০৮:৩৭ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মূলনীতি ‘শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতি’ ধারণ করে রাজনীতি করা গৌরীপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, 'দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের ত্যাগ ও অবদান বিবেচনা করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।'
রেজাউল করিম আরও জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকে সংগঠনের কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণের নেতৃত্বে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
আরও পড়ুন: মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, মাদারীপুরে ৭ বাড়িতে আগুন, ৪০ ঘরে ভাঙচুর-লুটপাট
তিনি অভিযোগ করেছেন, গত ৯ তারিখ গৌরীপুরে অনুষ্ঠিত একটি মহিলা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার পর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে তদন্ত ছাড়াই বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রদলের ১৯ জন নেতাকর্মীরও বহিষ্কারাদেশ রয়েছে। এছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদল ও ছাত্রদলের আরও নেতাকর্মীও বহিষ্কৃত হয়েছেন।
রেজাউল করিম বলেছেন, 'আমি দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে সবসময় সংগঠনের পাশে ছিলাম। বহিষ্কারাদেশের সময়টা কষ্টের হলেও আমি দল থেকে দূরে সরে যাইনি। কাজের ফাঁকে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখছি।'
তিনি জানান, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়াশোনা ও রাজনীতি চালিয়ে গিয়েছেন। তার বাবা গৌরীপুর আরকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে মেট্রিক এবং ১৯৭১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি পারিবারিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ডিগ্রি বিএসএস শিক্ষা ও ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রেজাউল করিম আরও বলেন, ২৪ জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া, হারুন পার্কে অবস্থান কর্মসূচি সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি ও অন্যান্য ছাত্রনেতারা অংশগ্রহণ করেন। এসব আন্দোলনে হামলা ও মামলার শিকার হওয়ার কথাও তিনি জানান।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সম্মাননা পেলেন চার চালক
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। গৌরীপুর থেকে শ্যামগঞ্জ যাওয়ার পথে হামলার ঘটনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। সাংগঠনিক ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক ঘটনার কথা তিনি প্রকাশ করেননি।
রেজাউল করিম বলেন, 'দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। তাই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আবারও সংগঠনের কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ চাই।'
এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ত্যাগী ও মাঠের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের হত্যা: গুরুদাসপুরের ওসি প্রত্যাহার, এমপি ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন