প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ নামে পরিচিত ফুটবল মহাযজ্ঞ। এটি প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণের সাথে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো জয়ের আয়োজন করছে।
মাঠের লড়াই শুরুর পূর্বে আলোচনা চলছে, কোন দলের জার্সি সবচেয়ে সুন্দর। ভক্তগণ তাদের নিজ দলের জার্সি সেরা মনে করছেন, তবে ফুটবল ভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গোলডটকম একটি র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে, যা জার্সির নকশার উপর ভিত্তি করে।
আসুন দেখে নেই শীর্ষ ২০ দলের জার্সি তালিকায় কোন দলের নাম রয়েছে—
১. মেক্সিকো (হোম— অ্যাডিডাস): তালিকার প্রথম স্থানে থাকা মেক্সিকোর হোম জার্সিতে হালকা সবুজ বেসের ওপর গাঢ় সবুজের নিখুঁত কাজ করা হয়েছে। এখানে দেশের ঐতিহ্যবাহী মোটিফ ব্যবহার করে জাতীয় শক্তি ও গর্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. জাপান (হোম— অ্যাডিডাস): ঐতিহ্যবাহী নীল জার্সিতে জাপান রেট্রো টাচ যোগ করেছে। ২০০৪-০৬ সালের বিখ্যাত ‘টিমজিস্ট’ টেমপ্লেটের আদলে তৈরি ডিজাইনটি সমুদ্রের দিগন্ত এবং কুয়াশার আবহ থেকে অনুপ্রাণিত।
৩. কুরাসাও (হোম— অ্যাডিডাস): বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ কুরাসাও-এর অ্যাওয়ে জার্সি ৩ নম্বরে অবস্থান করছে। এখানে হালকা হলুদ রঙের ওপর লাল, সবুজ এবং কমলার চমৎকার স্ট্রাইপ রয়েছে।
৪. জার্মানি (হোম— অ্যাডিডাস): আশির দশকের শেষ ও নব্বইয়ের দশকের শুরুর স্মৃতিচারণ করে জার্মানির এই হোম জার্সি। কাঁধের ওপর দিয়ে জার্মানির পতাকা যুক্ত তিন রঙের সমন্বয়ে রয়েছে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী জার্সির থ্রোব্যাক।
৫. ফ্রান্স (হোম —নাইকি): ফরাসিদের এই হোম জার্সির বড় কলার এবং জ্যামিতিক গ্রেডিয়েন্ট প্রিন্ট রয়েছে। গত দেড় দশকে নাইকির তৈরি ফ্রান্সের জার্সিগুলোর তুলনায় এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও রেট্রো ঘরানার স্টাইলিশ।
৬. সুইডেন (হোম— অ্যাডিডাস): ৬০ ও ৭০-এর দশকের বিখ্যাত সুইডিশ সঙ্গীত ও সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গাঢ় নীল রঙের ওপর তরঙ্গায়িত প্রিন্টের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে এই জার্সিটি।
৭. ক্রোয়েশিয়া (অ্যাওয়ে— নাইকি): ক্রোয়েশিয়ার পরিচিত লাল-সাদা চেকারবোর্ডের প্রিন্ট এবার তাদের অ্যাওয়ে জার্সিতে নতুনভাবে এসেছে। দুই শেডের নীলের সমন্বয়ে তৈরি এই জার্সি মাঠের বাইরেও পরার জন্য ফ্যাশনেবল।
৮. আর্জেন্টিনা (অ্যাওয়ে — অ্যাডিডাস): ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অ্যাওয়ে জার্সিতে আর্জেন্টিনার শৈল্পিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। কালো বেসের ওপর নীল রঙের ঘূর্ণায়মান গ্রাফিক্স এবং সূক্ষ্ম ফুলের নকশা জার্সিটিকে অনন্য করেছে।
৯. আর্জেন্টিনা (হোম — অ্যাডিডাস): আলবিসেলেস্তেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা তিন স্ট্রাইপের জার্সিতে এবার কালো রঙের ব্যবহার করা হয়েছে, যা জার্সির ক্লাসিক লুক বজায় রেখেছে।
১০. কাতার (হোম — অ্যাডিডাস): কাতারের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরে তৈরি করা হয়েছে এই মেরুন রঙের জার্সিটি। এর মাঝখানের লম্বালম্বি জিগজ্যাগ মোটিফটি মূলত কাতারের জাতীয় পতাকা থেকে নেওয়া।
১১. স্পেন (হোম — অ্যাডিডাস): স্পেনের ক্লাসিক লাল জার্সির হাতা ও প্যানেলে ২০০০ সালের প্রথম দিকের গাঢ় নীল রঙ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সাথে রয়েছে স্প্যানিশ পতাকার রঙের হলুদ পিনস্ট্রাইপ।
১২. ডিআর কঙ্গো (হোম —উমব্রো): ১৯৭৪ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলটির নীল জার্সির বুকে চিতাবাঘের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা তাদের শক্তি ও চপলতার প্রতীক।
১৩. জর্ডান (থার্ড — কেলমে): বিশ্বকাপে কিছু দলের থার্ড জার্সি থাকে। জর্ডানের এই কালো জার্সির পুরো শরীর জুড়ে রয়েছে সূক্ষ্ম ও আকর্ষণীয় ফুলের মোটিফ।
১৪. কানাডা (হোম — নাইকি): স্বাগতিক দেশ হিসেবে কানাডার জাতীয় প্রতীক ম্যাপেল লিফকে জার্সির মাঝখানে গাঢ় লাল শেডে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
১৫. ইংল্যান্ড (হোম — নাইকি): ২০০০ সালের বিখ্যাত ‘উমব্রো’ জার্সির রেট্রো ভাইবে তৈরি হয়েছে থ্রি-লায়ন্সদের এবারের হোম কিট। পুরো শার্টে সুক্ষ্ম মোটিফ এবং লাল রঙের ট্রিম রয়েছে।
১৬. দক্ষিণ কোরিয়া (হোম — নাইকি): দেশের পাহাড়ি ল্যান্ডস্কেপ এবং জাতীয় প্রতীক বাঘের গায়ের ডোরাকাটা দাগের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে এই চমৎকার লাল জার্সিটি।
১৭. জার্মানি (অ্যাওয়ে — অ্যাডিডাস): ১৯৫০ থেকে ৮০ এর দশকের জার্সির রঙ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে নেভি ব্লু বেইজের ওপর অ্যাকুয়া-ব্লু শেডের শেভরন প্যাটার্ন।
১৮. আইভরি কোস্ট (হোম — পুমা): ক্লাসিক কমলার ওপর আকর্ষণীয় অ্যানিম্যাল প্রিন্ট এবং পাশে সবুজ প্যানেলের ছোঁয়া রয়েছে ‘দি এলিফ্যান্টস’দের জার্সিতে।
১৯. আলজেরিয়া (অ্যাওয়ে — অ্যাডিডাস): ট্রেফয়েল লোগোযুক্ত এই রেট্রো জার্সিতে গাঢ় সবুজ হাতা, লাল ট্রিম ও নাম্বারিং রয়েছে।
২০. সেনেগাল (হোম — পুমা): ২০ নম্বরে থাকা সেনেগালের জার্সিতে রাজধানী ডাকারের ঐতিহ্যবাহী হাত দিয়ে রঙ করা বাসগুলোর অবয়ব থেকে অনুপ্রাণিত অল-ওভার অ্যাবস্ট্রাক্ট প্রিন্ট রয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বেড়ে ৪৮টি হওয়ায় এবং দলগুলো হোম, অ্যাওয়ে ও থার্ড জার্সি উন্মোচন করায় উত্তর আমেরিকার এই মেগা টুর্নামেন্টে ১০০টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন জার্সি দেখা যাবে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের একটি নতুন রেকর্ড।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন