল জানান, পানির স্রোতে সেতুর পিলারের নিচের মাটি সরে গেছে। রড বের হয়ে পিলার ফাটল ধরেছে এবং মানুষ চলাচলের সময় এটি নড়াচড়া করে। যে কোনো সময় এটি ভেঙে পড়তে পারে।
তারা জানান, প্রায় দুই বছর ধরে সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন তারা।
তানোর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী বলেন, হঠাৎপাড়া গ্রামে সেতুর পাশেই তানোর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। সেখানকার শিক্ষার্থীরা খালের ওপর ওই সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী কাল রাজশাহী সফরে, জনসভায় বক্তব্য দেবেন
তানোর পৌরসভার সরকারি প্রকৌশলী সরদার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সেতুটির বিষয়ে আমার জানা নেই।’ পরে তিনি প্রতিবেদককে পৌরসভার প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
তানোর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও তানোর পৌরসভার প্রশাসক নাঈমা খান বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন