০৬:৪৫ এম
‘জে’ না হয়ে এই গ্রুপটা ‘গ্রুপ-এ’ হলেও নেহায়েত মন্দ হতো না। এই গ্রুপে যে আছে ইংরেজি বর্ণ ‘এ’ আদ্যক্ষরের তিন দল আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া! আর্জেন্টিনা বাদে বাকি দুই দল অবশ্য এখানে আসছে বেশ বড় বিরতির পর। ১২ বছর পর এসেছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ফিরছে ২৮ বছর পর।
আদ্যক্ষরের হিসেবে অবশ্য গ্রুপের অন্য দলটি যথার্থ গ্রুপেই পড়েছে– জর্ডান। এই দলটি এবার প্রথমবারের মতো এসেছে বিশ্বকাপে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
এই গ্রুপের প্রতিটি দলের সূচি, শক্তিসামর্থ্য, দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জসহ আদ্যোপান্ত জেনে নেওয়া যাক
গ্রুপ জে-র ম্যাচসূচি
১৬ জুন ২০২৬, আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, কানসাস সিটি
১৬ জুন ২০২৬, অস্ট্রিয়া-জর্ডান, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে
২২ জুন ২০২৬, আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া, ডালাস
২২ জুন ২০২৬, জর্ডান-আলজেরিয়া, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া
২৭ জুন ২০২৬, আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া, কানসাস সিটি
২৭ জুন ২০২৬, জর্ডান-আর্জেন্টিনা, ডালাস
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
দল প্রিভিউ– আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপে ৩৬ বছর পর যাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। কোচ লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বে দলটি অনেক সংগঠিত ও শক্তিশালী, এই মুহূর্তে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের সেরাও।
আর্জেন্টিনার এই দলের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে বদলায়নি একটুও। সেই বিশ্বকাপের বেশিরভাগ মূল খেলোয়াড়ই এবার দলে আছেন।
দলটির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো লিওনেল মেসি। তিনি বেশ ছন্দে আছেন। বিশ্বকাপের ঠিক আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ২০ মিনিটের মতো খেলেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত তিনি।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
আক্রমণ
আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ অত্যন্ত শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময়। লাউতারো মার্টিনেজ দলের প্রধান স্ট্রাইকার। সিরি আতে তিনি এই মুহূর্তে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। তিনি বক্সের ভেতরে অত্যন্ত ক্লিনিক্যাল এবং দুর্দান্ত লিঙ্কআপ প্লে করেন। হুলিয়ান আলভারেজের অক্লান্ত প্রেসিং ও বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট দলের জন্য অনেক জায়গা তৈরি করে।
মেসির অনুপস্থিতিতে নিকো পাজও সৃজনশীল ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে পাজ দুর্দান্ত একটি ফ্রি কিক থেকে গোল করেছিলেন। আর মেসি যখন খেলবেন তখন দলের পুরো আক্রমণ কাঠামোটাই তাকে কেন্দ্র করে পরিবর্তিত হবে।
মিডফিল্ড
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড বেশ শক্তিশালী। এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মিডফিল্ডের দুই স্তম্ভ। এই দুজন আর্জেন্টিনার প্রেসিং স্ট্রাকচার ধরে রাখেন। রদ্রিগো দে পল মিডফিল্ডের ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করেন। তিনি মাঠের বিশাল এলাকা কভার করেন এবং বলের জন্য অক্লান্ত লড়াই করেন। এই মিডফিল্ড ত্রয়ীকে নিয়ে দলটি ট্রানজিশনে বাড়তি গতি পেয়ে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
রক্ষণ
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের একজন বলে ধরা হয়। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি গোল্ডেন গ্লাভ জিতেছিলেন। রক্ষণে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও শক্তিশালী একজন সেন্টারব্যাক। নিকোলাস ওতামেন্দি অভিজ্ঞ জুটি হিসেবে তার পাশে থাকেন। নাহুয়েল মলিনা ডান দিক থেকে নিয়মিত আক্রমণে যোগ দেন এবং দলের জন্য অনেক সুযোগ তৈরি করেন। বাম দিকে তালিয়াফিকো ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা দেন।
সম্ভাব্য একাদশ
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ; মোলিনা, ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, তাগলিয়াফিকো; ফার্নান্দেজ, দে পল; মেসি, ম্যাক অ্যালিস্টার, আলভারেজ; লাউতারো মার্টিনেজ
সেট পিস তথ্য
কর্নার: লিওনেল মেসি, রোদ্রিগো দে পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: লিওনেল মেসি, নিকো পাজ
পেনাল্টি: লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ
চ্যালেঞ্জ
চোটের কারণে একাধিক খেলোয়াড় যেমন লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে শঙ্কা আছে। বিশ্বকাপের আগে তাদের সেরে ওঠাটা খুব জরুরি।
মেসি গ্রুপপর্বের তৃতীয় ম্যাচের ঠিক আগে ৩৯ বছর পূর্ণ করবেন। তাকে খেলানো নিয়েও বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে কোচ স্কালোনিকে।
আলজেরিয়া কমপ্যাক্ট ডিফেন্স সাজিয়ে আর্জেন্টিনার ট্রানজিশন গেম বন্ধ করার চেষ্টা করবে। ওদিকে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে কোচ রালফ র্যাগনিকের প্রেসিং ফুটবল ‘গেগেনপ্রেসিং’য়ের সামনে পড়তে হবে তাদের।
এদিকে তাপমাত্রার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। উত্তর আমেরিকার গ্রীষ্মে খেলা সহজ নয়।
দল প্রিভিউ– আলজেরিয়া
আলজেরিয়া ২০১৪ সালের পর আবার বিশ্বকাপে ফিরেছে। ১২ বছরের অপেক্ষার পর তারা এই মঞ্চে এসেছে। ক্যাফ বাছাইপর্বের গ্রুপ জি থেকে তারা দুর্দান্তভাবে কোয়ালিফাই করেছে। ১০টি ম্যাচে ৮টি জিতে ও উগান্ডার চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ আগে সুইজারল্যান্ডকে ইউরো ২০২০ কোয়ার্টার ফাইনাল ও ২০১৮ বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ১৬ পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে তার ওপরও নজর থাকবে বৈকি!
আক্রমণ
রিয়াদ মাহরেজ এই দলের প্রাণ, ১০৭ ক্যাপের অভিজ্ঞতা তার কাঁধে। ম্যানচেস্টার সিটিতে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ৩৫ বছর বয়সী তারকা ডানদিক থেকে দারুণ সব সুযোগ তৈরি করতে পারেন, তা ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিতে সক্ষম। এটি তার শেষ বিশ্বকাপ; সেই আবেগটাই হয়তো তাকে আরও ধারালো করে তুলবে।
মোহাম্মদ আমুরা এই দলের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র। বাছাইপর্বয়ে দশটি গোল করা এই স্ট্রাইকারের গতি ও ফিনিশিং যেকোনো রক্ষণের জন্য দুঃস্বপ্ন। ছয় ফুটের এই ফরোয়ার্ড শুধু দৌড়ে নয়, বুদ্ধিতেও প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন।
আমিন গোইরি হলেন দলের তৃতীয় অ্যাটাকার। তার বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট এবং ফাইনাল থার্ডে টেকনিক্যালিটি তাকে সব পজিশনে সমানভাবে কার্যকর করে তোলে।
হোসেম আউয়ার মিডফিল্ড থেকে লেট রান নিয়ে বক্সে ঢুকতে পারেন, গোলও করতে পারেন। গুয়াতেমালা ম্যাচে তার গোলটি তার সেরা উদাহরণ।
আলজেরিয়ার আক্রমণ সবচেয়ে ধারালো হয় যখন ওয়াইড অ্যাটাকাররা স্পেস পান, আর তা কাজে লাগান। আমুরার প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখতে পারলে পেছন থেকে আউয়ার বা গোইরি সুযোগ নিতে পারেন।
মিডফিল্ড
ইসমাইল বেন্নাসের প্রভাব এই দলের মিডফিল্ডে অতুলনীয়। তার ডিফেন্সিভ সচেতনতা ও চাপের মধ্যে বল ধরে রাখার ক্ষমতা দলকে চার অ্যাটাকার খেলানোর সুযোগ করে দেয়।
বুদাউই তার সঙ্গে পিভট জুটিতে খেলবেন। তার সঙ্গে চাইবি অতিরিক্ত সৃজনশীলতা যোগ করেন।
রক্ষণ
রামি বেনসেবাইনি বুন্দেসলিগার অভিজ্ঞতা এনেছেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে এবং বাছাইপর্ব জুড়ে নির্ভরযোগ্য ছিলেন। রায়ান আইত-নুরি ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে লেফট ফুলব্যাক হিসেবে রক্ষণ আর আক্রমণ দুই দিকেই কার্যকর হয়ে উঠেছেন।
গোলরক্ষক হিসেবে লুকা জিদান স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে কঠিন মৌসুম পার করেছেন, তবু কোচ পেতকোভিচ তাকেই ধরে রেখেছেন, যদিও বড় ম্যাচে এই সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সম্ভাব্য একাদশ
জিদান; বেলঘালি, মান্দি, বেনসেবাইনি, আইত-নুরি; বুদাউই, চাইবি; মাহরেজ, আউয়ার, আমুরা; গোইরি
সেট পিস তথ্য
কর্নার: রিয়াদ মাহরেজ, হোসেম আউয়ার, আমিন গোইরি, ইসমাইল বেন্নাসের
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: রিয়াদ মাহরেজ, হোসেম আউয়ার
পেনাল্টি: রিয়াদ মাহরেজ, মোহাম্মদ আমুরা
চ্যালেঞ্জ
মাহরেজের বয়স ও ফিটনেস ম্যানেজমেন্ট আরেকটি জটিল হিসেব। তিনটি গ্রুপ ম্যাচে ৯০ মিনিট করে খেলা তার জন্য কঠিন হতে পারে। পেতকোভিচ কীভাবে তার মিনিট নিয়ন্ত্রণ করবেন সেটা বড় প্রশ্ন, কারণ মাহরেজ ছাড়া দলের সার্বিক মান অনেকটাই কমে যায়।
গোলরক্ষক জিদানের সময় ভালো কাটছে না। উচ্চমানের আক্রমণের মুখে কেমন করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
দল প্রিভিউ– অস্ট্রিয়া
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরছে অস্ট্রিয়া, আটাশ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে তাদের। কোচ র্যাল্ফ র্যাগনিক আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তক, যার প্রেস-নির্ভর দর্শন ক্লাব পর্যায়ে বেশ সমাদৃত।
ইউরোপীয় বাছাইপর্বে ছয় জয় ও এক ড্রয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে এবং ২২ গোল করে মাত্র চারটি হজম করে অস্ট্রিয়া জানান দিয়েছে এই দলটি স্রেফ হাজিরা দিতে আসেনি।
আক্রমণ
মার্সেল সাবিত্জার এই দলের সৃজনশীল হৃদয়। ত্রেকোয়ার্তিস্তা বা ফাইনাল প্লেমেকারের ভূমিকায় গোল এবং সুযোগ উভয়ই তৈরি করতে পারেন।
৩৭ বছর বয়সী মার্কো আর্নাউটোভিচ অস্ট্রিয়ার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ১৩০ ম্যাচে তিনি করেছেন ৪৭ গোল। বয়স নিঃসন্দেহে প্রশ্ন, কিন্তু তার ফিজিক্যাল প্রেজেন্স, হেডার এবং হোল্ড-আপ প্লে এখনও বিশ্বমানের।
কনরাড লাইমার বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় যিনি রক্ষণ ও মিডফিল্ড উভয় ভূমিকায় সমান স্বচ্ছন্দ। তার শক্তি ও প্রেসিং তীব্রতা র্যাগনিকের সিস্টেমকে দারুণ প্রাণশক্তি দেয়।
কার্নি চুকওয়ামেকা সবচেয়ে নতুন সংযোজন। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের এই উইঙ্গার আগে ইংল্যান্ড যুব দলে খেলেছিলেন, ফিফার ছাড়পত্র পেয়ে অস্ট্রিয়ার হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেছেন। তার ডিরেক্ট রান ও টেকনিক্যাল দক্ষতা এখন ওয়াইড স্পেসেও অস্ট্রিয়াকে বেশ শক্তি যোগাচ্ছে।
র্যাগনিকের সিস্টেমে আক্রমণ কোনো একক প্রতিভার ওপর নির্ভর করে না। পুরো দল প্রেস করে বল জেতে, দ্রুত ট্রানজিশনে গোল করে এবং প্রতিটি পজিশনে একাধিক খেলোয়াড় এই দর্শন বোঝেন।
মিডফিল্ড
নিকোলাস সাইওয়ালড ও জাভার শ্লাগার ডাবল পিভট হিসেবে র্যাগনিকের ৪-২-৩-১ ছককে স্থিতিশীল রাখেন। সাইওয়ালড ঘানা ম্যাচে স্টপেজ টাইমে গোল করে দেখিয়েছেন যে তিনি শুধু রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন করেন না। ফ্লোরিয়ান গ্রিলিৎশ তৃতীয় অপশন হিসেবে গভীরতা যোগ করেন। এই জুটির একটি দুর্বলতা হলো- দীর্ঘ সময় ধরে বল পায়ে রাখতে পারে না।
রক্ষণ
কেভিন দানসো টটেনহামে প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন এবং সেন্টার ব্যাকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অপশন। মার্কো ফ্রিডল এবং ফিলিপ লিয়েনহার্ট গভীরতা যোগ করেন।
ডেভিড আলাবা যদি সুস্থ থাকেন, তৃতীয় সেন্টার-ব্যাক অপশন হিসেবে আদর্শ কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডারের চোটের ইতিহাস এবার একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন।
সম্ভাব্য একাদশ
আ. শ্লাগার; লাইমার, ফ্রিডল, দানসো, মওয়েনে; জা. শ্লাগার, সাইওয়ালড; শ্মিড, গ্রেগোরিৎশ, সাবিত্জার; আর্নাউটোভিচ
সেট পিস তথ্য
কর্নার: মার্সেল সাবিত্জার, নিকোলাস সাইওয়ালড
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: মার্সেল সাবিত্জার, মার্কো আর্নাউটোভিচ, ডেভিড আলাবা
পেনাল্টি: মার্সেল সাবিত্জার, মার্কো আর্নাউটোভিচ
চ্যালেঞ্জ
গোলরক্ষকের অনিশ্চয়তা একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অস্ট্রিয়ার সামনে। টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছে এসেও পেন্টজ-শ্লাগার বিতর্ক সমাপ্ত না হওয়া মানে দলের মধ্যে একটি অনিশ্চয়তার বীজ রয়ে গেছে।
উত্তর আমেরিকার গরম বয়স্ক আর্নাউটোভিচকে কতটা সমস্যায় ফেলবে, সেটা বড় প্রশ্ন। তিনটি ম্যাচে কার্যকর থাকতে হলে রোটেশন দরকার; কিন্তু তার বিকল্প হিসেবে যে ফরোয়ার্ড অপশন আছে, তারা একই মান রাখতে পারবেন কিনা সন্দেহ।
র্যাগনিকের ইনটেনসিটি-ভিত্তিক প্রেসিং গেম আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কতটা ধরে রাখা যাবে সেটা আরেকটি পরীক্ষা। ২২ জুন ডালাসে ওই ম্যাচে প্রথম ২০ মিনিটের চাপ সামলানো না গেলে আর্জেন্টিনার দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক মারাত্মক হতে পারে।
দল প্রিভিউ– জর্ডান
জর্ডানের বিশ্বকাপে এসেছে এএফসি গ্রুপ বি-তে দ্বিতীয় হয়ে এবং ২০২৫ সালের জুনে ওমানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত হয় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা। কোচ জামাল সেলামি, মরক্কোন এই কোচ ২০১৮ আফ্রিকান নেশনস কাপ জিতেছেন। গত বারো ম্যাচে মাত্র দুটিতে হেরেছে তার দল, গেল ডিসেম্বরে আরব কাপের ফাইনালেও তুলেছেন এই দলকে।
আক্রমণ
মুসা আল তামারি হলেন জর্ডানের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলছেন ফরাসি লিগ ১-এ রেন্সের হয়ে। ২০২৪ এশিয়ান কাপ সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ২-০ জয়ে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। বাম বা ডান উভয় উইংয়ে খেলতে পারেন, ফিনিশ করতে পারেন এবং সুযোগ তৈরি করতে পারেন।
আলি ইয়াদ আলি আল-ওলওয়ান ও মোহান্নাদ মাহমুদ সালেহ আবু তাহা ওয়াইড স্পেস থেকে আক্রমণে ওঠেন, দুইজনেরই আছে দ্রুতগতি। দুই জনেই কাউন্টারে জায়গা তৈরি করতে সক্ষম, যা সেলামির মূল কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়। সেট পিস আলাদাভাবে অস্ত্র হিসেবে কাজ করে বাছাইপর্ব ও আরব কাপে জর্ডান বারবার ডেড বল থেকে গোল করেছে।
জর্ডানের আক্রমণ মূলত কাউন্টার-ভিত্তিক। নিজেদের অর্ধে ডিপ ব্লক, সেখান থেকে বল জিতে তা আল তামারির পায়ে পাঠান… এই সরল কিন্তু কার্যকর পরিকল্পনাতেই সফল জর্ডান।
মিডফিল্ড
আল-রাশদান ও আল-রাওয়াবদেহ কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডে কাঠামো ধরে রাখেন। তাদের মূল কাজ হলো প্রতিপক্ষের বল সরবরাহের পথ আগলে রাখা, বল জিতে দ্রুত আল তামারির কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোনো কারণে দুজনের একজন যদি বাদ পড়েন, তাহলে দলটির পারফর্ম্যান্সেও বেশ হেরফের হতে পারে।
রক্ষণ
ইয়াজিদ মো'ইন হাসান আবুলাইলা গোলরক্ষক হিসেবে বাছাইপর্ব জুড়ে নির্ভরযোগ্য ছিলেন। ইয়াযান আল-আরাব ও আবদাল্লাহ মুসা মুসাল্লাম নাসিব সেন্টার ব্যাকে ইস্পাত-কঠিন এবং সংগঠিত। পুরো ব্যবস্থাটি জর্ডানীয় প্রো লিগের অভিজ্ঞতার উপর দাঁড়িয়ে যার মানে আর্জেন্টিনা বা অস্ট্রিয়ার মতো দলের বিপক্ষে তারা এমন ধরনের চাপের সামনে পড়বেন, তা তারা আগে কখনও সামলাননি।
সম্ভাব্য একাদশ
আবুলাইলা; আল-আরাব, নাসিব, আবু দাহাব; হাদ্দাদ, আল-রাশদান, আল-রাওয়াবদেহ, আবু তাহা; আল তামারি, আল-ওলওয়ান, আল-মার্দি
সেট পিস তথ্য
কর্নার: মুসা আল তামারি, মোহান্নাদ মাহমুদ সালেহ আবু তাহা
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: মুসা আল তামারি
পেনাল্টি: মুসা আল তামারি
চ্যালেঞ্জ
আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম ২০ মিনিট টিকে থাকাটাই জর্ডানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দুটি দলই হাই প্রেস থেকে তাৎক্ষণিক সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং যদি প্রথম গোলটি খুব তাড়াতাড়ি এসে যায়, তাহলে জর্ডানের কাউন্টার-পরিকল্পনা অর্থহীন হয়ে পড়ে।
আল তামারির শারীরিক সতেজতা তিনটি ম্যাচ জুড়ে ধরে রাখাটা সেলামির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত। তিনি জর্ডানের একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের অ্যাটাকার একজন, তাকে ক্লান্ত করে দিতে পারলে দলটির ধারও কমে যায় অনেকটা।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২২ জুনের ম্যাচটি বাস্তবিকভাবে জর্ডানের পয়েন্ট নেওয়ার সেরা সুযোগ। কিন্তু সেই ম্যাচে পৌঁছানোর আগে প্রথম দুটি ম্যাচে দলের মনোবল এবং রক্ষণের ঐক্য অটুট থাকাটা অপরিহার্য।
জর্ডান ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উপলক্ষে খেলছে এবং সেই ভার কখনও কখনও সবচেয়ে প্রস্তুত দলকেও চাপে ফেলে দেয়। সেই মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জটিকে শক্তিতে রূপান্তর করার ক্ষমতা সেলামির নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
গ্রুপ জে প্রেডিকশন
আর্জেন্টিনা এই গ্রুপ জেতার জন্য ফেভারিট। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্কোয়াডের গভীরতা, বোঝাপড়া এবং স্কালোনির ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা জর্ডান ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে পয়েন্ট নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। মেসি যদি পুরো ফিটনেসে খেলেন, তাহলে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় স্থানের লড়াইটাই এই গ্রুপের আসল গল্প। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া এখানে সমান দাবিদার। অস্ট্রিয়ার বাছাইপর্ব রেকর্ড ভালো, র্যাগনিকের সিস্টেম প্রমাণিত এবং দলের কাঠামো টুর্নামেন্ট ফুটবলের জন্য তৈরি। আলজেরিয়ার আক্রমণের মেধা মাহরেজ, আমুরা, গোইরির সমন্বয় অস্ট্রিয়ার সামনে লাইনের চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনেক বেশি প্রতিভাবান।
মূল মুহূর্তটি আসবে ২৭ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া। সেই ম্যাচে আলজেরিয়া জিতলে দ্বিতীয় স্থান তাদের। অস্ট্রিয়া ড্র বা জয় তুললে র্যাগনিকের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব তাদের টিকিয়ে রাখবে।
ওদিকে জর্ডান একটি শক ফলাফল উপহার দিতে চাইবে সবাইকে। ২০২২-এ সৌদি আরব যেমন আর্জেন্টাকে হারিয়েছিল, ঠিক তেমন করে। কিন্তু সেই অলৌকিক মুহূর্ত না এলে, তাদের প্রথম বিশ্বকাপ অধ্যায়টি হবে গর্বের, তবে গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়ে যাবে তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন