০৭:৩৭ পি.এম
ইরান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি বড় ধরনের ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বাহিনীর সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই ভোটাভুটিকে অর্থহীন আখ্যা দিয়ে ভোট দেওয়া আইনপ্রণেতাদের ‘দেশপ্রেমহীন’ বলে তিরস্কার করেছেন।
গত বুধবার, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার জন্য একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এর পরপরই, ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টের মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন। ট্রাম্প লেখেন, গতকাল একটি অর্থহীন ভোটে প্রতিনিধি পরিষদের ৪ জন কুচক্রী রিপাবলিকান এবং সব ডেমোক্র্যাট সদস্য একত্রে আমার যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই মুহূর্তে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের চূড়ান্ত আলোচনা চলছে। এমন সময় দেশপ্রেমহীন কাজ করার অনুমতি কে দিতে পারে? তিনি দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পবিদ্বেষী সিন্ড্রোমে ভুগছেন এবং তারা তাকে বিজয় দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দেশের ব্যর্থতা দেখতে বেশি পছন্দ করেছেন।
চারজন রিপাবলিকান যারা এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাদের জন্য ট্রাম্প বলেছেন, তারা আসলে লোকদেখানো রাজনীতি করছেন এবং তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই প্রস্তাবের আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে এখনও অস্পষ্টতা রয়েছে। হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যেই এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব করার ব্যর্থ চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। এই প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়েছে এবং এর ফলে ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে অথবা কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। প্রস্তাবটি যৌথ রেজ্যুলেশন হওয়ায় যদি এটি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটেও পাস হয়, তবে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। যদিও সেই ক্ষেত্রে এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি প্রতিনিধি পরিষদের চতুর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে গত মে মাসে সিনেটেও একই ধরনের একটি প্রস্তাবের অগ্রগতি ঘটেছিল, তবে সেখানে এখনও পূর্ণাঙ্গ ভোট হয়নি। অনেকেই এই ভোটকে প্রতীকী হিসেবে দেখছেন, তবে এটি হোয়াইট হাউসের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তৈরি হওয়ার কারণে এই চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া, এই ভোট ট্রাম্পের নিজের রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেও প্রকাশ করছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা চার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার একজন টম ব্যারেট ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রসঙ্গে বলেন, একমাত্র কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে এবং আমাদের সেটি রক্ষা করতে হবে। ট্রাম্পের প্রতিশোধের ভয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আমার বিবেক অনুযায়ী ভোট দিয়েছি এবং এর যেকোনো পরিণাম মেনে নিতে প্রস্তুত।
সূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন