ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পূর্বধলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত


পূর্বধলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম।

সভায় বক্তব্য দেন পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির ও আব্দুল মন্নান, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি মো. আকরামুজ্জামান আকমল ও আব্রাহাম লিংকন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিকী, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন খান, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মজিবর রহমান এবং উত্তর পূর্বধলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনন্যা দে। এ ছাড়া স্থানীয় সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রদীপের আলোয় আলোকিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান

আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় জীবনে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে জাকিয়া সুলতানা, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ইসরাত জাহান তুরিন এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে কৌশিক সরকার।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রমজানপুরকে মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


রমজানপুরকে মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা জানান দিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার। ইউনিয়নকে শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও আধুনিক মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসংযোগ শুরু করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উত্তর রমজানপুরের ২৪ ঘর হাওলাদার বাড়ির ঈদগাহ মাঠে তাঁর প্রথম উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পারিবারিক উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দা, বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এলাকায় নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়।

এ বি এম শাজাহান ব্যাপারী (মাস্টার)-এর সভাপতিত্বে এবং মো. হাসান হাওলাদার (মাস্টার)-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রমজানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. স্বপন মোল্লা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মো. আলী হোসেন হাওলাদার, মো. হেমায়েত হোসেন বেপারী, মো. জাবেদ হোসেন পলকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তব্যে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. স্বপন মোল্লা বলেন, ২৪ ঘর হাওলাদার বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে অন্যদের নির্বাচনে সহযোগিতা করে আসছে। তাঁদের সমর্থন নিয়ে অনেকেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এবার নিজেদের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ‘আমি রমজানপুর ইউনিয়নকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দল-মতনির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাঁদের কল্যাণে কাজ করাই আমার লক্ষ্য।’

এ সময় তিনি উপস্থিত সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও নেতাকর্মীরা শহিদুল ইসলাম হাওলাদারের প্রতি সমর্থন জানান এবং আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয়দের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোবাইলেই জানুন বাবা-দাদার নামে জমির বিস্তারিত তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


মোবাইলেই জানুন বাবা-দাদার নামে জমির বিস্তারিত তথ্য

জমি সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য অনেক সময় ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ভূমি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে এখন আর ভূমি অফিসে যেতে হবে না আপনার বাবা-দাদার নামে কোথায় কত জমি আছে তা জানার জন্য। ভূমি সেবা ডিজিটাল হয়ে যাওয়ার ফলে এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করে ঘরে বসে জমির খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য জানা সম্ভব। অনলাইনে খতিয়ানের কপির জন্য আবেদনও করা যাবে।

জমির তথ্য খোঁজার পদ্ধতি

প্রথমে স্মার্টফোনের ব্রাউজারে গিয়ে ‘ই-পর্চা’ লিখে সার্চ করতে হবে। এরপর সরকারি ই-পর্চা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে মেনু থেকে ‘খতিয়ান’ অপশন নির্বাচন করতে হবে।

পরবর্তী ধাপে জমির বিভাগ, জেলা, খতিয়ানের ধরন, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট রেকর্ড অনুযায়ী খতিয়ানের ধরন হিসেবে বিএস, সিএস, আরএস বা এসএ নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে।

এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম ব্যবহার করে জমির তথ্য খোঁজা সম্ভব। প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যাপচা পূরণ করে ‘অনুসন্ধান করুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

সার্চ সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে জমির মালিকের নাম, দাগ ও খতিয়ানসংক্রান্ত তথ্য এবং জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে।

খতিয়ানের কপির আবেদন

অনলাইনে তথ্য দেখার পর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের পাশে থাকা ‘আবেদন করুন’ অপশন থেকে খতিয়ানের কপির জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করা যাবে।

আবেদন ফরম পূরণের পর তথ্য যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। নির্ধারিত ফি থাকলে সেবায় প্রদর্শিত অনুমোদিত পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইনে তা পরিশোধ করা যাবে।

শুধু নাম দিয়ে সব জমির তথ্য মিলবে?

অনলাইনে জমির তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজনের নাম লিখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে থাকা সব জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাবে না। জমির রেকর্ড নির্দিষ্ট বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান ও দাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বাবা, দাদা বা পরিবারের অন্য কারও নামে থাকা জমি খুঁজতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু তথ্য জানা থাকলে অনুসন্ধান সহজ হয়।

অনলাইনে পাওয়া তথ্য মূলত প্রাথমিক যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা উচিত। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খতিয়ান, দলিল, নামজারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পুরোনো জমির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ের খতিয়ানে তথ্যের পরিবর্তন থাকতে পারে। তাই কোনো জমির বর্তমান মালিকানা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব বৈধ নথি মিলিয়ে দেখা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনাবাদি ও টিলা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কফি এবং কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে দেখছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। তিনি মন্তব্য করেন, "এর মাধ্যমে পাহাড়ি কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব।" এই লক্ষ্যে কফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বান্দরবান জেলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানকালে চিম্বুক রেঞ্জের বাবুপাড়ায় স্থানীয় এক কৃষক উদ্যোক্তার কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী কৃষকদের প্রযুক্তিগত ও নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, "স্থানীয় পাহাড়ি কৃষকদের কফি ও কাজুবাদাম, রাম্বুটান গবেষণা, উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষাবাদ থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সমন্বিত প্রযুক্তি ও সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, পার্বত্য অঞ্চলের অনাবাদি ও টিলা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কফি, কাজুবাদাম ও রাম্বুটান বাগান গড়ে তুলতে চাষিদের নিরবচ্ছিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

পাহাড়ে কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পানির সংকট সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী জানান, ন্থানীয় পাড়াগুলোতে পানির সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে পানির ট্যাংক সরবরাহ করা হয়েছে।

মন্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকেও পানিবাহী ট্রাকের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এই কার্যক্রম সারা বছর অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে মন্ত্রী রুমা উপজেলার লংবাইতং পাড়া বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সীমা বিহার উৎসর্গ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিরি থেকে পাথর তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


ঝিরি থেকে পাথর তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে যাচ্ছে

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম অঞ্চল রেমাক্রী ও বড় মদক এলাকা প্রাকৃতিক পাথরের সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে পাথরের রাজ্য হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের ঝিরি থেকে অবাধে পাথর তোলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, পাথর তোলার ফলে একদিকে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝিরির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, গত দুই বছর ধরে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় পাথর ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের একটি চক্র রেমাক্রী ও বড় মদক এলাকার প্রাকৃতিক পাথর তুলে তা সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করছে।

তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ঝিরি থেকে পাথর তোলার জন্য লামা এলাকার জকির নামের একজন ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করেছেন। পাথর তোলার পর সেগুলো ভেঙে খোয়া তৈরি করা হচ্ছে এবং পরে বিভিন্ন নির্মাণকাজে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে জাকিরের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বড় মদক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাথর তোলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালালে বড় মদক ঝিরি থেকে পাথর তোলার সত্যতা উঠে আসে।

বড় মদক পাড়ার বাসিন্দা অংতুয়াই সিং মারমা, অনুমং মারমা, চিংহলা মং মারমাসহ স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, গত এক মাস ধরে লামা এলাকার পাথর ব্যবসায়ী জকির প্রায় ২০-৩০ জন শ্রমিক দিয়ে ঝিরি থেকে পাথর তুলছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা। তাদের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার পিচ পাথর তোলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝিরি থেকে পাথর তুলে তা ক্রাশিং মেশিনের সাহায্যে ভাঙা হয়। পরে ওই ভাঙা পাথর বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও সড়ক নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

তারা বলছেন, অবৈধ পাথর তোলা বন্ধে গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, কিন্তু শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা চলামং থোয়াই নু প্রু মারমার ভাষ্য, পাথর তোলায় বাধা দিতে গেলে ব্যবসায়ী জকির স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দেন। জাকিরের দাবি, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েই তিনি এ কাজ করছেন।

তবে পাথর তোলার বৈধ অনুমতিপত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে চাইলে জাকির তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, দুর্গম এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের সহযোগিতায় কীভাবে দিনের পর দিন পাথর তোলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।

রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুই সৈ থুই মারমা বলেন, "পাথর তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নদী বা ঝিরি থেকে পাথর না তুলতে বলা হয়েছিল স্থানীয়দের।"

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সালকে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তিনি তা ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাতে সাড়া দেননি তিনি।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাসান বলেন, "পাথর তোলার বিষয়ে আগে কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%