০৬:৩১ এম
ব্রেন টিউমার নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে নতুন করে প্রায় ৩ লাখের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতি বছর লাখে কয়েকজন করে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, এবং বিশেষ করে ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার হার ৩০ শতাংশেরও কম বলে জানা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস, প্রতি বছর ৮ জুন পালিত হয়, যা ব্রেন টিউমার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য উদযাপিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই রোগের শুরুতে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দেয়, কিন্তু অনেকেই সেগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই বিষয়টি পরবর্তীতে বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
ব্রেন টিউমার সম্পর্কে বললে, এটি হলো মস্তিষ্ক বা তার আবরণে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি হওয়া, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে। সাধারণত এটি দুই ধরনের হয়ে থাকে—বিনাইন (সাধারণ) এবং ম্যালিগন্যান্ট (ক্ষতিকর)। যথা সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব মাথাব্যথা বিপজ্জনক নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া খুবই জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমির সঙ্গে মাথাব্যথা, সময়ের সঙ্গে মাথাব্যথা বাড়ে যে। সাধারণ ওষুধ দিয়ে ব্যথা না কমলে এবং কাশি বা শারীরিক পরিশ্রমে ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্রেন টিউমারের লক্ষণগুলো অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। এর মধ্যে থাকতে পারে—চোখে ঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশন, শ্রবণ শক্তির পরিবর্তন, ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা, হাত-পায়ে দুর্বলতা বা অসাড়তা, কথা বলতে সমস্যা, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া, আচরণে পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক খিটখিটে মেজাজ, হঠাৎ খিঁচুনি হওয়া। অনেকেই এসব লক্ষণকে সাধারণ ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ধরে উপেক্ষা করেন, যা সত্যিই বিপজ্জনক হতে পারে।
আপনার যদি উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকে, ধীরে ধীরে বাড়ে বা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অতীব জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, সব উপসর্গের কিন্তু এটাই কারণ নয়—বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর পেছনে তুলনামূলক কম গুরুতর কারণ থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানোই নিরাপদ এবং দ্রুত শনাক্তকরণই ব্রেন টিউমারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে।
আরও পড়ুন: ডিকশনারি ডটকমের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’, জনপ্রিয় হলো কিভাবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন